উজানের ঢলে ফুঁসে উঠছে তিস্তা
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ উজানের ঢলে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ফুঁসে উঠছে তিস্তা। নদী দুটি চ্যানেলে প্রবাহিত হওয়ায় আতঙ্কে পড়েছে তিস্তা পারের চর গ্রামের মানুষ। এ ছাড়া ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরার অর্ধ-লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বাগেরহাটে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েছে হাজারও মানুষ। খবর নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো-
নীলফামারী ॥ কয়েক দিন আগেও যে তিস্তা নদী ধুধু বালুচরে পরিণত হয়েছিল সেই তিস্তা বর্ষণের সঙ্গে উজানের ঢলে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি তিস্তা নদী দুটি চ্যানেলে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের চর গ্রামের মানুষজন আতঙ্কে পড়েছে। পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি সুইচগেট খুলে দেয়া হয়েছে। তিস্তার উজান আর ভাটি অঞ্চল এখন অথৈই পানিতে ভাসছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে তিস্তার পানিপ্রবাহ ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ দশমিক ৩৩ মিটার। যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।
তিস্তাপাড়ের ঝারশিঙ্গেশ্বর গ্রামের হারুর (৪৫) জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া এবং দুটি চ্যানেলে নদী প্রবাহিত হওয়ায় চর গ্রামের মানুষজন বিপদে পড়েছে। কে জানে কখন উজান থেকে ভারি ঢল ঘরবাড়ি সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। এ অবস্থায় তিস্তাপাড়ের ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুঁনাগাছ চাঁপানী, জলঢাকা উপজেলার গোলমু-া, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী, কৈমারী এলাকার তিস্তাপাড়ের মানুষ নিরপদে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে সোমবার রাতে তিস্তার পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সূত্র মতে ডালিয়া পয়েন্টে ভোর ৬টা, থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা অন্তর অন্তর তিস্তার পানিপ্রবহ রেকর্ড করা হয়ে থাকে। ফলে সোমবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হলেও তা রেকডের খাতায় আনা হয়নি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র মতে, তিস্তা ব্যারাজের উজানে গত দুই বছর থেকে বর্ষার সময় তিস্তা দুটি চ্যানেলে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। এবার নদীর বাম তীরে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। বাঁধটি নির্মাণ শেষ হলে তিস্তা পুনরায় ১টি চ্যানেলে ফিরে আসবে। সূত্র মতে মূল চ্যানেল কালীগঞ্জ জিরো পয়েন্ট ছাড়াও টেপাখড়িবাড়ির চরখড়িবাড়ি দিয়ে তিস্তা আরেকটি চ্যানেলে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি তিস্তার ডান তীরের বাঁধের হার্ডপয়েন্ট ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে নজরদারিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর উজানের ঢলের পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে।
ভোলায় অর্ধলক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী ॥ দুর্ভোগ চরমে
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলায় টানা বর্ষণ আর জোয়ারের পানিতে গত ১ সপ্তাহ ধরে ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে বেকার হয়ে পড়েছে মানুষ, গৃহবন্দী হয়ে কাজে যেতে পারছে না দিন মজুররা। এদিকে পানিতে ভেসে গেছে কয়েক লাখ টাকার মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলের ক্ষেত। পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে থাকায় অধিকাংশ পরিবারে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। পানিবন্দী এ সব মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পানিবন্দী মানুষের মাঝে কোন ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিম্ন চাপের প্রভাবে মেঘনায় অস্বাভাবিক জোয়ার বৃদ্ধি আর গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে মনপুরার ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ওইসব গ্রামে জোয়ার এলে ৩-৪ ফুট পানি ওঠে। ভাটায় পানি কিছু নামলেও জলাবদ্বতা সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলো হচ্ছে- মনপুরা ইউনিয়নের ফুজগাজী, ইশ্বরগঞ্জ ও কাউয়ার টেক, হাজিরহাট ইউনিয়নের হাজীরচর, চর ফৈজুদ্দিন, চর যতিন, চরজ্ঞান, দাসের হাট, সোনারচর, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাত্তিরখাল, সূর্যমুখী, তালতলা, চর গোয়ালিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া গ্রাম এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১টি গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানায়, একদিকে টানাবর্ষণ অন্যদিকে বাঁধ মেরামত না করায় পানি উঠে ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের আশ্রয় নিতে অপেক্ষাকৃত হচ্ছে উঁচু স্থানে, পানিবন্দী হয়ে মানবেতর দিন কাটালেও কোন সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায়নি তাদের কাছে। এদিকে জোয়ারের পানির সঙ্গে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় আউশ আবাদসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউল্লাহ জানান, গত ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ও কয়েক দফা ঝড়ে ইউনিয়নের সাড়ে ৩ কিলোমিটার ভেঙ্গে যায়। নির্ধারিত সময় বাঁধ মেরামত না করায় ইউনিয়নের ২টি গ্রাম এখন অরক্ষিত। এ সব এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এলাকার দুর্গত মানুষের জন্য এখনও সরকারী কোন ত্রাণ সহায়তা তারা পায়নি।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ ও ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম জানান, মনপুরায় ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।
বাগেরহাটে খালে বাঁধ দিয়ে মাছচাষ ॥ লাশ দাফনেও সমস্যা
রামপালে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে সরকারী খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ করায় শ্রীফলতলা গ্রামের প্রায় ২ হাজার মানুষ ও ৪শ’ বিঘা জমির ঘের মালিক জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীর প্রতিকারের জন্য সরকারী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, রামপাল সদর ইউনিয়নের বৃহত্তর শ্রীফলতলা গ্রামের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঘাটের খাল যা দেড়কুড়ার খাল ও বসির খালের সঙ্গে সংযুক্ত। ওই খালের গোড়ায় শ্রীফলতলা গ্রামের প্রভাবশালী এক ঘের ব্যবসায়ী অবৈধ বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ করেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বর্ষার শুরুতেই এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ওই খালের ও অন্যান্য খালের দুই পাশের মৎস্যচাষীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। পানি ঠিকমতো সরবরাহ না হওয়ার কারণে এলাকার মৎস্যচাষী লুৎফর রহমানের ৮০ বিঘা, আতিয়ার রহমানের ১০ বিঘা, কামরুল হোসেনের ২০ বিঘা, সোহরাব ফকিরের ৩ বিঘা, রবিউল ইসলামের ২ বিঘা, মনিরুজ্জামানের ২ বিঘা, রফিক হাওলাদারের ২০ বিঘা, সোহরাব মল্লিকের ২৫ বিঘা, কাজী কামরুলের ৬০ বিঘা, মাস্টার আঃ রাজ্জাকের ১০ বিঘাসহ প্রায় ৪শ’ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া স্বাভাবিক পানি প্রবাহ না থাকায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এ সব জমি সংলগ্ন বাড়িঘরে পানি ডুকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও ফসলহানি ঘটছে। মৃতের দাফন সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে।
নীলফামারী ॥ কয়েক দিন আগেও যে তিস্তা নদী ধুধু বালুচরে পরিণত হয়েছিল সেই তিস্তা বর্ষণের সঙ্গে উজানের ঢলে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি তিস্তা নদী দুটি চ্যানেলে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের চর গ্রামের মানুষজন আতঙ্কে পড়েছে। পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি সুইচগেট খুলে দেয়া হয়েছে। তিস্তার উজান আর ভাটি অঞ্চল এখন অথৈই পানিতে ভাসছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে তিস্তার পানিপ্রবাহ ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ দশমিক ৩৩ মিটার। যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।
তিস্তাপাড়ের ঝারশিঙ্গেশ্বর গ্রামের হারুর (৪৫) জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া এবং দুটি চ্যানেলে নদী প্রবাহিত হওয়ায় চর গ্রামের মানুষজন বিপদে পড়েছে। কে জানে কখন উজান থেকে ভারি ঢল ঘরবাড়ি সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। এ অবস্থায় তিস্তাপাড়ের ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুঁনাগাছ চাঁপানী, জলঢাকা উপজেলার গোলমু-া, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী, কৈমারী এলাকার তিস্তাপাড়ের মানুষ নিরপদে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে সোমবার রাতে তিস্তার পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সূত্র মতে ডালিয়া পয়েন্টে ভোর ৬টা, থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা অন্তর অন্তর তিস্তার পানিপ্রবহ রেকর্ড করা হয়ে থাকে। ফলে সোমবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হলেও তা রেকডের খাতায় আনা হয়নি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র মতে, তিস্তা ব্যারাজের উজানে গত দুই বছর থেকে বর্ষার সময় তিস্তা দুটি চ্যানেলে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। এবার নদীর বাম তীরে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। বাঁধটি নির্মাণ শেষ হলে তিস্তা পুনরায় ১টি চ্যানেলে ফিরে আসবে। সূত্র মতে মূল চ্যানেল কালীগঞ্জ জিরো পয়েন্ট ছাড়াও টেপাখড়িবাড়ির চরখড়িবাড়ি দিয়ে তিস্তা আরেকটি চ্যানেলে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি তিস্তার ডান তীরের বাঁধের হার্ডপয়েন্ট ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে নজরদারিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর উজানের ঢলের পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে।
ভোলায় অর্ধলক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী ॥ দুর্ভোগ চরমে
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলায় টানা বর্ষণ আর জোয়ারের পানিতে গত ১ সপ্তাহ ধরে ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। জলাবদ্ধতার কারণে বেকার হয়ে পড়েছে মানুষ, গৃহবন্দী হয়ে কাজে যেতে পারছে না দিন মজুররা। এদিকে পানিতে ভেসে গেছে কয়েক লাখ টাকার মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলের ক্ষেত। পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে থাকায় অধিকাংশ পরিবারে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। পানিবন্দী এ সব মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পানিবন্দী মানুষের মাঝে কোন ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিম্ন চাপের প্রভাবে মেঘনায় অস্বাভাবিক জোয়ার বৃদ্ধি আর গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে মনপুরার ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ওইসব গ্রামে জোয়ার এলে ৩-৪ ফুট পানি ওঠে। ভাটায় পানি কিছু নামলেও জলাবদ্বতা সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলো হচ্ছে- মনপুরা ইউনিয়নের ফুজগাজী, ইশ্বরগঞ্জ ও কাউয়ার টেক, হাজিরহাট ইউনিয়নের হাজীরচর, চর ফৈজুদ্দিন, চর যতিন, চরজ্ঞান, দাসের হাট, সোনারচর, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাত্তিরখাল, সূর্যমুখী, তালতলা, চর গোয়ালিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া গ্রাম এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১টি গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানায়, একদিকে টানাবর্ষণ অন্যদিকে বাঁধ মেরামত না করায় পানি উঠে ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের আশ্রয় নিতে অপেক্ষাকৃত হচ্ছে উঁচু স্থানে, পানিবন্দী হয়ে মানবেতর দিন কাটালেও কোন সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায়নি তাদের কাছে। এদিকে জোয়ারের পানির সঙ্গে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় আউশ আবাদসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউল্লাহ জানান, গত ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ও কয়েক দফা ঝড়ে ইউনিয়নের সাড়ে ৩ কিলোমিটার ভেঙ্গে যায়। নির্ধারিত সময় বাঁধ মেরামত না করায় ইউনিয়নের ২টি গ্রাম এখন অরক্ষিত। এ সব এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এলাকার দুর্গত মানুষের জন্য এখনও সরকারী কোন ত্রাণ সহায়তা তারা পায়নি।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ ও ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম জানান, মনপুরায় ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।
বাগেরহাটে খালে বাঁধ দিয়ে মাছচাষ ॥ লাশ দাফনেও সমস্যা
রামপালে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে সরকারী খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ করায় শ্রীফলতলা গ্রামের প্রায় ২ হাজার মানুষ ও ৪শ’ বিঘা জমির ঘের মালিক জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীর প্রতিকারের জন্য সরকারী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, রামপাল সদর ইউনিয়নের বৃহত্তর শ্রীফলতলা গ্রামের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঘাটের খাল যা দেড়কুড়ার খাল ও বসির খালের সঙ্গে সংযুক্ত। ওই খালের গোড়ায় শ্রীফলতলা গ্রামের প্রভাবশালী এক ঘের ব্যবসায়ী অবৈধ বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ করেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বর্ষার শুরুতেই এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ওই খালের ও অন্যান্য খালের দুই পাশের মৎস্যচাষীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। পানি ঠিকমতো সরবরাহ না হওয়ার কারণে এলাকার মৎস্যচাষী লুৎফর রহমানের ৮০ বিঘা, আতিয়ার রহমানের ১০ বিঘা, কামরুল হোসেনের ২০ বিঘা, সোহরাব ফকিরের ৩ বিঘা, রবিউল ইসলামের ২ বিঘা, মনিরুজ্জামানের ২ বিঘা, রফিক হাওলাদারের ২০ বিঘা, সোহরাব মল্লিকের ২৫ বিঘা, কাজী কামরুলের ৬০ বিঘা, মাস্টার আঃ রাজ্জাকের ১০ বিঘাসহ প্রায় ৪শ’ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া স্বাভাবিক পানি প্রবাহ না থাকায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এ সব জমি সংলগ্ন বাড়িঘরে পানি ডুকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও ফসলহানি ঘটছে। মৃতের দাফন সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment