Tuesday, June 24, 2014

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশী কারও অর্থ আছে কিনা জানতে জরুরী মেল প্রয়োজনে ভারতের সহযোগিতা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশী কারও অর্থ আছে কিনা জানতে জরুরী মেল
প্রয়োজনে ভারতের সহযোগিতা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
রহিম শেখ ॥ সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে তথ্য জানতে জরুরী মেলবার্তা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার দুপুরে এ সংক্রান্ত এক মেল এগমন্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে (এসএনবি) পাঠানো হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তথ্য জানতে চেয়ে মেলবার্তা পাঠানো হলেও কোন রকম উত্তর দেয়নি সুইস ব্যাংক। এ লক্ষ্যে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থের তথ্য জানতে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত কেউ সুইস ব্যাংকে টাকা জমা করেছেন কিনা এবং করলে সেটা কোন প্রক্রিয়ায় করেছেন সেটা খতিয়ে দেখা হবে। তবে যেসব বাংলাদেশী নাগরিক প্রবাসে রয়েছেন তারা সুইস ব্যাংকসহ বিশ্বের যে কোন দেশের ব্যাংকে অর্থ জমা করতে পারেন। সুইস ব্যাংকের অর্থ প্রবাসীদের কিনা সেটাও দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়ে জরুরী মেলবার্তা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার গোপন এগমন্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এক মেলবার্তা সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। যদিও এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তথ্য জানতে চেয়ে মেলবার্তা পাঠানো হলেও উত্তর দেয়নি সুইস ব্যাংক। মাহফুজুর রহমান বলেন, সুইজারল্যান্ডের সরকারের সঙ্গে আমাদের কোন এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) নেই। তাদের কাছ থেকে তথ্য পেতে হলে আগে এমওইউ স্বাক্ষর করতে হবে। এজন্য আমরা এমওইউ করার চেষ্টা করছি। এই চুক্তি হলে বাংলাদেশ থেকে কোন ব্যক্তি কি পরিমাণ অর্থ সে দেশের ব্যাংকে জমা রেখেছে তা জানার চেষ্টা করা হবে। তবে প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কেননা, সব দেশের আইনই আমানতকারীদের পক্ষে কথা বলে।
সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) কর্তৃক প্রকাশিত ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৩’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০১৩ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের অন্তত ৩৭ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ গচ্ছিত রয়েছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সমান। এই অর্থ ২০১২ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি। ওই বছর সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২২ কোটি ৯০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার সমান। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকটিতে বাংলাদেশীদের আমানত বেড়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সূত্র মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এ দেশের কোন নাগরিকের বিদেশে টাকা নিতে হলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে কোন টাকা নেয়া যাবে না। তবে বিদেশে যারা আয় করেন তাদের সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে বাংলাদেশের আইনে কোন সমস্যা নেই। তবে তিনি যদি আয়কর দিয়ে থাকেন এবং প্রবাসী কোটায় কোন সুবিধা নিয়ে থাকেন সেই ক্ষেত্রে এই তথ্য সরকারকে জানাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুইস ব্যাংকে জমা টাকার যাবতীয় তথ্য জানা একটি জটিল কাজ। এ সব প্রবাসী বাংলাদেশীর অর্থ বলে আমরা মনে করছি। তবুও সম্ভবপর সব প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে। সম্প্রতি সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অর্থায়ন বন্ধ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে সহায়তায় তথ্যের আদান-প্রদান করতে গত বছরের জুলাইয়ে এগমন্ট গ্রুপের সদস্য হয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে ১৪৭টি দেশ ওই গ্রুপের সদস্য। বাংলাদেশ এই গ্রুপের সদস্য হওয়ায় এখন সব দেশ থেকে মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অর্থায়ন বা টাকা পাচার বিষয়ক যে কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। সুইজারল্যান্ড এগমন্ট গ্রুপের সদস্য। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে এ দেশের সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ করা নেই। এজন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক করতে হবে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৭টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। সুইস ব্যাংক যেহেতু বাংলাদেশীদের টাকা তাদের ব্যাংকে আছে বলে জানিয়েছে, সুতরাং এ বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কাছে জানাতে পারে।
এর আগে সোমবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে যেসব ভারতীয় নাগরিকের অবৈধ সম্পদ রয়েছে, তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করছে সুইস কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইস ব্যাংকে গত এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয়দের অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। এতে দেখা যায়, ২০১৩ সালে ভারতীয়দের ১৯৫ কোটি ২৮ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ২১৭ কোটি ৩২ লাখ ডলার গচ্ছিত রয়েছে। এটি ভারতীয় মুদ্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি রুপী। ভারতের সরকারী কর্মকর্তারা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দেশটির সরবরাহ করা তালিকা ও তথ্য কালো টাকাধারী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং বিদেশে থাকা কোটি কোটি ডলার দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে ভারতীয় নাগরিকের গচ্ছিত অর্থের তথ্য প্রদান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমরা শুনেছি সুইস ব্যাংক এ সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, সেই সব ব্যাংকের বাংলাদেশীদের অর্থ আছে কিনা জানতে প্রয়োজনে আমরা ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/

No comments:

Post a Comment