সবচেয়ে সুসংগঠিত নেদারল্যান্ডস
প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৪
ম্যারাডোনা, জিকো, বেকেনবাওয়ার, প্লাতিনি লিনেকার, পেলে লেখালেখি করছেন এই বিশ্বকাপে। টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে পাঠকদের মধ্যে আলোড়ন তুলেছেন। এবারের বিশ্বকাপে আমার কাছে যে দেশটাকে সবচেয়ে সংগঠিত, সুশৃংখল, অসাধারণ মনে হয়েছে সেই দলটি নেদারল্যান্ডস। রক্ষণ, মাঝমাঠ, আক্রমণ- সব বিভাগে দারুণ সমন্বয়। এত গভীরতা আর কোনো দলের নেই। রবেনকে দেখে কে বলবে তার বয়স হয়েছে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে বড় কথা, দলগত প্রচেষ্টা। একমাত্র ডাচদেরই দল মনে হচ্ছে।
আর ব্রাজিল? সেই একই কাহিনী। দর্শনসুখ। কিন্তু কাজের কাজ কতদূর হবে, সন্দেহ। ছন্নছাড়া, শৃংখলাহীন শিল্পকর্ম, স্বার্থপর ফুটবল। খুব বেশি নম্বর দেয়া যাচ্ছে না দলটাকে। অন্তত গ্র“পের তিনটি ম্যাচে ব্রাজিলের খেলা দেখে আমার তাই মনে হচ্ছে। ব্রাজিলকে জিততে হয় রেফারির দয়ায় আর আর্জেন্টিনা? আলো একটাই। মেসি। নিজে খেলছেন, দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। কোমরের মোচড়, গতি, গোলখিদে সমর্থকদের স্বস্তি দিচ্ছে। তবে দুঃসংবাদও রয়েছে দলটির। ফরোয়ার্ড লাইন যতটা শক্ত, ততটাই দুর্বল তাদের রক্ষণ। গোল দিয়ে ধরে রাখতে পারছে না। নাইজেরিয়ার সঙ্গে ম্যাচে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগের দৈন্য ফুটে উঠেছে। টিমকে জেতাতে হবে, গোল করতে হবে। গোল করাতে হবে, দলকে ফাইনালে তুলতে হবে, নায়কদের কাছে সমর্থকদের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা।
যার কথা ভাবা হয়, তিনি হন না। যার কথা কেউ অতটা ভাবেনি, তিনিই হয়ে যান নায়ক। ইতালি বিশ্বকাপে ভিয়ালিকে নিয়ে মাতামাতি হয়েছিল। সবাই ধরে নিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের নায়ক হবেন ভিয়ালি। কিন্তু শিরোপা উঠল লোথার ম্যাথিউসের হাতে। যার কথা আগে কেউ ভাবেননি। আমেরিকা বিশ্বকাপে একই দৃশ্য। টুর্নামেন্টের আগে কেউ ভাবেননি, শেষ পর্যন্ত রোমারিও বিশ্বকাপ জিতবেন। ম্যারাডোনার ডোপ কেলেংকারি, জার্মানি দলে অন্তর্কলহ, রবার্তো ব্যাজ্জিও’র ইনজুরি- সব মিলিয়ে অবস্থাটা এমন দাঁড়াল সেরা হয়ে গেলেন রোমারিও। ফ্রান্স বিশ্বকাপে কেউ ভেবেছিলেন, জিনেদিন জিদান নায়ক হবেন? প্যারাগুয়ের ম্যাচে ফ্রান্স প্রায় ছিটকে গিয়েছিল। পেনাল্টি শুটআউটে ম্যাচটা জিতে টিকে যায়। তারাই পরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। অথচ নায়ক হওয়ার কথা ছিল রোনালদোর। তাকে ঘিরে কত স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ফুটবল বোদ্ধারা। সেই রোনালদোই শেষ পর্যন্ত তার দেশেই খলনায়ক।
২০০২ জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে জিদান, লুই ফিগো, রিভালদো, বেকহ্যাম, রাউল, বাতিস্তুতা, টট্টি, কানদের টপকে নায়ক হন ব্রাজিলিয়ান রোনালদিনহো। জার্মানিতে ইতালিয়ান ক্যানাভারোকে নিয়ে কোনো হইচই হয়নি। শেষ পর্যন্ত আলো কেড়ে নেন ক্যানাভারো। দক্ষিণ আফ্রিকায় সবাই যখন মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তাদের নিয়ে মাতামাতি করেছিলেন, তখন সবাইকে টপকে যান উরুগুয়ের ফোরলান। যাকে কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনি। এখন মেসি-নেইমারদের নিয়ে মাতামাতি চলছে ব্রাজিলে। শেষ পর্যন্ত রবেন কিংবা অন্য কেউ নায়ক হয়ে গেলে আশ্চর্যের কিছু থাকবে না।
প্রথম রাউন্ড শেষ হল। বিদায় নিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া বাদে এশিয়ার তিনটি দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দুর্দান্তভাবে উঠে এসেছে কোস্টারিকা, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও বেলজিয়াম।
No comments:
Post a Comment