Wednesday, April 2, 2014

কথিত স্বামী গ্রেপ্তার, আটক ৩ শিকদার মেডিকেলের ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ


কথিত স্বামী গ্রেপ্তার, আটক ৩

শিকদার মেডিকেলের ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ


‘মারে, তুই কেন এলি? এলিই যদি, এভাবে মায়া লাগায়ে আমাদের ছেড়ে গেলি কেন।’
মধ্যবয়স্ক আবদুস সালাম রাজধানীর হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে বসে বিলাপ করছিলেন। সালামের মেয়ে জেড এ শিকদার মেডিকেল কলেজের ছাত্রী সাউদিয়া আক্তার ওরফে মিথির (২৩) লাশ রায়েরবাজারের একটি বাড়ি থেকে গতকাল বুধবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়েরের জন্য হাজারীবাগ থানায় গিয়েছিলেন আবদুস সালাম।
সাউদিয়াকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ তাঁর কথিত স্বামী আরিফুল ইসলামকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে। আটক করা হয়েছে আরও তিনজনকে।
পাবনার সাঁথিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা আবদুস সালামের আট ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেজো সাউদিয়া। তিনি সিকদার মেডিকেল কলেজে তৃতীয় বর্ষে পড়তেন।
আবদুস সালাম প্রথম আলোকে জানান, তাঁর মেয়ে সিকদার মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ২১২ নম্বর কক্ষে থাকতেন বলেই তাঁরা জানেন। প্রতি মাসে পাবনা থেকে এসে কেউ না কেউ তাঁকে দেখে যেতেন। মেয়েটি যে দুই মাস ধরে রায়েরবাজারের ভাড়া বাসায় আরেকটি ছেলের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকছে, তা তাঁরা জানতেন না।
পুলিশ জানায়, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আরিফের সঙ্গে দুই মাস আগে রায়েরবাজারের সচিব গলির ছয়তলায় তিন কক্ষের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন সাউদিয়া। উচ্চমাধ্যমিক পাস আরিফুল কিছুই করেন না। তাঁদের বিয়েরও কোনো প্রমাণপত্র মেলেনি। তাঁরা আবার বাসার একটি কক্ষ এক তরুণীকে ভাড়া (সাবলেট) দেন। বাসার আরেকটি কক্ষে গত ৩১ মার্চ থেকে সাউদিয়ার এক বান্ধবী তাঁর বন্ধুকে নিয়ে থাকা শুরু করেন।
মেয়ের বাবার দায়ের করা মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে সাবলেট থাকা তরুণী নিহত সাউদিয়ার মায়ের মুঠোফোনে ফোন করে জানান যে সাউদিয়া মারা গেছেন। এরপর সাউদিয়ার মা-বাবাসহ অন্য স্বজনেরা দ্রুত পাবনার সাঁথিয়া থেকে ঢাকায় আসেন।
ওই ফ্ল্যাটের অন্যদের বরাত দিয়ে মামলায় বলা হয়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাউদিয়ার সঙ্গে আরিফুলের ঝগড়া শুরু হয়। দরজা বন্ধই ছিল। রাত ১০টার পরে তাঁদের ঘর থেকে উচ্চ শব্দে গান বাজতে শোনা যায়। রাত দুইটার দিকে আরিফুল ঘর থেকে বের হয়ে সাবলেট থাকা তরুণীকে জানান, সাউদিয়া আত্মহত্যা করেছেন। এরপর ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকা তরুণী এবং সাউদিয়ার বান্ধবী ও তাঁর বন্ধু মিলে আরিফুলকে কৌশলে আটকে রেখে বাড়িওয়ালাকে খবর দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সাউদিয়ার লাশ উদ্ধার করে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, সাউদিয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) মর্গে পাঠানো হয়েছে।

No comments:

Post a Comment