মজিদ শেখকে চিহ্নিত করে পাক বাহিনীকে গুলির নির্দেশ দেয় সুবহান
যুদ্ধাপরাধী বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষী আক্কাস শেখ জবানবন্দীতে বলেছেন, ১৯৭১ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের ৫ তারিখে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আমাদের গ্রাম ঘিরে ফেলে, এ সময় সঙ্গে আব্দুস সুবহান ছিলেন। তারা সাদা কাগজের তালিকা দেখে যারা আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের কিছু ব্যক্তিকে জড়ো করে লাইনে দাঁড় করায়। একপর্যায়ে লাইনে দ-ায়মান মজিদ শেখকে তিনবার ডাক দিলে তার উপস্থিতি জানালে সুবহান তার সঙ্গে থাকা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের গুলি করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যরা মজিদকে গুলি করে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য রবিবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। এদিকে তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদারকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬তম সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। অন্যদিকে সাক্ষীকে জবানবন্দী প্রদানে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন। এ সময় প্রসিকিটর ব্যারিস্টার তাপস কুমার বল ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা বেগম চমন।
প্রসিকিউশনের সাক্ষী আক্কাস শেখ জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম আক্কাস শেখ, পিতা বাহের শেখ (মৃত), মাতার নাম-সরজান বিবি (মৃত), ঠিকানা-গ্রাম-ভাড়ারা, থানা-পাবনা সদর, জেলা পাবনা। আমার বর্তমান বয়স ৬৫ বছর। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ২০-২১ বছর। আমি পড়াশোনা জানি না। আমি কৃষি কাজ করি।
১৯৭১ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের ৫ তারিখে সকাল ৮টার দিকে পাকিস্তানী সেনাবহিনীর সদস্যরা এসে আমাদের গ্রামটি ঘেরাও করে ফেলে, সঙ্গে সুবহান সাদা মাইক্রোতে করে এসেছিলেন। মাওলানা সুবহান মিলিটারিদের নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে লোকজনদের ধরে ভাড়ারা মসজিদের সামনে নিয়ে জড়ো করে। এ সময় সুবহান তার হাতে থাকা তালিকা থেকে নাম ডেকে জড়ো করা লোকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। মাওলানা সুবহান আমার সামনে আমার ভাই উটকেন শেখকে বাড়ি থেকে ধরে মসজিদের নিয়ে যান। আমি ভাইয়ের পিছু পিছু মসজিদের সামনে যাই। ধরে আনা লোকদের মধ্যে নানা খেদন শেখ, মামা কাদের শেখ, রুস্তম শেখ, সিরাজ শেখ, নুরুল ইসলাম, জব্বার, তালেব শেখ, আকবর শেখ, দেলবর শেখ, সিরাজ শেখ নামের আরেকজন, গেদন সরকার, কাদের শেখ, কেতা সরদার হাকিম সরদার, মানিক খাঁ, মজিদ শেখ, হারুন শেখসহ অন্য প্রতিবেশীরা ছিল।
প্রসিকিউশনের সাক্ষী আক্কাছ শেখ জবানবন্দীতে আরও বলেন, তালিকা অনুযায়ী যারা আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিলেন তাদের আলাদা লাইনে দাঁড় করানো হয়। এ লাইনে দাঁড়ানো মজিদ শেখকে তিনবার নাম ধরে ডাকা হয়। তিনি তার উপস্থিতি জানান দিলে সুবহান সঙ্গে থাকা পাকিস্তানী সেনাদের গুলি করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে পাকিস্তানী সেনারা গুলি করে হত্যা করে মজিদ শেখকে। এরপর পাকিস্তানী সেনারা ধরে আনা বাকি ১১ জনকে নূরপুর বিদ্যুতকেন্দ্রের পাকিস্তানী ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরদিন সকালে তাদের দেবোত্তর বাঁশবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই ছয় জন মারা যান এবং চারজন গুলিবিদ্ধ হন। সিরাজ শেখ নামের বয়স্ক একজন ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পর তার কাছে গিয়ে সাক্ষী আক্কাছ শেখ ভাই, নানা, মামার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান দেবোত্তর বাঁশঝাড়ের কাছে পাকিস্তানী সেনারা গুলি করে তাদের হত্যা করেছে।
সাক্ষী আক্কাছ শেখ বলেন, গুলিবিদ্ধ রুস্তম শেখকে একদন্ত গ্রামে এবং মানিক খাঁকে শ্রীপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়ার কথা তিনি ফিরে আসা সিরাজ শেখের কাছে শুনেছেন। তাছাড়া আহত দেলবর ও আকবর শেখকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সাক্ষী নিজেই তাদের দেখেন। এ দু’জনও মারা যাওয়ার পর ভাড়ারা গোরস্তানে তাদের লাশ দাফন করা হয়। সাক্ষী শহীদ ছয়জনের নাম উল্লেখ করেন। এঁরা হলেন সাক্ষীর ভাই উটকেন শেখ, রুস্তম শেখের ভাই সিরাজ শেখ, তালেব শেখ, জব্বার শেখ, হারুন শেখ ও নূর ইসলাম। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে সাক্ষী আক্কাছ শেখ আব্দুস সুবহানকে আসামির কাঠগড়ায় শনাক্ত করেন।
১ এপ্রিল সুবহানের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন। ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-১ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল২ এ স্থানান্তর করেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধে সুবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
আব্দুল লতিফ তালুকদার
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাগেরহাটের রাজাকার আব্দুল লতিফ তালুকদারকে বুধবার ধানম-ির তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন, যা মামলার স্বার্থে এই মুহূর্তে বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে এই জিজ্ঞাসাদ চলে। এ সময় তদন্ত সংস্থার অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন আতাউর রহমান এবং হরিদেব নাথ। জিজ্ঞাসাবদের সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী ও একজন ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেছেন, আসামিকে সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা মামলার স্বার্থে এই মুহূর্তে বলা যাবে না।
এর আগে ১৮ জুন আব্দুল লতিফ তালুকদারকে একদিনের জন্য সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে লতিফ তালুকদারকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন জানান প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়দুল হক সুমন। ১১ জুন ভোরে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের সোলারকোলা গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল লতিফ তালুকদারকে (৭৫) গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা, বাজারে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং ধর্মান্তরিতকরণের অভিযোগ রয়েছে। ৪২ জনকে হত্যার ঘটনাটি ইতিহাসে শাঁখারীকাঠি গণহত্যা নামে পরিচিত।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬তম সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। অন্যদিকে সাক্ষীকে জবানবন্দী প্রদানে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন। এ সময় প্রসিকিটর ব্যারিস্টার তাপস কুমার বল ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা বেগম চমন।
প্রসিকিউশনের সাক্ষী আক্কাস শেখ জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম আক্কাস শেখ, পিতা বাহের শেখ (মৃত), মাতার নাম-সরজান বিবি (মৃত), ঠিকানা-গ্রাম-ভাড়ারা, থানা-পাবনা সদর, জেলা পাবনা। আমার বর্তমান বয়স ৬৫ বছর। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ২০-২১ বছর। আমি পড়াশোনা জানি না। আমি কৃষি কাজ করি।
১৯৭১ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের ৫ তারিখে সকাল ৮টার দিকে পাকিস্তানী সেনাবহিনীর সদস্যরা এসে আমাদের গ্রামটি ঘেরাও করে ফেলে, সঙ্গে সুবহান সাদা মাইক্রোতে করে এসেছিলেন। মাওলানা সুবহান মিলিটারিদের নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে লোকজনদের ধরে ভাড়ারা মসজিদের সামনে নিয়ে জড়ো করে। এ সময় সুবহান তার হাতে থাকা তালিকা থেকে নাম ডেকে জড়ো করা লোকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। মাওলানা সুবহান আমার সামনে আমার ভাই উটকেন শেখকে বাড়ি থেকে ধরে মসজিদের নিয়ে যান। আমি ভাইয়ের পিছু পিছু মসজিদের সামনে যাই। ধরে আনা লোকদের মধ্যে নানা খেদন শেখ, মামা কাদের শেখ, রুস্তম শেখ, সিরাজ শেখ, নুরুল ইসলাম, জব্বার, তালেব শেখ, আকবর শেখ, দেলবর শেখ, সিরাজ শেখ নামের আরেকজন, গেদন সরকার, কাদের শেখ, কেতা সরদার হাকিম সরদার, মানিক খাঁ, মজিদ শেখ, হারুন শেখসহ অন্য প্রতিবেশীরা ছিল।
প্রসিকিউশনের সাক্ষী আক্কাছ শেখ জবানবন্দীতে আরও বলেন, তালিকা অনুযায়ী যারা আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিলেন তাদের আলাদা লাইনে দাঁড় করানো হয়। এ লাইনে দাঁড়ানো মজিদ শেখকে তিনবার নাম ধরে ডাকা হয়। তিনি তার উপস্থিতি জানান দিলে সুবহান সঙ্গে থাকা পাকিস্তানী সেনাদের গুলি করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে পাকিস্তানী সেনারা গুলি করে হত্যা করে মজিদ শেখকে। এরপর পাকিস্তানী সেনারা ধরে আনা বাকি ১১ জনকে নূরপুর বিদ্যুতকেন্দ্রের পাকিস্তানী ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরদিন সকালে তাদের দেবোত্তর বাঁশবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই ছয় জন মারা যান এবং চারজন গুলিবিদ্ধ হন। সিরাজ শেখ নামের বয়স্ক একজন ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পর তার কাছে গিয়ে সাক্ষী আক্কাছ শেখ ভাই, নানা, মামার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান দেবোত্তর বাঁশঝাড়ের কাছে পাকিস্তানী সেনারা গুলি করে তাদের হত্যা করেছে।
সাক্ষী আক্কাছ শেখ বলেন, গুলিবিদ্ধ রুস্তম শেখকে একদন্ত গ্রামে এবং মানিক খাঁকে শ্রীপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়ার কথা তিনি ফিরে আসা সিরাজ শেখের কাছে শুনেছেন। তাছাড়া আহত দেলবর ও আকবর শেখকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সাক্ষী নিজেই তাদের দেখেন। এ দু’জনও মারা যাওয়ার পর ভাড়ারা গোরস্তানে তাদের লাশ দাফন করা হয়। সাক্ষী শহীদ ছয়জনের নাম উল্লেখ করেন। এঁরা হলেন সাক্ষীর ভাই উটকেন শেখ, রুস্তম শেখের ভাই সিরাজ শেখ, তালেব শেখ, জব্বার শেখ, হারুন শেখ ও নূর ইসলাম। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে সাক্ষী আক্কাছ শেখ আব্দুস সুবহানকে আসামির কাঠগড়ায় শনাক্ত করেন।
১ এপ্রিল সুবহানের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন। ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-১ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল২ এ স্থানান্তর করেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধে সুবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
আব্দুল লতিফ তালুকদার
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাগেরহাটের রাজাকার আব্দুল লতিফ তালুকদারকে বুধবার ধানম-ির তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন, যা মামলার স্বার্থে এই মুহূর্তে বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তদন্ত সংস্থার সেফ হোমে এই জিজ্ঞাসাদ চলে। এ সময় তদন্ত সংস্থার অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন আতাউর রহমান এবং হরিদেব নাথ। জিজ্ঞাসাবদের সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী ও একজন ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেছেন, আসামিকে সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা মামলার স্বার্থে এই মুহূর্তে বলা যাবে না।
এর আগে ১৮ জুন আব্দুল লতিফ তালুকদারকে একদিনের জন্য সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে লতিফ তালুকদারকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন জানান প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়দুল হক সুমন। ১১ জুন ভোরে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের সোলারকোলা গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল লতিফ তালুকদারকে (৭৫) গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা, বাজারে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং ধর্মান্তরিতকরণের অভিযোগ রয়েছে। ৪২ জনকে হত্যার ঘটনাটি ইতিহাসে শাঁখারীকাঠি গণহত্যা নামে পরিচিত।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment