Tuesday, April 1, 2014

মোমের শিখায় একটি ঘণ্টা

মোমের শিখায় একটি ঘণ্টা


ফানুস ওড়ানোর প্রস্তুতি চলছেফানুস ওড়ানোর প্রস্তুতি চলছে৯ মার্চ, রাত সাড়ে আটটা। একসঙ্গে নিভে গেল ঢাকার গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে সবগুলো বাতি। বাতি নিভে গেল গুলশান, বনানী, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব ও বারিধারাসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকার অনেকগুলো বাসাতেই। জ্বলে উঠল সারি সারি মোমবাতি, আকাশে উড়ল রঙিন সব ফানুস। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে উৎসাহী কিছু তরুণের উদ্যোগে আরও ১৫৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও এ বছর পালিত হলো ‘আর্থ আওয়ার’। এনার্জি সেভিং নিয়ে বিশ্বসচেতনতা সৃষ্টি করতে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড ফান্ড’ ২০০৭ সালে সিডনিতে প্রথম শুরু করে আর্থ আওয়ার পালন।
নিতান্তই প্রয়োজনীয় কিছু ছাড়া সব বাতি বন্ধ রাখা হয় এই এক ঘণ্টা। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড এ বছরও ২৯ মার্চ তারিখে প্রতিটি দেশের স্থানীয় সময় সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা আর্থ আওয়ার হিসেবে নির্ধারণ করে। শক্তি সংরক্ষণ ও শক্তির অপচয় রোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশেও এটি আয়োজন করা হলো।
বাংলাদেশে আর্থ আওয়ার আয়োজনের উদ্যোক্তা সানজানা রহমান এ বিষয় সম্পর্কে জানেন তাঁর মায়ের কাছে আসা একটি ই-মেইল থেকে। তারপর চটপট ফেসবুকে খুলে ফেলেন পেজ, ইভেন্ট। নিজের বন্ধুদের নিয়ে লিফলেট ছাপিয়ে বিলি করেন গুলশান, বনানী ও বারিধারার বেশ কিছু বাসায়। ২৯ মার্চ গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের মাঠে রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত বাতি নিভে গিয়ে জ্বলে ওঠে মোমবাতি। এনার্জি সেভিংয়ের একটি বার্তা হিসেবে আকাশে ওড়ানো হয় রংবেরঙের ফানুস।
বাংলাদেশে আর্থ আওয়ার পালন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা বললেন আয়োজনের উদ্যোক্তা নিজেই, ‘শক্তি সংরক্ষণ আমাদের মতো দেশের জন্য খুব জরুরি একটি বার্তা, যা সবার কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। যেকোনোভাবে শক্তির অপচয় রোধ করে এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সারা বিশ্বের সঙ্গে আর্থ আওয়ার পালন পরিবেশ সচেতনতায় আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

Prothom Alo

No comments:

Post a Comment