ট্রাইব্যুনালে নতুন মামলা আসতে শুরু করেছে
যুদ্ধাপরাধী বিচার
বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা কমে গেলেও আবার নতুন মামলা আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলাগুলোও প্রায় শেষের দিকে। ট্রাইব্যুনালে ৫টি নতুন মামলা এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ তালুকদার, সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন, পিরোজপুরের আব্দুল জব্বার ও কিশোরগঞ্জের রাজাকার হাসান আলী। শীঘ্র আরও কিছু মামলা আসবে বলে জানা গেছে। তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমরা নতুন কিছু মামলার তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের নাম বলব না। তবে কোন অবস্থাতেই ট্রাইব্যুনাল মামলা শূন্য হবে না। তদন্ত সংস্থায় এখন পর্যন্ত যে সমস্ত অভিযোগ এসেছে তা যাচাই বাছাই করেই আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি শীঘ্র কয়েকজনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী জনকণ্ঠকে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে তালিকাভুক্ত মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলার বিচার কাজ চলছে। এ ছাড়া আরও নতুন মামলা এসেছে। কিছুদিনের মধ্যে তদন্ত সংস্থা থেকে আরও কিছু মামলা আসবে। এদিক থেকে বলা যায় ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা কমেনি। যেগুলো দায়ের হয়েছিল তার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু মামলা রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আরও মামলা আসছে। কাজেই ট্রাইব্যুনালে যে মামলা নেই, কিছু মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সঠিক নয়।
নতুন মামলার মধ্যে ১০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পর পরোয়ানা জারির পর ১১ জুন বুধবার ভোরে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের সোলারকোলা গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল লতিফ তালুকদারকে (৭৫) গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারের পর ১২ জুন আব্দুল লতিফকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর পর ট্রাইব্যুনাল তাকে (আসামি) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। অপর দুইজনকে গ্রেফতার করা যায়নি।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা এবং ২০০ জনকে ধর্মান্তরের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছেন। ২০০৯ সালে নিমাই চন্দ্র দাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, উপরোক্ত তিন আসামি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র বাজাকার বাহিনীতে যোগদান করে। পাকিস্তান দখলদার বাহিনী, জামায়াতে ইসলাম, মুসলিম লীগ অন্যান্য স্বাধীনতা বিরোধীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থক এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার জন্য এলাকায হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিত করাসহ অন্যান্য সকল প্রকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন।
আসামি সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন সয়েড়া কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি মুসলিম লীগের একজন নেতা ছিলেন। ঢাকার কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির নির্দেশে মোতাবেক তিনি বাগেরহাট মহকুমার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন পর্যায় মিটিং করার মাধ্যমে শান্তি কমিটি গঠন করেন। জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে মিটিং করাকালীন তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আওয়ামী লীগ এবং হিন্দু সম্প্রদায় পাকিস্তানের শক্র, এদের সবাইকে ধ্বংস করে দিতে হবে। হিন্দুদের মালামাল ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য হালাল, হিন্দুদের সম্পদ লুটেপুটে খাও।’ বাগেরহাটে হতাকা-ের জন্য থানা ও ইউনিয়নের সবাই তাকে সিরাজ কসাই বলে চিনতেন। এ মামলা পরিচালনা করছেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আর মামলার তদন্ত করছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন।
তদন্ত সংস্থা সূত্রে আরও জানা গেছে, আসামি আকরাম খা বাগেরহাট মোড়েলগঞ্জ থানার দৈবজ্ঞহাটি রাজাকার ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন। আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদারসহ ৫০ জন সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীকে নিয়ে দৈবজ্ঞহাটির হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস বাড়ির দোতলা ভবন দখল করে ক্যাম্প স্থাপন করে। উক্ত ক্যাম্পে অবস্থান করে এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিত করাসহ অন্যান্য সকল প্রকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন। আসামি সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার মাঝে মাঝে উক্ত ক্যাম্পে পরিদর্শন করেন এবং আসামি আকরাম খাঁ, আব্দুল লতিফ তালুকদারসহ অন্যান্য রাজাকারদের সঙ্গে গোপনে মিটিং করে সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধ কর্মকা- পরিচালনা করেন।
আব্দুল জব্বার
অন্যদিকে পিরোজপুরের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে পরবর্তী আদেশের জন্য ৬ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু আসামি পলাতক রয়েছে, সে কারণে আসামির পক্ষে সরকার কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগসহ দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলা পরিচালনা করছেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন।
তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার হত্যা, গণহত্যাসহ ৩৬ জনকে হত্যা করেছে। প্রায় ২০০ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্মান্তরিতসহ ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, এটা পিরোজপুরের দ্বিতীয় মামলা। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত করেছেন। আব্দুল জব্বার বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জব্বার পিরোজপুরের জনগণের কাছে এক আতঙ্ক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নির্দেশে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ায় ব্যাপক হত্যাকা- সংঘটিত হয়। আওয়ামী লীগ ও হিন্দু জনগণকে বেছে বেছে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজাকার বাহিনী গঠন করে মঠবাড়িযায় লুটপাট চালিয়েছেন। পরে দোকানপাট ও ঘরে আগুন জ্বালিয়ে তা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
একাত্তরের জব্বার বাহিনীর প্রধান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভোল পাল্টান। ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পিরোজপুর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই তিনি পলাতক রয়েছেন। পলাতক অবস্থাতেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
হাসান আলী
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক আসামি কিশোরগঞ্জের রাজাকার সৈয়দ মোঃ হাসান আলীর তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ৩০ জুন আদেশ প্রদান করবেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন পক্ষ দুই মাস সময় চাওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ প্রদান করেন। সৈয়দ হাসান আলীর বাবা পূর্ব পাকিস্তানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি করতেন এবং তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি নিজে তারাইলের রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তবে হাসান আলীর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলেননি এ প্রসিকিউটর। তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, হাসান আলীর বিরুদ্ধে ৬ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে একাত্তরের ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার কিশোরগঞ্জের তারাইল থানাধীন বোরগাঁও সাকিনের বেলংকা রোডে নৌকা থেকে নামিয়ে ৮ জন যাত্রীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১১ ডিসেম্বর আব্দুল রশিদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একাত্তরের ২৭ এপ্রিল তারাইলের সানাইন গ্রামে পূর্বপাড়ার হাসান আহমেদ হেচুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৯ অক্টোবর হাসান আলীর নেতৃত্বে তাড়াইলের শিমুল হাটি পালপাড়াতে হত্যাকা- ঘটানো হয়। এ দিন হাসান আলীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী পালপাড়া ঘিরে ফেলে। প্রথমে গ্রামের হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে লুটপাট চালানো হয়। এর পর তাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঘর থেকে পুরুষরা বের হওয়ার পর তাদের ধরে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এ মামলার প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে আবুল কালাম আজাদ। আর তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন হরি দেব নাথ।
নয়টি মামলার রায়
ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত নয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। সর্ব প্রথম ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। এর পর ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ-। ১৭ সেপ্টেম্বর আপীল বিভাগ এ মামলার চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করে রায় প্রদান করা হয়। ১২ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। তৃতীয় রায়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় প্রদান করেছেন। চতুর্থ রায়ে ৯ মে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। পঞ্চম রায়ে ১৫ জুলাই জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদ- প্রদান করা হয়। ষষ্ঠ রায়ে ১৭ জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকেও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রামের সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হয়। অষ্টম রায়ে ৯ অক্টোবর বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয। নবম রায়ে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ৩ নবেম্বর মৃত্যুদ- প্রদান করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
৫টি মামলা সিএভি
আপীল বিভাগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ এখন মোট ৫টি মামলা রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। এ মামলার রায়গুলো যে কোনদিন ঘোষণা করা হতে পারে। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে আপীল বিভাগে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ট্রাইব্যুনাল-১ এ বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপির নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন (পলাতক), আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোঃ মোবারক হোসেন। ট্রাইব্যুনাল-২ এ রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য মীর কাশেম আলী।
বিচার কাজ চলছে
দুটি ট্রাইব্যুনালে আরও তিনটি মামলা বিচার কাজ চলছে। সেগুলো হলো জামায়াতের নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুস সোবহান, জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সার। মামলাগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রসিকিউশন পক্ষ আশা করছেন অতি শীঘ্র এদের বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হবে।
তদন্ত চলছে
বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কয়েকটি মামলা তদন্ত করছে। তার মধ্যে রয়েছে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রুস্তম আলী, আমজাদ মিনা, যশোরের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, মোঃ নাসির, আতাউর রহমান। একই সঙ্গে ক্রিমিনাল সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করলেও সেটির কাজ এখন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমরা নতুন কিছু মামলার তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের নাম বলব না। তবে কোন অবস্থাতেই ট্রাইব্যুনাল মামলা শূন্য হবে না। তদন্ত সংস্থায় এখন পর্যন্ত যে সমস্ত অভিযোগ এসেছে তা যাচাই বাছাই করেই আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি শীঘ্র কয়েকজনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী জনকণ্ঠকে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে তালিকাভুক্ত মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলার বিচার কাজ চলছে। এ ছাড়া আরও নতুন মামলা এসেছে। কিছুদিনের মধ্যে তদন্ত সংস্থা থেকে আরও কিছু মামলা আসবে। এদিক থেকে বলা যায় ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা কমেনি। যেগুলো দায়ের হয়েছিল তার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু মামলা রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আরও মামলা আসছে। কাজেই ট্রাইব্যুনালে যে মামলা নেই, কিছু মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সঠিক নয়।
নতুন মামলার মধ্যে ১০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পর পরোয়ানা জারির পর ১১ জুন বুধবার ভোরে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের সোলারকোলা গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল লতিফ তালুকদারকে (৭৫) গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারের পর ১২ জুন আব্দুল লতিফকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর পর ট্রাইব্যুনাল তাকে (আসামি) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। অপর দুইজনকে গ্রেফতার করা যায়নি।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা এবং ২০০ জনকে ধর্মান্তরের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছেন। ২০০৯ সালে নিমাই চন্দ্র দাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, উপরোক্ত তিন আসামি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র বাজাকার বাহিনীতে যোগদান করে। পাকিস্তান দখলদার বাহিনী, জামায়াতে ইসলাম, মুসলিম লীগ অন্যান্য স্বাধীনতা বিরোধীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থক এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার জন্য এলাকায হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিত করাসহ অন্যান্য সকল প্রকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন।
আসামি সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন সয়েড়া কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি মুসলিম লীগের একজন নেতা ছিলেন। ঢাকার কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির নির্দেশে মোতাবেক তিনি বাগেরহাট মহকুমার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন পর্যায় মিটিং করার মাধ্যমে শান্তি কমিটি গঠন করেন। জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে মিটিং করাকালীন তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আওয়ামী লীগ এবং হিন্দু সম্প্রদায় পাকিস্তানের শক্র, এদের সবাইকে ধ্বংস করে দিতে হবে। হিন্দুদের মালামাল ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য হালাল, হিন্দুদের সম্পদ লুটেপুটে খাও।’ বাগেরহাটে হতাকা-ের জন্য থানা ও ইউনিয়নের সবাই তাকে সিরাজ কসাই বলে চিনতেন। এ মামলা পরিচালনা করছেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আর মামলার তদন্ত করছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন।
তদন্ত সংস্থা সূত্রে আরও জানা গেছে, আসামি আকরাম খা বাগেরহাট মোড়েলগঞ্জ থানার দৈবজ্ঞহাটি রাজাকার ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন। আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদারসহ ৫০ জন সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীকে নিয়ে দৈবজ্ঞহাটির হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস বাড়ির দোতলা ভবন দখল করে ক্যাম্প স্থাপন করে। উক্ত ক্যাম্পে অবস্থান করে এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিত করাসহ অন্যান্য সকল প্রকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন। আসামি সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার মাঝে মাঝে উক্ত ক্যাম্পে পরিদর্শন করেন এবং আসামি আকরাম খাঁ, আব্দুল লতিফ তালুকদারসহ অন্যান্য রাজাকারদের সঙ্গে গোপনে মিটিং করে সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধ কর্মকা- পরিচালনা করেন।
আব্দুল জব্বার
অন্যদিকে পিরোজপুরের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে পরবর্তী আদেশের জন্য ৬ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু আসামি পলাতক রয়েছে, সে কারণে আসামির পক্ষে সরকার কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগসহ দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলা পরিচালনা করছেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন।
তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার হত্যা, গণহত্যাসহ ৩৬ জনকে হত্যা করেছে। প্রায় ২০০ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্মান্তরিতসহ ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, এটা পিরোজপুরের দ্বিতীয় মামলা। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত করেছেন। আব্দুল জব্বার বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জব্বার পিরোজপুরের জনগণের কাছে এক আতঙ্ক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নির্দেশে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ায় ব্যাপক হত্যাকা- সংঘটিত হয়। আওয়ামী লীগ ও হিন্দু জনগণকে বেছে বেছে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজাকার বাহিনী গঠন করে মঠবাড়িযায় লুটপাট চালিয়েছেন। পরে দোকানপাট ও ঘরে আগুন জ্বালিয়ে তা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
একাত্তরের জব্বার বাহিনীর প্রধান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভোল পাল্টান। ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পিরোজপুর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই তিনি পলাতক রয়েছেন। পলাতক অবস্থাতেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
হাসান আলী
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক আসামি কিশোরগঞ্জের রাজাকার সৈয়দ মোঃ হাসান আলীর তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ৩০ জুন আদেশ প্রদান করবেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশন পক্ষ দুই মাস সময় চাওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ প্রদান করেন। সৈয়দ হাসান আলীর বাবা পূর্ব পাকিস্তানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি করতেন এবং তৎকালীন কিশোরগঞ্জ মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি নিজে তারাইলের রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তবে হাসান আলীর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলেননি এ প্রসিকিউটর। তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, হাসান আলীর বিরুদ্ধে ৬ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে একাত্তরের ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার কিশোরগঞ্জের তারাইল থানাধীন বোরগাঁও সাকিনের বেলংকা রোডে নৌকা থেকে নামিয়ে ৮ জন যাত্রীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১১ ডিসেম্বর আব্দুল রশিদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একাত্তরের ২৭ এপ্রিল তারাইলের সানাইন গ্রামে পূর্বপাড়ার হাসান আহমেদ হেচুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৯ অক্টোবর হাসান আলীর নেতৃত্বে তাড়াইলের শিমুল হাটি পালপাড়াতে হত্যাকা- ঘটানো হয়। এ দিন হাসান আলীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী পালপাড়া ঘিরে ফেলে। প্রথমে গ্রামের হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে লুটপাট চালানো হয়। এর পর তাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ঘর থেকে পুরুষরা বের হওয়ার পর তাদের ধরে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এ মামলার প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে আবুল কালাম আজাদ। আর তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন হরি দেব নাথ।
নয়টি মামলার রায়
ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত নয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। সর্ব প্রথম ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। এর পর ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ-। ১৭ সেপ্টেম্বর আপীল বিভাগ এ মামলার চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করে রায় প্রদান করা হয়। ১২ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। তৃতীয় রায়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় প্রদান করেছেন। চতুর্থ রায়ে ৯ মে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। পঞ্চম রায়ে ১৫ জুলাই জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদ- প্রদান করা হয়। ষষ্ঠ রায়ে ১৭ জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকেও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রামের সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হয়। অষ্টম রায়ে ৯ অক্টোবর বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয। নবম রায়ে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ৩ নবেম্বর মৃত্যুদ- প্রদান করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
৫টি মামলা সিএভি
আপীল বিভাগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ এখন মোট ৫টি মামলা রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। এ মামলার রায়গুলো যে কোনদিন ঘোষণা করা হতে পারে। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে আপীল বিভাগে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ট্রাইব্যুনাল-১ এ বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপির নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন (পলাতক), আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোঃ মোবারক হোসেন। ট্রাইব্যুনাল-২ এ রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য মীর কাশেম আলী।
বিচার কাজ চলছে
দুটি ট্রাইব্যুনালে আরও তিনটি মামলা বিচার কাজ চলছে। সেগুলো হলো জামায়াতের নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুস সোবহান, জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সার। মামলাগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রসিকিউশন পক্ষ আশা করছেন অতি শীঘ্র এদের বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হবে।
তদন্ত চলছে
বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কয়েকটি মামলা তদন্ত করছে। তার মধ্যে রয়েছে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রুস্তম আলী, আমজাদ মিনা, যশোরের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, মোঃ নাসির, আতাউর রহমান। একই সঙ্গে ক্রিমিনাল সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করলেও সেটির কাজ এখন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment