Wednesday, April 2, 2014

দাঁতনের নির্যাতিতার মা আত্মঘাতী

দাঁতনের নির্যাতিতার মা আত্মঘাতী

ই সময়, মেদিনীপুর: অপমানিত হলেও দুষ্কৃতীদের হুমকিতে অভিযোগ তুলে নিয়েছিলেন আদিবাসী তরুণী৷ পশ্চিম মেদিনীপুরে দাঁতনের পাঁচরুল গ্রামে মঙ্গলবার আত্মহত্যা করেছেন তাঁর মা৷ মেয়ের অপমান আর তাঁর সঙ্গে দুষ্কর্মের বিচার না হওয়ায় মানসিক অবসাদে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁর স্বামী৷ বুধবার সকালে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৃত্যু হয় ওই মহিলার৷ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ দায়ের করেও আদালতে বয়ান বদলেছিলেন তাঁর মেয়ে৷ কিন্ত্ত পুলিশকে তাঁর মা অভিযোগ করেছিলেন, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বয়ান বদলাতে বাধ্য করা হয়েছিল তাঁর মেয়েকে৷ পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও অভিযুক্তরা বুক ফুলিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ মৃতের স্বামীর আক্ষেপ, 'পুলিশ সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে আমার স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে হত না৷' 

তাঁর মেয়ে বছর ত্রিশের স্বামী পরিত্যক্তা তরুণী গত ১০ বছর ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকেন৷ ঘটনার সূত্রপাত, প্রতিবেশী বিল্টু গিরির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে ঘিরে৷ বিল্টুর স্ত্রী সবিতার অভিযোগ, গত ২০ মার্চ রাতে দু'জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখছেন তিনি৷ পরের দিন গ্রামবাসীদের একাংশ গ্রামের শীতলা মন্দিরে তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়ে অর্ধ্ব উলঙ্গ করে গাছে বেঁধে গায়ে বিছুটি পাতা ঘষে বেদম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল৷ পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করে৷ কিন্ত্ত ২২ মার্চ আদালতে নিজের বয়ান বদলে ফেলেন নির্যাতিতা৷ আদালতকে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই৷ ফলে প্রত্যেককে জামিন দেয় আদালত৷ 

তরুণীর মা অবশ্য সেই সময়ই পুলিশকে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়েই মেয়ে আদালতে উল্টো কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন৷ পুলিশে তদন্তও শুরু করে৷ মৃতের স্বামী বুধবার বলেন, 'আমার স্ত্রী প্রকাশ্যে সত্যি বলে দেওয়ায়, অভিযুক্তরা আরও বেশি করে হুমকি দিতে থাকে৷ ওরা বলছিল, দেখব পুলিশ তোদের কেমন করে বাঁচায়৷ ওদের জন্য মেয়েটার সম্মান গেল৷ তার ওপর মেরে ফেলার হুমকি৷ আমার স্ত্রী অবসাদে ভুগছিলেন৷ শেষে আত্মঘাতী হলেন৷' 

নিগৃহীত হওয়ার পর থেকে লোধা-শবর সমিতির আস্তানায় রয়েছেন নির্যাতিতা৷ ওই সমিতি তাঁর মায়ের আত্মহত্যার পর প্রতিবাদে সরব হয়েছে৷ সমিতির জেলা সম্পাদক বলাই নায়েক বলেন, 'আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের শাস্তি চাই৷ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা নাহলে আমরা আন্দোলনে নামব৷' খড়গপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অজিতপ্রসাদ সিংহ বলেন, 'অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে৷ শিগগিরই সবাইকে ধরা হবে৷ কোনও পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷' 

No comments:

Post a Comment