Friday, June 6, 2014

বাজারে বাজেটের উল্টো প্রভাব

বাজারে বাজেটের উল্টো প্রভাব
যুগান্তর রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৭ জুন, ২০১৪
খুচরা বাজারে প্রস্তাবিত বাজেটের উল্টো প্রভাব পড়েছে। বাজেটে যেসব পণ্যের শুল্ক, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে সেগুলোর দাম না কমে বরং আরও বেড়েছে। আবার যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে এগুলোর হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু এখনও কার্যকর হয়নি, সেসব পণ্যের দামও বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজেটে পণ্যের দাম বাড়ানোর ব্যবস্থা করুক বা না করুক বাজেটের প্রভাবে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বেই। আবার কোনো পণ্যের দাম কমানোর ব্যবস্থা করলেও বাজারে তার প্রভাব সাধারণত পড়ে না। পড়লেও অনেক পরে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। এ হিসাবে ওইসব নিত্যপণ্যের দাম না কমলেও বাড়ার কথা নয়। কিন্তু তারপরেও দাম বেড়েছে। এজন্য বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাধারণ মানুষের মতে, বাজেট দিয়ে নিু বা মধ্যবিত্তদের কোনো উপকার হয় না। উল্টো বাড়ে করের বোঝা।
বাজেটের প্রস্তাব অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ও বোতলজাত পানির দাম বাড়তে পারে। কেননা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত এজিথ্রোমাইসিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে মিটফোর্ড এলাকার পাইকারি ওষুধ ব্যবসায়ী রাজা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, এ প্রস্তাব অনুমোদিত হলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। বর্তমানে একটি ভালো কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হলে তা কোনোভাবেই মধ্য ও নিুবিত্তের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে না।
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রস্তাব অনুমোদন হলে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়বে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার চিত্র দেখা গেছে। কেউ কেউ বলেছেন, এ বাজেট মূলত গরিব ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেবে।
এ বিষয়ে মিরপুরের মুসলিম বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ বলেন, বাজেট হল গরিবকে আরও গরিব বানানো আর ধনীকে আরও ধনী বানানোর একটি প্রক্রিয়া। তার মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এর ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকেই। তিনি বলেন, যেসব পণ্যে কর বা ভ্যাট কমানো হয়, বাজারে তা কমে না। বরং যেগুলোর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় তা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যায়।
গরিব ও দুস্থদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার মূল অংশ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পকেটে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন একজন রিকশাচালক। নীলফামারী থেকে ঢাকায় আসা শহিদ উদ্দিন বলেন, সরকারি ভাতা বা সহায়তার জন্য যেসব কার্ড দেয়া হয় তার বেশিরভাগ সুবিধা নেয় মেম্বার বা চেয়ারম্যানরা। কারণ ঘুষ দেয়া ছাড়া কোনো কার্ড পাওয়া যায় না। ফলে বাজেট দিয়ে আমাদের মতো মানুষের কোনো উপকার হয় না। আমি বুঝি, বাজেট আসলেই পণ্যের দাম বাড়বে।
কাঁচাবাজার : শুক্রবার রাজধানীর কাঁচাবাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে। মাছের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা। এছাড়া যেসব পণ্যের শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে খুচরা বাজারে এখনও তার প্রভাব পড়েনি। তবে সিগারেটের দাম কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, বাজারে মাছ ও কাঁচামালের সরবরাহ কম। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে মজুদদারি ও বৃষ্টির কারণে আমদানি কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।
রাজধানীর কয়েকটি পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় শুক্রবার প্রতি কেজি বেগুনের দাম ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৪০ টাকা কেজি। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে পটোল বিক্রি হচ্ছ ৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৩০ টাকা কেজি। একইভাবে কাকরোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গেল সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে আলু ও কাঁচামরিচ। এগুলোর দাম এখনও বাড়েনি। বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচ খেত নষ্ট হয়েছে। এ কারণে এর দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সবজির দাম বাড়ার জন্য তারা বৃষ্টিকে দায়ী করেছেন। এছাড়া রোজায় ইফতারির উপকরণে লাগে এমন সব সবজির দামও বাড়ছে।
বাজেট ঘোষণার পর ছোলা, গুড়ো দুধ ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে ছোলার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে অন্যান্য পণ্যে খুচরা দোকানগুলোতে এখনও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি। এক কেজি ওজনের ডানো গুড়ো দুধ ৬৯০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৩৫ টাকায়। বিশেষ করে রোজার কারণে চাহিদা বাড়ায় এই পণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশী মসুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ১০৫ টাকা কেজি। রসুন ৭৫ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা কেজি। মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়, যা গেল সপ্তাহে ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১২ টাকায়। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চিনি ও মসলা জাতীয় পণ্য। চিনির ওপর শুল্ক বাড়ানো হলেও এর দাম এখনও বাড়েনি।
- See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/06/07/108519#sthash.2IS6Wfum.dpuf

No comments:

Post a Comment