ঠান্ডা হাওয়া ঢোকানোর প্রক্রিয়া বন্ধ ব্যয় বাঁচাতে
তাপস প্রামাণিক
মেরামতির অভাবে বিকল হয়ে পড়ে থাকছে এয়ার ভেন্টিলেশন যন্ত্র৷ কখনও আবার বিদ্যুত্ খরচ বাঁচাতে ইচ্ছা করে বন্ধ রাখা হচ্ছে এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা৷ ফলে মেট্রো সুড়ঙ্গে অক্সিজেনের অভাব ঘটছে৷ তার জেরেই নাভিশ্বাস উঠছে নন এসি ট্রেনের যাত্রীদের৷
মেট্রোর বুড়ো রেক এবং বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তর অভিযোগ শোনা গেলেও এয়ার ভেন্টিলেশন নিয়ে এতদিন কারও কোনও মাথাব্যাথা ছিল না৷ কিন্ত্ত সোমবার পার্কস্ট্রিট এবং ময়দান স্টেশনের মাঝখানে আটকে পড়া যাত্রীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা মেট্রোর এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷
মেট্রোর শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, পুরোনো রেকের কারণে যেমন মাঝে মধ্যেই ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়, তেমনি বহু স্টেশনে এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় সুড়ঙ্গে অক্সিজেনের অভাব ঘটছে৷ সেই কারণে এদিন আটকে পড়া যাত্রীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়ায় এক মহিলা যাত্রী ট্রেনের মধ্যেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন৷ মেট্রোর যে সব চিকিত্সক এদিন ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন তাঁরাও স্বীকার করে নিয়েছেন, বেশিরভাগ যাত্রী শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷
মেট্রো রেলের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিশ্বের যে সব দেশে পাতাল মেট্রো সার্ভিস রয়েছে তার সবকটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত৷ একমাত্র ব্যতিক্রম কলকাতার মেট্রো৷ সে কথা মাথায় রেখে মেট্রো সুড়ঙ্গে যাতে অক্সিজেনের ঘাটতি না হয়, তার জন্য প্রথম থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে৷
কী সেই ব্যবস্থা?
মেট্রো সুড়ঙ্গে যাতে বায়ু চলাচল করতে পারে সেজন্য ইলেকট্রিক ফ্যানের সাহায্যে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ভিতরে ঢোকানো হয় (ঘণ্টায় ৫০ মিটার কিউব)৷ একইভাবে ভিতরের গরম বাতাসকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়৷ মেট্রো সুড়ঙ্গ যাতে ঠাণ্ডা থাকে এবং বায়ুচাপ স্বাভাবিক রাখতে বাতাসকে জলের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করানো হয়৷ একেই বলা 'এয়ার ভেন্টিলেশন' ব্যবস্থা৷
মূলত নন এসি রেকের কথা মাথা রেকেই মেট্রোয় এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল৷ কিন্ত্ত এসি রেক চালু হওয়ার পর থেকে এয়ার ভেন্টিলেশন নিয়ে আর খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না মেট্রো কর্তৃপক্ষ৷ মেরামতির অভাবে অনেক জায়গায় এয়ার ভেন্টিলেশন যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না৷ বিদ্যুত্ খরচ কমাতে এয়ার ভেন্টিলেশন যন্ত্র বন্ধ করে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে৷ মেট্রো রেলকর্মীদের বৃহত্তম সংগঠন মেট্রো রেলওয়ে মেনস ইউনিয়নের সভাপতি দিলীপ মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, 'কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্যই এয়ার ভেন্টিলেশন খারাপ হয়ে পড়ে থাকছে৷ কোনও ট্রেন যখন লাইন দিয়ে যায় চাকার ঘর্ষণে প্রচুর পরিমাণ তাপ উত্পন্ন হয়৷ অন্যান্য যন্ত্রপাতি থেকেও তাপ উত্পন্ন হয়৷ এর ফলে সুড়ঙ্গ গরম হয়ে যায়৷ এয়ার ভেন্টিলেশন কাজ না করায় সুড়ঙ্গের বায়ু ঠাণ্ডা হচ্ছে না৷ এ নিয়ে আমি নিজে বহুবার কর্তাদের বলেছি৷ এসি রেক এসে যাওয়ায় ওরা আর এ নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইছে না৷ তার জন্যই এদিন এতজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লেন৷'
মেট্রোর ইতিহাস ঘেঁটে জানা গিয়েছে, কলকাতায় পাতাল ট্রেন চালু হওয়ার সময় নন মোট ১৮টি নন এসি রেকের বরাত পেয়েছিল 'ভেল' এবং এনজিইএফ৷ রেকগুলি তৈরি হয়েছিল পেরেমপুদুরের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে৷ এখন যে সব নন এসি রেক চলছে সেগুলি সবই ভেলের৷ এর প্রায় সবকটির বয়স ২৫ বছর৷ সেগুলির মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে৷ সেই 'মৃত' রেককে তালিতাপ্পা দিয়ে কোনও মতে চালানো হচ্ছে৷ এই ধরনের মেট্রো রেক পৃথিবীর কোনও জায়গায় ব্যবহার হয় না৷ রেকগুলি ভারতে তৈরি হলেও তার বহু যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল৷ যেমন, দরজা খোলা-বন্ধ করা এবং ট্রেন চালানোর জন্য শক্তিশালী 'কমপ্রেসার' লাগে৷ তা সুদুর জার্মানি থেকে আনা হয়েছিল৷ কিন্ত্ত এই যন্ত্রাংশ এখন আর কেউ তৈরি করে না৷ ফলে নকল যন্ত্রাংশ দিয়ে কাজ চালাতে বাধ্য হচ্ছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ৷ এদিন ভেলের তৈরি যে রেকটিতে গোলযোগ দেখা দেয়, তারও জীবনের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে৷ নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের বুড়ো রেক বসিয়ে দেওয়ার কথা৷ কিন্ত্ত মেট্রোর হাতে পর্যাপ্ত রেক না থাকায় সেটা আজও আকাশকুসুম কল্পনা৷ ফলে যতই দুর্ঘটনা ঘটুক না কেন, দুর্ঘটনার হাত থেকে পরিত্রাণ নেই মেট্রো যাত্রীদের৷ অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন মেট্রো কর্তারা৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/ventilation-machine-not-working-in-many-metro-stations-in-kolkata/articleshow/37112558.cms?
তাপস প্রামাণিক
মেরামতির অভাবে বিকল হয়ে পড়ে থাকছে এয়ার ভেন্টিলেশন যন্ত্র৷ কখনও আবার বিদ্যুত্ খরচ বাঁচাতে ইচ্ছা করে বন্ধ রাখা হচ্ছে এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা৷ ফলে মেট্রো সুড়ঙ্গে অক্সিজেনের অভাব ঘটছে৷ তার জেরেই নাভিশ্বাস উঠছে নন এসি ট্রেনের যাত্রীদের৷
মেট্রোর বুড়ো রেক এবং বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তর অভিযোগ শোনা গেলেও এয়ার ভেন্টিলেশন নিয়ে এতদিন কারও কোনও মাথাব্যাথা ছিল না৷ কিন্ত্ত সোমবার পার্কস্ট্রিট এবং ময়দান স্টেশনের মাঝখানে আটকে পড়া যাত্রীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা মেট্রোর এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷
মেট্রোর শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, পুরোনো রেকের কারণে যেমন মাঝে মধ্যেই ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়, তেমনি বহু স্টেশনে এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় সুড়ঙ্গে অক্সিজেনের অভাব ঘটছে৷ সেই কারণে এদিন আটকে পড়া যাত্রীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়ায় এক মহিলা যাত্রী ট্রেনের মধ্যেই সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন৷ মেট্রোর যে সব চিকিত্সক এদিন ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন তাঁরাও স্বীকার করে নিয়েছেন, বেশিরভাগ যাত্রী শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷
মেট্রো রেলের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিশ্বের যে সব দেশে পাতাল মেট্রো সার্ভিস রয়েছে তার সবকটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত৷ একমাত্র ব্যতিক্রম কলকাতার মেট্রো৷ সে কথা মাথায় রেখে মেট্রো সুড়ঙ্গে যাতে অক্সিজেনের ঘাটতি না হয়, তার জন্য প্রথম থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে৷
কী সেই ব্যবস্থা?
মেট্রো সুড়ঙ্গে যাতে বায়ু চলাচল করতে পারে সেজন্য ইলেকট্রিক ফ্যানের সাহায্যে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস ভিতরে ঢোকানো হয় (ঘণ্টায় ৫০ মিটার কিউব)৷ একইভাবে ভিতরের গরম বাতাসকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়৷ মেট্রো সুড়ঙ্গ যাতে ঠাণ্ডা থাকে এবং বায়ুচাপ স্বাভাবিক রাখতে বাতাসকে জলের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করানো হয়৷ একেই বলা 'এয়ার ভেন্টিলেশন' ব্যবস্থা৷
মূলত নন এসি রেকের কথা মাথা রেকেই মেট্রোয় এয়ার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল৷ কিন্ত্ত এসি রেক চালু হওয়ার পর থেকে এয়ার ভেন্টিলেশন নিয়ে আর খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না মেট্রো কর্তৃপক্ষ৷ মেরামতির অভাবে অনেক জায়গায় এয়ার ভেন্টিলেশন যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না৷ বিদ্যুত্ খরচ কমাতে এয়ার ভেন্টিলেশন যন্ত্র বন্ধ করে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে৷ মেট্রো রেলকর্মীদের বৃহত্তম সংগঠন মেট্রো রেলওয়ে মেনস ইউনিয়নের সভাপতি দিলীপ মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, 'কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্যই এয়ার ভেন্টিলেশন খারাপ হয়ে পড়ে থাকছে৷ কোনও ট্রেন যখন লাইন দিয়ে যায় চাকার ঘর্ষণে প্রচুর পরিমাণ তাপ উত্পন্ন হয়৷ অন্যান্য যন্ত্রপাতি থেকেও তাপ উত্পন্ন হয়৷ এর ফলে সুড়ঙ্গ গরম হয়ে যায়৷ এয়ার ভেন্টিলেশন কাজ না করায় সুড়ঙ্গের বায়ু ঠাণ্ডা হচ্ছে না৷ এ নিয়ে আমি নিজে বহুবার কর্তাদের বলেছি৷ এসি রেক এসে যাওয়ায় ওরা আর এ নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইছে না৷ তার জন্যই এদিন এতজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লেন৷'
মেট্রোর ইতিহাস ঘেঁটে জানা গিয়েছে, কলকাতায় পাতাল ট্রেন চালু হওয়ার সময় নন মোট ১৮টি নন এসি রেকের বরাত পেয়েছিল 'ভেল' এবং এনজিইএফ৷ রেকগুলি তৈরি হয়েছিল পেরেমপুদুরের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে৷ এখন যে সব নন এসি রেক চলছে সেগুলি সবই ভেলের৷ এর প্রায় সবকটির বয়স ২৫ বছর৷ সেগুলির মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে৷ সেই 'মৃত' রেককে তালিতাপ্পা দিয়ে কোনও মতে চালানো হচ্ছে৷ এই ধরনের মেট্রো রেক পৃথিবীর কোনও জায়গায় ব্যবহার হয় না৷ রেকগুলি ভারতে তৈরি হলেও তার বহু যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল৷ যেমন, দরজা খোলা-বন্ধ করা এবং ট্রেন চালানোর জন্য শক্তিশালী 'কমপ্রেসার' লাগে৷ তা সুদুর জার্মানি থেকে আনা হয়েছিল৷ কিন্ত্ত এই যন্ত্রাংশ এখন আর কেউ তৈরি করে না৷ ফলে নকল যন্ত্রাংশ দিয়ে কাজ চালাতে বাধ্য হচ্ছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ৷ এদিন ভেলের তৈরি যে রেকটিতে গোলযোগ দেখা দেয়, তারও জীবনের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে৷ নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের বুড়ো রেক বসিয়ে দেওয়ার কথা৷ কিন্ত্ত মেট্রোর হাতে পর্যাপ্ত রেক না থাকায় সেটা আজও আকাশকুসুম কল্পনা৷ ফলে যতই দুর্ঘটনা ঘটুক না কেন, দুর্ঘটনার হাত থেকে পরিত্রাণ নেই মেট্রো যাত্রীদের৷ অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন মেট্রো কর্তারা৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/ventilation-machine-not-working-in-many-metro-stations-in-kolkata/articleshow/37112558.cms?
No comments:
Post a Comment