Tuesday, August 5, 2014

আদরযত্নেও শ্বশুরঘরে মন টেকেনি শুভঞ্জিতার

আজকালের প্রতিবেদন: শ্বশুরবাড়িতে আদর-যত্ন কম ছিল না৷‌ শ্বশুরমশাই পুত্রবধূর ঘরে এ সি মেশিনও লাগিয়ে দিয়েছিলেন৷‌ স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই বেড়াতে বেরোতেন৷‌ তবু সেখানে মন টেকেনি৷‌ গত নভেম্বর মাসে আত্মীয়র বিয়ে বলে সেই যে চলে গিয়েছিলেন ফেরেননি আর৷‌ পড়াশুনো করব বলে আলাদা রয়ে গেলেন৷‌ যদিও পড়াশোনায় ভাল ছিলেন না মোটে৷‌ বি সি এ (ব্যাচেলর অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন) পরীক্ষায় পরপর দু’বার অকৃতকার্য হয়েছেন৷‌ হাওড়ার রিসর্টে রহস্যময় মৃত্যুর পর শুভঞ্জিতা বসাক সম্পর্কে এই ধরনের বহু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে৷‌ শুভঞ্জিতার বাবা-মা মারা যান ছোটবেলাতেই৷‌ একা মেয়ে বড় হতে থাকে কখনও গড়িয়ায় ঠাকুমার কাছে, কখনও মুম্বইতে পিসির বাড়ি৷‌ এ ছাড়াও জ্যাঠা-জেঠিমা ছিলেন৷‌ শুভঞ্জিতার সঙ্গে সম্রাট সোরেনের পরিচয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কে৷‌ সেখান থেকে ঘনিষ্ঠতা৷‌ তার পর ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি বিয়ে৷‌ সম্রাট লেখাপড়ায় ভাল৷‌ দেশবন্ধু স্কুলে শিক্ষকতা করতেন৷‌ পরে পরীক্ষা দিয়ে স্বরূপনগরের ব্লক সমিতির এডুকেশন অফিসার পদে চাকরি পান৷‌ ঘটনার দিনই তিনি ডব্লু বি সি এস পরীক্ষা দিয়েছেন৷‌ বিয়ের পর ক’দিন শুভঞ্জিতা শ্বশুরবাড়িতে বেশ ভালই দিন কাটিয়েছেন৷‌ জানা গেছে, নিজেদের মেয়ে না থাকায় শ্বশুর-শাশুড়ি পুত্রবধূকে যত্নে রাখতেন৷‌ গরম লাগত বলে শ্বশুরমশাই জগৎ সোরেন পুত্রবধূর ঘরে এ সি মেশিন পর্যম্ত লাগিয়ে দেন৷‌ শাশুড়ি শিখাদেবী সর্বদাই নজর রাখতেন শুভঞ্জিতার যাতে কোনও অসুবিধা না হয়৷‌ প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, অনেক দিনই কাজ থেকে বাড়ি ফিরে সম্রাট স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে বেরোতেন৷‌ তবু এ বাড়িতে মন টিকল না শুভঞ্জিতার৷‌ সুর কেটে গেল ৯ মাস আগেই৷‌ মামাতো দাদার বিয়ে বলে নভেম্বর মাসে ঠাকুমার কাছে চলে গেলেন তিনি৷‌ তার পর আর বেলেঘাটায় ফেরেননি৷‌ খবর পাঠালেন তিনি নাকি আবার বি সি এ পরীক্ষায় বসবেন৷‌ তাই আলাদা থেকে প্রস্তুতি নিতে চান৷‌ শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ কমে গেল শুভঞ্জিতার৷‌ ঠাকুমাও এ বিষয়ে সম্রাট বা তাঁর বাড়ির লোকদের কিছু বলেননি৷‌ তবে জানা গেছে নাতনির জন্য তিনি পৃথক থাকবার ব্যবস্হা করেছিলেন৷‌ গড়িয়ার কানুনগো পার্কের এক বাড়িতে পেয়িংগেস্ট হিসেবে থাকতেন৷‌ মাঝে একবার শ্বশুর-শাশুড়ি বৌমাকে নিয়ে আসতে গিয়েছিলেন৷‌ কিন্তু শুভঞ্জিতার ঠাকুমা জানিয়ে দেন মেয়ে এখন যাবে না, পড়াশুনো করছে৷‌ এভাবেই চলছিল৷‌ ভয়ঙ্কর খবর সন্ধে ৭টা নাগাদ৷‌ শুভঞ্জিতার জ্যাঠতুতো দাদা বেলেঘাটার শ্বশুর বাড়িতে ফোন করে জানান, বোনের দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাড়াতাড়ি এস এস কে এম হাসপাতালে চলে আসুন৷‌ সঙ্গে সঙ্গে সম্রাট মা এবং কয়েকজন আত্মীয়কে নিয়ে এস এস কে এমে যান৷‌ গিয়ে শিখাদেবী দেখেন, বৌমার দেহ কাপড়ে ঢাকা৷‌ পরনে গেঞ্জি এবং অ্যাঙ্কেল লেম্হ জিন‍্স৷‌ সোমবার বেলেঘাটার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল সম্রাট সোরেনের পুরো পরিবার বিপর্যস্ত অবস্হায়৷‌ শ্বশুর-শাশুড়ি আত্মীয়-স্বজন কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না৷‌ ছবির অ্যালবাম নিয়ে সকালেই ডোমজুড় থানায় চলে গেছেন সম্রাট৷‌ বাড়িতে শিখাদেবী এবং জগৎ সোরেন উদ‍্ভ্রাম্তের মতো বসে৷‌ ঘরের দেওয়ালে ঝুলছে বইমেলায় আঁকানো শুভঞ্জিতার পোর্ট্রেট৷‌ কাঁদতে কাঁদতে শিখাদেবী বললেন, ‘কী যে হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না৷‌ পড়তে যাওয়াই কাল হল৷‌ তিন বছর এখানে খুব ভাল ভাবেই ছিল৷‌ রান্নাবান্নাও করত৷‌ তবে সারাক্ষণই মোবাইলে ফোনে হয় কথা নয় চ্যাট করত৷‌ বলেছিল পড়াশুনো করে চাকরি করবে৷‌ আমরাও উৎসাহ দিয়েছিলাম৷‌ তবে ছোটবেলায় বাবা-মা না থাকায় এবং নানা জায়গায় বড় হওয়ায় একটু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকত৷‌’ হাওড়ায় যে রিসর্টে শুভঞ্জিতার মৃত্যু হয়েছে সেখানে মদের বোতল পাওয়া গেছে শোনায় আঁতকে উঠলেন শিখাদেবী৷‌ বললেন, ‘ও তো (শুভঞ্জিতা) কেউ মদ খেয়েছে দেখলেই রেগে যেত৷‌ পরিবর্তন ঘটেছে এই ৯ মাসে৷‌’ মুখে না বললেও যে বদলে যাচ্ছেন তা বুঝতে পেরেছিলেন পরিচিতরা৷‌ শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল৷‌ শিখাদেবীর বক্তব্য, তাঁর ছেলের সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর ঠিক নয়৷‌

No comments:

Post a Comment