Monday, August 4, 2014

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে অবাধ খ্রিস্টান ধর্মান্তরিতকরণ। বিষয়টি অদূর ভবিষ্যতে গভীর শঙ্কার। রহস্যজনক কারণে নীরব সরকার। -আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে অবাধ খ্রিস্টান ধর্মান্তরিতকরণ।
বিষয়টি অদূর ভবিষ্যতে গভীর শঙ্কার।
রহস্যজনক কারণে নীরব সরকার।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।

বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকাকে ঘিরে এনজিও এবং আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান লবি খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে সুদীর্ঘকালব্যাপী নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। মুঘল আমলেই এদেশের প্রতি এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের শ্যেন দৃষ্টি পতিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে মিশনারীরা খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও ধর্মান্তরের যে প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে, পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে তার ক্রমবিকাশ সাফল্যের সাথে অব্যাহত থাকে। স্কুল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, হাসপাতাল স্থাপন, ঋণ প্রদান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি মুখরোচক কর্মসূচির আড়ালে রয়েছে এ দেশে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করার নীলনকশার বাস্তবায়ন।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমেই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে অবাধে চলাফেরার লাইসেন্স পায়। তারা সুকৌশলে বাঙালি ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উচ্ছেদ করার মাধ্যমে তাদের এ দেশীয় দোসরদের নিয়ে (যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজাকারের ভূমিকা পালন করেছিল) খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল বানানোর মিশনারি রূপরেখা অনুযায়ী এরাই চুক্তির দীর্ঘ ১ দশকের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে কারা থাকবে, কারা থাকতে পারবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা যেমন পুরাতন, তেমনি কঠিন। এই সমস্যা আমাদের, সমাধানও আমাদেরকে করতে হবে। কিন্তু অবাক লাগে তখন, যখন দেখি দেশে জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক সরকার থাকা সত্ত্বেও আমাদের সমস্যার বিষয়ে সমাধানের পথ বের করতে ইউরোপের কোনো দেশে বিদেশী মিশনারিদের বৈঠক হয়। বিগত ২০০৮ সালের ৩১ মে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ১২ জন সদস্য নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (সিএইচটি কমিশন) গঠন করা হয়। এ কমিশন জাতিসংঘের দায়িত্বশীল কোনো সংস্থা নয়; কিংবা বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে গঠিত কোনো সংগঠনও নয়। আমাদের এই ভূ-খ-ের প্রাকৃতিক-খনিজ সম্পদ গ্রাস করতে এরা এ অঞ্চলের মানুষদের নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে অতি উৎসাহ দেখিয়ে মূলতঃ এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদের সাংবিধানিক কোনো অধিকার না থাকলেও এরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে নাক গলাচ্ছে।
সিএইচটি কমিশন তাদের এ দেশীয় দোসরদের নিয়ে বিভিন্ন সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করেছে। এইসব সফরে মূলতঃ স্থায়ী শান্তি স্থাপনের বিপরীতে অশান্তির বীজ বপন করা হয়েছে। অবশ্য তারা সরকারের নিকট বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরেছে। সরকারের নিকট প্রেরিত এইসব সুপারিশমালায় সিএইচটি কমিশন উল্লেখ করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে বাঙালিদের পার্বত্যাঞ্চলের বাইরে পুনর্বাসন করা গেলে তাদের এই অসহনীয় দুঃখ কষ্টের পরিসমাপ্তি ঘটবে। সেই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপর লোকসংখ্যার চাপ হ্রাস পাবে। অবশ্য এই ক্ষেত্রে বাঙালিরা স্বেচ্ছায় পার্বত্য চট্টগ্রাম না ছাড়লে রেশনসহ তাদের সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিতে হবে। সেনা প্রত্যাহারেও তাদের রয়েছে শক্ত অবস্থান। তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাঙালি শূন্য ও সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে এখানকার অঞ্চলের খনিজ সম্পদ গ্রাস করাসহ এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেদের আয়ত্তে এনে এই অঞ্চলকে খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করা। যে মিশনে এরা ইতোমধ্যে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার চাক্মা, মারমা, ত্রিপুরাসহ পাংখো, বোম, লুসাই, চাক, তঞ্চাগ্যা, খুমি, মুরং, খিয়াং এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক উপজাতীয় জনগোষ্ঠি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে। বান্দরবান জেলায় পাংখো, বোম, লুসাই সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক ইতোমধ্যে ধর্মান্তরিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার উপজাতি তাদের নিজস্ব ধর্মীয়, সামাজিক কৃষ্টি, সভ্যতা, সংস্কৃতির অস্তিত্ব বিলিয়ে দিয়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করছে। ফলে উপজাতিদের নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাচ্ছে নীরবে। অনেক এনজিও উপজাতীয় তরুণদের খ্রিস্টান ধর্মে এনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য অষ্ট্রেলিয়া, সুইডেন, কোরিয়া, ফ্রান্স, চীন, জাপান, নরওয়ে, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় একাধিক হাসপাতাল, ক্লিনিক, ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস, লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সের উঠতি উপজাতীয় ছেলে-মেয়েদেরকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণে আকৃষ্ট করছে।
সূত্র মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক এনজিও তৎপরতা চট্টগ্রাম, ফটিকছড়ি, মিরসরাইয়ের উত্তরাংশে (খাগড়াছড়ি সংলগ্ন) পটিয়া, কক্সবাজার, চকরিয়া, ফেনীর পরশুরাম ও কুমিল্লার কিছু অংশে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য রাজ্যেও খ্রিস্টান মিশনারিদের কাজ চলছে। এরা বার্মার পার্বত্য সীমান্তবর্তী বিপুল এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এ অঞ্চলকে নিয়ে উপজাতীয় খ্রিস্টানদের একচ্ছত্র আধিপত্য তথা খ্রিস্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। উল্লেখ্য, যে দেশে গেরিলা যুদ্ধ রয়েছে সে দেশের গেরিলা তৎপরতা পরিচালনায় তাদের অস্ত্র, অর্থ সরবরাহ ঘটনাও নতুন নয়। ইতোমধ্যে ভারতের অনেক গেরিলা গোষ্ঠি এই ফাঁদে পড়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে।
পার্বত্য এলাকায় জুম্মল্যান্ড গঠন, ভারতের ৭টি রাজ্যে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ও বার্মার বিস্তীর্ণ পার্বত্য সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে এ বিশাল অঞ্চলকে খ্রিস্টান অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র অনেক আগের। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলে বেশকিছু এনজিও খ্রিস্টান মিশনারি তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে নানা সময়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে অধিক মুনাফার বিনিময়ে ঋণ কার্যক্রম, উপজাতীয়দেরকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিতকরণ, পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের গেরিলা তৎপরতায় সহযোগিতা প্রদান, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিষোদগার, সাম্প্রদায়িক উস্কানী, উপজাতীয়দের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপপ্রচার, রাজনৈতিক অস্থিশীলতা সৃষ্টিসহ নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য এলাকায় হু হু করে অনেক এনজিও এসে আস্তানা গেড়েছে। পূর্ণাঙ্গ খ্রিস্টান অঞ্চল বানাতে চুক্তি বাস্তবায়নের এমন সময়কে এরা মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়ে ষড়যন্ত্রের নানা ডালপালা বিস্তার করছে।
এসব তথ্য পাওয়ার পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনজিওগুলোর নিকট আর্থিক ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও এনজিওগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন কার্যকলাপ রোধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সরকার বা দেশের মানুষ জানতে পারছে না কোথায় কিভাবে এ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। বিলম্বে হলেও সরকারের এই সুমতি উদয় হওয়ায় পাহাড়বাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিদেশী মিশনারিরা সন্তু লারমার কাতারে বসে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেদের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে এরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করছে। অন্যদিকে চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ইউ.এন.ডি.পি.সহ বিদেশী সমস্ত ঋণদাতা সংস্থা ও মিশনারিরা তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপক মোটিভেশন ওয়ার্ক চালাচ্ছে। আমাদের সমস্যা নিয়ে বিদেশীদের অযাচিত হস্তক্ষেপসহ তাদের দেখানো পথ ধরেই যেন চলতে হচ্ছে আমাদের। তাদের ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে আমাদের উপর। এতকিছুর পরও সরকারের কোনো কার্যকর প্রতিবাদ নেই।
বলাবাহুল্য, সুদান থেকে যেমন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাধিক্যের কথা বলে দক্ষিণ সুদানকে আলাদা করা হয়েছে তেমনি পার্বত্যাঞ্চলে আলাদা স্বাধীন খ্রিস্টান রাজ্যের কথা শোনা যাচ্ছে বহু আগ থেকেই। এখনও সতর্ক নয় সরকার। সক্রিয় নয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মূলত তাদের অথর্বতার বিপরীতে স্বাধীনতাকে অক্ষণœ রাখতে হলে গোটা দেশবাসীর জেগে উঠার বিকল্প নেই।
মূলত সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ মুবারক তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

No comments:

Post a Comment