শত বাধা শত বিপত্তি সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন
বদলে যাচ্ছে ভোলার দৃশ্যপট
হাসিব রহমান
ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীর কূলের ইউনিয়ন ধনিয়া। প্রতিবছর রাক্ষুসী মেঘনার করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে সম্ভাবনাময় ইউনিয়নটি। যার ফলে শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বাড়ছে দারিদ্র্য। তার পরও এ ইউনিয়নের মানুষ সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। এ গ্রামেরই যুবক মোঃ ইব্রাহিম। তিন বছর আগে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে চাকরি ছেড়ে ইব্রাহিম ধনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবাকেন্দ্রে তথ্য উদ্যোক্তা হিসেবে যোগ দেন। ধনিয়া গ্রামের গৃহিণী সুমাইয়া নাসরিন পপিও একই পদে কাজ করছেন। কিন্তু তাদের কোন বেতন নেই। ইব্রাহিম বিএ পাস করে বিনা বেতনে তথ্য উদ্যোক্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন সরকারী হওয়ার আশায়। তাই তথ্যকেন্দ্রটি তিনি বহু কষ্ট করে ধরে রেখেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই জন পর্যায় ক্রমে ধনিয়া গ্রামের প্রায় অর্ধ লাখ মানুষকে তথ্য সেবা দিয়ে এখানকার গ্রামবাসীর জীবনযাত্রার মান পাল্টে দিচ্ছেন। দিন দিন ধনিয়া গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। পরিণত হচ্ছে ডিজিটাল গ্রাম হিসেবে। তবে জেলার সকল তথ্য সেবা কেন্দ্রে এখন এ ভাবে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য কেন্দ্র থেকে যে সব সেবা দেয়া হচ্ছে ॥ এ গ্রামের মানুষ রিক্সা ভাড়া দিয়ে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে যে কাজ শহরে গিয়ে করত তা এখন ওই সেবাকেন্দ্র থেকেই করতে পারছে। যা বলতে গেলে স্বপ্নের মতো। স্কাইপির মাধ্যমে বিদেশে সরাসরি কথা বলা, ভিসা প্রসেসিং, ব্রাউজিং, সংবাদপত্র পড়া, চাকরির আবেদন করা, স্বাস্থ্য ও কৃষি তথ্য জানানো, রেজাল্ট জানানোসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে গ্রামবাসী।
এখানে প্রতি পাতা কম্পোজ ১০ টাকা, ই-মেইল ১০-১৫ টাকা, পাসপোর্ট পাঠানো ১৫০-২০০ টাকা, ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ মাত্র দেড় হাজার টাকাসহ কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ খুব কম টাকায় করার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তা।
ডিজিটাল লটারি ॥ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ডিজিটাল লটারিতে বিজয়ী যুবক জসিম মিয়া। পেশায় তিনি একজন কৃষক। মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বাংলাদেশ শ্রমিক হিসেবে চাকরি নিয়ে মালয়েশিয়া যেতে লটারিতে প্রাথমিকভাবে তার নাম ওঠে। তিনি ভোলা সদরের ধনিয়া গ্রামের এক ভাগ্যবান কৃষক হিসেবে পরিচিত। বিদেশ পাড়ি যাওয়ার আসায় তিনি আশায় বুক বেঁধে স্বপ্নের জাল বুনছে। মাঝে মাঝে তিনি হতাশার আঁধারে হারিয়ে যাচ্ছে। ১৩ মাস আগে জসিম মিয়া ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ননের তথ্যকেন্দ্র থেকে মালোশিয়াতে সরকারীভাবে চাকরি নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
সরকারের ডিজিটাল পদ্ধতির লটারিতে তার নাম উঠলে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়। ভাগ্যবান যুবক হিসেবে এলাকায় তিনি পরিচিতি লাভ করে। কৃষক জসিম কৃষি কাজ করতেন। লটারিতে তার নাম উঠায় তার একটি ট্রাক্টর ছিল তা বিক্রি করে ওই সময় বিদেশে পাড়ি দেয়ার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ১১-১২ হাজার টাকা খরচ করে পাসপোর্ট করেন। পানের বরজ ছিল তাও বেচে দেন। কিন্তু তার পর আর কোন ডাক আসেনি। তিনি অপেক্ষার প্রহর গুনছে। প্রায় দিনই তিনি খবর নিতে আসেন ধনিয়া ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রে। এখন তিনি আবার ধার দেনা করে ট্রাক্টর ক্রয় করছেন। অভাবের সংসারে তার স্বপ্ন এখন চোরাবালির মতো হয়ে গেছে। শুধু ইব্রাহিমই নয় ধনিয়া ইউনিয়নের ১১ য্বুকের নাম লটারির মাধ্যমে স্থান পায়। এর মধ্যে ধনিয়া ইউনিয়নের দড়িরাম শংকর গ্রামের মোঃ ফয়েজ, নবীপুর গ্রামের মোঃ মিন্টু, কালাসুরা গ্রামের মোঃ রফিকের দ্বিতীয় দফা চিঠি আসে প্রশিক্ষণের জন্য। তারা কয়েক মাস আগে বরিশালে কৃষিকাজের ওপর এক দিনের প্রশিক্ষণ নেয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বলা হয় মোবাইলে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু কয়েক মাস চলে গেলেও আজ পর্যন্ত কোন ডাক আসেনি।
সরাসরি কথা বলা
ধনিয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসার শিক্ষক নুর ইসলাম। তার বড় ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দিন ১০ বছর ধরে সৌদি আরব এসির দোকানে চাকরি করেন। খুব জরুরী না হলে তার সঙ্গে ফোন করা হতো না। চিঠির মাধ্যমে সকল যোগাযোগ হতো। জরুরী প্রয়োজন হলে কথা বলতে টেলিফোনে বহু চেষ্টার পর কয়েক মিনিট কথা বলতে অনেক টাকা বিল দিতে হতো। কিন্তু এখন দিন বদলের পালা। তার ছেলের সঙ্গে প্রায় দিনই সরাসরি স্কাইপির মাধ্যমে সরসরি কথা বলতে এখানে আসেন। কথা বলেন হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী বিবি হাফছা। শুধু জসিম মিয়া, নুর ইসলাম, বিবি হাফছাই নয় তাদের মতো বহু নারী পুরুষের পদচারণে প্রায় দিনই মুখরিত হয়ে উঠে বলে জানান, ধনিয়া তথ্য সেবা কেন্দ্রের তথ্য উদ্যোক্তা মোঃ ইব্রাহিম।
ইব্রাহিমের স্বপ্ন
ভোলা আলতাজে রহমান ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ পাস করেন মোঃ ইব্রাহিম খলিল। ভোলা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি স্থানীয় এনজিওতে ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করত ইব্রাহিম। ধনিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বাহাদুর মিয়ার সময়ে তথ্য সেবাকেন্দ্রে ইব্রাহিম নিয়োগ পান। কিন্তু তথ্য উদ্যোক্তার এ চাকরিতে তার কোন বেতন নেই। তার পরও বিনা বেতনে তিনি সরকারী হওয়ার আশায় চাকরি করছেন। ইব্রাহিম জানান, তিনি কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছেন। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বহু আশা নিয়ে তথ্য সেবা কেন্দ্রে যোগ দিয়েছেন। দিনে এখানে কাজ করেন। রাতে স্থানীয় একটি সংস্থার হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যে টাকা পায় তা দিয়ে কোনরকমে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, মাস শেষে সামান্য যে কটা টাকা পাই, তাতে চড়া মূল্যের বাজারে সংসার চালানো দায়। সরকার যদি তথ্য কেন্দ্রের চাকরি সরকারী করে দিত তাহলে অন্য কোথাও আর বিকল্প কাজের সন্ধান করত হতো না। স্থায়ীভাবে তথ্য সেবাকেন্দ্রে বেতন দিয়ে লোক নিয়োগ করলে দিন দিন সেবাকেন্দ্রটির মান যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি এলাকাবাসীর সেবার মান বাড়বে বলে মনে করছেন ইব্রাহিম।
কি ভাবে চলছে তথ্যকেন্দ্র
তথ্য উদ্যোক্তা ইব্রাহিম জানান, এ তথ্য সেবাকেন্দ্রে ৪টি কম্পিউটার, ২টি মডেম, ২টি প্রিন্টার, স্ক্যানার রয়েছে। প্রতিদিন এখানে সাধারণ মানুষ তথ্য সেবার বিনিময়ে যে আয় হয় তা একটি রেজিস্ট্র্রি খাতায় এন্ট্রি হয়। মাস শেষে তা হিসাব করে ওই টাকা থেকে প্রিন্টের কালি, কাগজ, ইন্টারনেট সংযোগের মডেম বিলসহ যাবতীয় খরচ করা হয়। ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সেবাকেন্দ্র থেকে কোন টাকা না নিলেও এখান থেকে যে আয় হয় তা থেকে পরিষদের সকল বিদ্যুত বিল দেয়ার নির্দেশ দেন। প্রতি মাসে ইব্রাহিম নিয়মিত পরিষদের বিদ্যুত বিল পরিশোধ করেন। তার পর অবশিষ্ট যে টাকা থাকে তা থেকে তথ্য উদ্যোক্তা ২ জন মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা কোন কোন মাসে পেয়ে থাকেন।
বেকার যুবকদের চাকরির সেতুবন্ধন
কানাইনগর গ্রামের যুবক মহিউদ্দিন। তিনি মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করে তার শিক্ষা জীবন শেষ করেছেন। চাকরির জন্য তথ্যকেন্দ্রে থেকে বিভিন্ন স্থানে তিনি অনলাইনে আবেদন করেন।
অবশেষে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার চাকরি হয়েছে। এখন তিনি আরও ভাল চাকরির জন্য অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন।
ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীর কূলের ইউনিয়ন ধনিয়া। প্রতিবছর রাক্ষুসী মেঘনার করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে সম্ভাবনাময় ইউনিয়নটি। যার ফলে শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বাড়ছে দারিদ্র্য। তার পরও এ ইউনিয়নের মানুষ সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। এ গ্রামেরই যুবক মোঃ ইব্রাহিম। তিন বছর আগে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে চাকরি ছেড়ে ইব্রাহিম ধনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবাকেন্দ্রে তথ্য উদ্যোক্তা হিসেবে যোগ দেন। ধনিয়া গ্রামের গৃহিণী সুমাইয়া নাসরিন পপিও একই পদে কাজ করছেন। কিন্তু তাদের কোন বেতন নেই। ইব্রাহিম বিএ পাস করে বিনা বেতনে তথ্য উদ্যোক্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন সরকারী হওয়ার আশায়। তাই তথ্যকেন্দ্রটি তিনি বহু কষ্ট করে ধরে রেখেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই জন পর্যায় ক্রমে ধনিয়া গ্রামের প্রায় অর্ধ লাখ মানুষকে তথ্য সেবা দিয়ে এখানকার গ্রামবাসীর জীবনযাত্রার মান পাল্টে দিচ্ছেন। দিন দিন ধনিয়া গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। পরিণত হচ্ছে ডিজিটাল গ্রাম হিসেবে। তবে জেলার সকল তথ্য সেবা কেন্দ্রে এখন এ ভাবে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য কেন্দ্র থেকে যে সব সেবা দেয়া হচ্ছে ॥ এ গ্রামের মানুষ রিক্সা ভাড়া দিয়ে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে যে কাজ শহরে গিয়ে করত তা এখন ওই সেবাকেন্দ্র থেকেই করতে পারছে। যা বলতে গেলে স্বপ্নের মতো। স্কাইপির মাধ্যমে বিদেশে সরাসরি কথা বলা, ভিসা প্রসেসিং, ব্রাউজিং, সংবাদপত্র পড়া, চাকরির আবেদন করা, স্বাস্থ্য ও কৃষি তথ্য জানানো, রেজাল্ট জানানোসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে গ্রামবাসী।
এখানে প্রতি পাতা কম্পোজ ১০ টাকা, ই-মেইল ১০-১৫ টাকা, পাসপোর্ট পাঠানো ১৫০-২০০ টাকা, ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ মাত্র দেড় হাজার টাকাসহ কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ খুব কম টাকায় করার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তা।
ডিজিটাল লটারি ॥ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ডিজিটাল লটারিতে বিজয়ী যুবক জসিম মিয়া। পেশায় তিনি একজন কৃষক। মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বাংলাদেশ শ্রমিক হিসেবে চাকরি নিয়ে মালয়েশিয়া যেতে লটারিতে প্রাথমিকভাবে তার নাম ওঠে। তিনি ভোলা সদরের ধনিয়া গ্রামের এক ভাগ্যবান কৃষক হিসেবে পরিচিত। বিদেশ পাড়ি যাওয়ার আসায় তিনি আশায় বুক বেঁধে স্বপ্নের জাল বুনছে। মাঝে মাঝে তিনি হতাশার আঁধারে হারিয়ে যাচ্ছে। ১৩ মাস আগে জসিম মিয়া ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ননের তথ্যকেন্দ্র থেকে মালোশিয়াতে সরকারীভাবে চাকরি নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
সরকারের ডিজিটাল পদ্ধতির লটারিতে তার নাম উঠলে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়। ভাগ্যবান যুবক হিসেবে এলাকায় তিনি পরিচিতি লাভ করে। কৃষক জসিম কৃষি কাজ করতেন। লটারিতে তার নাম উঠায় তার একটি ট্রাক্টর ছিল তা বিক্রি করে ওই সময় বিদেশে পাড়ি দেয়ার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ১১-১২ হাজার টাকা খরচ করে পাসপোর্ট করেন। পানের বরজ ছিল তাও বেচে দেন। কিন্তু তার পর আর কোন ডাক আসেনি। তিনি অপেক্ষার প্রহর গুনছে। প্রায় দিনই তিনি খবর নিতে আসেন ধনিয়া ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রে। এখন তিনি আবার ধার দেনা করে ট্রাক্টর ক্রয় করছেন। অভাবের সংসারে তার স্বপ্ন এখন চোরাবালির মতো হয়ে গেছে। শুধু ইব্রাহিমই নয় ধনিয়া ইউনিয়নের ১১ য্বুকের নাম লটারির মাধ্যমে স্থান পায়। এর মধ্যে ধনিয়া ইউনিয়নের দড়িরাম শংকর গ্রামের মোঃ ফয়েজ, নবীপুর গ্রামের মোঃ মিন্টু, কালাসুরা গ্রামের মোঃ রফিকের দ্বিতীয় দফা চিঠি আসে প্রশিক্ষণের জন্য। তারা কয়েক মাস আগে বরিশালে কৃষিকাজের ওপর এক দিনের প্রশিক্ষণ নেয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বলা হয় মোবাইলে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু কয়েক মাস চলে গেলেও আজ পর্যন্ত কোন ডাক আসেনি।
সরাসরি কথা বলা
ধনিয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসার শিক্ষক নুর ইসলাম। তার বড় ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দিন ১০ বছর ধরে সৌদি আরব এসির দোকানে চাকরি করেন। খুব জরুরী না হলে তার সঙ্গে ফোন করা হতো না। চিঠির মাধ্যমে সকল যোগাযোগ হতো। জরুরী প্রয়োজন হলে কথা বলতে টেলিফোনে বহু চেষ্টার পর কয়েক মিনিট কথা বলতে অনেক টাকা বিল দিতে হতো। কিন্তু এখন দিন বদলের পালা। তার ছেলের সঙ্গে প্রায় দিনই সরাসরি স্কাইপির মাধ্যমে সরসরি কথা বলতে এখানে আসেন। কথা বলেন হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী বিবি হাফছা। শুধু জসিম মিয়া, নুর ইসলাম, বিবি হাফছাই নয় তাদের মতো বহু নারী পুরুষের পদচারণে প্রায় দিনই মুখরিত হয়ে উঠে বলে জানান, ধনিয়া তথ্য সেবা কেন্দ্রের তথ্য উদ্যোক্তা মোঃ ইব্রাহিম।
ইব্রাহিমের স্বপ্ন
ভোলা আলতাজে রহমান ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ পাস করেন মোঃ ইব্রাহিম খলিল। ভোলা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি স্থানীয় এনজিওতে ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করত ইব্রাহিম। ধনিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বাহাদুর মিয়ার সময়ে তথ্য সেবাকেন্দ্রে ইব্রাহিম নিয়োগ পান। কিন্তু তথ্য উদ্যোক্তার এ চাকরিতে তার কোন বেতন নেই। তার পরও বিনা বেতনে তিনি সরকারী হওয়ার আশায় চাকরি করছেন। ইব্রাহিম জানান, তিনি কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছেন। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বহু আশা নিয়ে তথ্য সেবা কেন্দ্রে যোগ দিয়েছেন। দিনে এখানে কাজ করেন। রাতে স্থানীয় একটি সংস্থার হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যে টাকা পায় তা দিয়ে কোনরকমে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, মাস শেষে সামান্য যে কটা টাকা পাই, তাতে চড়া মূল্যের বাজারে সংসার চালানো দায়। সরকার যদি তথ্য কেন্দ্রের চাকরি সরকারী করে দিত তাহলে অন্য কোথাও আর বিকল্প কাজের সন্ধান করত হতো না। স্থায়ীভাবে তথ্য সেবাকেন্দ্রে বেতন দিয়ে লোক নিয়োগ করলে দিন দিন সেবাকেন্দ্রটির মান যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি এলাকাবাসীর সেবার মান বাড়বে বলে মনে করছেন ইব্রাহিম।
কি ভাবে চলছে তথ্যকেন্দ্র
তথ্য উদ্যোক্তা ইব্রাহিম জানান, এ তথ্য সেবাকেন্দ্রে ৪টি কম্পিউটার, ২টি মডেম, ২টি প্রিন্টার, স্ক্যানার রয়েছে। প্রতিদিন এখানে সাধারণ মানুষ তথ্য সেবার বিনিময়ে যে আয় হয় তা একটি রেজিস্ট্র্রি খাতায় এন্ট্রি হয়। মাস শেষে তা হিসাব করে ওই টাকা থেকে প্রিন্টের কালি, কাগজ, ইন্টারনেট সংযোগের মডেম বিলসহ যাবতীয় খরচ করা হয়। ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সেবাকেন্দ্র থেকে কোন টাকা না নিলেও এখান থেকে যে আয় হয় তা থেকে পরিষদের সকল বিদ্যুত বিল দেয়ার নির্দেশ দেন। প্রতি মাসে ইব্রাহিম নিয়মিত পরিষদের বিদ্যুত বিল পরিশোধ করেন। তার পর অবশিষ্ট যে টাকা থাকে তা থেকে তথ্য উদ্যোক্তা ২ জন মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা কোন কোন মাসে পেয়ে থাকেন।
বেকার যুবকদের চাকরির সেতুবন্ধন
কানাইনগর গ্রামের যুবক মহিউদ্দিন। তিনি মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করে তার শিক্ষা জীবন শেষ করেছেন। চাকরির জন্য তথ্যকেন্দ্রে থেকে বিভিন্ন স্থানে তিনি অনলাইনে আবেদন করেন।
অবশেষে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার চাকরি হয়েছে। এখন তিনি আরও ভাল চাকরির জন্য অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment