Wednesday, April 2, 2014

পুলিশ-দুষ্কৃতীর গুলি বিনিময় জঙ্গলমহলে

পুলিশ-দুষ্কৃতীর গুলি বিনিময় জঙ্গলমহলে

এই সময়, ঝাড়গ্রাম ও বর্ধমান: প্রাক-নির্বাচনী তল্লাশির কাজে বেরিয়ে দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়ল ঝাড়গ্রামের পুলিশ৷ বুধবার ভোররাতে জামবনি ও বিনপুর থানা এলাকার মাঝামাঝি দিঘলপাহাড়ি জঙ্গলে আক্রান্ত হন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও বিবেক বর্মা৷ তিনি পাল্টা গুলি চালালেও কেউ ধরা পড়েনি৷ তবে সেখানে কালভার্টের তলা থেকে পুলিশ বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে৷ এ দিনই বর্ধমানের মন্তেশ্বরে পুলিশ এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকে ২৭টি বোমা ও দু'টি গুলি ভর্তি বন্দুক উদ্ধার করে৷ গ্রেপ্তার করা হয় ওই তৃণমূল কর্মী লাল্টু শেখকে৷ দলের ব্লক নেতৃত্ব অবশ্য তার পাশে দাঁড়ায়নি৷ ব্লক সভাপতির বিরোধী গোষ্ঠীর দাবি, পুলিশকে দিয়ে লাল্টুকে ফাঁসিয়েছেন দলীয় নেতৃত্বই৷ 

বর্ধমানের রায়না ও কাটোয়া থানার হরিপুর থেকেও বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ ওই দু'টি স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৪ জন দুষ্কৃতীকে৷ ঝাড়গ্রামের দিঘলপাহাড়িতে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার জায়গাটি পরে পরিদর্শনে যান মেদিনীপুরের ডিআইজি অজয় নন্দা৷ সেখানে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে এসডিপিওর গুলি বিনিময়ের পর পুলিশ কার্তুজ-সহ একটি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, একটি নাইমএমএম পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ২টি ডিটোনেটর ও একটি মাইন উদ্ধার করেছিল৷ বোম স্কোয়াড গিয়ে পরে মাইনটিকে টিকে নিস্ক্রিয় করে৷ 

গত বারো দিনে জামবনি থানা এলাকায় তিনবার অস্ত্র ও মাইন উদ্ধার হওয়ায় পুলিশকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে৷ ডিআইজি অজয় নন্দা বলেন, 'ঘটনাস্থল থেকে ঝা.ডখণ্ড সীমানা মাত্র ২ কিলোমিটার৷ কারা গুলি চালালো, মাওবাদী না অন্য কেউ, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷' মন্তেশ্বরে তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকে বোমা ও বন্দুক উদ্ধারের প্রসঙ্গে দলের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দাবি, বাড়ির পাঁচিলহীন খোলা অংশে বোমা ও অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে৷ এর সঙ্গে লাল্টু শেখের কোনও সম্পর্ক নেই৷ যদিও তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সজল পাঁজা বলেন, 'দোষী হলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলেছি৷'

No comments:

Post a Comment