ইরাকে সিরিয়ার বিমান হামলা
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৪
ইরাকের জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সিরিয়া। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি বিবিসিকে এ কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মালিকি এ কথা জানান। তিনি বলেন, সিরিয়ার জঙ্গি বিমান মঙ্গলবার ইরাকের সীমান্ত শহর আল কাইমের কাছে জঙ্গি আস্তানাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
মালিকি বলেন, তিনি এ হামলা চালানোর অনুরোধ জানাননি। তবে দ্য ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভ্যান্ট-এর (আইএসআইএল) বিরুদ্ধে যে কোনো হামলাকেই তিনি স্বাগত জানাবেন।
আইএসআইএল ও এর মিত্র সুন্নি মুসলিমরা এ মাসে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলসহ বিশাল একটি অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।
ইরাক সরকার দেশের উত্তর ও পশ্চিমে জঙ্গিদের অগ্রযাত্রা রুখতে লড়াই করে যাচ্ছে। ইরান থেকে সহায়তাও পাচ্ছে তারা। ইরাক সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রও জোর দিয়ে বলেছে, ইরাকের নিজস্ব বাহিনীই কেবল জঙ্গিদের পরাজিত করতে পারে।
জাতীয় ঐক্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মালিকি নতুন একটি সরকার গড়ার চেষ্টা নেবেন। আগামী সপ্তাহে বাগদাদে পার্লামেন্টের অধিবেশনের সময় এ চেষ্টা চালাবেন তিনি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে বাগদাদে গেছেন। তিনি বলেন, ইরাকের বন্ধু দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য মনে করে এ মুহূর্তে একটি ব্যাপকভিত্তিক সরকার গড়াই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সব চেয়ে জরুরি।
বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি ঘিরে ফেলেছে
ইরাকের সুন্নি যোদ্ধারা দেশটির বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি দখলের জন্য হামলা চালিয়েছে। আইএসআইএল ও তাদের সহযোগী সুন্নি উপজাতীয়রা বুধবার প্রত্যুষ বাগদাদের ৯০ কিলোমিটার উত্তরে ইয়াতরির শহরের বালাদ বিমান ঘাঁটি দখলের জন্য হামলা চালায়। তারা বিমান ঘাঁটির তিনদিক ঘিরে রেখেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধ দখলে যাচ্ছে সুন্নি যোদ্ধারা
ইরাকের সুন্নি যোদ্ধারা দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধ, হাদিথা ড্যাম, দখলে এগিয়ে যাচ্ছে বলে বুধবার জানিয়েছেন ইরাকি নিরাপত্তা কর্মীরা। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
দ্য ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া বা আইসিস নামে পরিচিতি বিদ্রোহীরা বাগদাদের ১২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ইউফ্রেটিস নদীর ওপর নির্মিত বাঁধটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সুন্নি যোদ্ধারা উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাঁধটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যোদ্ধারা ইতিমধ্যেই হাদিথা বাঁধের পূর্ব দিকে বুরওয়ানা শহরে পৌঁছে গেছেন। সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা সুন্নি যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঐকমত্যে সরকারে সম্মত নন মালিকি
ইরাকে সুন্নি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন মোকাবিলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়কে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি। তিন বলেন, এ ধরনের সরকার ইরাকের সংবিধানবিরোধী এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
ইসলামপন্থী জঙ্গি দল আইসিস দেশের একটা বড় অংশের দখল দেয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর ওপর তাদের চাপ বাড়িয়েছে। তবে মালিকি তার ভাষণে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি তার পছন্দমতো সরকার গঠন করবেন যেটা সংবিধানের আওতায় তারা অধিকার। মালিকি আগামী ১ জুলায়ের মধ্যে একটি নতুন সরকার গঠনেরও প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন।
এদিকে ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা এবং মাহাদি আর্মির প্রধান মুক্তাদা আল-সদর আইএসআইএল জঙ্গিদের মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যের জরুরি সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার এক টেলিভিশন বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমাদের একটি নতুন জাতীয় সরকার গঠন করা দরকার। যে সরকারে গোত্রভিত্তিক কোনো কোটা থাকবে না। কিন্তু সবার অংশগ্রহণ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমি সব ইরাকির প্রতি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। ইরাক সরকারকে সুন্নিদের বৈধ দাবিগুলো মেনে নিতে হবে এবং তাদের বাইরে রাখা বন্ধ করতে হবে- কারণ তারা সংখ্যালঘু।
১৮ দিনে নিহত এক হাজার
জুনের শুরুতে দ্য ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) ও এর মিত্রদলগুলো ইরাকজুড়ে আগ্রাসী তৎপরতা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দৈনিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন জারিকের উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়া জানায়, ইরাকে জাতিসংঘের অ্যাসিসটেন্স মিশন (ইউএনএমআই) জানিয়েছে, জুনে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। নিনেভে, দিয়ালা এবং সালাহ আল-দিন প্রদেশে অন্তত ৭৫৭ মানুষ নিহত এবং ৬০০ জন আহত হয়েছে বলে জানান জারিক। পূর্ব ইরাকে ৫ থেকে ২২ জুনের মধ্যে ইউনেএএমআইয়ের প্রকাশিত নিহতের সর্বশেষ সংখ্যা উল্লেখ করে জারিক এ কথা বলেন।
- See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/06/27/116052#sthash.UT1Ch6XE.dpufমালিকি বলেন, তিনি এ হামলা চালানোর অনুরোধ জানাননি। তবে দ্য ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভ্যান্ট-এর (আইএসআইএল) বিরুদ্ধে যে কোনো হামলাকেই তিনি স্বাগত জানাবেন।
আইএসআইএল ও এর মিত্র সুন্নি মুসলিমরা এ মাসে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলসহ বিশাল একটি অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।
ইরাক সরকার দেশের উত্তর ও পশ্চিমে জঙ্গিদের অগ্রযাত্রা রুখতে লড়াই করে যাচ্ছে। ইরান থেকে সহায়তাও পাচ্ছে তারা। ইরাক সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রও জোর দিয়ে বলেছে, ইরাকের নিজস্ব বাহিনীই কেবল জঙ্গিদের পরাজিত করতে পারে।
জাতীয় ঐক্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মালিকি নতুন একটি সরকার গড়ার চেষ্টা নেবেন। আগামী সপ্তাহে বাগদাদে পার্লামেন্টের অধিবেশনের সময় এ চেষ্টা চালাবেন তিনি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে বাগদাদে গেছেন। তিনি বলেন, ইরাকের বন্ধু দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য মনে করে এ মুহূর্তে একটি ব্যাপকভিত্তিক সরকার গড়াই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সব চেয়ে জরুরি।
বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি ঘিরে ফেলেছে
ইরাকের সুন্নি যোদ্ধারা দেশটির বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি দখলের জন্য হামলা চালিয়েছে। আইএসআইএল ও তাদের সহযোগী সুন্নি উপজাতীয়রা বুধবার প্রত্যুষ বাগদাদের ৯০ কিলোমিটার উত্তরে ইয়াতরির শহরের বালাদ বিমান ঘাঁটি দখলের জন্য হামলা চালায়। তারা বিমান ঘাঁটির তিনদিক ঘিরে রেখেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধ দখলে যাচ্ছে সুন্নি যোদ্ধারা
ইরাকের সুন্নি যোদ্ধারা দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধ, হাদিথা ড্যাম, দখলে এগিয়ে যাচ্ছে বলে বুধবার জানিয়েছেন ইরাকি নিরাপত্তা কর্মীরা। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
দ্য ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া বা আইসিস নামে পরিচিতি বিদ্রোহীরা বাগদাদের ১২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ইউফ্রেটিস নদীর ওপর নির্মিত বাঁধটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সুন্নি যোদ্ধারা উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাঁধটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যোদ্ধারা ইতিমধ্যেই হাদিথা বাঁধের পূর্ব দিকে বুরওয়ানা শহরে পৌঁছে গেছেন। সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা সুন্নি যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঐকমত্যে সরকারে সম্মত নন মালিকি
ইরাকে সুন্নি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন মোকাবিলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়কে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি। তিন বলেন, এ ধরনের সরকার ইরাকের সংবিধানবিরোধী এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
ইসলামপন্থী জঙ্গি দল আইসিস দেশের একটা বড় অংশের দখল দেয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর ওপর তাদের চাপ বাড়িয়েছে। তবে মালিকি তার ভাষণে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি তার পছন্দমতো সরকার গঠন করবেন যেটা সংবিধানের আওতায় তারা অধিকার। মালিকি আগামী ১ জুলায়ের মধ্যে একটি নতুন সরকার গঠনেরও প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন।
এদিকে ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা এবং মাহাদি আর্মির প্রধান মুক্তাদা আল-সদর আইএসআইএল জঙ্গিদের মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যের জরুরি সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার এক টেলিভিশন বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমাদের একটি নতুন জাতীয় সরকার গঠন করা দরকার। যে সরকারে গোত্রভিত্তিক কোনো কোটা থাকবে না। কিন্তু সবার অংশগ্রহণ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমি সব ইরাকির প্রতি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। ইরাক সরকারকে সুন্নিদের বৈধ দাবিগুলো মেনে নিতে হবে এবং তাদের বাইরে রাখা বন্ধ করতে হবে- কারণ তারা সংখ্যালঘু।
১৮ দিনে নিহত এক হাজার
জুনের শুরুতে দ্য ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) ও এর মিত্রদলগুলো ইরাকজুড়ে আগ্রাসী তৎপরতা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দৈনিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন জারিকের উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়া জানায়, ইরাকে জাতিসংঘের অ্যাসিসটেন্স মিশন (ইউএনএমআই) জানিয়েছে, জুনে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। নিনেভে, দিয়ালা এবং সালাহ আল-দিন প্রদেশে অন্তত ৭৫৭ মানুষ নিহত এবং ৬০০ জন আহত হয়েছে বলে জানান জারিক। পূর্ব ইরাকে ৫ থেকে ২২ জুনের মধ্যে ইউনেএএমআইয়ের প্রকাশিত নিহতের সর্বশেষ সংখ্যা উল্লেখ করে জারিক এ কথা বলেন।
No comments:
Post a Comment