সরকারের আপত্তিতে সরলেন সুব্রমনিয়ম
নয়াদিল্লি: চরম বিতর্কিত পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও ইউপিএ জমানার সলিসিটর জেনারেল গোপাল সুব্রমনিয়ম৷ প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, তিনি আর বিচারপতি হতে চান না৷ প্রধান বিচারপতি-সহ সর্বোচ্চ আদালতের প্রবীণতম বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত কমিটি গোপাল সুব্রমনিয়ম-সহ চারজনের নাম সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল৷ কিন্ত্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অরুণ মিশ্র, আইনজীবী রোহিনতন নরিম্যান ও বিচারপতি আদর্শ কুমার গোয়েলের নামে ছাড়পত্র দিলেও গোপালের নাম নিয়ে আপত্তি তোলে মোদী সরকার৷
প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেলের বিরুদ্ধে বিরূপ রিপোর্ট দেয় সিবিআইও৷ বুধবার এর পাল্টা দিয়ে গোপাল সরাসরি অভিযোগ করেন তা হল, সলিসিটর জেনারেল থাকার সময় সোহরাবুদ্দিন শেখ ভুয়ো এনকাউন্টার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে 'আদালতবান্ধব' (অ্যামিকাস ক্যুরি) হয়ে নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ অমিত শাহের বিপক্ষে মতামত দেন তিনি৷ তারই মাসুল তাঁকে এ ভাবে দিতে হল বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গোপাল৷ তাঁর বক্তব্য, আপস করার বদলে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হওয়া থেকেই নিজেকে সরিয়ে নেওয়া শ্রেয় তাঁর পক্ষে৷ গোটা বিতর্কে সর্বোচ্চ আদালত এবং বিচারবিভাগের নীরবতাও দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন গোপাল৷ তাঁর কথায়, 'আমি স্বাধীনচেতা৷ সেটাই বর্তমান সরকারের বড় সমস্যা৷ আমি সকলের সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলতে পারব না৷ সোহরাবুদ্দিন মামলায় আমি নিজে থেকে মতামত দিইনি৷ আদালতের নির্দেশেই আমি মতামত দিয়েছিলাম৷ আগের এনডিএ সরকারের আমলে গোয়েন্দা বিভাগ বেশ কয়েকবার আমার মতামত নেয়৷ তখন কিন্ত্ত আমার প্রতি সরকারের শ্রদ্ধা ছিল৷' সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে ৫৬ বছর বয়সী গোপালের দেশের প্রধান বিচারপতি হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল৷ এ দিন তার ইঙ্গিত দিয়ে গোপাল বলেছেন, 'শুধু বিচারপতি হওয়াই নয়, প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিলাম৷'
মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর এই অভিযোগ নিয়ে এ দিন তোলপাড় শুরু হয়ে যায় দিল্লিতে৷ গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগতেও দেরি হয়নি৷ কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, 'এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না৷' কংগ্রেস অবশ্য এই ঘটনাকে 'অশুভ এবং বিপজ্জনক' বলে মন্তব্য করতে ছাড়েনি৷ কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, 'বোঝাই যাচ্ছে গোটা ঘটনার পিছনে আসল কারণ কী৷ গোপাল সুব্রমনিয়মের খ্যাতি শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বে৷ তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে না দিয়ে সরকার বুঝিয়ে দিল তারা বশংবদ বিচারব্যবস্থা তৈরি করার পথে হাঁটছে৷ এই প্রবণতা আগামী দিনে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে৷'
সিবিআই-এর বক্তব্য ছিল, টুজি কেলেঙ্করিতে অভিযুক্ত এ রাজার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে গোপাল প্রোটোকল ভঙ্গ করেছেন৷ একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানি যাতে লাইসেন্স পায়, তিনি সেই চেষ্টাও করেছেন৷ নীরা রাডিয়ার সৌজন্যে তিনি একটি পাঁচতারা হোটেলের সুইমিং পুল ব্যবহার করেন৷ নীরা রাডিয়াও দেশের কিছু প্রধান টেলিকম কোম্পানির হয়ে লবি করতেন৷ তিনটি অভিযোগই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার পথে নিঃসন্দেহে বড় বাধা৷ কারণ এমন কেউ সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হতে পারেন না, যিনি বেসরকারি সংস্থার স্বার্থে কাজ করেছেন৷
গোপাল অবশ্য এই তিনটি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন৷ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, তাঁকে সরকার বিচারপতি করতে চায় না বলেই, সিবিআইকে দিয়ে এই ধরনের রিপোর্ট তৈরি করিয়েছে৷ তাঁর বক্তব্য, 'আমি কোনও সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নই৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমার একটাই কথা বলার আছে৷ তিনি বিপুল জয় পেয়েছেন, তাই তাঁর কাঁধে দায়িত্বও বিশাল৷ তাঁর ভালো করে বোঝা দরকার, বিচারবিভাগের চরিত্র ও কাজ করার পদ্ধতি কেমন৷'
প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেলের বিরুদ্ধে বিরূপ রিপোর্ট দেয় সিবিআইও৷ বুধবার এর পাল্টা দিয়ে গোপাল সরাসরি অভিযোগ করেন তা হল, সলিসিটর জেনারেল থাকার সময় সোহরাবুদ্দিন শেখ ভুয়ো এনকাউন্টার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে 'আদালতবান্ধব' (অ্যামিকাস ক্যুরি) হয়ে নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ অমিত শাহের বিপক্ষে মতামত দেন তিনি৷ তারই মাসুল তাঁকে এ ভাবে দিতে হল বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গোপাল৷ তাঁর বক্তব্য, আপস করার বদলে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হওয়া থেকেই নিজেকে সরিয়ে নেওয়া শ্রেয় তাঁর পক্ষে৷ গোটা বিতর্কে সর্বোচ্চ আদালত এবং বিচারবিভাগের নীরবতাও দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন গোপাল৷ তাঁর কথায়, 'আমি স্বাধীনচেতা৷ সেটাই বর্তমান সরকারের বড় সমস্যা৷ আমি সকলের সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলতে পারব না৷ সোহরাবুদ্দিন মামলায় আমি নিজে থেকে মতামত দিইনি৷ আদালতের নির্দেশেই আমি মতামত দিয়েছিলাম৷ আগের এনডিএ সরকারের আমলে গোয়েন্দা বিভাগ বেশ কয়েকবার আমার মতামত নেয়৷ তখন কিন্ত্ত আমার প্রতি সরকারের শ্রদ্ধা ছিল৷' সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে ৫৬ বছর বয়সী গোপালের দেশের প্রধান বিচারপতি হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল৷ এ দিন তার ইঙ্গিত দিয়ে গোপাল বলেছেন, 'শুধু বিচারপতি হওয়াই নয়, প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিলাম৷'
মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর এই অভিযোগ নিয়ে এ দিন তোলপাড় শুরু হয়ে যায় দিল্লিতে৷ গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগতেও দেরি হয়নি৷ কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, 'এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না৷' কংগ্রেস অবশ্য এই ঘটনাকে 'অশুভ এবং বিপজ্জনক' বলে মন্তব্য করতে ছাড়েনি৷ কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, 'বোঝাই যাচ্ছে গোটা ঘটনার পিছনে আসল কারণ কী৷ গোপাল সুব্রমনিয়মের খ্যাতি শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বে৷ তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে না দিয়ে সরকার বুঝিয়ে দিল তারা বশংবদ বিচারব্যবস্থা তৈরি করার পথে হাঁটছে৷ এই প্রবণতা আগামী দিনে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে৷'
সিবিআই-এর বক্তব্য ছিল, টুজি কেলেঙ্করিতে অভিযুক্ত এ রাজার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে গোপাল প্রোটোকল ভঙ্গ করেছেন৷ একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানি যাতে লাইসেন্স পায়, তিনি সেই চেষ্টাও করেছেন৷ নীরা রাডিয়ার সৌজন্যে তিনি একটি পাঁচতারা হোটেলের সুইমিং পুল ব্যবহার করেন৷ নীরা রাডিয়াও দেশের কিছু প্রধান টেলিকম কোম্পানির হয়ে লবি করতেন৷ তিনটি অভিযোগই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার পথে নিঃসন্দেহে বড় বাধা৷ কারণ এমন কেউ সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হতে পারেন না, যিনি বেসরকারি সংস্থার স্বার্থে কাজ করেছেন৷
গোপাল অবশ্য এই তিনটি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন৷ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, তাঁকে সরকার বিচারপতি করতে চায় না বলেই, সিবিআইকে দিয়ে এই ধরনের রিপোর্ট তৈরি করিয়েছে৷ তাঁর বক্তব্য, 'আমি কোনও সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নই৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমার একটাই কথা বলার আছে৷ তিনি বিপুল জয় পেয়েছেন, তাই তাঁর কাঁধে দায়িত্বও বিশাল৷ তাঁর ভালো করে বোঝা দরকার, বিচারবিভাগের চরিত্র ও কাজ করার পদ্ধতি কেমন৷'
No comments:
Post a Comment