Tuesday, April 1, 2014

নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করে দেদার প্রতিশ্রুতি প্রাথমিক সভাপতির

নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করে দেদার প্রতিশ্রুতি প্রাথমিক সভাপতির

কোচবিহার: নির্বাচনী বিধির তোয়াক্কা না করে প্রতিশ্রুতি দিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য৷ তাঁর উপস্থিতিতেই ভোটের কাজে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত শিক্ষকদের দলের পক্ষে প্রচারের পরামর্শ দিলেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ৷ তৃণমূল নেতৃত্ব পরে তাঁদের ওই মন্তব্যের অন্য ব্যাখ্যা দিলেও আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে জানাতে চলেছে বামফ্রন্ট৷ কোচবিহার জেলা নির্বাচন দপ্তরও অভিযোগ পেলে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে৷

কোচবিহারের একটি হলে সোমবার লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী রেনুকা সিন্হার সমর্থনে কর্মিসভা ডেকেছিল পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি৷ সভার প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য৷ তিনিই রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি৷ তিনি বলেন, 'কোচবিহারে ৪৫টি আপার প্রাইমারি স্কুলকে অষ্টম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হবে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে৷ অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রদের শিক্ষা সুনিশ্চিত করা হবে৷ সরকার অট্টালিকা তৈরি করবে৷'

তিনি বলেন, 'এনসিটিই-এর নিয়মে নন-ট্রেণ্ডরা প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির পরীক্ষায় বসতে পারছেন না৷ কোচবিহারের শিক্ষিকা তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করুন৷ দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করুন৷ সকলের জন্য চাকরির সুযোগ সুনিশ্চিত হবে৷' তিনি আশ্বাস দেন, 'প্রশিক্ষণহীন ৭৯ হাজার আবেদনকারীকে কোচবিহারে পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়া হবে৷' ওই সভাতেই তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বললেন, 'প্রাথমিক শিক্ষকরাই হলেন ভোটের মেরুদণ্ড৷ ভোট কেন্দ্রগুলিতে দায়িত্বে থাকবেন আপনারাই৷ কোনও বয়স্ক কেউ যদি তখন জিজ্ঞেস করেন কাকে ভোট দেব? সেই সুযোগটা কাজে লাগান৷ তৃণমূল সরকারের উন্নয়ন গ্রামে গ্রামে প্রচার করুন৷'

এই নিয়ে বামফ্রন্ট হইচই শুরু করলে পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রবিবাবু ব্যাখ্যা দেন, 'বুথের ভেতর নয়, গ্রামে অনেকে শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে, তৃণমূলের কথা বলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ মানিকবাবুর ঘোষণা আচরণবিধি ভেঙেছে কি না জানতে চাইলে জেলা সভাপতি বলেন, '৪৫টি আপার প্রাইমারি স্কুলকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার অনুমোদন অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে৷ এ কথা ঘোষণা করলে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘিত হওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই৷'

ওই সভায় বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন কিন্ত্ত বলেন, 'গ্রামের অনেক তৃণমূল নেতার মুখ দিয়ে জোর গলায় আওয়াজ বেরোয় না৷ সেই জায়গাগুলিতে এগিয়ে আসতে হবে প্রাথমিক শিক্ষকদের৷ শিক্ষকদের কথা সাধারণ মানুষ শোনেন৷' তৃণমূল নেতারা দোষ লুকোনোর চেষ্টা করলে কি হবে, তাদের নেতাদের ওই মন্তব্যে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামেরা৷

সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অনন্ত রায় বলেন, 'নির্বাচন বিধি ভেঙেছে তৃণমূল৷ কোনও ধরণের ঘোষণা এই সময়ে অনুচিত৷' ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, 'কোনও নিয়মের পরোয়াই করছে না তৃণমূল৷ কমিশনকে জানানো হবে ঘোটা ঘটনাটি৷' কোচবিহারে আদর্শ আচরণবিধি সেলের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলা শাসক পিকে বরদেওয়া বলেন, 'অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে৷'
http://eisamay.indiatimes.com/state/violation-of-model-code-of-conduct/articleshow/33065412.cms?

No comments:

Post a Comment