Wednesday, June 25, 2014

মেসির জোড়া গোলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা ইরানের বিপক্ষে সান্তনার জয় বসনিয়ার

মেসির জোড়া গোলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা
ইরানের বিপক্ষে সান্তনার জয় বসনিয়ার
শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ নাইজিরিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের সেরা হয়েই শেষ ষোলোতে উঠল শিরোপা প্রত্যাশী আর্জেন্টিনা। ৩ খেলায় ৩ জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে নিরঙ্কুশ সাফল্য দেখাল লিওনেল মেসির দল। মেসি ২টি ও এম রোজো ১টি করে গোল করেন। ফলে ব্রাজিলয়ান তারকা নেইমারের সঙ্গে আসরের সর্বোচ্চ ৪ গোল হলো মেসির। হার সত্ত্বেও ১ জয় ১ ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলোর টিকেট পেয়েছে নাইজিরিয়া। এই গ্রুপের অপর ম্যাচে ইরানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সান্ত¡নার জয় পেয়েছে নবাগত বসনিয়া হার্জেগোভিনা। বসনিয়ার হয়ে ডিজেকো, মিরালেম পিজনিক ও আভিদজা এবং ইরানের হয়ে গোচালেনজাদ ১টি করে গোল করেন।
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে খেলা মাঠে গড়ানোর ৩ মিনিটেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন মেসি। ডি মারিয়ার বাড়িয়ে দেয়া পাস থেকে নিজস্ব স্টাইলে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এক মিনিটের মধ্যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাল্টা আক্রমণ থেকে নাইজিরিয়াকে সমতায় (১-১) ফেরান আহমেদ মুসা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১) ডি বক্সের কাছাকাছি মেসিকে অবৈধভাবে বাধা দেয়ায় ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। প্রতিরোধ দেয়াল ভেদ করে, নাইজিরিয়া গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে আলতো করে বল জালে পাঠিয়ে ফের দলকে এগিয়ে নেন মেসি (২-১)।
আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের দূরন্ত ফুটবল চলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও। ৪৭ মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে নাইজিরিয়াকে সমতায় (২-২) ফেরান মুসা! তিন মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণ। এবার দর্শনীয় ভঙ্গিমায় বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-২-এ এগিয়ে দেন তরুণ ডিফেন্ডার এম রোজো। মধ্যমাঠ শক্ত করতে ৬৩ মিনিটে মেসিকে উঠিয়ে মিডফিল্ডার রিকার্ডো আলভারেজকে নামান কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা।
প্রথম দুই ম্যাচে দুর্বল বসনিয়া ও ইরানের বিপক্ষে জয় পেতে ঘাম ঝড়াতে হয় আর্জেন্টাইনদের। দুটি ম্যাচেই মেসি-ঝলকে শেষ রক্ষা হয় ১৯৭৮ ও ১৯৮৬-র বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত বসনিয়াকে ২-১-এ হারিয়ে মিশন ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরু করে আর্জেন্টিনা। সেদিন ৬৫ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন মেসি।
পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে। ইরানের সঙ্গে জয়হীন মাঠ ছাড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল লাতিন আমেরিকার সুপার পাওয়ার! প্রথমার্ধ, এর পর দ্বিতীয়ার্ধের নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও খেলাটি ছিল গোলশূন্য! শেষ বাঁশি বাজার মিনিট তিনেক আগে, অতিরিক্ত সময়ে (৯০+১) টপ-লেফট কর্নারের বল একক প্রচেষ্টায় ২৫ গজ দূর থেকে বাম পায়ের দৃষ্টিসুখকর বাঁকানো শটে জালে জড়িয়েছিলেন ক্ষুদে জাদুকর। রুদ্ধশ্বাস জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল আধুনিক ফুটবলের বিস্ময় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
তবে সে তুলানায় নাইজিরিয়ার বিপক্ষে প্রাণবন্ত ফুটবল খেলে ফেবারিট আর্জেন্টিনা। 

http://allbanglanewspapers.com/janakantha/

No comments:

Post a Comment