জাহানারা ইমামের আন্দোলন ॥ এখনও অনেক বাধা
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী
শাহরিয়ার কবির
শাহরিয়ার কবির
একাত্তরের গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবির চক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে বাইশ বছর আগে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে এক অভূতপূর্ব নাগরিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। তখন জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকারে ছিল খালেদা জিয়ার বিএনপি। ১৯৯১-এর ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামী যখন বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে ’৭১-এর শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে তাদের দলের আমির হিসেবে ঘোষণা করে এর প্রতিবাদে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য বিরোধী দল এবং সংসদের বাইরে মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। এই বিক্ষোভের মূর্ত প্রকাশ ঘটেছে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে প্রথমে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ এবং এর তিন সপ্তাহ পরে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে।
‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠিত হয়েছিল ১৯৯২-এর ১৯ জানুয়ারি দেশের ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি ঘোষণার মাধ্যমে। ঘোষণায় গোলাম আযমকে গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছিল সরকার যদি ২৫ মার্চের (১৯৯২) ভেতর তার বিচার না করে, ২৬ মার্চ গণআদালত গঠন করে গোলাম আযমের বিচার হবে। নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন করা হয়েছিল শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জনমত সংগঠন এবং গণআদালতে গোলাম আযমের বিচারের কর্মসূচী সফল করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ছাত্র-নারী-মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি (১৯৯২) গঠিত হয় ‘...জাতীয় সমন্বয় কমিটি’। এই কমিটিরও আহ্বায়ক ছিলেন জাহানারা ইমাম এবং এরই উদ্যোগে ১৯৯২-এর ২৬ মার্চ ঢাকার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণআদালতে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিচার হয়।
গণআদালতের কর্মসূচী বানচাল করার জন্য খালেদা জিয়ার সরকার ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ২১তম বার্ষিকী উদ্যাপনের দিন ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল, দূরপাল্লার সকল পরিবহন বন্ধ করে রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। বলা হয়েছিল ১৪৪ ধারা অমান্য করলে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। লাখ লাখ মানুষ খালেদা জিয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সকল ব্যারিকেড ভেঙ্গে সেদিন গণআদালতের কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিল। এই কর্মসূচী সফল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের। শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া গণআদালতে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম সম্ভব ছিল না।
মুক্তিযুদ্ধের একুশ বছর পর যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের প্রতীকী বিচারের জন্য জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালত হয়েছিল। গণআদালতের একুশ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে তরুণ ব্লগারদের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার যে মহাসমাবেশ হয়েছিল ২০১৩-এর ফেব্রুয়ারিতে তা অব্যাহত ছিল একটানা সতেরো দিন। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের এই কর্মসূচীও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না। শাহবাগের তরুণ নেতৃত্ব ঘোষণা করেছিল তারা জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সন্তান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের নাগরিক আন্দোলন এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অব্যাহত রয়েছে।
২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোটের মহাবিজয়ের নেপথ্যে জাহানারা ইমামের আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। তরুণ প্রজন্ম, যারা কোন দল করে না তারা মহাজোটকে ভোট দিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য। কারণ এই নতুন প্রজন্ম জাহানারা ইমামের আন্দোলনের ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ও অহঙ্কার হৃদয়ে ধারণ করে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহাজোট সরকার ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক প্রণীত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩’ অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল’ গঠন করেছে। অনেক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল তিন বছরে দশজন শীর্ষস্থানীয় গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে তাদের মৃত্যুদণ্ডসহ যাবজ্জীবন ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০১৩-এর ডিসেম্বরে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও হয়েছে।
প্রথমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন প্রতিহত এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর বিচার বিলম্বিত ও বানচাল করার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী দেশে ও বিদেশে বহুমাত্রিক চক্রান্ত করছে। তারা শুরুতেই বলেছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, বিশেষ আইনে নয়, দেশে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে, প্রচলিত আদালতে এ বিচার হতে হবে। আমরা গত বাইশ বছর ধরে বলছি প্রচলিত আইনে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্ভব নয় বলেই বঙ্গবন্ধুর সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত নুরেমবার্গ ট্রায়াল, টোকিও ট্রায়াল ও ম্যানিলার ইয়ামাশিতা ট্রায়াল অনুসরণ করে বিশেষ আইন প্রণয়ন করেছে। অন্য সব আন্তর্জাতিক বিচারের অনেক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাও বাংলাদেশের আইনে দূর করা হয়েছে। তারপরও এই আইনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার জন্য জামায়াতের অপপ্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
‘আইসিটি’র আইনে বলা হয়েছে প্রচলিত ফৌজদারি আইন বা সাক্ষ্য আইন এই বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কারণ সাক্ষ্য আইনের প্রয়োজন হয় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অপহরণ প্রভৃতি সাধারণ অপরাধের বিচারের জন্য। বাংলাদেশে অনুসৃত ফৌজদারি আইন প্রণীত হয়েছে ব্রিটিশ আমলে, যেখানে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের কোন সংজ্ঞা নেই, বিচারেরও সুযোগ নেই। এই আইনটি নতুন এবং আগে প্রয়োগ করা হয়নি বলে আইসিটিতে সরকার ও বিরোধীপক্ষ নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিরোধীপক্ষ অর্থাৎ জামায়াত সুযোগ পেলেই এই আইনকে ফৌজদারি আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছে। প্রসিকিউশন বা সরকার পক্ষ অনেক সময় না বুঝেই জামায়াতের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে।
কাদের মোল্লার মামলায় প্রসিকিউশন সাক্ষ্য আইনের মারপ্যাঁচে এমনই কাবু হয়েছিল যে ট্রাইবুনালের পক্ষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া সম্ভব হয়নি, যা দেয়া হয়েছে আপীলে গিয়ে অধিনায়কের দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনার পর। প্রায় সত্তর বছর আগে ম্যানিলা ট্রায়ালের সময় প্রথমে অধিনায়কের দায়বদ্ধতার বিষয়টি আইনশাস্ত্রে যুক্ত হয়েছে, যার সারকথা হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে হত্যা, নির্যাতন বা ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও কোন দল বা বাহিনীর সদস্যরা যদি এসব অপরাধ করে তার জন্য দলের বা বাহিনীর নেতা ও অধিনায়ককে দায়ী হতে হবে।
জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর মামলায়ও আমরা বার বার প্রসিকিউশনকে জামায়াতের মারপ্যাঁচে কাবু হতে দেখেছি। বার বার এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত এবং তারিখ পেছানোর ক্ষেত্রে জামায়াতের কূটকৌশলের নিকট পরাস্ত হয়েছে আমাদের প্রসিকিউশন। সর্বশেষ আমরা দেখলাম গত ২৪ জুন (২০১৪) যেদিন নিজামীর মামলার রায় দেয়া হবে বলা হলেও দেয়া হয়নি। সেদিন সকালে কারাকর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন নিজামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা যাবে না, কারণ তিনি অসুস্থ, তাঁর রক্তচাপ বেড়েছে। যদিও উচ্চরক্তচাপ কোন গুরুতর অসুস্থতা নয়, সামান্য চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়- কিন্তু আইসিটির আইনে না থাকলেও ফৌজদারি আইনে বলা আছে, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির থাকতে হবে। জামায়াতের আইনজীবীরা এই যুক্তিতে রায় ঘোষণা স্থগিত রাখার আবেদন করেছিলেন ট্রাইব্যুনালে। আমাদের প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালকে এটা বোঝাতে পারেনি, এই ট্রাইব্যুনাল একটি বিশেষ আদালত, বিশেষ আইনের অধীনে গঠিত হয়েছে, প্রচলিত ফৌজদারি আইনের বিধান এই ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না।
জাহানারা ইমামের আন্দোলনের বিরুদ্ধে জামায়াতের কঠোর ও নৃশংস পদক্ষেপের শিকার এই আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যারা যুক্ত তাদের সকলে। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজামী প্রকাশ্য জনসভায় হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা ক্ষমতায় যাচ্ছেন এবং ক্ষমতায় গিয়ে নির্মূল কমিটি ও শাহরিয়ার কবিরদের দেখে নেবেন। ক্ষমতায় গিয়ে নিজামী তাঁর কথা রেখেছেন। আমাকে ও মুনতাসীর মামুনসহ নির্মূল কমিটির শত শত কর্মীকে জেলে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন করেছেন। জামায়াতকে আমরা মোকাবেলা করছি রাজনৈতিকভাবে, কিন্তু জামায়াত কায়িকভাবে হামলা করছে আমাদের ওপর। শুধু জামায়াত নয়, জামায়াতের উচ্ছিষ্টভোগী পেশাজীবীরাও টেলিভিশনের ‘টক শো’-এ বা তাঁদের পত্রিকার কলামে জাহানারা ইমামের আন্দোলনের প্রতি ধারাবাহিকভাবে বিষোদ্গার করছেন, যা আমাদের গা-সহা হয়ে গেছে। জামায়াতের কাজ জামায়াত করবে এটাই স্বাভাবিক।
আমরা বিস্মিত হই এবং ক্ষুব্ধও হই সরকার ও প্রশাসনের ভেতর জামায়াতের অবস্থান, মহাজোট সরকারের যাবতীয় অর্জন নস্যাতের ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরও সে সব বিষয়ে সরকারের অবোধগম্য নীরবতায়। গত কয়েক মাস ধরে প্রসিকিউশনের কয়েকজন আমাদের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লেগেছেন। সরকারের প্রসিকিউশনে কাজ করে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা নিয়ে তারা নিম্ন আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে, বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে মামলা করছেন বিশাল পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। নিজেদের ভেতর মতপার্থক্য বা ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ তাঁরা প্রকাশ্যে আনছেন। একজন প্রসিকিউটর তো গণমাধ্যমে বলেই ফেলেছেন প্রসিকিউশনে আওয়ামী লীগের লোক ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবে না। জামায়াত ঠিক এ কথাটাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে চাইছে- এটি কোন স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল নয়, আওয়ামী লীগের ট্রাইব্যুনাল, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য যুদ্ধাপরাধের নামে জামায়াত বিএনপির বিচার করছে এই ট্রাইব্যুনালে। এই প্রসিকিউটর নির্মূল কমিটি ও আমার বিরুদ্ধে এমনকি প্রসিকিউশনের সবচেয়ে দক্ষ আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের প্রতিও বিষোদ্গার করে চলেছেন। তুরিনের একটাই অপরাধ, তিনি জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক।
নিজামীর মামলায় একাধিকবার প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের ঐকমত্য আমরা দেখেছি, যার সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে ২৪ জুন নিজামীর রায় না হওয়া। এদিন যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে আগামীতে এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কখনও নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না। এ ধরনের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে যা যা করা দরকার সবই সরকারকে দ্রুত সেসব করতে হবে, যদি এই বিচারের প্রতি এখনও তারা আন্তরিক থাকে। প্রসিকিউশন ঢেলে সাজাতে হবে, ট্রাইব্যুনালকে নিরাপত্তার নিদ্র চাদরে ঢেকে দিতে হবে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবস্থানকারী জামায়াত ও আইএসআইয়ের এজেন্টদের অপসারণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের বিধি সংশোধন করে বিচার বানচালের যাবতীয় জামায়াতী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। গণহত্যাকারী দল হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দ্রুত জামায়াতের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সংবিধানের ৩৮ ধারা প্রয়োগ করে জামায়াতের মৌলবাদী, সন্ত্রাসী, মওদুদীবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
গত বাইশ বছরে বহু জায়গা থেকে জাহানারা ইমামের আন্দোলনের ওপর বহু আঘাত এসেছে। সকল ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে এই আন্দোলন এগিয়ে যাচ্ছে ইপ্সিত লক্ষ্যের দিকে, যা প্রতিহত করার ক্ষমতা কারও নেই।
২৫ জুন ২০১৪
‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠিত হয়েছিল ১৯৯২-এর ১৯ জানুয়ারি দেশের ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি ঘোষণার মাধ্যমে। ঘোষণায় গোলাম আযমকে গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছিল সরকার যদি ২৫ মার্চের (১৯৯২) ভেতর তার বিচার না করে, ২৬ মার্চ গণআদালত গঠন করে গোলাম আযমের বিচার হবে। নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন করা হয়েছিল শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জনমত সংগঠন এবং গণআদালতে গোলাম আযমের বিচারের কর্মসূচী সফল করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ছাত্র-নারী-মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি (১৯৯২) গঠিত হয় ‘...জাতীয় সমন্বয় কমিটি’। এই কমিটিরও আহ্বায়ক ছিলেন জাহানারা ইমাম এবং এরই উদ্যোগে ১৯৯২-এর ২৬ মার্চ ঢাকার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণআদালতে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিচার হয়।
গণআদালতের কর্মসূচী বানচাল করার জন্য খালেদা জিয়ার সরকার ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ২১তম বার্ষিকী উদ্যাপনের দিন ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল, দূরপাল্লার সকল পরিবহন বন্ধ করে রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। বলা হয়েছিল ১৪৪ ধারা অমান্য করলে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। লাখ লাখ মানুষ খালেদা জিয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সকল ব্যারিকেড ভেঙ্গে সেদিন গণআদালতের কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিল। এই কর্মসূচী সফল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের। শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া গণআদালতে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম সম্ভব ছিল না।
মুক্তিযুদ্ধের একুশ বছর পর যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের প্রতীকী বিচারের জন্য জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালত হয়েছিল। গণআদালতের একুশ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে তরুণ ব্লগারদের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার যে মহাসমাবেশ হয়েছিল ২০১৩-এর ফেব্রুয়ারিতে তা অব্যাহত ছিল একটানা সতেরো দিন। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের এই কর্মসূচীও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না। শাহবাগের তরুণ নেতৃত্ব ঘোষণা করেছিল তারা জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সন্তান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের নাগরিক আন্দোলন এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অব্যাহত রয়েছে।
২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোটের মহাবিজয়ের নেপথ্যে জাহানারা ইমামের আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। তরুণ প্রজন্ম, যারা কোন দল করে না তারা মহাজোটকে ভোট দিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য। কারণ এই নতুন প্রজন্ম জাহানারা ইমামের আন্দোলনের ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ও অহঙ্কার হৃদয়ে ধারণ করে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহাজোট সরকার ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক প্রণীত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনাল) আইন ১৯৭৩’ অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল’ গঠন করেছে। অনেক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল তিন বছরে দশজন শীর্ষস্থানীয় গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে তাদের মৃত্যুদণ্ডসহ যাবজ্জীবন ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০১৩-এর ডিসেম্বরে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও হয়েছে।
প্রথমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন প্রতিহত এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর বিচার বিলম্বিত ও বানচাল করার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী দেশে ও বিদেশে বহুমাত্রিক চক্রান্ত করছে। তারা শুরুতেই বলেছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, বিশেষ আইনে নয়, দেশে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে, প্রচলিত আদালতে এ বিচার হতে হবে। আমরা গত বাইশ বছর ধরে বলছি প্রচলিত আইনে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্ভব নয় বলেই বঙ্গবন্ধুর সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত নুরেমবার্গ ট্রায়াল, টোকিও ট্রায়াল ও ম্যানিলার ইয়ামাশিতা ট্রায়াল অনুসরণ করে বিশেষ আইন প্রণয়ন করেছে। অন্য সব আন্তর্জাতিক বিচারের অনেক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাও বাংলাদেশের আইনে দূর করা হয়েছে। তারপরও এই আইনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার জন্য জামায়াতের অপপ্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
‘আইসিটি’র আইনে বলা হয়েছে প্রচলিত ফৌজদারি আইন বা সাক্ষ্য আইন এই বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কারণ সাক্ষ্য আইনের প্রয়োজন হয় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অপহরণ প্রভৃতি সাধারণ অপরাধের বিচারের জন্য। বাংলাদেশে অনুসৃত ফৌজদারি আইন প্রণীত হয়েছে ব্রিটিশ আমলে, যেখানে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের কোন সংজ্ঞা নেই, বিচারেরও সুযোগ নেই। এই আইনটি নতুন এবং আগে প্রয়োগ করা হয়নি বলে আইসিটিতে সরকার ও বিরোধীপক্ষ নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিরোধীপক্ষ অর্থাৎ জামায়াত সুযোগ পেলেই এই আইনকে ফৌজদারি আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছে। প্রসিকিউশন বা সরকার পক্ষ অনেক সময় না বুঝেই জামায়াতের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে।
কাদের মোল্লার মামলায় প্রসিকিউশন সাক্ষ্য আইনের মারপ্যাঁচে এমনই কাবু হয়েছিল যে ট্রাইবুনালের পক্ষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া সম্ভব হয়নি, যা দেয়া হয়েছে আপীলে গিয়ে অধিনায়কের দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনার পর। প্রায় সত্তর বছর আগে ম্যানিলা ট্রায়ালের সময় প্রথমে অধিনায়কের দায়বদ্ধতার বিষয়টি আইনশাস্ত্রে যুক্ত হয়েছে, যার সারকথা হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে হত্যা, নির্যাতন বা ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও কোন দল বা বাহিনীর সদস্যরা যদি এসব অপরাধ করে তার জন্য দলের বা বাহিনীর নেতা ও অধিনায়ককে দায়ী হতে হবে।
জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর মামলায়ও আমরা বার বার প্রসিকিউশনকে জামায়াতের মারপ্যাঁচে কাবু হতে দেখেছি। বার বার এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত এবং তারিখ পেছানোর ক্ষেত্রে জামায়াতের কূটকৌশলের নিকট পরাস্ত হয়েছে আমাদের প্রসিকিউশন। সর্বশেষ আমরা দেখলাম গত ২৪ জুন (২০১৪) যেদিন নিজামীর মামলার রায় দেয়া হবে বলা হলেও দেয়া হয়নি। সেদিন সকালে কারাকর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন নিজামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা যাবে না, কারণ তিনি অসুস্থ, তাঁর রক্তচাপ বেড়েছে। যদিও উচ্চরক্তচাপ কোন গুরুতর অসুস্থতা নয়, সামান্য চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়- কিন্তু আইসিটির আইনে না থাকলেও ফৌজদারি আইনে বলা আছে, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির থাকতে হবে। জামায়াতের আইনজীবীরা এই যুক্তিতে রায় ঘোষণা স্থগিত রাখার আবেদন করেছিলেন ট্রাইব্যুনালে। আমাদের প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালকে এটা বোঝাতে পারেনি, এই ট্রাইব্যুনাল একটি বিশেষ আদালত, বিশেষ আইনের অধীনে গঠিত হয়েছে, প্রচলিত ফৌজদারি আইনের বিধান এই ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না।
জাহানারা ইমামের আন্দোলনের বিরুদ্ধে জামায়াতের কঠোর ও নৃশংস পদক্ষেপের শিকার এই আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যারা যুক্ত তাদের সকলে। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজামী প্রকাশ্য জনসভায় হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা ক্ষমতায় যাচ্ছেন এবং ক্ষমতায় গিয়ে নির্মূল কমিটি ও শাহরিয়ার কবিরদের দেখে নেবেন। ক্ষমতায় গিয়ে নিজামী তাঁর কথা রেখেছেন। আমাকে ও মুনতাসীর মামুনসহ নির্মূল কমিটির শত শত কর্মীকে জেলে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন করেছেন। জামায়াতকে আমরা মোকাবেলা করছি রাজনৈতিকভাবে, কিন্তু জামায়াত কায়িকভাবে হামলা করছে আমাদের ওপর। শুধু জামায়াত নয়, জামায়াতের উচ্ছিষ্টভোগী পেশাজীবীরাও টেলিভিশনের ‘টক শো’-এ বা তাঁদের পত্রিকার কলামে জাহানারা ইমামের আন্দোলনের প্রতি ধারাবাহিকভাবে বিষোদ্গার করছেন, যা আমাদের গা-সহা হয়ে গেছে। জামায়াতের কাজ জামায়াত করবে এটাই স্বাভাবিক।
আমরা বিস্মিত হই এবং ক্ষুব্ধও হই সরকার ও প্রশাসনের ভেতর জামায়াতের অবস্থান, মহাজোট সরকারের যাবতীয় অর্জন নস্যাতের ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরও সে সব বিষয়ে সরকারের অবোধগম্য নীরবতায়। গত কয়েক মাস ধরে প্রসিকিউশনের কয়েকজন আমাদের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লেগেছেন। সরকারের প্রসিকিউশনে কাজ করে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা নিয়ে তারা নিম্ন আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে, বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে মামলা করছেন বিশাল পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। নিজেদের ভেতর মতপার্থক্য বা ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ তাঁরা প্রকাশ্যে আনছেন। একজন প্রসিকিউটর তো গণমাধ্যমে বলেই ফেলেছেন প্রসিকিউশনে আওয়ামী লীগের লোক ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবে না। জামায়াত ঠিক এ কথাটাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতে চাইছে- এটি কোন স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল নয়, আওয়ামী লীগের ট্রাইব্যুনাল, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য যুদ্ধাপরাধের নামে জামায়াত বিএনপির বিচার করছে এই ট্রাইব্যুনালে। এই প্রসিকিউটর নির্মূল কমিটি ও আমার বিরুদ্ধে এমনকি প্রসিকিউশনের সবচেয়ে দক্ষ আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের প্রতিও বিষোদ্গার করে চলেছেন। তুরিনের একটাই অপরাধ, তিনি জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক।
নিজামীর মামলায় একাধিকবার প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের ঐকমত্য আমরা দেখেছি, যার সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে ২৪ জুন নিজামীর রায় না হওয়া। এদিন যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে আগামীতে এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কখনও নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না। এ ধরনের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে যা যা করা দরকার সবই সরকারকে দ্রুত সেসব করতে হবে, যদি এই বিচারের প্রতি এখনও তারা আন্তরিক থাকে। প্রসিকিউশন ঢেলে সাজাতে হবে, ট্রাইব্যুনালকে নিরাপত্তার নিদ্র চাদরে ঢেকে দিতে হবে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবস্থানকারী জামায়াত ও আইএসআইয়ের এজেন্টদের অপসারণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের বিধি সংশোধন করে বিচার বানচালের যাবতীয় জামায়াতী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। গণহত্যাকারী দল হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দ্রুত জামায়াতের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সংবিধানের ৩৮ ধারা প্রয়োগ করে জামায়াতের মৌলবাদী, সন্ত্রাসী, মওদুদীবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
গত বাইশ বছরে বহু জায়গা থেকে জাহানারা ইমামের আন্দোলনের ওপর বহু আঘাত এসেছে। সকল ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে এই আন্দোলন এগিয়ে যাচ্ছে ইপ্সিত লক্ষ্যের দিকে, যা প্রতিহত করার ক্ষমতা কারও নেই।
২৫ জুন ২০১৪
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment