Saturday, August 2, 2014

ভারত নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে দ্রুত ট্রানজিট চুক্তির উদ্যোগ বিসিআইএম করিডর গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত

ভারত নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে দ্রুত ট্রানজিট চুক্তির উদ্যোগ
বিসিআইএম করিডর গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত
এম শাহজাহান ॥ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি করার উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর ও বাস্তবায়ন। এ ছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার নিয়ে গঠিত হচ্ছে আঞ্চলিক ইকোনমিক করিডর বিসিআইএম। এ করিডর গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত। এটিও যাতে দ্রুত সম্পন্ন করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী মাসে উচ্চপর্যায়ের একটি সরকারী প্রতিনিধি দল ভারত সফর করবে। প্রতিনিধি দলটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে। ওই সফরে বেসরকারী খাতের প্রতিনিধিদেরও রাখা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এদিকে, এশীয় দুই শক্তি ভারত ও চীনের পর এবার বাংলাদেশকে পাশে পেতে চায় আরেক অর্থনৈতিক শক্তি জাপান। দেশটি পুবের দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বাংলাদেশকে। এ জন্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে স্থলবন্দর, রেলপথের সক্ষমতা বাড়ানো ও প্রস্তাবিত ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থ সঙ্কট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগুচ্ছে না।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে এসব বিষয়ে কিছু অগ্রগতি আছে। তবে রাজনৈতিক সঙ্কট সামলাতে গিয়ে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সরকার আর এগোতে পারেনি। সরকারের ধারবাহিকতা বজায় থাকায় যেখানে শেষ করে রাখা হয়েছে সেখান থেকেই আবার ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জোরেশোরে কাজ শুরু করেছে বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট বিষয়টি ফের তদারকি শুরু করেছে।
সূত্র মতে, প্রস্তাবিত ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়েতে। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সিংহভাগ পণ্য আনা-নেয়া হবে এ রুট দিয়ে। এমনকি চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের জন্য পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত, নেপাল, ভুটানও ব্যবহার করতে পারবে এ রুট।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই লেন হাইওয়েকে চার লেনে রূপান্তর করা হলেও যানবাহন বৃদ্ধির চাপ এটি চার থেকে পাঁচ বছরের বেশি সামলাতে পারবে না। ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এ রোডে যানবাহনের চাপ বেড়ে প্রতিদিন ৬৬ হাজারে পৌঁছাবে। এত বেশি যানবাহন চলাচলের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ জরুরী বলে মনে করছে দাতা সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে এডিবির তৈরি নকশা অনুযায়ী এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাবিত রুটটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রচলিত হাইওয়ে বরাবর যাবে। এর পর সরলপথে চাঁদপুর, লাকসাম থেকে ফেনী হয়ে আবার হাইওয়ে সড়ক বরাবর চট্টগ্রাম পৌঁছবে।
এ ক্ষেত্রে এখনও যে নকশাগুলো পরিকল্পনায় রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রামের সিটি গেট পর্যন্ত বিদ্যমান মহাসড়কের বাইরে সমতলভূমির ওপর দিয়ে, বিদ্যমান মহাসড়কের ওপর দিয়ে উড়ালপথে, বিদ্যমান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ দিয়ে কিংবা উড়ালসড়ক মিলে যৌথভাবে বিকল্প পথে এ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর এক্সপ্রেসওয়ের এই প্রাথমিক নকশা বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, যোগাযোগ খাতে বৃহত্তম এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে পিপিপি বা সরকারী-বেসরকারী অংশীদারির ভিত্তিতে। সরকার ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ৮৩ কোটি ২২ লাখ টাকার দরপত্র অনুমোদন দিয়েছে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ ছাড়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগেও সই হয়েছে চুক্তি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, দেশের বৃহত্তম এই এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নে পরামর্শক নিয়োগে চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে গত জুন মাসে।
ইতোমধ্যে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাস অথবা প্রাইভেটকারে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছা যাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে থাকবে না কোন যানজট বা যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। নির্দিষ্ট হারে টোল দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছা যাবে অতি সহজে। এ জন্য সমতল বা উড়ালপথে ২৩২ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে আনুমানিক ৫০ হাজার কোটি টাকা। সময় লাগবে চার বছর। এডিবির আর্থিক সহায়তায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৫ সালে।
এ প্রসঙ্গে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটা অনেক দিন আগের। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে খুব দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে চাই। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের যোগাযোগ খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়া যাবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।
জানা গেছে, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ট্রানজিট সুবিধা গ্রহণ ও প্রদান করা হবে। সাতটি সড়ক, সাতটি রেল ও তিনটি নৌপথ দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানকে ট্রানজিট দেয়া হবে। এই পথগুলোর মাধ্যমে ট্রানজিট সুবিধা দিতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে অবকাঠামো উন্নয়ন ও পথগুলো ট্রানজিটের উপযোগী করার জন্য। তবে এতে পরিবহন বাবদ ১৫ ধরনের মাশুল আদায় করা যাবে। আর তাতে বাংলাদেশের বছরে আয় হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের মধ্যেই ট্রানজিট সম্পর্কে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে এই ট্রানজিট চুক্তির মূল কেন্দ্র হবে বাংলাদেশ। তবে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় ট্রানজিটসহ ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে বৈঠক করতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ইতোপূর্বে বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ট্রানজিট সামনে সামনে রেখে বিদ্যমান ১২টি স্থল বন্দরে ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ড তৈরি এবং আরও ৬টি নতুন স্থলবন্দর তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সূত্র মতে, ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার বিষয়ে খুঁটিনাটি ঠিক করার জন্য সরকার তার আগের মেয়াদেই একটি কোর কমিটি করেছিল। সে সময় ওই কমিটি সম্ভাব্য রুট, অবকাঠামো উন্নয়ন ও এ খাতে ব্যয়সহ অর্থনৈতিক সমীক্ষা তৈরি করে। কমিটির সুপারিশে ট্রানজিটের জন্য মাশুল আদায় করার কথা বলা হয়। এ ছাড়া কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ওই সময় ট্রানজিটের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে ৪৯ হাজার ৯২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে সড়ক রুটে উন্নয়নে ১১ হাজার ৯৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, রেলপথ উন্নয়নে ৩২ হাজার ২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, নৌপথ উন্নয়নে ১ হাজার ১৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১ হাজার ৮৫০ কোটি ৯০ লাখ টাকা, মংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়নে ২ হাজার ৭৯৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং স্থল বন্দরের উন্নয়নে ১৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের এ অর্থায়ন কোন খাত থেকে এবং কিভাবে আসতে পারে কিংবা ব্যয় করা যেতে পারে তারও সুনির্দিষ্ট উপায় নির্দেশনা দেয়া হয় কোর কমিটির সুপারিশ মালায়। মাশুল আদায় প্রসঙ্গে ওই সময় বলা হয়, বাংলাদেশের ভূখ- ব্যবহারের জন্য মালামাল বহনকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিবহনের অবস্থানের সময়, যাতায়াতের দূরত্ব, লোডিংয়ের পরিমাণ, দুর্ঘটনা, পরিবেশ বিপর্যয় এ জাতীয় ইন্ডিকেটরের আন্তর্জাতিক মানদ- বিবেচনায় নিয়ে মাশুল আদায় করা যেতে পারে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বা প্রচলিত প্রটোকলে ট্রানজিট পেতে আগ্রহী ভারত। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে প্রচলিত বাণিজ্য চুক্তি ও প্রটোকল রয়েছে তা দিয়েই ট্রানজিট সম্ভব। এ প্রেক্ষিতে ভারত প্রচলিত নৌ-প্রটোকলের আওতায় আশুগঞ্জ বন্দর হয়ে আখাউড়া দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা দাবি করে। কিন্তু সমস্যা হয় আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়কপথ নিয়ে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রচলিত নৌ প্রটোকল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রেড ও ট্রানজিটের আওতায় ভারত নৌপথে আশুগঞ্জ পর্যন্ত পণ্য পরিবহন সুবিধা পেলেও আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার হচ্ছে সড়কপথ। সড়কপথ হওয়ায় ওইটুকু রাস্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় রয়েছে। ফলে প্রচলিত নৌ প্রটোকলে আশুগঞ্জের পর ট্রানজিট সুবিধা অসম্ভব।
সূত্র জানায়, ভারত উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দ্বিপক্ষীয় ট্রানজিট সম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেটিকে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ সম্পর্ক হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক যোগাযোগের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রানজিট সংক্রান্ত রূপরেখা তৈরির সময় কোর কমিটির রিপোর্টে ভারত, নেপাল ও ভুটান ৩টি দেশকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এবার আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান-এই চার দেশে ট্রানজিটের জন্যে তৈরি করা খসড়া নিয়ে ফের পর্যালোচনা করছে সরকার। ট্রানজিট বিষয়ক কোর কমিটি প্রস্তাব অনুযায়ী ট্রানজিটের কাঠামোগত চুক্তির খসড়ায় এই চারটি দেশ সই করবে। ওই কাঠামোগত চুক্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ট্রানজিট চালুর অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই খসড়ায় বলা হয়েছে, সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকা- সম্প্রসারণ করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, ট্রানজিটকে আমরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ সম্পর্ক হিসেবে দেখছি না। আমরা এটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগের ভিত্তি হিসেবে দেখছি। যেখানে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রানজিট নিয়ে সরকার অনেক কাজ করেছে। এটির যথেষ্ট অগ্রগতিও আছে। সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় এবার এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে।
জানা গেছে, সড়কপথে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সরাসরি বাস-ট্রাক চলাচলের জন্য ইতোমধ্যে মোটর ভেহিকলস চুক্তি করার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এ প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে সরকার। ঢাকা থেকে কোন্ কোন্ পথে সরাসরি বাস চলবে তার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত বাস সার্ভিসকে মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি শহরে বাস চলাচলের জন্য পৃথক প্রটোকল হতে পারে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ ব্যাপারে কাজ করছে। এ ছাড়া ট্রানজিট সংক্রান্ত যোগাযোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ চেয়েছে ভারত। তারও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকে। বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে এর অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা নিরূপণ করা হবে। এ ছাড়া ভারত এ বন্দর ব্যবহার করে কী পরিমাণ পণ্য নদী ও রেলপথে ট্রানজিট করতে পারে সেসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের জন্য ওয়্যার হাউস, বাল্ক বিয়ারিং কার্গো, নতুন পোর্ট এর ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া এশীয় দুই শক্তি ভারত ও চীনের পর এবার বাংলাদেশকে পাশে পেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে আরেক অর্থনৈতিক শক্তি জাপান। দেশটি পুবের দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বাংলাদেশকে। ভারতের পর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার ক্ষেত্রে শত্রু মনোভাবাপন্ন দুই দেশ চীন ও জাপানের সাম্প্রতিক আগ্রহের পেছনে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বঙ্গোপসাগরের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টিই কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, আসিয়ানে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) বাংলাদেশ প্রধান মিকিও হাতেদা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই সময় জাইকা প্রধান বলেছেন, বাংলাদেশ চাইলে আসিয়ানের রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরকেপ)’-এর সদস্য হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বাদে আরকেপের সদস্য এশিয়ার চার অর্থনৈতিক শক্তি চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বাধিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। সব দেশই অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। বিশেষ করে এই চার দেশ থেকেই বাংলাদেশের শিল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি কাঁচামাল ও শিল্পোৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ভারি যন্ত্রপাতি, মেশিন, গাড়ি, মোটরবাইক, ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। এ ছাড়া এই গ্রুপটির মাধ্যমে আসিয়ানের ১০ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ারও সুযোগ থাকছে। এর মাধ্যমে আসিয়ানে অন্তভূক্ত হতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি মর্যাদাও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

http://allbanglanewspapers.com/janakantha/

No comments:

Post a Comment