Tuesday, June 24, 2014

নক আউটে কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে মেক্সিকো

নক আউটে কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে মেক্সিকো

mexico
গোলর পর উচ্ছ্বসিত হার্নান্দেজ। পিছনে অধিনায়ক রাফায়েল মার্কেজ।
মেক্সিকো-৩ : ক্রোয়েশিয়া-১
(মার্কেজ ৭২, গুয়ার্দাদো ৭৫, হার্নান্দেজ ৮২) (পেরিসিচ ৮৭)


এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসাবে শেষ ষোলয় জায়গা করে নিল মেক্সিকো। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার দলগুলির প্রাধান্য চোখে পড়ার মতোই রয়েছে। ইউরোপীয় দলগুলির তুলনায় ম্যাচ জেতা এবং নক আউটে ওঠার ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে এই দলগুলি। ইতিমধ্যে আর্জেন্তিনাও নক আউটে জায়গা পাকা করে ফলেছে। ব্রাজিলের পর মেক্সিকো ওঠায় সেই ধারণাকেই আরও জোরদার করল। তবে শেষ ষোলর লড়াইয়ে তাঁদের মুখোমুখি হতে হবে নেদারল্যান্ডসের। যাদের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় উপরের দিকেই রাখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ভাল ফুটবল উপহার দিয়ে আসছিল মেক্সিকো। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হাভিয়ের হার্নান্দেজ চোটের কারণে প্রথম থেকে খেলতে পারেননি। ব্রাজিল ম্যাচ থেকে মাঠে নামেন তিনি। সুয়ারেসকে নামিয়ে উরুগুয়ের যেমন আক্রমণভাগ শক্তিশালী হয়েছে, তেমন হার্নান্দেজ আসায় মেক্সিকোও ভয়ানক হয়ে উঠছে। দোস স্যান্টোসের সঙ্গে তাঁর জুটি অবশ্যই অন্য দলের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

যদিও শুরুতে হার্নান্দেজকে প্রথম এগারোয় রাখেননি কোচ হেরেরা। প্রথম দুই ম্যাচের মতো পেরালতা এবং দোস স্যান্টোসকে দিয়েই আক্রমণভাগ সাজান তিনি। কিছু বিক্ষিপ্ত সুযোগ ছাড়া প্রথমার্ধের খেলায় বিশেষ কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি। তবে কোনও দলই সহজে মাঠ ছাড়বে না তা খেলার ধরনে বোঝা গিয়েছে। মাঝে মাঝে ফাউল হওয়ায় খেলার স্বাভাবিক গতি ছিল না। দু.দলই চোরাগোপ্তা পা চালিয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মেক্সিকোর খেলার মরিয়া মনোভাব দেখা যায়। কিন্তু কাঙ্খিত গোল আসছিল না। ৬২ মিনিটে হার্নান্দেজকে নামাতে আক্রমণে গতি আসে। এর ১০ মিনিটের মাথায় ম্যাচের প্রথম গোল করেন রাফায়েল মার্কেজ। কর্নার থেকে ভাসানো বল হেড করে গোলে রাখেন তিনি। গোল খাওয়ার পর অল আউট ঝাঁপায় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু তিন মিনিটের ফের ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় মেক্সিকো। হার্নান্দেজের পাস ধরে পেরালতা অনেকটা উপরে উঠে আসেন। গড়ানো ক্রস রাখেন আন্দ্রেস গুয়ার্দাদোর পায়ে। বল গোলে রাখতে কোনও ভুল করেননি তিনি। পর পর দু'গোল খাওয়ার পর ম্যাচের ভবিষ্যত্ অনেকটা পরিষ্কার হয়েই গিয়েছিল। সেটাকে আরও খানিকটা পরিষ্কার করে দেন হার্নান্দেজ। ম্যান ইউয়ের এই স্ট্রাইকার ফের কর্নার থেকে ব্যবধান বাড়ান। ৮৭ মিনিটে স্বান্তনা হিসাবে কোরয়েশিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ইভান পেরিসিচ। বক্সের মধ্যে রাকিতিচের ব্যাক হিল ধরে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে বল গোলে পাঠিয়ে দেন।

ম্যাচ শেষের কিছু ক্ষণ আগে মাথা গরম করে লাল কার্ড দেখেন ক্রোয়েশিয়ার রেবিচ। বল ছাড়া হঠাত্ই মেক্সিকোর মিড ফিল্ডার পেনা-র সিন বোনে বুটের স্টাড দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গত কারণের লাল কার্ড দেখতে হয় তাঁকে। ইনজুরি টাইমে ব্যবঝান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। পেরিসিচের জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় বাঁচান গোলকিপার ওচোয়া। তিনি দেখান, এ বারের বিশ্বকাপে কেন তাঁকে অন্যতম সেরা গোলকিপার বলা হচ্ছে।


তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে দ্বিতীয় দল হিসাবে শেষ ষোলয় চলে গেল মেক্সিকো। নক আউটে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে যথেষ্ট লড়াই করতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

No comments:

Post a Comment