Tuesday, August 5, 2014

জ্যোতি বসু শতবার্ষিকী সমাপ্তি সভায় ইয়েচুরি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অকংগ্রেসি, ধর্মনিরপেক্ষ সব দল ঐক্যবদ্ধ হোক

জ্যোতি বসু শতবার্ষিকী সমাপ্তি সভায় ইয়েচুরি
সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অকংগ্রেসি, ধর্মনিরপেক্ষ সব দল ঐক্যবদ্ধ হোক

আজকালের প্রতিবেদন: এখন দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় বিপদ আর এস এস এবং বি জে পি৷‌ তারা এখন নোংরা সাম্প্রদায়িক ভোট রাজনীতিকে প্রকট করে তুলছে৷‌ আর এই বিপদকে ডেকে এনেছে কংগ্রেস৷‌ আমরা বামপম্হীরা দেশের মানুষকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে কংগ্রেস ছাড়া দেশের সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ দলকে সঙ্গে নিয়ে ইস্যুভিত্তিক লড়াই জারি রাখতে চাইছি সংসদের ভেতরে ও বাইরে৷‌ সোমবার জ্যোতি বসু জন্মশতবার্ষিকীর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এসে এ কথা বলেন সি পি এম পলিটব্যুরো সদস্য সীতারাম ইয়েচুরি৷‌ জ্যোতি বসুর জীবন ও কাজ থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন ইয়েচুরি বলেছেন, ১৯৭২ সালের সঙ্কটের দিনে এই বাংলার শ্রমিক, কৃষক পথ দেখিয়েছিল গোটা দেশকে৷‌ নেতৃত্বে ছিলেন জ্যোতি বসু৷‌ এখন যে ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে এগোচ্ছে দেশ, তা থেকে উত্তরণের জন্যও দেশ তাকিয়ে আছে বাংলার শ্রমিক, কৃষকের দিকে৷‌ আপনারা পথ দেখান৷‌ আর সেটাই হবে মহান জননেতা জ্যোতি বসুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো৷‌ উল্লেখ্য, সি পি এম পার্টি যেমন জ্যোতি বসুর জন্মশতবর্ষ পালন করেছে, তেমনি শ্রমিক সংগঠন সিটু-ও এক বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান পালন করছে৷‌ এদিন বিধাননগরে ই জেডসি সি-তে ছিল সমাপ্তি অনুষ্ঠান৷‌ জ্যোতি বসু তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন শ্রমিক সংগঠন দিয়েই৷‌ শেষ দিন পর্যম্ত তিনি ছিলেন সিটু-র সর্বভারতীয় নেতা৷‌ অনুষ্ঠানের শুরুতে সে কথা স্মরণ করে সিটু রাজ্য সম্পাদক দীপক দাশগুপ্ত বলেন, তাঁর শিক্ষাকে মানুষের সামনে তুলে ধরতেই ১ বছর ধরে এই অনুষ্ঠান আমরা করছি৷‌ সংগঠনের রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী জ্যোতি বসুর স্মৃতিচারণ করে বলেন, সমাজ পরিবর্তনের দাবিতে লাগাতার সরব একমাত্র বামপম্হীরাই৷‌ নয়া উদারনীতির হাত ধরে শ্রেণী বিন্যাসের বদল ঘটেছে৷‌ অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে৷‌ ফলে ট্রেড ইউনিয়নের গুরুত্ব বেড়েছে৷‌ এক অচেনা পথে বামপম্হীদের চলতে গিয়ে সাফল্যের সঙ্গে কিছু ভুলও হয়েছে৷‌ জ্যোতি বসুই আমাদের শিখিয়েছেন, ভুল চেপে রাখা যাবে না৷‌ ত্রুটিমুক্ত হতে হবে৷‌ তিনি বলেন, ’৭২ সালে জ্যোতি বসু বলেছিলেন, যতই খুন করা হোক, অত্যাচার হোক, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যম্ত এগিয়ে যাব৷‌ মাথানত করব না৷‌ আজকের সন্ত্রাসের পরিস্হিতিতে জ্যোতি বসুর শিক্ষাই হোক পাথেয়৷‌ এদিন সি পি এম পলিটব্যুরো সদস্য সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, আধুনিক ভারত নির্মাণের লড়াইয়ে জ্যোতি বসুর অবদান ভবিষ্যতেও আলোচনা হবে৷‌ ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টার হয়ে ফিরে সরাসরি যোগ দেন শ্রমিক রাজনীতিতে৷‌ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-ই ছিল তাঁর লক্ষ্য৷‌ যা জীবনের শেষ দিন পর্যম্ত চালিয়ে গেছেন৷‌ মৃত্যুশয্যায় আমি তাঁকে মোবাইল ফোন থেকে পিট সিগারের গাওয়া ইন্টারন্যাশনাল শুনিয়েছিলাম৷‌ খুব খুশি হয়েছিলেন৷‌ গোটা জীবনে তিনি যা কিছু করেছেন তার মূল কথাই হল, মানবমুক্তি৷‌ জাতীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে এদিন সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, রাজ্যসভায় এদিন বি জে পি সরকার বিমা নিয়ে বিল পেশ করেছে৷‌ বিদেশি লগ্নি ৩৬ থেকে ৪৯ শতাংশ করার জন্য৷‌ এই বিল আগে কংগ্রেস এনেছিল৷‌ আমরা বামপম্হীরা বিরোধিতা করি৷‌ সেদিন এই বি জে পি আমাদের সঙ্গে বিরোধিতা করেছিল৷‌ আজ বি জে পি সেই বিল এনেছে৷‌ আমরা বামপম্হীরা ফের বিরোধিতা করেছি ৷‌ আর ডানদিকে বসে আমাদের বিরোধিতায় সুর মিলিয়ে সমর্থন করেছে কংগ্রেস৷‌ একমাত্র বামপম্হীরাই আছে, জনস্বার্থে যাদের অবস্হান বদলায় না৷‌ সুদিনের সরকার দুদিন সময় নিয়েছে ছোট দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করবে বলে৷‌ সমঝোতা মানে কী, তা মানুষ জানে৷‌ জ্যোতি বসুর দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে আসবেও না, পারবেও না৷‌ এই যে অবস্হান তা আমরা বসুর কাছেই শিখেছি৷‌ জ্যোতি বসু বলতেন রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ চাই৷‌ বেতন, বোনাস, দাবি-দাওয়া নিয়ে লড়াই করতে শ্রমিক লালঝান্ডার কাছে আসে৷‌ কিন্তু বিভ্রাম্ত হয়ে ভোট দেয় ডানপম্হী শাসকদলকে৷‌ এজন্যই বসু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কথা বলতেন৷‌ ইয়েচুরি বলেন, বিমা ক্ষেত্রে কয়েক কোটি স্বাক্ষর সংগ্রহ করলেন কর্মীরা৷‌ তারপর বি জে পি ক্ষমতায়৷‌ বিমা নিয়ে বিল আনছে! এদিন জ্যোতি বসুকে উদ্ধৃত করে ইয়েচুরি বলেন, যতই খারাপ সময় আসুক, উত্তরণের পথ আছেই৷‌ দমন শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই যদি আম্তরিক হয়, তাহলে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হবেই৷‌ বদলে যাওয়া পরিস্হিতি বিচার করতে হবে৷‌ এটা যাঁরা করেন না, তাঁরা মার্কসবাদী নন৷‌ তিনি বলেন, পরিকল্পনা করে বিপ্লব আসতে পারে না৷‌ জনগণকে নেতৃত্বে আনা, তাদের ঐক্যবদ্ধ করাই কাজ৷‌ এই কাজের মাধ্যমেই সাফল্য এনেছিলেন জ্যোতি বসু৷‌ বলেন, বসু যা শিখিয়েছেন তাই দিয়ে বলি, ভবিষ্যৎ আমাদেরই৷‌ কারণ মার্কসবাদের ভিত্তি হল বিজ্ঞান৷‌ বক্তৃতা শেষে ইয়েচুরি বলেন, ভোটের আগের পরিস্হিতি আর এখনকার পরিস্হিতি পৃথক৷‌ তিনি বলেন, তখন কংগ্রেসকে পরাস্ত করা ও বি জে পি-কে রুখে দেওয়াই ছিল লক্ষ্য৷‌ কংগ্রেসের ব্যর্থতায় এখন দেশের ক্ষমতায় আর এস এস, বি জে পি৷‌ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িকতা প্রকট হচ্ছে৷‌ দেশকে বাঁচাতে আমরা তাই বলছি, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ সমস্ত দল সংসদের ভেতরে-বাইরে ঐক্যবদ্ধ হোন৷‌ দেশের বিপদে রুখে দাঁড়ান৷‌

No comments:

Post a Comment