‘ওবামা নন, হি মিন্স বিজনেস’
আমেরিকার প্রবাসী ভারতীয়দের সজাগ নজর ছিল নির্বাচনের উপর৷ ফলাফল প্রকাশের পর তাদের প্রতিক্রিয়া৷ হিউস্টন থেকে লিখছেনবলাকা ঘোষাল
কিছু জাগতিক প্রয়োজনে অনেক ভারতীয় সুদূর আমেরিকায় বাসা বেঁধেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা মনেপ্রাণে এখনও পুরোপুরি ভারতবাসীই৷ নরেন্দ্র মোদী ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রতিটি পদক্ষেপ, মনমোহন সিং-এর উপর গান্ধী পরিবারের প্রচ্ছন্ন কন্ট্রোল, প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীর উল্টো দিকে বসেও সজাগ হয়ে নজরে রেখেছেন৷ ফেসবুক, টুইটার ও অন্যান্য যত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন অক্লেশে৷ ফলাফলের দিনে রাত দুটো তিনটে অবধি জেগে তার পর বাকি রাতও উত্তেজনায় আর দেশের লোকের সঙ্গে ফোন বিনিময়ে চোখের পাতা আর এক করতে পারেননি৷
অথচ এরা যে সবাই খুশি তা কিন্তু নয়৷ বহুকালের কংগ্রেস-প্রেমী বা আম-আদমির আমূল পরিবর্তনের-টগবগে-স্বপ্নে-ভেসে-যাওয়া অনেকের কাছে এই হার মেনে নেওয়া সহজ হয়নি৷ বিজেপির এই বিপুল জয় ভয়ের চোখে দেখেছেন কিছু মানুষ যাঁরা সমান মানবাধিকারে বিশ্বাসী, হিন্দুত্বের এই বিজয়ে সংখ্যালঘুদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা অনিশ্চয়তা নিয়ে আসবে সেটাই তাঁদের মূল চিন্তা৷ গুজরাতের ২০০২-এর বিভীষিকাময় রক্তপাতের ইতিহাস আর দুষ্কৃতীদের উচিতমতন শাস্তি না পাওয়াটা বিদেশে থেকেও ভোলেনি তারা৷
ভারতের জনতার শতকরা ৬৬ ভাগ ভোট দিতে যাওয়ার পিছনেও কিছু এন আর আইদের ভূমিকা আছে৷ আমেরিকা কানাডা মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ হিন্দুদের আছে নানান রকমের সঙ্ঘ৷ আর নির্বাচনের প্রস্ত্ততি পর্ব থেকে নড়েচড়ে উঠেছিল গ্লোবাল ইন্ডিয়ান্স ফর ভারত বিকাশ৷ তাদের 'চায় পে চর্চা' আলোচনা থেকে তৈরি হয় 'মিশন ২০১৪' যার উদ্দেশ্যই ছিল দেশে ফোন করে করে ভারতবাসীদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা যাতে ২৭২-এর বেশি সিট বিজেপি-র কবলে আসে৷ ফলাফল ঘোষণার পরে পরেই আমেরিকাব্যাপী বিজয়-উত্সব মিডিয়াও খুব ভালো ভাবে কভার করে৷ উত্সব থেকে ফিরে অনেকেই তখনও নেচে নেচে উঠছিলেন মিষ্টি বিতরণ করতে করতে৷
বাঙালিরাও নানান মহলে উত্তেজিত, কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে৷ আলোচনাকে ইন্ধন দিতে সুখাদ্যের প্রয়োজন, সেই অজুহাতে একটু পার্টির ব্যবস্থা হয়ে গেল উইক-এন্ডে৷ পার্টি এমনিও হত, অমনিও হত, কিন্ত্ত সেটাকে 'চিন্তন বৈঠক' বলে একটু 'মডিফাই' করা হল৷ বেশির ভাগই খুব খুশি, তবে হিন্দুত্বের জয় বলে নয়, বামপন্থীদের সরিয়ে 'মমতাদি'র নেতৃত্বে নতুন তৃণমূল সরকার গঠনের সময় যেমন চনমনে লেগেছিল তাঁদের, এটা যেন সেটারই পুনরাবৃত্তি৷ নিউ ইয়র্কের জনৈক সমাজকর্মী ও লেখক যদিও যারপরনাই রকমের হতাশ৷ তার ব্লগে সেই ভয় স্পষ্ট ধরা দেয়- শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষের ভাগ্য যখন রূপালি-পর্দার তারকা আর উচ্চবিত্তদের হাতে তখন কীই বা আশা করা যায়৷ আবার প্রবাসী মহলে আর এক বহু পরিচিত মানুষ মনে করেন যে পরিবারতান্ত্রিক শাসন যে শেষ হয়েছে জনসাধারণের ইচ্ছেয় এটাই বড় কথা৷
নাম উল্লেখে অনিচ্ছুক একটি ভারতীয় ক্রিস্টান প্রতিষ্ঠানের মহিলা-প্রেসিডেন্ট তার হতাশা প্রকাশ না করে পারলেন না- 'গুড ফ্রাইডে যিনি তুচ্ছ মনে করেন, তাকে প্রধানমন্ত্রী বলে মেনে নিতে অসুবিধে হচ্ছে বৈকি৷ ভারতবর্ষ সবাইকে নিয়ে, শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের নয়'৷ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাঁদের ধারণা যে 'দ্য রিচ্ উইল গেট রিচার, দ্যাটস ইট'৷ ইন্ডিয়ান মুসলিম কাউন্সিল-এর ফেসবুক পেজ-এ গেলেই বোঝা যায় যে, গুজরাটের সেই ভয়াবহ ইতিহাস তাঁদের স্মৃতিতে একটুও আবছা হয়ে যায়নি৷ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা এখন ভারতীয় জনতা পার্টিরই হাতে যাওয়ায় তাঁরা চিন্তান্বিত৷ অথচ হিউস্টন-এরই গুজরাটি বোহরা-মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ আবার কিন্ত্ত খুব আশাবাদী যে এই নতুন নেতৃত্ব ব্যবসা বাণিজ্যের পক্ষে খুবই আশাজনক৷ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এক জন বললেন, 'মোদী তো আর ওবামা নন, হি মিনস বিজনেস'৷
কিছু জাগতিক প্রয়োজনে অনেক ভারতীয় সুদূর আমেরিকায় বাসা বেঁধেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা মনেপ্রাণে এখনও পুরোপুরি ভারতবাসীই৷ নরেন্দ্র মোদী ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রতিটি পদক্ষেপ, মনমোহন সিং-এর উপর গান্ধী পরিবারের প্রচ্ছন্ন কন্ট্রোল, প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীর উল্টো দিকে বসেও সজাগ হয়ে নজরে রেখেছেন৷ ফেসবুক, টুইটার ও অন্যান্য যত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন অক্লেশে৷ ফলাফলের দিনে রাত দুটো তিনটে অবধি জেগে তার পর বাকি রাতও উত্তেজনায় আর দেশের লোকের সঙ্গে ফোন বিনিময়ে চোখের পাতা আর এক করতে পারেননি৷
অথচ এরা যে সবাই খুশি তা কিন্তু নয়৷ বহুকালের কংগ্রেস-প্রেমী বা আম-আদমির আমূল পরিবর্তনের-টগবগে-স্বপ্নে-ভেসে-যাওয়া অনেকের কাছে এই হার মেনে নেওয়া সহজ হয়নি৷ বিজেপির এই বিপুল জয় ভয়ের চোখে দেখেছেন কিছু মানুষ যাঁরা সমান মানবাধিকারে বিশ্বাসী, হিন্দুত্বের এই বিজয়ে সংখ্যালঘুদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা অনিশ্চয়তা নিয়ে আসবে সেটাই তাঁদের মূল চিন্তা৷ গুজরাতের ২০০২-এর বিভীষিকাময় রক্তপাতের ইতিহাস আর দুষ্কৃতীদের উচিতমতন শাস্তি না পাওয়াটা বিদেশে থেকেও ভোলেনি তারা৷
ভারতের জনতার শতকরা ৬৬ ভাগ ভোট দিতে যাওয়ার পিছনেও কিছু এন আর আইদের ভূমিকা আছে৷ আমেরিকা কানাডা মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ হিন্দুদের আছে নানান রকমের সঙ্ঘ৷ আর নির্বাচনের প্রস্ত্ততি পর্ব থেকে নড়েচড়ে উঠেছিল গ্লোবাল ইন্ডিয়ান্স ফর ভারত বিকাশ৷ তাদের 'চায় পে চর্চা' আলোচনা থেকে তৈরি হয় 'মিশন ২০১৪' যার উদ্দেশ্যই ছিল দেশে ফোন করে করে ভারতবাসীদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা যাতে ২৭২-এর বেশি সিট বিজেপি-র কবলে আসে৷ ফলাফল ঘোষণার পরে পরেই আমেরিকাব্যাপী বিজয়-উত্সব মিডিয়াও খুব ভালো ভাবে কভার করে৷ উত্সব থেকে ফিরে অনেকেই তখনও নেচে নেচে উঠছিলেন মিষ্টি বিতরণ করতে করতে৷
বাঙালিরাও নানান মহলে উত্তেজিত, কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে৷ আলোচনাকে ইন্ধন দিতে সুখাদ্যের প্রয়োজন, সেই অজুহাতে একটু পার্টির ব্যবস্থা হয়ে গেল উইক-এন্ডে৷ পার্টি এমনিও হত, অমনিও হত, কিন্ত্ত সেটাকে 'চিন্তন বৈঠক' বলে একটু 'মডিফাই' করা হল৷ বেশির ভাগই খুব খুশি, তবে হিন্দুত্বের জয় বলে নয়, বামপন্থীদের সরিয়ে 'মমতাদি'র নেতৃত্বে নতুন তৃণমূল সরকার গঠনের সময় যেমন চনমনে লেগেছিল তাঁদের, এটা যেন সেটারই পুনরাবৃত্তি৷ নিউ ইয়র্কের জনৈক সমাজকর্মী ও লেখক যদিও যারপরনাই রকমের হতাশ৷ তার ব্লগে সেই ভয় স্পষ্ট ধরা দেয়- শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষের ভাগ্য যখন রূপালি-পর্দার তারকা আর উচ্চবিত্তদের হাতে তখন কীই বা আশা করা যায়৷ আবার প্রবাসী মহলে আর এক বহু পরিচিত মানুষ মনে করেন যে পরিবারতান্ত্রিক শাসন যে শেষ হয়েছে জনসাধারণের ইচ্ছেয় এটাই বড় কথা৷
নাম উল্লেখে অনিচ্ছুক একটি ভারতীয় ক্রিস্টান প্রতিষ্ঠানের মহিলা-প্রেসিডেন্ট তার হতাশা প্রকাশ না করে পারলেন না- 'গুড ফ্রাইডে যিনি তুচ্ছ মনে করেন, তাকে প্রধানমন্ত্রী বলে মেনে নিতে অসুবিধে হচ্ছে বৈকি৷ ভারতবর্ষ সবাইকে নিয়ে, শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের নয়'৷ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাঁদের ধারণা যে 'দ্য রিচ্ উইল গেট রিচার, দ্যাটস ইট'৷ ইন্ডিয়ান মুসলিম কাউন্সিল-এর ফেসবুক পেজ-এ গেলেই বোঝা যায় যে, গুজরাটের সেই ভয়াবহ ইতিহাস তাঁদের স্মৃতিতে একটুও আবছা হয়ে যায়নি৷ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা এখন ভারতীয় জনতা পার্টিরই হাতে যাওয়ায় তাঁরা চিন্তান্বিত৷ অথচ হিউস্টন-এরই গুজরাটি বোহরা-মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ আবার কিন্ত্ত খুব আশাবাদী যে এই নতুন নেতৃত্ব ব্যবসা বাণিজ্যের পক্ষে খুবই আশাজনক৷ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এক জন বললেন, 'মোদী তো আর ওবামা নন, হি মিনস বিজনেস'৷
http://eisamay.indiatimes.com/editorial/post-editorial/modi-under-strict-scrutiny/articleshow/35663603.cms
No comments:
Post a Comment