Saturday, August 2, 2014

বেদেদের জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে

বেদেদের জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে

জিয়ানগর (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
পরিবেশ প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে বদলে যাচ্ছে বেদেদের জীবনযাত্রা। নদী বা খালে ভাসমান নৌকায় বেদেদের বসবাস করতে তেমন একটা দেখা যায় না। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের লোভের শিকার হয়ে দিন দিন কমছে নদী-খালের সংখ্যা। বেদেদের আয়ের অন্যতম প্রধান উত্স ছিল সাপের খেলা দেখানো ও টুকটাক কবিরাজি। কিন্তু এখন সাপও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। আবার গ্রামের লোকজন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়ায় বেদেদের চিকিত্সা গ্রহণ করছে না। বাধ্য হয়ে বেদেরা অনেকে পেশা পরিবর্তন করছে। 

নৌকা ছেড়ে নদীর তীরবর্তী এলাকা বা খোলা মাঠে পলিথিনের তাঁবু টানিয়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বেদেরা বসবাস করছে। আগে তারা উপকূলীয় এলাকায় নৌবহরে এসে ব্যবসা পরিচালনা করতো। কিন্তু বর্তমানে নৌকা তৈরির কাঠের অভাব এবং সড়ক পথে যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি ও নদী কমে যাওয়ায় তাদের আবাসস্থলের পরিবর্তন ঘটেছে।

বর্তমানে জিয়ানগরের শহীদ ফজলুল হক মনি সেতুর উভয় প্রান্তে বিক্রমপুর ও সুনামগঞ্জ থেকে আসা দুটি বেদে বহর অবস্থান করছে। সেতুর নিচেই তারা ঘাঁটি গেড়েছে। আগে চাড়াখালী খালে ও বলেশ্বর নদে বেদেরা নৌ বহর নিয়ে এসে দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসা করতো। কিন্তু এখন তারা ঠিকই এই এলাকায় ব্যবসা করছে, তবে নৌ বহর নিয়ে নয়। থাকছে পলিথিনের অস্থায়ী ঘর বানিয়ে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বেলায়েত হোসেন হাওলাদার জানান, আগে এক সময় এই বলেশ্বর নদের বিভিন্ন স্থানে বেদেদের নৌ বহর দেখা যেত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সেই নৌ বহর আর দেখা যাচ্ছে না। এই এলাকায় তারা পলিথিন দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকছে।

সুনামগঞ্জ থেকে আসা বেদে বহরের মিরাজুল (২৫) জানান, আমাদের অবস্থা আর আগের মত নাই। বেদেদের যে ব্যবসা ছিল তা এখন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। আগের মত এখন আর গ্রামে ব্যবসা হচ্ছে না। সাপও পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের চিকিত্সা গ্রাম্য লোকজন আগের মত নেয় না। তাই বাধ্য হয়েই পেশা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। ঢাকায় অধিকাংশ বেদেরা বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে। আগে সাপ খেলা দেখিয়ে অনেক টাকা পাওয়া যেত। কিন্তু এখনতো সাপই পাওয়া যাচ্ছে না।

বেদে বিল্টু (৩৫) জানান, আগে সাপ খেলা দেখাতাম। এখন আর আগের মত সাপ নাই, তাই বানরের খেলা দেখাই। আর টুকিটাকি কবিরাজি করে যা পাই তা দিয়ে কোনমতে সংসার চলে। বিক্রমপুর থেকে আসা বেদে সর্দার ছাত্তার মোল্লা (৫৫) বলেন, নৌকা তৈরির কাঠের অভাবেই দিন দিন নৌকার ব্যবহার কমে যাচ্ছে। আগের মত নদী-নালা না থাকায় এবং আর রাস্তা-ঘাট ভালো হয়ে যাওয়ায় স্থল পথে যাতায়াত ও বসবাস করতে হচ্ছে।
The Daily Ittefaq

No comments:

Post a Comment