Wednesday, June 25, 2014

দোকানে ঢুকে বিক্রেতাকে গুলি

দোকানে ঢুকে বিক্রেতাকে গুলি

gun
এই সময়: তখন সবে মাংসের দোকান খুলেছেন আসরফ আলম৷ কোনও খদ্দের আসেনি৷ কথা বলছিলেন এক কর্মীর সঙ্গে৷ সেই সময় দোকানে আসে এক যুবক৷ কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুব কাছ থেকে আসরফকে লক্ষ করে গুলি চালায় সে৷ গুলি লাগে তাঁর পায়ে৷ গুলি চালিয়েই চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতী৷

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে এন্টালির সৈয়দ আহমেদ রোডে৷

আসরফ আলম ওরফে বাবলুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ সরফু নামে স্থানীয় এক দুষ্কৃতী এই হামলা চালিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি সরফু আসরফের কাছ থেকে দু'লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিল৷ তিনি দিতে রাজি না হওয়াতেই এই হামলা৷ সরফু তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্যেই হামলা চালিয়েছে৷ এ দিন রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি৷ পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সরফু এবং আসরফ দু'জনই গোয়েন্দাদের সোর্স হিসেবে কাজ করত৷ সরফুর তোলাবাজির পিছনে পুলিশের একাংশের মদত আছে বলেও অভিযোগ৷ তবে লালবাজারের কর্তারা এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি৷

আসরফের দোকানের কর্মী মহম্মদ সাত্তার বলেন, 'সবে দোকান খুলেছি৷ তখনই এক যুবক দু'টি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢুকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়৷ হঠাত্‍ গুলি চলায় কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারেনি৷ ভয়ে কেউ কিছু বলতেও পারেনি৷' দোকান থেকে কিছু দূরেই আসরফের বাড়ি৷ তাঁর বোন সন্নু বেগমের বক্তব্য, 'বেশ কিছুদিন ধরেই দাদাকে কেউ হুমকি দিচ্ছিল বলে শুনেছি৷ তবে দাদা এ নিয়ে কিছু বলেনি৷ খবর পেয়ে আমরা দোকানে ছুটে যাই৷ ততক্ষণে অভিযুক্ত পালিয়ে গিয়েছে৷' আর এক স্থানীয় বাসিন্দা মীর আসরফ আলির অভিযোগ, 'যে গুলি চালিয়েছে, সেই সরফু এলাকার কুখ্যাত তোলাবাজ৷ একবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল৷ আবার সে এলাকায় দাপট দেখাচ্ছে৷ অবিলম্বে সরফু ও তার শাগরেদদের গ্রেপ্তার করতে হবে৷' পুলিশ সূত্রের খবর, সরফুর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, লুঠপাট সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে৷ ২০১১ সালে একটি খুনের ঘটনাতেও তার নাম জড়িয়েছিল৷ সরফুর বাড়ি বেনিয়াপুকুর এলাকায়৷ দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া ছিল সে৷ সম্প্রতি সে আবার এলাকায় ঢুকেছে৷ তার খোঁজে তল্লাশি চলছে৷

No comments:

Post a Comment