Wednesday, April 30, 2014

তীর্থযাত্রায় যাননি যশোদাবেন, ভোট দিলেন মেহসানায়

তীর্থযাত্রায় যাননি যশোদাবেন, ভোট দিলেন মেহসানায়


যশোদাবেনযশোদাবেনভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির স্ত্রী যশোদাবেনের চরধামে তীর্থযাত্রায় যাওয়া নিয়ে গুজবের অবসান হয়েছে। গতকাল বুধবার গুজরাটের মেহসানার একটি কেন্দ্রে তিনি ভোট দিয়েছেন।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো যশোদাবেনকে স্ত্রী বলে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তিনি স্বামীর মঙ্গল কামনায় চরধামে তীর্থযাত্রায় গেছেন বলে গুজব রটে। ওই স্বীকৃতির পর থেকে গতকাল ভোটদানের আগ পর্যন্ত লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন যশোদাবেন।

মোদি ভোট দেন আহমেদাবাদে। তাঁর এই কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অন্য একটি আসনে ভোট দেন স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা যশোদাবেন।
যশোদাবেনের পরিবারের কিছু সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মোদির স্বীকারোক্তির পর গণমাধ্যমকর্মীদের যশোদাবেনের পিছু লাগার আশঙ্কা ছিল। এ জন্যই তিনি অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। এনডিটিভি ও জিনিউজ।

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফায় ভোট ব্যাপক বুথ দখল ও সহিংসতা

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফায় ভোট

ব্যাপক বুথ দখল ও সহিংসতা

রজত রায়, কলকাতা | আপডেট: ০০:২৩, মে ০১, ২০১৪ Like
     
ব্যাপকভাবে বুথ দখল ও হিংসাত্মক ঘটনার অভিযোগের মধ্যে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হলো পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় পর্বের ভোট। নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস ছিল, বীরভূম, হুগলি ইত্যাদি জেলার উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। কিন্তু বেলা ১১টা থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে বুথ দখলের অভিযোগ উঠতে থাকে।
পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি ও হাওড়ার মোট নয়টি লোকসভা আসনে ভোট গ্রহণ হয় গতকাল। বিকেল পাঁচটা নাগাদ নির্বাচন কমিশনের সূত্রে পাওয়া হিসাবে জানা যায়, উত্তরবঙ্গের মতোই দক্ষিণবঙ্গেও ভোটের হার বিপুল। ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই বিকেল পাঁচটার মধ্যে বেশির ভাগ জায়গায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ভোটারদের প্রায় সব জায়গাতেই অনেকক্ষণ বুথের সামনে লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
কয়েক ঘণ্টা ভোট চলার পরই বীরভূম জেলার বোলপুর ও বীরভূম কেন্দ্র, হুগলির আরামবাগ এবং বর্ধমান জেলার বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্র থেকে বুথ দখলের অভিযোগ আসতে থাকে। অভিযোগের তির বেশির ভাগটাই রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
গতকাল যে চার জেলায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানে দক্ষিণবঙ্গের অন্য সব জেলার মতোই তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এবার ভোট পর্বের মধ্যেই সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল নেতাদের জড়িত থাকার কথা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করায় দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতারাও বেশ অস্বস্তিতে পড়েন। এর সঙ্গে বিজেপির বেড়ে চলা উপস্থিতি এবং নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সারদা কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলায় তাঁদের সেই অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বুধবার ব্যাপক হারে বুথ দখল করে তাদের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে চাইবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু দেখছে না রাজনৈতিক মহল।
 ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোটে কারচুপি করার পদ্ধতিটা মোটামুটি সব জেলাতেই এক। প্রথমেই বিরোধী দলগুলোর এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়। কেউ বেরোতে না চাইলে মারধর করা হয়। এরপর ভোটারদের বুথের পথে পা ফেলতে নিষেধ করা হয় এবং নিষেধাজ্ঞা না মানলে তার পরিণতি কী হবে, সেটাও ভালো করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী থাকলে এসব এতটা খোলাখুলি করা হয় না। আর যেসব জায়গায় বিরোধী এজেন্টদের তাড়িয়ে দেওয়ার পরেও ভোটারদের ঢুকতে দেওয়া হয়, সেখানে দলীয় নেতারা বুথে উপস্থিত থেকে নজর রাখেন ভোটদাতারা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) তাঁদের নির্দেশিত দলীয় প্রতীকের পাশের বোতামটিই টিপছেন কি না।
বর্ধমানের কেতুগ্রামে গ্রামবাসী বুথ দখলে তৃণমূল কর্মীদের বাধা দিলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে গ্রামছাড়া করে বলে অভিযোগ এসেছে। হাওড়া জেলার আমতার নামের একটি গ্রামের স্কুলে দুটি বুথে মোট ৬৮০ জন ভোটার। সেখানে সকাল সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে নয়টার মধ্যেই সবার ভোট দেওয়া হয়ে যায় বলে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বহু জায়গাতেই টহল দিতে দেখা যায়নি। বাম নেতারা গতকাল বিকেলে সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরির নেতৃত্বে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে গিয়ে বীরভূমসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বুথ দখল, সন্ত্রাস ও কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছেন। তাঁরা অনেক কেন্দ্রে আবার ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুধীর কুমার রাকেশ বিকেলে স্বীকার করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী যতটা সম্ভব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা সবই ভোটকেন্দ্রের মধ্যে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে বেশি কিছু করা যায়নি। তবে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ, তা মানতে চাননি রাকেশ।
বুথ দখলের অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যসহ অনেকেই। তাঁদের ক্ষোভ, নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতার সুযোগে এগুলো হয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতা শমীক ভট্টাচার্য ও রীতেশ তেওয়ারি মনে করেন, সারদা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে থাকার খবর প্রকাশ্যে আসায় ঘাবড়ে গিয়ে তৃণমূল হিংসার পথ বেছে নিল। তবে তা সত্ত্বেও বিজেপি নেতাদের আশা, এতে ফলের বিশেষ তারতম্য হবে না। অন্যদিকে তৃণমূল নেতারা ভোটের গতিপ্রকৃতি দেখে স্পষ্টতই খুশি। তবে তাঁরা মমতা কিছু বলার আগে এখনই প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইছেন না।
Prothom Alo

সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন মুসলিমদের মোদিকে ভয় পাওয়ার কারণ আছে

সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন

মুসলিমদের মোদিকে ভয় পাওয়ার কারণ আছে


অমর্ত্য সেনঅমর্ত্য সেনভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভীত হওয়ার কারণ আছে বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিতে ভারতে পৌঁছে গত মঙ্গলবার ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ারসঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় মোদির সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রসঙ্গ তুলে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে একটি বিষয় রয়েছে। এটা সত্যি যে একজন বিচারক মোদিকে নির্দোষ বলেছেন, কিন্তু মোদির বিরুদ্ধে এখনো অনেক অভিযোগেরই নিষ্পত্তি হয়নি। তাই মোদি ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী যদি ভীত হয়, তাহলে এই ভীত হওয়ার পেছনে অনেক যৌক্তিক কারণ রয়েছে।’
অধ্যাপক অমর্ত্য বলেন, যদিও ‘ভালো অবস্থানে আছেন’—এমন অনেক মুসলিম হয়তো এটা মনে করেন না। এমন কেউ হয়তো মোদির সঙ্গে যোগও দেবেন।
গত বছরের জুলাইয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেছিলেন, ‘একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আমি কখনোই চাই না, মোদি আমার প্রধানমন্ত্রী হোন।’
‘মোদি সমাজসেবায় আত্মোৎসর্গ করছেন’: ভারতের বিশিষ্ট অল্প কয়েকজন অর্থনীতিবিদদের মধ্যে জগদীশ ভগবতী একজন বলে বিবেচনা করা হয়। সেই জগদীশ গুজরাটে মোদির উন্নয়ন মডেলের অন্যতম সমর্থক। তিনি বলেন, মোদির ভিশন হলো ‘তিনি আমাদের কোথায় নিয়ে যাবেন’। তাঁর শাসনের রীতি হলো, তিনি সমাজসেবায় আত্মোৎসর্গ করছেন।
উন্নয়নের গুজরাট মডেলের প্রশংসা করে জগদীশ বলেন, গুজরাট মডেল শুধু সমৃদ্ধির মডেল নয়, এটা সম্পদের উৎকৃষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করার মডেল, সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি করার মডেল। এই মডেলের ফলে গুজরাটে ব্যক্তিগত সামাজিক দায়বদ্ধতা কাজ করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরেরাই গুম-খুন করছে

আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া

আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরেরাই গুম-খুন করছে


আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরেরাই দেশজুড়ে খুন-গুমে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, দেশের কী অবস্থা! রাস্তা থেকে গাড়ি ছিনতাই হয়ে যায়। গাড়ি থেকে মানুষ তুলে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার পর পরও দেশে এ অবস্থা ছিল।
গতকাল বুধবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বর্তমান সরকার এসব খুন-গুম বন্ধ করতে পারবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই এসব বন্ধ হবে। তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক-উল হক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খানের বরাত দিয়ে বলেন, তাঁদের মতো মানুষও বলছেন, দেশে এখন কেউ নিরাপদ নয়।
যুবলীগের নেতার নির্দেশে ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জঙ্গিরা পালিয়ে গেল, কানেকশন পাওয়া গেল যুবলীগের নেতার সঙ্গে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ—তাদের সম্পর্ক জঙ্গি, গুম, খুনের সঙ্গে।’
জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান তাঁর বক্তব্যে বর্তমান  সরকারকে ভারতের ক্রীতদাস হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর এই বক্তব্যে একমত জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, কারও ক্রীতদাস হওয়ার জন্য বা কারও আদেশ মানার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। এই ক্রীতদাসের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে আবার আন্দোলন শুরু করতে হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৯-দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে নজরুলের মায়ের ফোন ‘ছেলে পাওয়া গেছে, নদীতে ভাসছে’

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে নজরুলের মায়ের ফোন

‘ছেলে পাওয়া গেছে, নদীতে ভাসছে’


‘বাবা, ও বাবা! আমার ছেলেকে পাওয়া গেছে! শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভাসছে, টেলিভিশনে দেখেন। নাহ্, জীবিত না, মৃত। বাবা, পারলেন না আমার ছেলেকে বাঁচাতে।’ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের মা টেলিফোনে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে এভাবেই কথাগুলো বলেছিলেন। সময় তখন বেলা তিনটার কিছুক্ষণ পর। হঠাৎ টেলিফোন পেয়ে নির্বাক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি নিজেও তখন টেলিভিশনে লাশ উদ্ধার দেখছিলেন।
অথচ গতকাল ভোরেই নজরুল ইসলামের পুরো পরিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে হাজির হয়েছিলেন ঢাকার মণিপুরিপাড়ায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায়। নজরুলের পরিবারের সদস্যরা অনেক উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে আছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাঁকে উদ্ধারের আকুতি জানান। নজরুলের মা এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘বাবা, যেকোনো উপায়ে ছেলেকে ফিরিয়ে দেন।’
তবে সরকার নয়, ছেলের লাশ ফিরিয়ে দিয়েছে শীতলক্ষ্যা নদী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দুই সপ্তাহ আগেও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাসায় দেখা করে তার জীবন বিপন্ন বলে জানিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যারা তাঁকে হুমকি দিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেন, ‘আমার কাছে নজরুল আসছিল, নামও বলে গিয়েছিল। আবার সকালে তার ছেলেমেয়েগুলো কান্নাকাটি করে গেল। সবাই ভালো ছাত্রছাত্রী, জিপিএ-৫ পাওয়া, আমি তাদের কাছে গিয়ে কী বলব?’
প্রতিমন্ত্রী গতকাল সারা দিনই পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে এর সমাধান করতে বলেছেন। কিন্তু কোনো কাজই হয়নি।
তবে মন্ত্রণালয়েরই সূত্রগুলো বলছে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজেও বোধ হয় কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছিলেন না বা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। অপেক্ষায় ছিলেন ওপরের নির্দেশনার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও কথা হয় নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর। তিনি প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, ‘কেমনে থাকব এই শহরে, কিছু বলতেও পারছি না, বলবে সরকারের বিরুদ্ধে বলছি। ত্বকী হত্যার বিচার হলে শহরে একটার পর একটা ঘটনা ঘটত না।’ আইভী উদাহরণ টেনে বলেন, ‘এখানকার পুলিশ সুপার বলেন, কারও বেডরুমের নিরাপত্তা আমরা দিতে পারব না, এটা একটা কথা হলো?’ মেয়র আইভী এ সময় আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ তো সরকারকেই গালাগাল করছে, কিন্তু আপনি-আমি জানি, যারা এসব করছে, তাদের থামান।’
সামগ্রিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি তিনি করছেন না। তিনি যাবেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে, দিকনির্দেশনা চাইবেন। এভাবে চলতে পারে না।
গতকাল রাত ১০টার কিছু পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও কথা হয়। সে সময় তিনি গণভবন থেকে বের হয়েছেন। আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দু-এক দিনের মধ্যেই বড় একটা কিছু হবে।
Prothom Alo

সবচেয়ে কম মজুরি কৃষিশ্রমিকের

মহান মে দিবস আজ

সবচেয়ে কম মজুরি কৃষিশ্রমিকের

জাহাঙ্গীর শাহ | আপডেট: ০২:৪৭, মে ০১, ২০১৪ |
মাথায় ৯০ কেজি ওজনের বস্তা। কুঁজো হয়ে যাচ্ছে শরীর। কর্ণফুলী ঘাটে শ্রমিকেরা এভাবেই উদয়াস্ত ভার টানেন প্রতি বস্তা ৬ টাকা ৪০ পয়সার বিনিময়ে । ছবি: প্রথম আলোমাথায় ৯০ কেজি ওজনের বস্তা। কুঁজো হয়ে যাচ্ছে শরীর। কর্ণফুলী ঘাটে শ্রমিকেরা এভাবেই উদয়াস্ত ভার টানেন প্রতি বস্তা ৬ টাকা ৪০ পয়সার বিনিময়ে । ছবি: প্রথম আলোকৃষি খাতের দিনমজুরেরাই সবচেয়ে কম মজুরি পান। এ খাতের আট লাখ ৮০ হাজার মজুর সপ্তাহে ৫০০ টাকার কম মজুরি পান। সেই হিসাবে দৈনিক গড়ে ৭১ টাকা পান।
আর সবচেয়ে বেশি মজুরি পান আবাসন খাতের কর্মীরা। তবে আবাসন খাতের নির্মাণশ্রমিক নন তাঁরা, নির্মাণকাজ ছাড়া অন্যান্য কাজ করেন। তাঁদের প্রতি সপ্তাহে আয় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০১০ থেকে এই মজুরি হারের চিত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপ করেছে। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর গত দেড় বছরে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের মজুরি আনুপাতিক হারে কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিএসের কর্মকর্তারা।
বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের শ্রমিকেরা দৈনিক গড়ে ১৮৩ টাকা মজুরি পান। বাংলাদেশে কৃষি, উৎপাদন, জ্বালানি, নির্মাণ, পরিবহন, আবাসন খাতসহ মোট এক কোটি পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার দিনমজুর রয়েছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ শ্রমিকের আয় দৈনিক ২০০ টাকার নিচে।
জানতে চাইলে বিবিএসের সাবেক পরিচালক ও তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক সামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, কৃষি খাতের দিনমজুরেরা কম মজুরি পান। কারণ, তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, শুধু অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তাঁদের মজুরি বাড়ে। তবে কৃষি খাতে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।
সবচেয়ে উপেক্ষিত কৃষিমজুরেরা: মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপেক্ষিত কৃষি খাতের দিনমজুরেরা। তাঁদের ৮৩ শতাংশ দিনে ৩০০ টাকার কম মজুরি পান না। সারা দেশে এমন মজুরের সংখ্যা ৪৯ লাখ। অথচ কৃষি খাতে দেশের সবচেয়ে বেশি ৫৮ লাখ ৬৮ হাজার দিনমজুর কাজ করেন, যা দেশের মোট মজুরের অর্ধেকের বেশি।
প্রতি সপ্তাহে ২৪ লাখ ৭৭ হাজার কৃষি খাতের দিনমজুর ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা, ১৫ লাখ ৩২ হাজার জন এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা আয় করতে পারেন।
বিশাল শ্রমবাজারের বিশাল অংশই দখল করে আছে কৃষি খাত। ব্যক্তি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই কৃষি খাতের শ্রমিকের জোগানও হয় পারস্পরিক বোঝাপড়ায়। কৃষি খাতে দরিদ্র দিনমজুরেরা শ্রমমূল্য নিয়ে দর-কষাকষির সুযোগ পান না। তাই এই খাতের দিনমজুরেরা তুলনামূলক কম মজুরি পান বলে বিবিএসের কর্মকর্তারা মনে করেন।
সরাসরি নির্মাণশ্রমিকেরা তেমন একটা ভালো নেই। তাঁদের মধ্যে ৮১ শতাংশের দৈনিক মজুরি ২০০ টাকার কম। দৈনিক ৭১ টাকার কম মজুরি পান ৮৮ হাজার শ্রমিক।
তবে আবাসন, ব্যাংক, বিমা, কারিগরি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতসহ সরকারি কর্মচারীরা তুলনামূলক ভালো মজুরি পান। তবে এসব খাতে শ্রমিকের সংখ্যাও কম।
বাংলাদেশে ৯৫ শতাংশ চাকরিজীবী মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকার কম বেতন পান। দেশে চাকরিজীবীর সংখ্যা সোয়া তিন কোটি। আর দুই লাখ ৯১ হাজার চাকরিজীবী ৩৫ হাজার টাকার বেশি বেতন পান।
মজুরিবৈষম্যে নারীরা: বাংলাদেশে আট লাখ ৪৯ হাজার নারী শ্রমিক রয়েছেন। তবে মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা বৈষ্যমের শিকার হন। তাঁরা পুরুষের সমান কাজ করেও মজুরি কম পান। পুরুষ দিনমজুরেরা পান গড়ে ১৮৪ টাকা, নারীরা পান ১৭০ টাকা। তবে শহরে নারী-পুরুষের মজুরির বৈষম্য কিছুটা কম। এখানে নারী-পুরুষেরা গড়ে প্রায় সমান সমান মজুরি পান। শহরের পুরুষ দিনমজুরেরা পান ২০০ টাকা, নারীরা পান ১৯৮ টাকা। শহরে মূলত নির্মাণশ্রমিকই বেশি।
সাড়ে চার লাখ গৃহকর্মী: সারা দেশে চার লাখ ৫৫ হাজার গৃহকর্মী আছেন। এর মধ্যে চার লাখ আট হাজার নারী আর পুরুষ মাত্র ৪৭ হাজার। তাঁদের সিংহভাগই বাসাবাড়িতে কাজ করেন।
Prothom Alo

মহাসড়কে শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর, পেট্রলপাম্পে আগুন, ১৮ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবরোধ, ভাঙচুর, আগুন

মহাসড়কে শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর, পেট্রলপাম্পে আগুন, ১৮ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অবরোধ, ভাঙচুর, আগুন

কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের লাশ উদ্ধারের পর ক্ষুব্ধ জনতা গত রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মৌচাক বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন একটি ফিলিং স্টেশনে আগুন দেয় । প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ-সমর্থক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের লাশ উদ্ধারের খবরে গতকাল বুধবার ক্ষোভের আগুনে জ্বলে ওঠে নারায়ণগঞ্জ। তাঁর বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল দুপুর থেকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ পূর্বাঞ্চলের সব বিকল্প পথ এবং আঞ্চলিক ও সংযোগ সড়ক। এতে চট্টগ্রাম বন্দর, মহানগরসহ পূর্বাঞ্চলের ১৮ জেলার সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গতকালের সহিংসতায় মানুষের দুর্ভোগ ছিল বর্ণনাতীত। বিশেষ করে যাত্রী ও পথচারীরা দুঃসহ গরমে, রোদ ও ধুলাবালুর মধ্যে প্রচণ্ড কষ্ট পায়। দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যানজটে অসহনীয় পরিস্থিতি চললেও তা স্বাভাবিক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার সময় মহাসড়কে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো অভিযান চালায়নি। র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়নি কোথাও।
তিন দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় গতকাল থেকে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঘরমুখী হয়েছিল। যানবাহনে যাত্রীদের চাপ ছিল অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। সায়েদাবাদে স্টারলাইনের ব্যবস্থাপক মো. নাসির প্রথম আলোকে জানান, যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় সবাইকে টিকিট দেওয়া যায়নি। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে গতকাল তাদের ২৩টি বাসের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। অন্য পরিবহনগুলোর অবস্থাও একই রকম।
পরিবহনের মালিক ও কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সহিংসতায় দুই শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টার ভাঙচুর করা হয়েছে। কয়েকটি ছোট টং দোকান উঠিয়ে এনে রাস্তার ওপর আগুন দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা আগুন দিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনের মালিকানাধীন শ্যামস ফিলিং স্টেশনে। সেলিনা ইসলাম স্বামী নজরুলের অপহরণের ঘটনায় ইয়াসিন ও নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াসিনের পেট্রলপাম্পের মনিটরগুলোতে আগুন লাগানো হলেও রিজার্ভ ট্যাংক সুরক্ষিত ছিল। এ জন্য ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। পেট্রলপাম্পে আগুন লাগানোর পর বিক্ষোভকারীরা তাঁর গ্রেপ্তার ও বিচার চেয়েছেন।
অপহূত নজরুলের লাশ বুধবার বিকেলে পাওয়ার পর তাঁর ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা মৌচাক ও সাইনবোর্ড এলাকার মহাসড়কে তাণ্ডব শুরু করেন। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে তাঁরা নিয়মিত অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু লাশ উদ্ধারের খবরে প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তাঁরা সহিংস হয়ে ওঠেন। এ সময় সড়কের ওপর কংক্রিটের পাইপ ও বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার যাত্রী অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ে। কেউবা অসুস্থ হয়। প্রচণ্ড গরমে শিশুদের কষ্ট ও কান্না দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়। বিকেল থেকেই পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। রাস্তার আশপাশের দোকানগুলোতে পানির বোতল ফুরিয়ে যায়। ১৫ টাকা দামের আধা লিটার পানি বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকায়। চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অনেকেই যাত্রা স্থগিত করেছেন, কেউবা জরুরি হওয়ায় বাস কাউন্টার বা পরিবহনের মধ্যে অপেক্ষা করছেন।
সায়েদাবাদে গ্রিনলাইনের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসে
Prothom Alo