চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
এবারও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা!
| আপডেট: ০১:০৩, এপ্রিল ০৩, ২০১৪
বর্ষা আসতে বাকি মাত্র আড়াই মাস। চট্টগ্রাম নগরের অনেক এলাকায় খাল খননও শুরু হয়নি। তাই এবারও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের আশঙ্কায় আছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাধারণত বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে নালা-খাল খনন করে। তবে এবার কিছু এলাকায় এই কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলররা। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমকে ‘রুটিন কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের দেওয়ানবাজার খালের এক পাশ খনন করা হলেও অপর অংশ কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। কালিরছড়ার বিভিন্ন অংশে রয়েছে বাঁশবাগান। নিয়মিত খননের অভাবে ভরাট হয়ে গেছে ছড়ার অনেক অংশ। চাক্তাই খালের খননকাজ বাকি আছে ৩০ শতাংশ। মির্জা খালের দক্ষিণ বাকলিয়া অংশও খনন করা হয়নি। নগরের তিনপোলের মাথায় অবস্থিত নালায় আবর্জনা ও পুরোনো ভবনের ভাঙা অংশ ফেলায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাধারণত বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে নালা-খাল খনন করে। তবে এবার কিছু এলাকায় এই কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলররা। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমকে ‘রুটিন কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের দেওয়ানবাজার খালের এক পাশ খনন করা হলেও অপর অংশ কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। কালিরছড়ার বিভিন্ন অংশে রয়েছে বাঁশবাগান। নিয়মিত খননের অভাবে ভরাট হয়ে গেছে ছড়ার অনেক অংশ। চাক্তাই খালের খননকাজ বাকি আছে ৩০ শতাংশ। মির্জা খালের দক্ষিণ বাকলিয়া অংশও খনন করা হয়নি। নগরের তিনপোলের মাথায় অবস্থিত নালায় আবর্জনা ও পুরোনো ভবনের ভাঙা অংশ ফেলায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।
নগরের তিনপোল এলাকার বাসিন্দা প্রবাল দে বলেন, ‘নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় তিন বছর ধরে ভয়াবহ কষ্ট পাচ্ছি। সামান্য বৃষ্টিতে নালা উপচে পানি বাসায় ঢুকে পড়ে। বর্ষা মৌসুম সন্নিকটে হলেও এই নালা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।’
করপোরেশনের মেয়র মন্জুর আলম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে এবার শুরুতে নিম্নাঞ্চলের খালগুলো খনন করা হচ্ছে। পরে উঁচু এলাকার খালগুলো খনন করা হবে। শেষে নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কার করা হবে। সব মিলিয়ে ১৫-২০ দিনের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ হবে।’
করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখার তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি প্রাথমিক খাল দিয়ে নগরের পানি নিষ্কাশন হয়। এসবের মধ্যে চাক্তাই খাল, হিজড়া খাল, মির্জা খাল, মহেশ খালসহ আরও কয়েকটি খাল খনন করা হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, ‘নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন করা করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। আর করপোরেশনের বর্তমান কার্যক্রম রুটিন ওয়ার্ক মাত্র। এই কাজ দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে না।’
নগরের চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে আমার খাল-নালা খননের প্রস্তাব পাস হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক দেরিতে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।’
নগরের দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, ‘বউবাজার খালের খননকাজ শেষ হলেও চাক্তাই শাখা খালের কাজ শুরু হয়নি। তবে খুব দ্রুত শুরু হবে।’
সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখার সহকারী প্রকৌশলী সুদীপ বসাক বলেন, ‘চাক্তাই খালের ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এই অংশ খনন করতে অন্তত ২০ দিন সময় লাগবে।’
গত মেয়র নির্বাচনে মন্জুর আলম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে নগরের জলাবদ্ধতা দূর করার বিষয়টি প্রথমে রেখেছিলেন।
মেয়র মন্জুর আলম বলেন, ‘নগরের জলাবদ্ধতা যাতে স্থায়ী রূপ না পায় সে জন্য আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কারণে গত বছর নগরে জলাবদ্ধতা হয়নি। যা হয়েছিল তা জলজট মাত্র। এবারও আশা করি জলাবদ্ধতা হবে না।’
No comments:
Post a Comment