নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা নেই প্রতি পাতে বিষ (১) ॥ বিষাক্ত রাসায়নিক
০ ৮২টি খাদ্যের নমুনা পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত
০ ৩৫ শতাংশ ফল ও ৫০ শতাংশ শাকসবজিতে কীটনাশকের উপস্থিতি
০ আম ও মাছের ৬৬টি নমুনায় পাওয়া গেছে ফরমালিন
০ মুরগির মাংস ও মাছে ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিক
০ ৩৫ শতাংশ ফল ও ৫০ শতাংশ শাকসবজিতে কীটনাশকের উপস্থিতি
০ আম ও মাছের ৬৬টি নমুনায় পাওয়া গেছে ফরমালিন
০ মুরগির মাংস ও মাছে ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিক
রশিদ মামুন
সাবিরা ইসলাম। ঢাকা শহরের এক মা। দুপুরে ছেলে সিফাতের পাতে ভাত তুলে দিতেই মনে হলো আদরের সন্তানকে কী খাওয়াচ্ছেন তিনি। রোজ খবরের কাগজ খুললেই শিরোনামে বিষাক্ত খাবারের খবর। বিষ ছাড়া খাবার পাওয়াই দুষ্কর। ওরা কত আগ্রহ নিয়ে খায়, খেতে চায়। কত প্রিয় জিনিস ওদের আছে। অনেক কিছু তো কেনা বাদই দিয়ে দিয়েছি। ভাত, সবজি, মাছ, মাংস এতটুকুও কী খেতে দিতে পারব না। সাবিরা ইসলামের ভাষায় অসহায় লাগে, অপরাধবোধে ভোগেন। প্রশ্ন তাঁর- কী করব, কী করার আছে আমাদের? প্রতিপাতে কী নীরব ঘাতক বিষই তুলে দেব! সাবিরা ইসলাম নিজেকে দিয়ে তুলনা করে বলেন, আমার মা, চাচি, শাশুড়ি এরা পরিণত বয়সেও যে শারীরিক শক্তি নিয়ে কাজ করতেন, চলতেন, ফিরতেন- মাঝে মাঝে মনে হয় তাঁদের চেয়ে অনেক কম বয়সেই ক্লান্তি এসে যাচ্ছে। তাহলে আমার সন্তানের ভবিষ্যত কোনদিকে যাচ্ছে।
এই আতঙ্ক শুধু সাবিরা ইসলামের নয়। বাংলাদেশের মানুষের এখন সব থেকে বড় আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি। পাঁচটি মৌলিক চাহিদার প্রথমটি খাদ্য। কিন্তু সেই খাদ্যে সামান্য মুনাফার লোভে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এখন এমন কোন খাদ্যদ্রব্য নেই যাতে কেমিক্যাল নামের নীরব ঘাতক বিশ মিশানো হয় না। উৎপাদন থেকে বাজারজাত প্রত্যেকটি স্তরেই রাসায়নিকের ছড়াছড়ি রয়েছে। সহজপ্রাপ্যতা, আইনী দুর্বলতা আর যথাযথ নজরদারির অভাবে এ সব ঘটেই চলেছে, যাতে রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে।
সাবিরা ইসলাম বলেন, ইদানীং কিছু কিছু অনলাইন পত্রিকায় ফল, সবজি ও মাছ ফরমালিন মুক্ত করার কিছু টিপস দেখি। চেষ্টা করি সেগুলো করতে। আদৌ কোন কাজ হয় কিনা, তা না জেনেই। সরকার বলছে খাদ্যে ফরমালিন মেশালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন হবে। এতে কী আর শেষ রক্ষা হবে? আইন তো কত হয়, প্রয়োগ হয় না। তাই এসবে ভরসা পাই না। বরং অসহায়ত্ব আরও বাড়ে।
আরেক মা শাহনাজ খুশি জানান, আমি নিজেকে নিয়ে যেমন শঙ্কিত তার চেয়ে বেশি চিন্তিত আমার সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে। যত অর্থই ব্যয় করি না কেন আমি কোন অবস্থাতে সুষমখাদ্য তাদের মুখে তুলে দিতে পারি না। শুধু আমার সন্তানই না আগামী প্রজন্ম বৃদ্ধিহীন, মেধাহীন এবং নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা মা হিসেবে আমাকে ভাবায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি এবং খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষক ড. শাহ মোঃ কেরামত আলী মনে করেন, এ সব কেমিক্যাল নীরব ঘাতক। ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে জমা হয়। এক সময় এর প্রভাব ফুটে ওঠে। মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, আজ থেকে ১৫ বছর আগেও এভাবে হাসপাতালে-হাসপাতালে লিভারওয়ার্ড ছিল না। রোগী কম থাকায় এর প্রয়োজনও ছিল না। কিন্তু এখন প্রায় সকল হাসপাতালেই লিভারওয়ার্ড রয়েছে। বিষাক্ত এ সব কেমিক্যাল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা গলা ফাটালেও যাঁদের শোনার কথা তাঁরাই শোনেন না।
দেশে চাল, মাছ, সবজি, মসলা এবং ফলমূলে ব্যাপকভাবে বিষাক্ত রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন থেকে বাজারজাত প্রত্যেকটি পর্যায়ে বিষ মেশানো হচ্ছে খাদ্যে। উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা থাকলেও আদৌও মাঠে গিয়ে কৃষককে সচেতন করে তোলার মতো কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায় না। ঢাকা ও অন্যান্য শহরে ফল এবং মাছের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করলেও জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ভেজাল ও খাদ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারে রাজধানীর ৮২টি খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করে সবটিতে মিলেছে ক্ষতিকর উপাদান। ওই পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ খাদ্যেই মানবদেহের জন্য সহনীয় মাত্রার চেয়ে তিন থেকে ২০ গুণ বেশি বিষাক্ত উপাদান শনাক্ত হয়। বলা হচ্ছে, ৩৫ শতাংশ ফল ও ৫০ শতাংশ শাকসবজির নমুনাতেই বিষাক্ত বিভিন্ন কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আম ও মাছের ৬৬টি নমুনায় পাওয়া গেছে ফরমালিন। মুরগির মাংস ও মাছে পাওয়া গেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব। চালের ১৩টি নমুনায় মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত বিষক্রিয়া সম্পন্ন আর্সেনিক, পাঁচটি নমুনায় পাওয়া গেছে ক্যাডমিয়াম। লবণেও সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০-৫০ গুণ বেশি সীসা রয়েছে। হলুদের গুঁড়ার ৩০টি নমুনায় ছিল সীসা ও অন্যান্য ধাতু।
চালে বিষ ॥ আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির (এসিএস) গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের চালে প্রতিকেজিতে ক্যাডমিয়াম রয়েছে দশমিক ০১ থেকে দশমিক ৩ পিপিএম পর্যন্ত এবং এর পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। এসিএসের গবেষণায় দেখা যায়, চালে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরই শ্রীলঙ্কার অবস্থান। এ ছাড়া উপমহাদেশের অন্যদেশগুলোর চালেও সহনীয়মাত্রার চেয়ে বেশি ক্যাডমিয়াম রয়েছে। গত বছর অক্টোবরে এসিএস তাদের গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। চাল বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য। বাংলাদেশের আবাদি জমির শতকরা প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ ভাগেই ধানের চাষ হয়ে থাকে। আর শতকরা ৯২ জনই ধানচাষী। এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ক্যালোরির শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই আসে চাল তথা ভাত থেকে। আমাদের প্রাণশক্তির উৎস ভাতেই এখন বিষাক্ত ক্যাডমিয়ামের অস্তিত্ব রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম রফিকুল ইসলাম এই গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ড. এম রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, নিম্নমানের টিএসপি সার প্রয়োগই ক্যাডমিয়ামের প্রধান কারণ। এ ছাড়া বাংলাদেশের টেক্সটাইল, ট্যানারিসহ নানা শিল্প কারখানার বর্জ্য নদী বা জলাশয়ে গিয়ে পানি দূষিত করছে। শুধু চাল নয়, শাকসবজি ও নদীর পানিতে ক্যাডমিয়াম পাওয়া যাচ্ছে। ভেজাল টিএসপি সার এবং শিল্প, বিশেষ করে ট্যানারির বর্জ্যে উচ্চমাত্রার ক্যাডমিয়াম রয়েছে। আর বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ টিএসপি সার ভেজাল। ক্যাডমিয়াম এক ধরনের ক্ষতিকারক হেভি মেটাল। এটি শরীরে দীর্ঘদিন জমা হতে থাকলে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মানবদেহে ক্যান্সার এবং কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। তাঁর মতে, ভেজাল সারের কারণে মাটিতে ক্যাডমিয়ামের দূষণ ছড়াচ্ছে। এ জন্য সার আমদানির আগেই তার মান পরীক্ষা এবং শিল্প দূষণ রোধ করা জরুরী।
মাছে ও মাংসে বিষ ॥ চারপাশে ফরমালিন নিয়ে হইচই হলেও মাছ চাষের সময় জলাশয়ে এন্টিবায়োটিকসহ নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি আড়ালেই রয়ে যায়। বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ যে ক্ষতি করছে, তার বিরুদ্ধে তেমন কিছু হচ্ছে না। মাছ, ব্রয়লার মুরগি দ্রুত বড় এবং গরু মোটাতাজাকরণের জন্য এগ্রিমিনফোর্ট নামের এক প্রকার ভিটামিন ব্যবহার করা হয়। মানুষ যেভাবে এরিস্টোভিট ভিটামিন গ্রহণ করে। একইভাবে এগ্রিমিনফোর্ট ব্যবহার করা হচ্ছে চাষ প্রক্রিয়ায়। সাধারণত ১০০ কেজি খাবারের মধ্যে এক কেজি এগ্রিমিনফোর্ট মেশানো হয়। এগ্রিমিনফোর্ট মাছ এবং মাংসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে কিডনি, যকৃৎ, হৃৎপি-ের ক্ষতি করে। এমনকি তা ক্যান্সারেরও ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের বিভিন্ন পুকুরে মাছের খাবারে ব্যবহৃত রাসায়নিক নিয়ে গবেষণা করে দেখেছে, খামারগুলোতে ১০টি ভিন্ন শ্রেণীর এবং ৫০টি ভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। ব্যবহৃত রাসায়নিকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ছাড়াও রয়েছে কীটনাশক। সাধারণত কার্প জাতীয় মাছ ছাড়াও তেলাপিয়া, মাগুর ও পাঙ্গাসসহ আরও কয়েকটি জাতের মাছ চাষে এ সব ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, চাষ করা মাছে বিষাক্ত পদার্থের উপাদান (হেভি মেটালস) থাকে। একইভাবে এগ্রিমিনফোর্ট নামের দ্রুত বর্ধক ব্যবহার করায় মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে মাঝে মাঝে ফরমালিন পরীক্ষা হলেও মাছের অন্য পরীক্ষা হয় না। মাছ রফতানির সময় বিষাক্ত পদার্থের উপাদান (হেভি মেটালস) আছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়। এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ায় ২০০৯ সালে আট মাস ইউরোপে বাংলাদেশের চিংড়ি রফতানি বন্ধ ছিল। তার পর নানা প্রচেষ্টায় মাছের খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত পরীক্ষার ব্যবস্থার পর অবস্থার উন্নতি হয়। যদিও দেশের বাজারে মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে এ সব নিয়মকানুন মানার কোন বালাই নেই।
সবজিতে বিষ ॥ সবজির উৎপাদন পর্যায়ে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৭ ধরনের হরমোন প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ সব হরমোন প্রয়োগ করে ফসলের আকার বড় হয়। এ ছাড়া কীটনাশক প্রয়োগের ফলে জনস্বাস্থ্য ও প্রাণবৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। ফসলের পুষ্টিমানও হয় নিম্নমানের। জানা গেছে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনের জন্য নিষিদ্ধঘোষিত ডিডিটিসহ ভারতীয় চোরাই ও ক্ষতিকর ১৭ প্রকার কীটনাশক ব্যবহার হয়। এতে ফসলের জন্য উপকারী পোকাও মরে যাচ্ছে। এ সব কীটনাশক প্রয়োগের কমপক্ষে সাত দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে সবজি তোলা যায় না। কিন্তু কৃষকরা এ সব নিয়ম মানেন না। এ ছাড়া মৌসুমের আগেই কাঁচা টমেটো বাজারে পাওয়া যায়। এ সব টমেটো পাঁকানোর জন্যও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস মনে করেন, সবজির রাসায়নিক সব থেকে বেশি প্রাণঘাতী। তাৎক্ষণিক ক্ষতি না করলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব মারাত্মক, যা কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। পানি দিয়ে ধোয়া এমনকি রান্নার পরও এ বিষ নষ্ট হয় না।
ফলে বিষ ॥ ফলের মধ্যে উৎপাদন পর্যায়ে সব থেকে বেশি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় আমে। মুকুল অবস্থায় কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। আমের গুটি অবস্থায় আবারও এক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে করা হয়। সাধারণত আমের রঙ ভাল হওয়ার জন্য ‘সেভেন পাউডার নামের রাসায়নিক স্প্রে করা হয় গুটি অবস্থায়। এ ছাড়া আম সংগ্রহের পর তা পরিষ্কার করার জন্য নয়ন পাউডার। এ ছাড়া আম পাকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় কার্বাইড। কার্বাইড আমের ঝুড়ির মধ্যে দিলে বাতাসের সংস্পর্শে এসে তা অক্সিএসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাস সাধারণত লোহা কাটার কাজে ব্যবহার করা হয়। অক্সিএসিটিলিন আমকে দ্রুত পাকিয়ে দেয়। এতে আমের ভেতরে কাঁচা থাকলেও উপরে পেকে যায়। ক্রেতা এ ধরনের আম কিনে প্রতারণার শিকার হন। এ ছাড়া আমদানি করা ফলে ব্যাপকভাবে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। আর দেশীয় ফলও এর শিকার হচ্ছে এখন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি এবং খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষক ড. শাহ মোঃ কেরামত আলী জানান, গাছে থাকতেই আমে তিনবার রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। আবার সংগ্রহের পর দেয়া হয় কার্বাইড। সাধারণত ফলন বেশি হওয়া এবং বেশি মুনাফার লোভে কাঁচা আমে কার্বাইড দেয়া হয়। এতে ফলের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব পড়ে মানুষের শরীরে।
সাবিরা ইসলাম। ঢাকা শহরের এক মা। দুপুরে ছেলে সিফাতের পাতে ভাত তুলে দিতেই মনে হলো আদরের সন্তানকে কী খাওয়াচ্ছেন তিনি। রোজ খবরের কাগজ খুললেই শিরোনামে বিষাক্ত খাবারের খবর। বিষ ছাড়া খাবার পাওয়াই দুষ্কর। ওরা কত আগ্রহ নিয়ে খায়, খেতে চায়। কত প্রিয় জিনিস ওদের আছে। অনেক কিছু তো কেনা বাদই দিয়ে দিয়েছি। ভাত, সবজি, মাছ, মাংস এতটুকুও কী খেতে দিতে পারব না। সাবিরা ইসলামের ভাষায় অসহায় লাগে, অপরাধবোধে ভোগেন। প্রশ্ন তাঁর- কী করব, কী করার আছে আমাদের? প্রতিপাতে কী নীরব ঘাতক বিষই তুলে দেব! সাবিরা ইসলাম নিজেকে দিয়ে তুলনা করে বলেন, আমার মা, চাচি, শাশুড়ি এরা পরিণত বয়সেও যে শারীরিক শক্তি নিয়ে কাজ করতেন, চলতেন, ফিরতেন- মাঝে মাঝে মনে হয় তাঁদের চেয়ে অনেক কম বয়সেই ক্লান্তি এসে যাচ্ছে। তাহলে আমার সন্তানের ভবিষ্যত কোনদিকে যাচ্ছে।
এই আতঙ্ক শুধু সাবিরা ইসলামের নয়। বাংলাদেশের মানুষের এখন সব থেকে বড় আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি। পাঁচটি মৌলিক চাহিদার প্রথমটি খাদ্য। কিন্তু সেই খাদ্যে সামান্য মুনাফার লোভে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এখন এমন কোন খাদ্যদ্রব্য নেই যাতে কেমিক্যাল নামের নীরব ঘাতক বিশ মিশানো হয় না। উৎপাদন থেকে বাজারজাত প্রত্যেকটি স্তরেই রাসায়নিকের ছড়াছড়ি রয়েছে। সহজপ্রাপ্যতা, আইনী দুর্বলতা আর যথাযথ নজরদারির অভাবে এ সব ঘটেই চলেছে, যাতে রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে।
সাবিরা ইসলাম বলেন, ইদানীং কিছু কিছু অনলাইন পত্রিকায় ফল, সবজি ও মাছ ফরমালিন মুক্ত করার কিছু টিপস দেখি। চেষ্টা করি সেগুলো করতে। আদৌ কোন কাজ হয় কিনা, তা না জেনেই। সরকার বলছে খাদ্যে ফরমালিন মেশালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন হবে। এতে কী আর শেষ রক্ষা হবে? আইন তো কত হয়, প্রয়োগ হয় না। তাই এসবে ভরসা পাই না। বরং অসহায়ত্ব আরও বাড়ে।
আরেক মা শাহনাজ খুশি জানান, আমি নিজেকে নিয়ে যেমন শঙ্কিত তার চেয়ে বেশি চিন্তিত আমার সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে। যত অর্থই ব্যয় করি না কেন আমি কোন অবস্থাতে সুষমখাদ্য তাদের মুখে তুলে দিতে পারি না। শুধু আমার সন্তানই না আগামী প্রজন্ম বৃদ্ধিহীন, মেধাহীন এবং নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা মা হিসেবে আমাকে ভাবায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি এবং খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষক ড. শাহ মোঃ কেরামত আলী মনে করেন, এ সব কেমিক্যাল নীরব ঘাতক। ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে জমা হয়। এক সময় এর প্রভাব ফুটে ওঠে। মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, আজ থেকে ১৫ বছর আগেও এভাবে হাসপাতালে-হাসপাতালে লিভারওয়ার্ড ছিল না। রোগী কম থাকায় এর প্রয়োজনও ছিল না। কিন্তু এখন প্রায় সকল হাসপাতালেই লিভারওয়ার্ড রয়েছে। বিষাক্ত এ সব কেমিক্যাল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা গলা ফাটালেও যাঁদের শোনার কথা তাঁরাই শোনেন না।
দেশে চাল, মাছ, সবজি, মসলা এবং ফলমূলে ব্যাপকভাবে বিষাক্ত রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন থেকে বাজারজাত প্রত্যেকটি পর্যায়ে বিষ মেশানো হচ্ছে খাদ্যে। উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা থাকলেও আদৌও মাঠে গিয়ে কৃষককে সচেতন করে তোলার মতো কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায় না। ঢাকা ও অন্যান্য শহরে ফল এবং মাছের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করলেও জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ভেজাল ও খাদ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারে রাজধানীর ৮২টি খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করে সবটিতে মিলেছে ক্ষতিকর উপাদান। ওই পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ খাদ্যেই মানবদেহের জন্য সহনীয় মাত্রার চেয়ে তিন থেকে ২০ গুণ বেশি বিষাক্ত উপাদান শনাক্ত হয়। বলা হচ্ছে, ৩৫ শতাংশ ফল ও ৫০ শতাংশ শাকসবজির নমুনাতেই বিষাক্ত বিভিন্ন কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আম ও মাছের ৬৬টি নমুনায় পাওয়া গেছে ফরমালিন। মুরগির মাংস ও মাছে পাওয়া গেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব। চালের ১৩টি নমুনায় মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত বিষক্রিয়া সম্পন্ন আর্সেনিক, পাঁচটি নমুনায় পাওয়া গেছে ক্যাডমিয়াম। লবণেও সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০-৫০ গুণ বেশি সীসা রয়েছে। হলুদের গুঁড়ার ৩০টি নমুনায় ছিল সীসা ও অন্যান্য ধাতু।
চালে বিষ ॥ আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির (এসিএস) গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের চালে প্রতিকেজিতে ক্যাডমিয়াম রয়েছে দশমিক ০১ থেকে দশমিক ৩ পিপিএম পর্যন্ত এবং এর পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। এসিএসের গবেষণায় দেখা যায়, চালে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরই শ্রীলঙ্কার অবস্থান। এ ছাড়া উপমহাদেশের অন্যদেশগুলোর চালেও সহনীয়মাত্রার চেয়ে বেশি ক্যাডমিয়াম রয়েছে। গত বছর অক্টোবরে এসিএস তাদের গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। চাল বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য। বাংলাদেশের আবাদি জমির শতকরা প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ ভাগেই ধানের চাষ হয়ে থাকে। আর শতকরা ৯২ জনই ধানচাষী। এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ক্যালোরির শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই আসে চাল তথা ভাত থেকে। আমাদের প্রাণশক্তির উৎস ভাতেই এখন বিষাক্ত ক্যাডমিয়ামের অস্তিত্ব রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম রফিকুল ইসলাম এই গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ড. এম রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, নিম্নমানের টিএসপি সার প্রয়োগই ক্যাডমিয়ামের প্রধান কারণ। এ ছাড়া বাংলাদেশের টেক্সটাইল, ট্যানারিসহ নানা শিল্প কারখানার বর্জ্য নদী বা জলাশয়ে গিয়ে পানি দূষিত করছে। শুধু চাল নয়, শাকসবজি ও নদীর পানিতে ক্যাডমিয়াম পাওয়া যাচ্ছে। ভেজাল টিএসপি সার এবং শিল্প, বিশেষ করে ট্যানারির বর্জ্যে উচ্চমাত্রার ক্যাডমিয়াম রয়েছে। আর বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ টিএসপি সার ভেজাল। ক্যাডমিয়াম এক ধরনের ক্ষতিকারক হেভি মেটাল। এটি শরীরে দীর্ঘদিন জমা হতে থাকলে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মানবদেহে ক্যান্সার এবং কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। তাঁর মতে, ভেজাল সারের কারণে মাটিতে ক্যাডমিয়ামের দূষণ ছড়াচ্ছে। এ জন্য সার আমদানির আগেই তার মান পরীক্ষা এবং শিল্প দূষণ রোধ করা জরুরী।
মাছে ও মাংসে বিষ ॥ চারপাশে ফরমালিন নিয়ে হইচই হলেও মাছ চাষের সময় জলাশয়ে এন্টিবায়োটিকসহ নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি আড়ালেই রয়ে যায়। বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ যে ক্ষতি করছে, তার বিরুদ্ধে তেমন কিছু হচ্ছে না। মাছ, ব্রয়লার মুরগি দ্রুত বড় এবং গরু মোটাতাজাকরণের জন্য এগ্রিমিনফোর্ট নামের এক প্রকার ভিটামিন ব্যবহার করা হয়। মানুষ যেভাবে এরিস্টোভিট ভিটামিন গ্রহণ করে। একইভাবে এগ্রিমিনফোর্ট ব্যবহার করা হচ্ছে চাষ প্রক্রিয়ায়। সাধারণত ১০০ কেজি খাবারের মধ্যে এক কেজি এগ্রিমিনফোর্ট মেশানো হয়। এগ্রিমিনফোর্ট মাছ এবং মাংসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে কিডনি, যকৃৎ, হৃৎপি-ের ক্ষতি করে। এমনকি তা ক্যান্সারেরও ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের বিভিন্ন পুকুরে মাছের খাবারে ব্যবহৃত রাসায়নিক নিয়ে গবেষণা করে দেখেছে, খামারগুলোতে ১০টি ভিন্ন শ্রেণীর এবং ৫০টি ভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। ব্যবহৃত রাসায়নিকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ছাড়াও রয়েছে কীটনাশক। সাধারণত কার্প জাতীয় মাছ ছাড়াও তেলাপিয়া, মাগুর ও পাঙ্গাসসহ আরও কয়েকটি জাতের মাছ চাষে এ সব ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, চাষ করা মাছে বিষাক্ত পদার্থের উপাদান (হেভি মেটালস) থাকে। একইভাবে এগ্রিমিনফোর্ট নামের দ্রুত বর্ধক ব্যবহার করায় মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে মাঝে মাঝে ফরমালিন পরীক্ষা হলেও মাছের অন্য পরীক্ষা হয় না। মাছ রফতানির সময় বিষাক্ত পদার্থের উপাদান (হেভি মেটালস) আছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়। এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ায় ২০০৯ সালে আট মাস ইউরোপে বাংলাদেশের চিংড়ি রফতানি বন্ধ ছিল। তার পর নানা প্রচেষ্টায় মাছের খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত পরীক্ষার ব্যবস্থার পর অবস্থার উন্নতি হয়। যদিও দেশের বাজারে মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে এ সব নিয়মকানুন মানার কোন বালাই নেই।
সবজিতে বিষ ॥ সবজির উৎপাদন পর্যায়ে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৭ ধরনের হরমোন প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ সব হরমোন প্রয়োগ করে ফসলের আকার বড় হয়। এ ছাড়া কীটনাশক প্রয়োগের ফলে জনস্বাস্থ্য ও প্রাণবৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। ফসলের পুষ্টিমানও হয় নিম্নমানের। জানা গেছে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনের জন্য নিষিদ্ধঘোষিত ডিডিটিসহ ভারতীয় চোরাই ও ক্ষতিকর ১৭ প্রকার কীটনাশক ব্যবহার হয়। এতে ফসলের জন্য উপকারী পোকাও মরে যাচ্ছে। এ সব কীটনাশক প্রয়োগের কমপক্ষে সাত দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে সবজি তোলা যায় না। কিন্তু কৃষকরা এ সব নিয়ম মানেন না। এ ছাড়া মৌসুমের আগেই কাঁচা টমেটো বাজারে পাওয়া যায়। এ সব টমেটো পাঁকানোর জন্যও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস মনে করেন, সবজির রাসায়নিক সব থেকে বেশি প্রাণঘাতী। তাৎক্ষণিক ক্ষতি না করলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব মারাত্মক, যা কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। পানি দিয়ে ধোয়া এমনকি রান্নার পরও এ বিষ নষ্ট হয় না।
ফলে বিষ ॥ ফলের মধ্যে উৎপাদন পর্যায়ে সব থেকে বেশি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় আমে। মুকুল অবস্থায় কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। আমের গুটি অবস্থায় আবারও এক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে করা হয়। সাধারণত আমের রঙ ভাল হওয়ার জন্য ‘সেভেন পাউডার নামের রাসায়নিক স্প্রে করা হয় গুটি অবস্থায়। এ ছাড়া আম সংগ্রহের পর তা পরিষ্কার করার জন্য নয়ন পাউডার। এ ছাড়া আম পাকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় কার্বাইড। কার্বাইড আমের ঝুড়ির মধ্যে দিলে বাতাসের সংস্পর্শে এসে তা অক্সিএসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাস সাধারণত লোহা কাটার কাজে ব্যবহার করা হয়। অক্সিএসিটিলিন আমকে দ্রুত পাকিয়ে দেয়। এতে আমের ভেতরে কাঁচা থাকলেও উপরে পেকে যায়। ক্রেতা এ ধরনের আম কিনে প্রতারণার শিকার হন। এ ছাড়া আমদানি করা ফলে ব্যাপকভাবে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। আর দেশীয় ফলও এর শিকার হচ্ছে এখন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি এবং খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষক ড. শাহ মোঃ কেরামত আলী জানান, গাছে থাকতেই আমে তিনবার রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। আবার সংগ্রহের পর দেয়া হয় কার্বাইড। সাধারণত ফলন বেশি হওয়া এবং বেশি মুনাফার লোভে কাঁচা আমে কার্বাইড দেয়া হয়। এতে ফলের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব পড়ে মানুষের শরীরে।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment