আজই শেষ রোনাল্ডোর!
ইশতিয়াক সজীব
প্রকাশ : ২৬ জুন, ২০১৪
নেইমার ও মেসির মতো তিনিও ছিলেন ব্রাজিল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। ছিলেন বলতে হচ্ছে, কারণ বিমানের ফিরতি টিকিট এরই মধ্যে হয়তো কেটে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো! গ্র“পপর্ব থেকে তিন সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ইংল্যান্ড ও ইতালির অভাবনীয় বিদায় দেখেছে ব্রাজিল। এবার দেখবে প্রথম ধ্র“বতারার পতন। অলৌকিক কিছু না ঘটলে রোনাল্ডোর পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে যাচ্ছে আজই। ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় নিজেদের শেষ ম্যাচে ঘানার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। একই সময়ে রেসিফেতে জি-গ্র“পের আরেক ম্যাচে দেখা হবে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের। এই ম্যাচটি ড্র হলে পর্তুগাল-ঘানা ম্যাচটি অর্থহীন হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় পেলেও রোনাল্ডো হয়ে যাবেন হতাশার পোস্টার!
প্রথম দুই ম্যাচে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সংগ্রহ সমান চার পয়েন্ট। পর্তুগাল ও ঘানার ঝুলিতে রয়েছে একটি করে পয়েন্ট। চার দলের মধ্যে গোল ব্যবধানেও সবার পেছনে পর্তুগাল (-৪)। পয়েন্ট সমান হলেও তাদের চেয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে ঘানা (-১)। খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ষোলোর সরণিতে পা রাখতে অনেক সমীকরণ মেলাতে হবে পর্তুগালকে। প্রথম শর্ত, জার্মানি-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচটি ড্র হওয়া চলবে না এবং বিজয়ী দলের জয়ের ব্যবধান হতে হবে বড়। পাশাপাশি পর্তুগালকেও জিততে হবে বিশাল ব্যবধানে। এত সব সমীকরণ মিলিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার দুরাশা করছেন না খোদ রোনাল্ডোই।
অনেকটা একক নৈপুণ্যে নেইমার ও মেসি তাদের দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছে দিলেও ভক্তদের নিদারুণ হতাশ করেছেন রোনাল্ডো। ঝলমলে পারফরম্যান্সের বদলে তিনি শিরোনাম হয়েছেন ইনজুরির কারণে। পর্তুগিজ শিবির থেকে বারবার তাকে শতভাগ ফিট ঘোষণা করা হলেও চোটজর্জর রোনাল্ডো নিজের ছায়া হয়েই আছেন। প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে চার গোল হজমের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হারতে হারতে ড্র করেছে পর্তুগাল। তাতে গাণিতিক সম্ভাবনা বেঁচে থাকলেও অসম্ভবের আশায় বুক না বেঁধে রোনাল্ডোর সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমি কখনোই ভাবিনি আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হব। নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা মেনে নিতে হবে আমাদের। পর্তুগাল গড়পড়তা একটি দল।’
গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ড্র করলেও গ্র“প চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। সেক্ষেত্রে শেষ ষোলোতে তাদের সঙ্গী হবে যুক্তরাষ্ট্র। এই সরল সমীকরণ মেলাতে দুই বন্ধু জোয়াচিম লো ও জুর্গেন ক্লিন্সম্যানের একটি ফোনালাপই যথেষ্ট! জার্মানির ১৯৯০ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ক্লিন্সম্যান। ২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানির কোচ ছিলেন তিনি। তার তৎকালীন সহকারী লোই এখন জার্মানির হট চেয়ারে। আর ক্লিন্সম্যান যুক্তরাষ্ট্রের কোচ। ১৯৮২ বিশ্বকাপের গিজন কেলেংকারির মতো গোপন সমঝোতার মাধ্যমে হাত ধরাধরি করে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার শংকা ও সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন দু’জনই। জয় ছাড়া আর কিছুই ভাবছে না জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র। এ ম্যাচেই আবার ব্রাজিলীয় গ্রেট রোনালদোকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছেন জার্মানির বুড়োখোকা মিরোস্লাভ ক্লোসে।
No comments:
Post a Comment