বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলা, ভাঙচুর বামদলের কার্যালয়ে
এই সময়: আক্রান্ত বিরোধীরা৷ হামলায় রেহাই পাচ্ছেন না বিজেপির প্রার্থীও৷ কোচবিহার থেকে মেদিনীপুর, ভাঙচুর হয়েছে বামদলগুলির অফিসে৷ বোলপুরে আবার বিস্ফোরণ হয়েছে তৃণমূল কর্মীর বাড়িতেই৷ হাওড়ায় নির্বাচনের কাজে যুক্ত সরকারি আধিকারিকদের উপর হামলার পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে হিংসাত্মক ঘটনায় অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের রুটিন ঘোষণা করলেও একটি ঘটনাতেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি৷ তৃণমূল নেতৃত্ব যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যার বেসাতির পাল্টা অভিযোগ করছেন৷
প্রার্থী আক্রান্ত হয়েছেন কোচবিহারে৷ দলীয় সভা শেষ করে মাথাভাঙার কাছে বাড়ি ফেরার পথে সোমবার রাতে বিজেপি প্রার্থী হেমচন্দ্র বর্মনের গাড়ি আটকে দাঁড়ায় কয়েকজন৷ হেমবাবুর অভিযোগ, তাঁর চোখে টর্চের আলো ফেলে হামলাকারীরা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে৷ তাঁকেও নিগ্রহ করার চেষ্টা হলে চালক কোনও মতে গাড়িটি চালিয়ে বেরিয়ে যান৷ কিন্ত্ত ওই সভা থেকেই বাড়ি যাওয়ার পথে ওই এলাকাতেই বিজেপির দুই কর্মী মিঠুন বর্মন ও সুশান্ত রায়কে ওই হামলাকারীরা মারধর করে বলে অভিযোগ৷
বিজেপি প্রার্থী বলেন, 'হামলাকারীরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী৷ শুধু রাস্তায় নয়, মারধরে জখম আমাদের কর্মীদের মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে সেখানেও হামলা করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা৷ আহত কর্মীদের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলে আমার ছেলে জনক বর্মনকেও মারধর করা হয়৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাঁরা পুলিশে জানানোর প্রয়োজন অনুভব করেননি৷ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনায় আতঙ্কিত হয়ে এ ভাবে সন্ত্রাস করছে তৃণমূল৷'
একই দলের কর্মী এক দম্পতিও নিগৃহীত হয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা সাগরের কৃষ্ণনগরে৷ ওই ঘটনায় গুরুতর জখম ওই দম্পতি দুলাল মণ্ডল ও কেয়া মণ্ডলকে স্থানীয় রুদ্রনগর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে৷ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওই এলাকায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন কেয়া৷ সমানে সমানে টক্কর দেওয়ায় তৃণমূল ও বিজেপির ভোট কাটাকাটিতে সেখানে সিপিএম জিতে যাওয়ায় ওই দম্পতি শাসকদলের রোষে পড়েন৷
দুলালবাবু বলেন, 'লোকসভা নির্বাচনেও এই এলাকায় বিজেপি অন্যতম ফ্যাক্টর৷ তাই আমাদের দলকে ঠেকাতে এ ভাবে আক্রমণ করা হল৷ তৃণমূলের কর্মীরা আমাদের দু'জনকে ঘর থেকে টেনে বার করে পিটিয়েছে৷ বিজেপির প্রচারে বের হলে আমাদের খুন করা হবে বলে হুমকিও দিয়েছে৷' বিজেপির অভিযোগ, ওই ঘটনা জানানো হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ কোচবিহার ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হামলা হয়েছে বামদলগুলির অফিসেও৷
কোচবিহারের কাছে ভেটাগুড়িতে সোমবার রাতে ফরওয়ার্ড ব্লক অফিসে ভাঙচুর করা হয়৷ প্রয়াত নেতা কমল গুহের ছবি ও অফিসের আসবাবপত্রেও আগুন ধরানো হয়৷ তৃণমূলই রাতের অন্ধকারে ওই কাজ করেছে বলে ফরওয়ার্ড ব্লকের অভিযোগ৷ মঙ্গলবার সন্ধেয় ওই জেলার ঘোকসাডাঙায় সিপিএমের মিছিলেও তৃণমূল হামলা করেছে বলে অভিযোগ৷ অন্য দিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের কাছে মুগবাসনে মঙ্গলবার সন্ধেয় সিপিএমের লোকাল কমিটির অফিসে হামলা চলে৷
দলের কেশপুরের বিধায়ক রামেশ্বর দোলুই বলেন, 'মাত্র তিনদিন আগে আমরা অফিসটি খুলেছিলাম৷ গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পর থেকেই তৃণমূলের হুমকি চলছিল৷ আজ তৃণমূলের কয়েকজন বাইকে চেপে এসে আমাদের অফিসে ভাঙচুর করেছে৷' তবে তৃণমূলের কেশপুর ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পান অভিযোগ অস্বীকার করেন৷ কোচবিহারের তিনটি ঘটনা সম্পর্কেও তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, 'অযথা তৃণমূলকে দোষারোপ করা হচ্ছে৷ এমন কোনও ঘটনা হয়নি৷'
কোচবিহারের পুলিশ সুপার অনূপ জয়সোয়াল অবশ্য বলেন, 'অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷' মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা বিস্ফোরণের আওয়াজের পর বোলপুর থানার মনমোহনপুরে তৃণমূল কর্মী শেখ সফিকের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ বাড়িটি ভেঙে পড়ে৷ শেখ সফিক অবশ্য বলেন, 'আমি ঘুমুচ্ছিলাম৷ পাশের বাড়িতে আমার স্ত্রী ছিলেন৷ তিনি চিত্কার করে আমাকে ডেকে বলেন, ঘরে আগুন লেগেছে৷'
আগুন লাগা সত্ত্বেও কী করে তিনি রক্ষা পেলেন, সেই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তৃণমূল কর্মী৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বোমা বানানো হচ্ছিল বাড়িটিতে৷ বোলপুরের এসডিপিও সূর্যপ্রসাদ যাদব বলেন, 'এমন কোনও ঘটনা আমাদের জানা নেই৷' বাঁকুড়ায় সারেঙ্গা থানার ভালুকচিরা জঙ্গলে এ দিনই আবার মাটি খুঁড়ে ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে সিআরপিএফ৷ মাওবাদীরাও ওখানে অস্ত্র রেখেছিল বলে পুলিশের অনুমান৷ (তথ্য সহায়তা: প্রবীর কুণ্ডু, শুভেন্দু হালদার, হেমাভ সেনগুপ্ত ও দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)
এই সময়: আক্রান্ত বিরোধীরা৷ হামলায় রেহাই পাচ্ছেন না বিজেপির প্রার্থীও৷ কোচবিহার থেকে মেদিনীপুর, ভাঙচুর হয়েছে বামদলগুলির অফিসে৷ বোলপুরে আবার বিস্ফোরণ হয়েছে তৃণমূল কর্মীর বাড়িতেই৷ হাওড়ায় নির্বাচনের কাজে যুক্ত সরকারি আধিকারিকদের উপর হামলার পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে হিংসাত্মক ঘটনায় অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের রুটিন ঘোষণা করলেও একটি ঘটনাতেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি৷ তৃণমূল নেতৃত্ব যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যার বেসাতির পাল্টা অভিযোগ করছেন৷
প্রার্থী আক্রান্ত হয়েছেন কোচবিহারে৷ দলীয় সভা শেষ করে মাথাভাঙার কাছে বাড়ি ফেরার পথে সোমবার রাতে বিজেপি প্রার্থী হেমচন্দ্র বর্মনের গাড়ি আটকে দাঁড়ায় কয়েকজন৷ হেমবাবুর অভিযোগ, তাঁর চোখে টর্চের আলো ফেলে হামলাকারীরা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে৷ তাঁকেও নিগ্রহ করার চেষ্টা হলে চালক কোনও মতে গাড়িটি চালিয়ে বেরিয়ে যান৷ কিন্ত্ত ওই সভা থেকেই বাড়ি যাওয়ার পথে ওই এলাকাতেই বিজেপির দুই কর্মী মিঠুন বর্মন ও সুশান্ত রায়কে ওই হামলাকারীরা মারধর করে বলে অভিযোগ৷
বিজেপি প্রার্থী বলেন, 'হামলাকারীরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী৷ শুধু রাস্তায় নয়, মারধরে জখম আমাদের কর্মীদের মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে সেখানেও হামলা করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা৷ আহত কর্মীদের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলে আমার ছেলে জনক বর্মনকেও মারধর করা হয়৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাঁরা পুলিশে জানানোর প্রয়োজন অনুভব করেননি৷ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনায় আতঙ্কিত হয়ে এ ভাবে সন্ত্রাস করছে তৃণমূল৷'
একই দলের কর্মী এক দম্পতিও নিগৃহীত হয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা সাগরের কৃষ্ণনগরে৷ ওই ঘটনায় গুরুতর জখম ওই দম্পতি দুলাল মণ্ডল ও কেয়া মণ্ডলকে স্থানীয় রুদ্রনগর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে৷ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওই এলাকায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন কেয়া৷ সমানে সমানে টক্কর দেওয়ায় তৃণমূল ও বিজেপির ভোট কাটাকাটিতে সেখানে সিপিএম জিতে যাওয়ায় ওই দম্পতি শাসকদলের রোষে পড়েন৷
দুলালবাবু বলেন, 'লোকসভা নির্বাচনেও এই এলাকায় বিজেপি অন্যতম ফ্যাক্টর৷ তাই আমাদের দলকে ঠেকাতে এ ভাবে আক্রমণ করা হল৷ তৃণমূলের কর্মীরা আমাদের দু'জনকে ঘর থেকে টেনে বার করে পিটিয়েছে৷ বিজেপির প্রচারে বের হলে আমাদের খুন করা হবে বলে হুমকিও দিয়েছে৷' বিজেপির অভিযোগ, ওই ঘটনা জানানো হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ কোচবিহার ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হামলা হয়েছে বামদলগুলির অফিসেও৷
কোচবিহারের কাছে ভেটাগুড়িতে সোমবার রাতে ফরওয়ার্ড ব্লক অফিসে ভাঙচুর করা হয়৷ প্রয়াত নেতা কমল গুহের ছবি ও অফিসের আসবাবপত্রেও আগুন ধরানো হয়৷ তৃণমূলই রাতের অন্ধকারে ওই কাজ করেছে বলে ফরওয়ার্ড ব্লকের অভিযোগ৷ মঙ্গলবার সন্ধেয় ওই জেলার ঘোকসাডাঙায় সিপিএমের মিছিলেও তৃণমূল হামলা করেছে বলে অভিযোগ৷ অন্য দিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের কাছে মুগবাসনে মঙ্গলবার সন্ধেয় সিপিএমের লোকাল কমিটির অফিসে হামলা চলে৷
দলের কেশপুরের বিধায়ক রামেশ্বর দোলুই বলেন, 'মাত্র তিনদিন আগে আমরা অফিসটি খুলেছিলাম৷ গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পর থেকেই তৃণমূলের হুমকি চলছিল৷ আজ তৃণমূলের কয়েকজন বাইকে চেপে এসে আমাদের অফিসে ভাঙচুর করেছে৷' তবে তৃণমূলের কেশপুর ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পান অভিযোগ অস্বীকার করেন৷ কোচবিহারের তিনটি ঘটনা সম্পর্কেও তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, 'অযথা তৃণমূলকে দোষারোপ করা হচ্ছে৷ এমন কোনও ঘটনা হয়নি৷'
কোচবিহারের পুলিশ সুপার অনূপ জয়সোয়াল অবশ্য বলেন, 'অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷' মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা বিস্ফোরণের আওয়াজের পর বোলপুর থানার মনমোহনপুরে তৃণমূল কর্মী শেখ সফিকের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ বাড়িটি ভেঙে পড়ে৷ শেখ সফিক অবশ্য বলেন, 'আমি ঘুমুচ্ছিলাম৷ পাশের বাড়িতে আমার স্ত্রী ছিলেন৷ তিনি চিত্কার করে আমাকে ডেকে বলেন, ঘরে আগুন লেগেছে৷'
আগুন লাগা সত্ত্বেও কী করে তিনি রক্ষা পেলেন, সেই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তৃণমূল কর্মী৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বোমা বানানো হচ্ছিল বাড়িটিতে৷ বোলপুরের এসডিপিও সূর্যপ্রসাদ যাদব বলেন, 'এমন কোনও ঘটনা আমাদের জানা নেই৷' বাঁকুড়ায় সারেঙ্গা থানার ভালুকচিরা জঙ্গলে এ দিনই আবার মাটি খুঁড়ে ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে সিআরপিএফ৷ মাওবাদীরাও ওখানে অস্ত্র রেখেছিল বলে পুলিশের অনুমান৷ (তথ্য সহায়তা: প্রবীর কুণ্ডু, শুভেন্দু হালদার, হেমাভ সেনগুপ্ত ও দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)
No comments:
Post a Comment