Tuesday, June 24, 2014

আর্জেন্টিনাকে রুখতেই মাঠে নামবে নাইজিরিয়া মজিবর রহমান, ব্রাজিল থেকে

আর্জেন্টিনাকে রুখতেই মাঠে নামবে নাইজিরিয়া
মজিবর রহমান, ব্রাজিল থেকে
টানা দুই জয়ে প্রি-কোয়ার্টারে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টনা। তবু শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ লীগ অতিক্রম করতে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল। প্রতিপক্ষ আজ আফ্রিকার ‘সুপার ঈগলখ্যাত’ নাইজিরিয়া। ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনা সমর্থক-দর্শকের ভিড়ে চিরাচরিত উৎসবের নগারী ব্রাজিলের পোর্তে আলেগ্রে। আর্জেন্টাইনদের এই উৎসবের রং বিলীন করতে প্রস্তুত বিপক্ষ আফ্রিকানরা। সংখ্যায় কম হলেও হাজারও আকাশী-সাদা রঙের মাঝে আবার সবুজ-সাদার মিশেল। হাতে ঈগলের প্রতিকৃতি, পতাকা। ইংলিশ লীগে চেলসিতে খেলা দলের সেরা তারকা ওবি মিশেল মন্তব্য করলেন, সুযোগ আছে ঘুরে দাঁড়ানোর।
আর্জেন্টিনার মতো আমরাও অপরাজিত। তবে দুই ম্যাচে মেসিদের পুঁজি পূর্ণ ৬ পয়েন্ট। আর আমাদের চার। এক পয়েন্টের অপেক্ষা। সেটা পেলে আমরাও প্রি-কোয়ার্টারে গ্রুপ থেকে আর্জেন্টিনার সঙ্গী। কাজেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না। যদিও বাস্তবতা বলছে আমাদের তুলনায় ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে মেসির দল। তারকায় ঠাসা এমন সমৃদ্ধ দলের বিরুদ্ধে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে প্রত্যশার পথ তৈরির তৃপ্তিও অবশ্য অন্যরকম। আজ আমরা সেটাই করতে চাই। শেষ ম্যাচে এ সুযোগ হারাতে কে চায়? দলের প্রতিটি বিভাগ সমানভাবে-দল হয়ে খেলতে পারলে আজেন্টিনার কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নেয়া কঠিন কিছু নয়।
মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে আর্জেন্টিনার কোচ আলেজান্দ্রো সাবেলা বললেন, জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে তাঁর দল। সাবেলা স্বীকার করেন গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দলটিকেই আজ মোকাবেলা করতে যাচ্ছে তার তারকা ‘ব্রিগেড’। নাইজিরিয়ানদের গতি-ক্ষীপ্রতা, ফিটনেস বড় বৈশিষ্ট। পরের ম্যাচটিই নকআউট পর্বের-অঘোষিত ফাইনাল। সঙ্গত কারণে ইনজুরি থেকে দূরে থাকার পক্ষে আর্জেন্টিনা কোচ। বললেন, ওদের ‘রাফ এ্যান্ড টাফ’ ফুটবলই আমার চিন্তার কারণ। এ ছাড়া নাইজিরিয়াকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে এটুকু বলতে পারি ইনজুরির ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে একাদশে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এক প্রশ্নের উত্তরে সাবেলা বললেন, মেসি অবশ্যই খেলবে। ও আমার টিমের ‘গ্ল্যামার’। তবে তাকেও সাবধান হয়ে খেলতে হবে, যাতে পরবর্তী পর্বে শতভাগ ফিটনেস নিয়ে মাঠে নামতে পারে। আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। পরের ধাপটা থেকেই আসল লড়াই। হারলেই বিদায়। কাজেই আমরা যেহেতু পৌঁছেই গেছি প্রি-কোয়ার্টারে, কাজেই ‘পরি-মরি’ খেলার কোন দরকার আছে বলে মনে করি না। প্রসঙ্গত, ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এই নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের অভিষেক হয়েছিল বর্ষীয়ান আলেজান্দ্রো সাবেলার। কোচ স্টিফেন কেশির তত্ত্বাবধানে গত বছর আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয় করে নাইজিরিয়া। আসরেই তাদের বড় অর্জন শুধু ট্রফি নয়। উজ্জ্বল, আলোঝলমলে একটি তারুণ্য নির্ভর দলও। অতীতে আরও চারবারের অংশগ্রহণে আফ্রিকার দলটির সাফল্য বদলে দুইবার দ্বিতীয় পর্বে খেলা। উল্লেখ্য, গ্রুপ ‘এফ’ থেকে বসনিয়াকে এক গোলে হারিয়ে ও ইরানের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে প্রি-কোয়ার্টারের দোড়গোড়ায় নাইজিরিয়া।
প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার বিরুদ্ধে অসাধারণ এক গোল করে আর্জেন্টিনা শিবিরকে স্বস্তির জয় উপহার দিয়েছিলেন, ‘এল এম টেন’। পরের ম্যাচের ত্রাতাও তিনি লিওনেল মেসি। ইরানের বিরুদ্ধে ম্যাচের অন্তিম (৯১ মিনিট) মুহূর্তে কিংবদন্তি ম্যারাডোনার চোখের সামনে মেসির দুর্ধর্ষ গোল। আর এতেই কাপালগুণে জয়। ৬ পয়েন্ট নিয়ে নিশ্চিত পরবর্তী পর্ব। হিগুয়াইন, এ্যাগুয়েরো ও ডি মারিয়া-এরা সব কোটি কোটি টাকার ইউরোপীয় লীগের একজন তারকা। কিন্তু দ্যুতি ছড়াতেই পারছিলেন না। পারেননি গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে। নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে পারবেন কিনা সময় ভাল বলতে পারবে। তবে শক্তির জানান দিতে চায় আজ কোচ কেশির নাইজিরিয়া। আর্জেন্টিনাকে তারা সহজে ছাড় দিতে নারাজ বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন দলটির অভিজ্ঞ কোচ স্টিফেন কেশি। তাঁর কথায়, আর্জেন্টিনার দুর্বল জায়গা আমরা ওদের দুই ম্যাচ দেখে বুঝে গেছি। মেসিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার চরম অস্ত্রটা হচ্ছে ‘মার্কিং’। গত দুই ম্যাচে মেসির জয়সূচক যে গোল দুটি দেখেছি তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি যে বিশ্বমানের সেরা তারকাদের একজন প্রমাণ করে দিয়েছেন তা। আমি মনে করি ওই গোল দুটি ঠেকানো যেত। সবাই জানে দুরন্ত মেসিকে চারপাঁচজনেও ঠেকানো কঠিন। তফাতটা তিনি ঠিকই প্রমাণ করে দেন সময় মতো। ফলে মেসির দিকেই আমাদের পাহারাটা বেশি থাকবে। অন্তত ‘ডি বক্সে তিনি যেন তার তকমটা দেখানোর সুযোগ না পান।’
উল্লেখ্য, আগামীকাল (২৬ জুন) শেষ হচ্ছে গ্রুপ লীগের লড়াই। আনন্দ-বেদনার প্রথম পর্ব থেকে টিকে থাকবে ১৬টি দল। বাকিরা বেদনার নীল আকাশ পাড়ি দিয়ে বিদায়। ১৬ দলের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু ২৮ জুন। এখান থেকে খসে পড়বে আটটি তারা-সঙ্গে দলও। এর পর আট দলের কোয়ার্টার ফাইনাল পরবর্তী সেমিফাইনাল, ফাইনাল। প্রসঙ্গত, ১৩ জুলাই ফাইনালের আগেরদিন অনুষ্ঠিত হবে দুই পরাজিত সেমিফাইনালিস্টের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/

No comments:

Post a Comment