Tuesday, June 24, 2014

‘দুষ্টু’ লোকেদের ভয়ে আর মাঠমুখো হচ্ছে না অরণেশ

পার্থসারথি সেনগুপ্ত 

'দুষ্টু লোকরা আমায় আর মাকে মারবে, বকবে৷ আমি টেনিস অ্যাকাডেমিতে যাব না৷' 

ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে রাজ্য শিশু কমিশনের তদন্ত কমিটির সামনে এই কথাগুলোই জানাল আট বছরের অরণেশ চট্টোপাধ্যায়৷ ৩ জুন বিধাননগরে প্রাক্তন টেনিস তারকা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমিতে যাকে ৪৫ মিনিট চড়া রোদে দাঁড় করিয়ে রেখে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে৷ রাজ্যের শিশু ও নারীকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজার নির্দেশে সোমবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার শিশু সুরক্ষা অফিসার উশ্রী রায় ও জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির সদস্য দোলা মিত্র বিধাননগরে অরণেশের বাড়ি যান৷ লা মার্টসের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রটির জড়তা কাটাতে প্রথমে তদন্ত কমিটির সদস্যেরা তাকে তার স্কুলের বেস্ট ফ্রেন্ডের কথা জিজ্ঞেস করেন৷ কিন্ত্ত টেনিস অ্যাকাডেমির অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ উঠতেই কথা আটকে যায় অরণেশের৷ যেমন, তাকে প্রশ্ন করা হয়, 'তুমি কি আবার খেলতে যাবে?' কাঁপতে কাঁপতে সে জানায়, ওখানে যেতে তার খুব ভয় হয়৷ কারণ, 'দুষ্টুলোকেরা' শুধু তার সঙ্গে নয়, তার মায়ের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করবে৷ তার একটু আগেই সে তদন্ত কমিটির সদস্যদের জানিয়েছে, কী ভাবে সেদিন তাকে হাত ধরে টানতে টানতে অফিসঘরে নিয়ে গিয়ে মাকে ফোন করতে বাধ্য করানো হয়৷ বলা হয় মাকে জানাতে, তার তিন মাসের ফি বাকি থাকার জন্য তাকে টেনিস কোর্টের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হবে৷ অরণেশ জানায়, 'আমার মাকে নিয়েও ওরা খারাপ কথা বলছিল৷' এদিনের প্রশ্নোত্তর পর্বের পর কমিটির সদস্যদের বিস্ময়, 'এ ভাবে একটি শিশুকে শাস্তি দেওয়া যায় নাকি?' তাঁরা অরণেশের মাকে জানিয়েছেন, জয়দীপবাবুর সঙ্গেও কথা বলবেন৷ 

এদিন তদন্ত কমিটির সদস্যদের সুমিতাদেবী জানান, সেদিন অ্যাকাডেমি থেকে ফোন পেয়ে তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল তাঁরা অরণেশের ফি বাবদ পাঁচ হাজার টাকা মিটিয়ে দিয়েছিলেন৷ ওই সংক্রান্ত রসিদের কপিটিও তিনি তদন্ত কমিটির কাছেও পেশ করেন৷ উল্লেখ্য, এর দু'দিন পরেই অ্যাকাডেমির তরফে চিঠি পাঠিয়ে অরণেশের বাবা-মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শিশুটিকে 'বহিষ্কার' করা হয়েছে৷ যদিও, এই চিঠিতে ক্ষমা প্রার্থনা করে স্বীকার করা হয়েছিল, আগেই যথাবিহিত ফি জমা দেওয়া হয়েছিল৷ এই চিঠির প্রতিলিপিও সুমিতাদেবী কমিটিকে দিয়েছেন৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/Tennis-Academi-of-Joydeep-Mukherjee-Aranesh-Chatterjee/articleshow/37114977.cms

No comments:

Post a Comment