‘ভালভ’ বিকল হওয়ায় ব্রেক আটকে বিপত্তি মেট্রোয়
তাপসপ্রামাণিক
ব্রেকের গোলযোগের কারণেই সোমবার পার্ক স্ট্রিট এবং ময়দান স্টেশনের মাঝে অন্ধকার সুড়ঙ্গে থমকে দাঁড়িয়েছিল মেট্রো৷ তার জন্য মেরামতির অভাবকেই প্রাথমিক কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় মেট্রোর এয়ার ব্রেকের 'ভালভ' (বি-৫) ঠিকমতো কাজ করছিল না৷ ফলে ব্রেকের 'এয়ার প্রেসার' বা বায়ুচাপ তলানিতে এসে ঠেকে৷ তার জেরেই ট্রেনের চাকায় ব্রেক আটকে যায়৷ রেলের পরিভাষায় যাকে বলে 'ব্রেক বাইন্ডিং'৷ এ ক্ষেত্রে একবার ব্রেক আটকে গেলে তা আর সহজে 'রিলিজ' হয় না৷ ব্রেক পাইপ প্রেসার ৫ কেজি থাকলে তবেই নিউম্যাটিক ভালভ খুলে যায় এবং সব ব্রেক স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করে৷ তার ফলেই ট্রেন চলতে পারে৷ এ ক্ষেত্রে ব্রেক পাইপের প্রেসার ফল করে যাওয়ায় সমস্ত ব্রেক আটকে যায়৷ এই ব্রেক প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে বিশেষ ধরনের ভালভ৷ সেই ভালভ খারাপ হয়ে যাওয়ায় ব্রেক প্রেসার শূন্যতে এসে ঠেকে৷ সেই কারণেই ইমার্জেন্সি ব্রেক লেগে যায়৷ সুড়ঙ্গের মধ্যে তার মেরামতি সম্ভব না হওয়ায় ট্রেনটিকে সামনে অথবা পিছনে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন মোটরম্যানরা৷
এনজিইএফের তৈরি যে পুরোনো রেকটি (এন৬৮) সুড়ঙ্গে আটকে গিয়েছিল, সেটি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার মঙ্গলবার বিকালে নোয়াপাড়া কারশেডে যান৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেট্রোর উচ্চপদস্থ কর্তারা৷ পরে বিকাল ৪টে ৬ মিনিটে সেই রেকটি দমদম থেকে যাত্রীদের নিয়ে কবি সুভাষের উদ্দেশে রওনা দেয়৷ তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে মেট্রোর তরফে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি৷
মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র জানিয়েছেন, ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল এবং সিগন্যাল-টেলিকম বিভাগের তিন শীর্ষ আধিকারিককে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে৷ তারা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে৷ সেই তদন্ত রিপোর্ট আসতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে৷
মেট্রো সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনের চালক ঘটনার পর উঁচু মহলে যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতেও ব্রেক বাইন্ডিংয়ের কথা বলা হয়েছে৷ মেট্রো কর্তারাও মনে করছেন, দুর্ঘটনার জন্য মূলত ব্রেকের যান্ত্রিক ত্রুটিই দায়ী৷ ব্রেক বিকল হওয়ার জন্য আবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেই দায়ী করছেন মোটরম্যানরা৷ একাধিক মোটরম্যান এ দিন জানিয়েছেন, ব্রেক বাইন্ডিংয়ের ঘটনা মেট্রোর এখন রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্টেশনে ঢোকার মুখে ব্রেকের ব্যবহার বেশি হয় বলে সেখানেই ব্রেক বাইন্ডিংয়ের ঘটনা ঘটে৷
যাত্রী ভর্তি নন-এসি রেক সুড়ঙ্গে আটকে যাওয়ার পর উদ্ধার কাজে বিলম্বের যে অভিযোগ উঠেছে, তা উড়িয়ে দিচ্ছেন মেট্রো কর্তারা৷ তাঁদের দাবি, খবর পাওয়ার পরই জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার কাজ শুরু হয়৷ যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়৷ তার ফলেই ট্রেনের আলো নিভে যায় এবং ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়৷ সুড়ঙ্গেও অন্ধকার নেমে আসে৷ ট্রেন আটকে যাওয়ার পরই পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে মোটরম্যান যাত্রীদের আশ্বস্ত করেছিলেন৷ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রতিটি মোটরম্যানের কেবিনে রেকর্ড করা ক্যাসেট থাকে৷ সেটিও বার বার বাজানো হয়৷ তা সত্ত্বেও কিছু যাত্রী ভয় এবং উদ্বেগ থেকে ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ ট্রেন থেকে যাত্রীদের উদ্ধারের সময় চিকিত্সক, স্ট্রেচার, অক্সিজেন মাস্ক, হুইল চেয়ার নিয়ে হাজির ছিলেন মেট্রো কর্মীরা৷ যদিও মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, মোটরম্যান খবর দেওয়ার পরই ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিকের পরামর্শে আচমকা বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়৷ নিয়ম অনুসারে, পাওয়ার ব্লক নেওয়ার আগে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে যাত্রীদের আগাম জানিয়ে রাখতে হয়৷ কিন্ত্ত সোমবার তা করা হয়নি৷
ব্রেকের গোলযোগের কারণেই সোমবার পার্ক স্ট্রিট এবং ময়দান স্টেশনের মাঝে অন্ধকার সুড়ঙ্গে থমকে দাঁড়িয়েছিল মেট্রো৷ তার জন্য মেরামতির অভাবকেই প্রাথমিক কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় মেট্রোর এয়ার ব্রেকের 'ভালভ' (বি-৫) ঠিকমতো কাজ করছিল না৷ ফলে ব্রেকের 'এয়ার প্রেসার' বা বায়ুচাপ তলানিতে এসে ঠেকে৷ তার জেরেই ট্রেনের চাকায় ব্রেক আটকে যায়৷ রেলের পরিভাষায় যাকে বলে 'ব্রেক বাইন্ডিং'৷ এ ক্ষেত্রে একবার ব্রেক আটকে গেলে তা আর সহজে 'রিলিজ' হয় না৷ ব্রেক পাইপ প্রেসার ৫ কেজি থাকলে তবেই নিউম্যাটিক ভালভ খুলে যায় এবং সব ব্রেক স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করে৷ তার ফলেই ট্রেন চলতে পারে৷ এ ক্ষেত্রে ব্রেক পাইপের প্রেসার ফল করে যাওয়ায় সমস্ত ব্রেক আটকে যায়৷ এই ব্রেক প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে বিশেষ ধরনের ভালভ৷ সেই ভালভ খারাপ হয়ে যাওয়ায় ব্রেক প্রেসার শূন্যতে এসে ঠেকে৷ সেই কারণেই ইমার্জেন্সি ব্রেক লেগে যায়৷ সুড়ঙ্গের মধ্যে তার মেরামতি সম্ভব না হওয়ায় ট্রেনটিকে সামনে অথবা পিছনে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন মোটরম্যানরা৷
এনজিইএফের তৈরি যে পুরোনো রেকটি (এন৬৮) সুড়ঙ্গে আটকে গিয়েছিল, সেটি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার মঙ্গলবার বিকালে নোয়াপাড়া কারশেডে যান৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেট্রোর উচ্চপদস্থ কর্তারা৷ পরে বিকাল ৪টে ৬ মিনিটে সেই রেকটি দমদম থেকে যাত্রীদের নিয়ে কবি সুভাষের উদ্দেশে রওনা দেয়৷ তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে মেট্রোর তরফে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি৷
মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র জানিয়েছেন, ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল এবং সিগন্যাল-টেলিকম বিভাগের তিন শীর্ষ আধিকারিককে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে৷ তারা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে৷ সেই তদন্ত রিপোর্ট আসতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে৷
মেট্রো সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনের চালক ঘটনার পর উঁচু মহলে যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতেও ব্রেক বাইন্ডিংয়ের কথা বলা হয়েছে৷ মেট্রো কর্তারাও মনে করছেন, দুর্ঘটনার জন্য মূলত ব্রেকের যান্ত্রিক ত্রুটিই দায়ী৷ ব্রেক বিকল হওয়ার জন্য আবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেই দায়ী করছেন মোটরম্যানরা৷ একাধিক মোটরম্যান এ দিন জানিয়েছেন, ব্রেক বাইন্ডিংয়ের ঘটনা মেট্রোর এখন রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্টেশনে ঢোকার মুখে ব্রেকের ব্যবহার বেশি হয় বলে সেখানেই ব্রেক বাইন্ডিংয়ের ঘটনা ঘটে৷
যাত্রী ভর্তি নন-এসি রেক সুড়ঙ্গে আটকে যাওয়ার পর উদ্ধার কাজে বিলম্বের যে অভিযোগ উঠেছে, তা উড়িয়ে দিচ্ছেন মেট্রো কর্তারা৷ তাঁদের দাবি, খবর পাওয়ার পরই জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার কাজ শুরু হয়৷ যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়৷ তার ফলেই ট্রেনের আলো নিভে যায় এবং ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়৷ সুড়ঙ্গেও অন্ধকার নেমে আসে৷ ট্রেন আটকে যাওয়ার পরই পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে মোটরম্যান যাত্রীদের আশ্বস্ত করেছিলেন৷ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রতিটি মোটরম্যানের কেবিনে রেকর্ড করা ক্যাসেট থাকে৷ সেটিও বার বার বাজানো হয়৷ তা সত্ত্বেও কিছু যাত্রী ভয় এবং উদ্বেগ থেকে ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ ট্রেন থেকে যাত্রীদের উদ্ধারের সময় চিকিত্সক, স্ট্রেচার, অক্সিজেন মাস্ক, হুইল চেয়ার নিয়ে হাজির ছিলেন মেট্রো কর্মীরা৷ যদিও মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, মোটরম্যান খবর দেওয়ার পরই ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিকের পরামর্শে আচমকা বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়৷ নিয়ম অনুসারে, পাওয়ার ব্লক নেওয়ার আগে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে যাত্রীদের আগাম জানিয়ে রাখতে হয়৷ কিন্ত্ত সোমবার তা করা হয়নি৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/drivers-of-kolkata-metro-railways-blame-maintenance-for-monday-mishap/articleshow/37134375.cms?
No comments:
Post a Comment