Tuesday, April 1, 2014

সহিংসতার শিকার হয়েই চলেছেন তাঁরা

সহিংসতার শিকার হয়েই চলেছেন তাঁরা


নারী রাজনীতিকদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে বলিভিয়ায় বিক্ষোভনারী রাজনীতিকদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে বলিভিয়ায় বিক্ষোভদুই বছর আগের কথা। বলিভিয়ার লা পাজ নগরীর ওরকোজাহুইরা নদীর তীরে এক নারী কাউন্সিলরের লাশ পাওয়া যায়। জুয়ানা কুইসপ নামের ওই নারী কাউন্সিলরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল।
বলিভিয়াজুড়ে নির্বাচিত নারী রাজনীতিকদের ওপর যে সহিংস হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটে চলেছে, ওই হত্যাকাণ্ড ছিল তারই একটি। জুয়ানার অপরাধ ছিল, তিনি হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরে নারী সহকর্মীদের সহায়তা করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মুখে নারী রাজনীতিকদের ওপর হামলার সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি আইন পাস করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দেশটির নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, হয়রানির সেই সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে।
নারী রাজনীতিকেরা বলছেন, তাঁদের ওপর হামলা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। তাঁদের হয়রানি করা ও হুমকি দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। 
অ্যাসোসিয়েশন অব ফিমেল কাউন্সিলর অব বলিভিয়ার (অ্যাকোবল) তথ্যমতে, গত আট বছরে নারী রাজনীতিকদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির চার হাজারেরও বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, যুগান্তকারী ওই আইন পাস হওয়া সত্ত্বেও সমস্যা যথেষ্টভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি। ওই আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক হয়রানির দায়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। আর শারীরিক, যৌন ও মানসিক আঘাতের দায়ে সর্বোচ্চ আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে।
দাতব্য সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড বলছে, ২০১২ সালের মে মাসে নতুন ওই আইন পাস হওয়ার পর নারী রাজনীতিকদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি আরও বেড়েছে।
নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, ভুক্তভোগী নারীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য কীভাবে এই আইনের সহায়তা পাবেন, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখা নেই। 
লা পাজের ৫০ মাইল দক্ষিণে কোলকুয়েনচার এলাকার কাউন্সিলর পেট্রোনিলা আলিয়াগা কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাঁকে বেশ কয়েকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত দুই বছরে তিনি বেশ কয়েকবার হামলার মুখোমুখি হয়েছেন। অপহরণ করে তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
পেট্রোনিলা বলেন, ‘আমি যতবার বৈঠকে গেছি, ততবারই তাঁরা পদত্যাগের জন্য আমাকে চাপ দিয়েছেন। প্রথমে আমি চুপ থাকতাম। পরে আমি বৈঠকে যাওয়া বন্ধ করে দিই। ’
নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের সহিংসতার নেপথ্যে অনেক কারণ রয়েছে।
গৃহস্থালি, শিশু লালনপালন ও কৃষিকাজের দায়িত্ব পালন করায় বলিভিয়ার গ্রাম এলাকার নারীদের পক্ষে জনসেবা করা কঠিন হয়ে পড়ে। শক্ত সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাধাকে চ্যালেঞ্জ করতে তাঁরা নিরুৎসাহিত হন।
লা পাজের নারী কাউন্সিলরদের সংগঠনের পিও লুগুয়েজ আলবার্তিনি বলেন, চাপ আসে পরিবার থেকে। সামাজিক সংগঠন ও সম্প্রদায়ের মধ্যে যাঁরা ঘনিষ্ঠ, তাঁদের দিক থেকেও চাপ আসে। পুরুষ সহকর্মীদের দিক থেকে চাপ তো আছেই। তিনি আরও বলেন, পরিবার প্রায়ই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারে না। এখানে এখনো পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি রয়ে গেছে। যেখানে পুরুষের মূল্য বেশি। 
দাউদ ইসলাম, সূত্র: বিবিসি।

No comments:

Post a Comment