প্রয়োজন গিলেছে উপেন্দ্রনাথ, কেদারনাথের স্মৃতি
ঝিলম করঞ্জাই
ধ্বংসের মুখে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী, কেদারনাথ দাসের স্মৃতি!
নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সেন্ট্রাল হলের গবেষণাগারে কালাজ্বরের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন উপেন্দ্রনাথ৷ তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ভবনটিতে যথেচ্ছ ভাঙাভাঙি করা হচ্ছে৷ এতে হারিয়ে গিয়েছে তাঁর গবেষণাগারটি৷ একই দশা চিকিত্সা বিজ্ঞানে বিপ্লব আনা আর এক বাঙালি কেদারনাথ দাসের ব্যবহূত সেন্ট্রাল হলের ঘরটির৷ বেঙ্গল ফরসেপ আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন যিনি, তাঁর স্মৃতিঘেরা ঘরটির অস্তিত্বই লোপ পেয়েছে৷ নীলরতন সরকারে এই সব কাজই করা হচ্ছে হেরিটেজ কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে৷ তার চেয়েও দুঃখের বিষয় হল মেডিক্যাল কলেজের বর্তমান কর্তৃপক্ষ এই হেরিটেজ ভবনটির ঐতিহ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহালই নন৷
কী হচ্ছে হেরিটেজ ভবন ভেঙে?
প্রখ্যাত বাঙালি চিকিত্সা বিজ্ঞানী, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কেদারনাথ দাসের ব্যবহূত ঘরটি হারিয়ে গিয়েছে যথেচ্ছ ভাঙাভাঙিতে৷ সেখানে গড়া হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্স৷ কাজ প্রায় শেষের মুখে, শীঘ্রই চালু হবে সেটি৷ হেরিটেজ ভবনটির দেওয়াল ভাঙা হয়েছে কোনও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই৷ দেওয়াল ভেদ করে ভবনের দু'দিকে বসানো হয়েছে উড়ালব্রিজ৷ এটির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের কর্তারা পরিষ্কারই বলছেন, এ ভাবে ভাঙাভাঙি করাটা পুরোপুরি বেআইনি৷ পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের প্রজেক্ট চেয়ারম্যান পার্থরঞ্জন দেব বলেন, 'অত্যন্ত আশঙ্কার কথা৷ এটা মেনে নেওয়া যায় না৷ কী ভাবে আইন মেনে উন্নয়নের কাজ করা যায়, সে সম্পর্কে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কিংবা পূর্ত দপ্তর আমাদের কোনও পরামর্শই নেয়নি৷'
এনআরএসের অধ্যক্ষা মঞ্জু মুখোপাধ্যায় অবশ্য বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন বলেই দায় এড়িয়েছেন৷ তিনি বলেন, 'আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি৷ বহু বছর আগেই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়৷ সে মোতাবেক কাজ হয়েছে৷ আমি দায়িত্ব নিয়ে খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম অপারেশন থিয়েটার তৈরির কাজ কতটা এগিয়েছে৷ গিয়ে দেখি, কাজ থমকে রয়েছে৷ ওটা হেরিটেজ বিল্ডিং, তা আমার জানা ছিল না৷' অপারেশন কমপ্লেক্সটি তৈরি করছে হাসপাতালের পূর্ত দপ্তর৷ এনআরএসে ওই দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বনাথ হালদার অবশ্য এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি৷
কেন সেন্ট্রাল হলকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছিল কমিশন?
বাড়িটি আসল নাম ছিল শিয়ালদহ মার্কেট৷ ১৮৬৭ সালের ১ জুলাই সংক্রামক রোগ ও দরিদ্র রোগীদের চিকিত্সার জন্য তৈরি হয় শিয়ালদহ মিউনিসিপ্যাল হাসপাতাল৷ ১৮৭৪ সালে সেটির নাম পাল্টে হয় ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল কলেজ৷ এখানেই প্রথম বাংলা ভাষায় চিকিত্সাশাস্ত্র পড়ানো শুরু হয়৷ স্বাধীনতার পর বাড়িটির নতুন নামকরণ হয় সেন্ট্রাল হল৷ ক্যাম্পবেল হাসপাতালের এই ভবনে গবেষণা করেই ১৯২১ সালে কালাজ্বরের প্রতিষেধক 'ইউরিয়া স্টিবামাইন' আবিষ্কার করেন উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী৷ এই ভবনেরই একটি ঘরে গবেষণা করেছিলেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কেদারনাথ দাস৷ সেই সময় ভারতে প্রসবের সময় আমাদানি করা বিলিতি ফরসেপ ব্যবহার করা হত৷ এতে বহু শিশু মারা যেত৷ সেই প্রেক্ষাপটেই আবিষ্কার হয় যুগান্তকারী বেঙ্গল ফরসেপ বা দাস ফরসেপ-এর৷
হেরিটেজ বিল্ডিং ভাঙা নিয়ে কী বলছেন প্রাক্তনীরা?
প্রাক্তনীদের একাংশের দাবি, তাঁদের আন্দোলনে ২০০৭ সালে জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন আইনের ২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সেন্ট্রাল হলকে সংরক্ষিত এবং ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়৷ আন্দোলনকারী প্রাক্তনীরা সে সময় নিজেরা একটি হেরিটেজ সাব কমিটিও তৈরি করেছিলেন৷ সেই কমিটি আহ্বায়ক স্বপন জানা বর্তমানে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত৷ তিনি বলেন, 'আমাদের জানানো হয়েছিল, বাইরের কাঠামোর পরিবর্তন করা হবে না৷ ভিতরে স্যার কেদারনাথ দাসের আবক্ষ মূর্তি রক্ষিত হবে৷ উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর পরীক্ষাগারও রক্ষা করা হবে৷ সেখানে মিউজিয়াম তৈরি হবে৷ সেই রূপরেখা মেনে কাজ হচ্ছে বলেই জানি৷ বেআইনি কিছু হলে তা খোঁজ নিয়ে দেখব৷'
ধ্বংসের মুখে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী, কেদারনাথ দাসের স্মৃতি!
নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সেন্ট্রাল হলের গবেষণাগারে কালাজ্বরের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন উপেন্দ্রনাথ৷ তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ভবনটিতে যথেচ্ছ ভাঙাভাঙি করা হচ্ছে৷ এতে হারিয়ে গিয়েছে তাঁর গবেষণাগারটি৷ একই দশা চিকিত্সা বিজ্ঞানে বিপ্লব আনা আর এক বাঙালি কেদারনাথ দাসের ব্যবহূত সেন্ট্রাল হলের ঘরটির৷ বেঙ্গল ফরসেপ আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন যিনি, তাঁর স্মৃতিঘেরা ঘরটির অস্তিত্বই লোপ পেয়েছে৷ নীলরতন সরকারে এই সব কাজই করা হচ্ছে হেরিটেজ কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে৷ তার চেয়েও দুঃখের বিষয় হল মেডিক্যাল কলেজের বর্তমান কর্তৃপক্ষ এই হেরিটেজ ভবনটির ঐতিহ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহালই নন৷
কী হচ্ছে হেরিটেজ ভবন ভেঙে?
প্রখ্যাত বাঙালি চিকিত্সা বিজ্ঞানী, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কেদারনাথ দাসের ব্যবহূত ঘরটি হারিয়ে গিয়েছে যথেচ্ছ ভাঙাভাঙিতে৷ সেখানে গড়া হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্স৷ কাজ প্রায় শেষের মুখে, শীঘ্রই চালু হবে সেটি৷ হেরিটেজ ভবনটির দেওয়াল ভাঙা হয়েছে কোনও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই৷ দেওয়াল ভেদ করে ভবনের দু'দিকে বসানো হয়েছে উড়ালব্রিজ৷ এটির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের কর্তারা পরিষ্কারই বলছেন, এ ভাবে ভাঙাভাঙি করাটা পুরোপুরি বেআইনি৷ পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের প্রজেক্ট চেয়ারম্যান পার্থরঞ্জন দেব বলেন, 'অত্যন্ত আশঙ্কার কথা৷ এটা মেনে নেওয়া যায় না৷ কী ভাবে আইন মেনে উন্নয়নের কাজ করা যায়, সে সম্পর্কে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কিংবা পূর্ত দপ্তর আমাদের কোনও পরামর্শই নেয়নি৷'
এনআরএসের অধ্যক্ষা মঞ্জু মুখোপাধ্যায় অবশ্য বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন বলেই দায় এড়িয়েছেন৷ তিনি বলেন, 'আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি৷ বহু বছর আগেই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়৷ সে মোতাবেক কাজ হয়েছে৷ আমি দায়িত্ব নিয়ে খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম অপারেশন থিয়েটার তৈরির কাজ কতটা এগিয়েছে৷ গিয়ে দেখি, কাজ থমকে রয়েছে৷ ওটা হেরিটেজ বিল্ডিং, তা আমার জানা ছিল না৷' অপারেশন কমপ্লেক্সটি তৈরি করছে হাসপাতালের পূর্ত দপ্তর৷ এনআরএসে ওই দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বনাথ হালদার অবশ্য এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি৷
কেন সেন্ট্রাল হলকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছিল কমিশন?
বাড়িটি আসল নাম ছিল শিয়ালদহ মার্কেট৷ ১৮৬৭ সালের ১ জুলাই সংক্রামক রোগ ও দরিদ্র রোগীদের চিকিত্সার জন্য তৈরি হয় শিয়ালদহ মিউনিসিপ্যাল হাসপাতাল৷ ১৮৭৪ সালে সেটির নাম পাল্টে হয় ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল কলেজ৷ এখানেই প্রথম বাংলা ভাষায় চিকিত্সাশাস্ত্র পড়ানো শুরু হয়৷ স্বাধীনতার পর বাড়িটির নতুন নামকরণ হয় সেন্ট্রাল হল৷ ক্যাম্পবেল হাসপাতালের এই ভবনে গবেষণা করেই ১৯২১ সালে কালাজ্বরের প্রতিষেধক 'ইউরিয়া স্টিবামাইন' আবিষ্কার করেন উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী৷ এই ভবনেরই একটি ঘরে গবেষণা করেছিলেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কেদারনাথ দাস৷ সেই সময় ভারতে প্রসবের সময় আমাদানি করা বিলিতি ফরসেপ ব্যবহার করা হত৷ এতে বহু শিশু মারা যেত৷ সেই প্রেক্ষাপটেই আবিষ্কার হয় যুগান্তকারী বেঙ্গল ফরসেপ বা দাস ফরসেপ-এর৷
হেরিটেজ বিল্ডিং ভাঙা নিয়ে কী বলছেন প্রাক্তনীরা?
প্রাক্তনীদের একাংশের দাবি, তাঁদের আন্দোলনে ২০০৭ সালে জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন আইনের ২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সেন্ট্রাল হলকে সংরক্ষিত এবং ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়৷ আন্দোলনকারী প্রাক্তনীরা সে সময় নিজেরা একটি হেরিটেজ সাব কমিটিও তৈরি করেছিলেন৷ সেই কমিটি আহ্বায়ক স্বপন জানা বর্তমানে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত৷ তিনি বলেন, 'আমাদের জানানো হয়েছিল, বাইরের কাঠামোর পরিবর্তন করা হবে না৷ ভিতরে স্যার কেদারনাথ দাসের আবক্ষ মূর্তি রক্ষিত হবে৷ উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর পরীক্ষাগারও রক্ষা করা হবে৷ সেখানে মিউজিয়াম তৈরি হবে৷ সেই রূপরেখা মেনে কাজ হচ্ছে বলেই জানি৷ বেআইনি কিছু হলে তা খোঁজ নিয়ে দেখব৷'
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/upendra-nath-brahmachari-and-kedar-nath-das-room-dismantling-in-NRS-central-hall/articleshow/37232480.cms
No comments:
Post a Comment