এই আর্জেন্টিনা অনেক দূর যাবে
প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৪
পেলে না ম্যারাডোনা? সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? এই নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। দু’দেশের দুই গ্রেট ফুটবলারকে নিয়ে কম হইচই হয়নি। ব্রাজিল বিশ্বকাপে দুই গ্রেটের উত্তরসূরি নেইমার ও মেসিকে নিয় যত আলোচনা। তারা কি পারবেন নিজ নিজ দেশকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে? প্রথম রাউন্ড শেষে সেই প্রশ্নের উত্তর কিছুটা মিলেছে। দু’জনই ভালো খেলছেন। এগিয়ে চলেছেন সমানভাবে। তিন ম্যাচে নেইমার চার গোল করে এগিয়েছিলেন। তাকে ধরে ফেলেছেন মেসি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ দুটি গোল করে।
আগের দু’ম্যাচেও (বসনিয়া ও ইরান) দলের কাণ্ডারি ছিলেন আর্জেন্টাইন বরপুত্র।
বিশ্বকাপ যেন সব চমক লুকিয়ে রেখেছিল এই ম্যাচে। মেসি ম্যাজিক, ত্বরিত গোল শোধের রেকর্ড, নাইজেরিয়ার অখ্যাত এক ফুটবলারকে আলোয় নিয়ে আসা এবং আর্জেন্টিনাকেই জয়ী করা। ফুটবলদেবতা নেইমারকে যেমন দিচ্ছেন দু’হাত ভরে, তেমনি দিচ্ছে মেসিকেও। এফ-গ্র“পের অপর কোনো ম্যাচে এত গোল হয়নি, যা এই ম্যাচে হল। আগেভাগে মেসিকে তুলে নেন কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা। এটা কোচের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা। মাঠ থেকে মেসির চলে যাওয়ার পর শুধু ডি মারিয়াকে জ্বলে উঠতে দেখা গেছে। এই পারফরম্যান্স থাকলে আর্র্জেন্টিনা অনেক দূর যেতে পারে। আর্জেন্টনা লড়াকু ফুটবল খেলেছে। আগের দুটি ম্যাচের চেয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাইজেরিয়া অসাধারণ খেলেছে। তাদের খেলা দেখে আমার মনে হয়েছে, ১৯৯৪ বিশ্বকাপের নাইজেরিয়াকেই যেন খুঁজে পেলাম। অনেক সময় জায়ান্টদের বিপক্ষে ছোট দলগুলো ভালো খেলছে। সেভাবেই জ্বলে উঠতে দেখা গেল নাইজেরিয়ানদের।
ইউরোপের অন্য দলগুলোর মতো শেষ মুহূর্তে জ্বলে উঠেছে বসনিয়াও। ইরানের বিপক্ষে জয় নিয়ে ফিরছে বসনিয়া। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যেভাবে জ্বলে উঠেছিল ইরান, এই ম্যাচে তা পারেনি। যখন গোল দরকার, তখন ইরান গোল করতে পারেনি। যার কারণে ম্যাচে তারা হেরেছে। এই ম্যাচে জিতলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারত এক পয়েন্ট পাওয়া ইরান। ইউরোপের কৌশলী খেলার কাছে হেরেছে ইরান। সুইজারল্যান্ড খেলেছে তাদের মতোই। গ্র“পে ডার্কহর্স হিসেবেই ছিল তারা। দল হিসেবে খেলেছে সুইসরা দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল ইকুয়েডরের। সেজন্য তাদের জিততে হতো। কিন্তু ফ্রান্স সে সুযোগ দেয়নি তাদের। ফরাসিদের ড্র করলেই হতো। ফলে ল্যাটিন আমেরিকা থেকে একটি দলই প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়ল ইকুয়েডর। ফ্রান্স এক পয়েন্টের জন্য অলআউট খেলেনি, অতিমাত্রায় ডিফেন্সিভ ছিল। এই ড্রয়ের ফলে অপরাজিত থাকল তারা।
No comments:
Post a Comment