উন্নয়ন নিয়ে তর্ক তুললেই দেশবিরোধী তকমা জুটবে নাকি?
কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু সিদ্ধান্তে এমনই প্রশ্ন উঠে আসছে৷ খটকা লাগে, ভারতে জরুরি অবস্থা কি স্রেফ ইতিহাস? লিখছেন সৌমিত্র দস্তিদার
সত্তর দশকে সমাজ রাজনীতির সঙ্কট কালে ইন্দিরা গান্ধী দু'দু'টি আইন করেছিলেন৷ একটি উনিশশো তিয়াত্তরে; ফেরা এবং জরুরি অবস্থার সময় উনিশশো ছিয়াত্তর সালে তৈরি হয়, ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট৷ সংক্ষেপে এফ সি আর এ৷ দু'টি পরিপূরক আইনেরই 'উদ্দেশ্য মহত্'৷ বিদেশি টাকা ভারতে কোন কোন সংস্থা পাচ্ছে তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অন্য দেশের টাকা এ দেশকে কোনও ভাবে বিপন্ন করছে কি না, করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া৷ এই আইনের মধ্যে দিয়ে জনমানসে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হল, এখনও হচ্ছে- দেশমাতৃকাকে অন্য দেশ ও তার এ দেশের এজেন্টরা নানা ভাবে উত্যক্ত করছে, তার প্রতিবাদে সারা দেশ যেন সোচ্চার হয়৷ উগ্র জাতীয়তাবাদের মধ্যে দিয়ে সরকারের যাবতীয় অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলা, ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রের বিপরীতে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম নেওয়া- যা আদতে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ৷ ঠিক তাই আজ এত দিন বাদেও পঁচিশ জুন, উনিশশো পঁচাত্তর জরুরি অবস্থার কালো সময়কে গণতন্ত্রপ্রেমীরা মেনে নিতে পারেন না৷
এত বিশদে, এত তুলনামূলক কথা বলার প্রয়োজনই হত না যদি না হঠাত্ই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্বরাষ্ট্রদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগ অতিসক্রিয় হয়ে প্রেসকে অত্যন্ত সুচতুর ভঙ্গিতে 'ধরে ফেলেছি ধরে ফেলেছি' ভাব নিয়ে জানাতেন না যে এ দেশের অনেক সংগঠন ও ব্যক্তি আছেন যারা নিয়মিত বিদেশ থেকে টাকা পাচ্ছেন দেশের যাবতীয় উন্নয়নকে বন্ধ করে দিতে৷ দেশবিরোধী এই সব ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন৷ অভিযোগের আঙুল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজকর্মীদের দিকে৷ ইতিমধ্যেই এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে চাপানউতোর শুরু হয়ে গেছে৷ সাধারণ লোকের কেউ কেউ বলছেন যে 'এ অবশ্যই সাধু উদ্যোগ, বিদেশের টাকা নিয়ে দেশের উন্নয়ন বন্ধ করা চলতে পারে না৷' এই স্বদেশি জাগরণের তাত্ত্বিকেরা কিন্ত্ত এ দেশের 'উন্নয়নে' বিদেশি, কর্পোরেট ও মুত্সুদ্দি পুঁজি কত লগ্নি করছে সেই সত্য প্রকাশ্যে আনছেন না৷ প্রকাশ্যে এ-ও জানাচ্ছেন না, ভারতে প্রায় চল্লিশ হাজার এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মূলত সেই সব ব্যক্তি ও সংগঠনের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছে কেন, যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের দেশের জল, জঙ্গল, জমিকে নতুন উপনিবেশ তৈরির বিরুদ্ধে দরিদ্র আদিবাসী দলিতদের নিয়ে গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷
মজা হচ্ছে, রাজস্থান হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি পি ডি কুডালের নেতৃত্বে একটি কমিটি করেছিলেন পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি গান্ধী৷ দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পরে পরেই উনিশশো বিরাশি সালে৷ এই কুডাল সাহেব আবার জনতা সরকারেরও উপদেষ্টা ছিলেন৷ তখন তার সুপারিশে সরকার আঘাত হেনেছিল মূলত যে দু'টি সংগঠনের বিরুদ্ধে, তাদের একটি পি ইউ সি এল (পিপলস ইউনিয়ন অফ সিভিল লিবার্টিজ) অন্যটি পি ইউ ডি আর (পিপলস ইউনিয়ন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস)৷
আজ এত দিন বাদে আবার যখন জাতীয়তাবাদের ধুয়ো তুলে জল ঘোলা করার চেষ্টা হচ্ছে তারও লক্ষ্য কিন্ত্ত তারা৷ আগেই বলেছি যারা কোনও না কোনও ভাবে দীর্ঘদিনের গণআন্দোলনের সক্রিয় কর্মী৷ মেধা পাটকর, টমাস কোচারি, প্রফুল্ল বিদোয়াই, অচিন বিনায়ক, অ্যাডমিরাল রামদাস, কে পি শশি, বাবলু লাইথাংবাম প্রমুখ৷ যখন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে একশো শতাংশ বিদেশি লগ্নি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন এ দেশে এনজিও-য় বিদেশি লগ্নি খোঁজার কথা বলা শুধু হাস্যকরই নয় এক্কেবারে রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক৷ পসকো প্রকল্পে চুয়ান্ন হাজার কোটি বিদেশি লগ্নি হলে অন্তত কয়েক হাজার দলিত আদিবাসী জমি হারাবে৷ এর বিরুদ্ধে গ্রামের পর গ্রামে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠেছে৷ উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিক বড়ো বাঁধ, বিদ্যুত্ প্রকল্প তৈরির ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি৷ নিজে আসাম, অরুণাচল সীমান্তে সুবর্ণসিরি নদীর ওপর যে বিপুলাকার বাঁধ গড়ে তোলা হচ্ছে তা নিয়ে ছবি বানাতে গিয়ে দেখেছি অসাধারণ জঙ্গল কী ভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে৷ কুডানকুলামে প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুত্ নির্মাণ চুল্লির ক্ষেত্রেও সেই এক ছবি৷ বিদেশি ট্রলার দক্ষিণ ভারতের সমুদ্র থেকে মাছ লুঠ করছে প্রতি দিন প্রতি রাতে৷ তার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন টম কোচার৷ ভারতীয় মত্স্যজীবীদের স্বার্থে৷ তার বিরুদ্ধেও আইবি প্রশ্ন তুলেছে৷ মণিপুরের বাবলু লাইথোংবামের দিকেও আঙুল তোলা হচ্ছে৷ সেই বাবলু যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কাশ্মীরের কুখ্যাত আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট-এর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর দেশের বিবেক জাগ্রত করার কাজে সক্রিয় থেকেছেন৷
কর্পোরেট পুঁজির মদতে ক্ষমতায় আসা সরকারের এই সব গণআন্দোলন দমনের জন্যে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা ছাড়া আর অন্য কোনও পথ নেই৷ উদ্দেশ্য যদি যথার্থ হত তা হলে স্রেফ গণসংগ্রামের সহায়ক ব্যক্তি ও সংগঠনের কথা উঠে আসত না৷ গোয়েন্দা রিপোর্টে কিন্ত্ত সংঘপরিবারের মদতে চলা অন্যান্য গণসংগঠনের নাম, এক বারের জন্যও উল্লেখ করা হয়নি৷আসলে এ দেশের অসম বিকাশের পিছনে ঠিক কী কারণ বা বাজার অর্থনীতির বিকল্প পথ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই শাসকদের বিরাগভাজন হতে হয়৷ উন্নয়ন নিয়ে তর্ক তুললেই যদি দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়া হয় তা কিন্ত্ত গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ঙ্কর বিপদ৷ বিপ্লবী শিবিরের অনেকের মতে এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আসলে সেফটি ভালভ- যা কখনও সমাজ পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে না৷ তর্কের খাতিরে যদি সেই সেফটি ভালভ তত্ত্ব মেনে নিই, তা হলে কিন্ত্ত অন্য আর এক সম্ভাবনা সামনে আসে৷ সেফটি ভালভও যদি ধাক্কা খায় তখন সরাসরি রাষ্ট্র বনাম জনগণের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হবে৷ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক রুদ্র এই পরিস্থিতিকে 'আগ্নেয়গিরির শিখরে পিকনিক' বলেছিলেন৷ অগ্ন্যুত্পাত হলে কিন্ত্ত শাসকদের সাধের বনভোজনই তছনছ হয়৷ এ শিক্ষা ইতিহাসের৷ রাজনৈতিক অভিসন্ধি কিছুদিন বিরোধী মুখ বন্ধ রাখতে পারে৷ চির দিন নয়৷
সত্তর দশকে সমাজ রাজনীতির সঙ্কট কালে ইন্দিরা গান্ধী দু'দু'টি আইন করেছিলেন৷ একটি উনিশশো তিয়াত্তরে; ফেরা এবং জরুরি অবস্থার সময় উনিশশো ছিয়াত্তর সালে তৈরি হয়, ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট৷ সংক্ষেপে এফ সি আর এ৷ দু'টি পরিপূরক আইনেরই 'উদ্দেশ্য মহত্'৷ বিদেশি টাকা ভারতে কোন কোন সংস্থা পাচ্ছে তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অন্য দেশের টাকা এ দেশকে কোনও ভাবে বিপন্ন করছে কি না, করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া৷ এই আইনের মধ্যে দিয়ে জনমানসে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হল, এখনও হচ্ছে- দেশমাতৃকাকে অন্য দেশ ও তার এ দেশের এজেন্টরা নানা ভাবে উত্যক্ত করছে, তার প্রতিবাদে সারা দেশ যেন সোচ্চার হয়৷ উগ্র জাতীয়তাবাদের মধ্যে দিয়ে সরকারের যাবতীয় অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলা, ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রের বিপরীতে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম নেওয়া- যা আদতে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ৷ ঠিক তাই আজ এত দিন বাদেও পঁচিশ জুন, উনিশশো পঁচাত্তর জরুরি অবস্থার কালো সময়কে গণতন্ত্রপ্রেমীরা মেনে নিতে পারেন না৷
এত বিশদে, এত তুলনামূলক কথা বলার প্রয়োজনই হত না যদি না হঠাত্ই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্বরাষ্ট্রদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগ অতিসক্রিয় হয়ে প্রেসকে অত্যন্ত সুচতুর ভঙ্গিতে 'ধরে ফেলেছি ধরে ফেলেছি' ভাব নিয়ে জানাতেন না যে এ দেশের অনেক সংগঠন ও ব্যক্তি আছেন যারা নিয়মিত বিদেশ থেকে টাকা পাচ্ছেন দেশের যাবতীয় উন্নয়নকে বন্ধ করে দিতে৷ দেশবিরোধী এই সব ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন৷ অভিযোগের আঙুল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজকর্মীদের দিকে৷ ইতিমধ্যেই এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে চাপানউতোর শুরু হয়ে গেছে৷ সাধারণ লোকের কেউ কেউ বলছেন যে 'এ অবশ্যই সাধু উদ্যোগ, বিদেশের টাকা নিয়ে দেশের উন্নয়ন বন্ধ করা চলতে পারে না৷' এই স্বদেশি জাগরণের তাত্ত্বিকেরা কিন্ত্ত এ দেশের 'উন্নয়নে' বিদেশি, কর্পোরেট ও মুত্সুদ্দি পুঁজি কত লগ্নি করছে সেই সত্য প্রকাশ্যে আনছেন না৷ প্রকাশ্যে এ-ও জানাচ্ছেন না, ভারতে প্রায় চল্লিশ হাজার এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মূলত সেই সব ব্যক্তি ও সংগঠনের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছে কেন, যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের দেশের জল, জঙ্গল, জমিকে নতুন উপনিবেশ তৈরির বিরুদ্ধে দরিদ্র আদিবাসী দলিতদের নিয়ে গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷
মজা হচ্ছে, রাজস্থান হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি পি ডি কুডালের নেতৃত্বে একটি কমিটি করেছিলেন পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি গান্ধী৷ দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পরে পরেই উনিশশো বিরাশি সালে৷ এই কুডাল সাহেব আবার জনতা সরকারেরও উপদেষ্টা ছিলেন৷ তখন তার সুপারিশে সরকার আঘাত হেনেছিল মূলত যে দু'টি সংগঠনের বিরুদ্ধে, তাদের একটি পি ইউ সি এল (পিপলস ইউনিয়ন অফ সিভিল লিবার্টিজ) অন্যটি পি ইউ ডি আর (পিপলস ইউনিয়ন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস)৷
আজ এত দিন বাদে আবার যখন জাতীয়তাবাদের ধুয়ো তুলে জল ঘোলা করার চেষ্টা হচ্ছে তারও লক্ষ্য কিন্ত্ত তারা৷ আগেই বলেছি যারা কোনও না কোনও ভাবে দীর্ঘদিনের গণআন্দোলনের সক্রিয় কর্মী৷ মেধা পাটকর, টমাস কোচারি, প্রফুল্ল বিদোয়াই, অচিন বিনায়ক, অ্যাডমিরাল রামদাস, কে পি শশি, বাবলু লাইথাংবাম প্রমুখ৷ যখন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে একশো শতাংশ বিদেশি লগ্নি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন এ দেশে এনজিও-য় বিদেশি লগ্নি খোঁজার কথা বলা শুধু হাস্যকরই নয় এক্কেবারে রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক৷ পসকো প্রকল্পে চুয়ান্ন হাজার কোটি বিদেশি লগ্নি হলে অন্তত কয়েক হাজার দলিত আদিবাসী জমি হারাবে৷ এর বিরুদ্ধে গ্রামের পর গ্রামে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠেছে৷ উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিক বড়ো বাঁধ, বিদ্যুত্ প্রকল্প তৈরির ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি৷ নিজে আসাম, অরুণাচল সীমান্তে সুবর্ণসিরি নদীর ওপর যে বিপুলাকার বাঁধ গড়ে তোলা হচ্ছে তা নিয়ে ছবি বানাতে গিয়ে দেখেছি অসাধারণ জঙ্গল কী ভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে৷ কুডানকুলামে প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুত্ নির্মাণ চুল্লির ক্ষেত্রেও সেই এক ছবি৷ বিদেশি ট্রলার দক্ষিণ ভারতের সমুদ্র থেকে মাছ লুঠ করছে প্রতি দিন প্রতি রাতে৷ তার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন টম কোচার৷ ভারতীয় মত্স্যজীবীদের স্বার্থে৷ তার বিরুদ্ধেও আইবি প্রশ্ন তুলেছে৷ মণিপুরের বাবলু লাইথোংবামের দিকেও আঙুল তোলা হচ্ছে৷ সেই বাবলু যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কাশ্মীরের কুখ্যাত আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট-এর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর দেশের বিবেক জাগ্রত করার কাজে সক্রিয় থেকেছেন৷
কর্পোরেট পুঁজির মদতে ক্ষমতায় আসা সরকারের এই সব গণআন্দোলন দমনের জন্যে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা ছাড়া আর অন্য কোনও পথ নেই৷ উদ্দেশ্য যদি যথার্থ হত তা হলে স্রেফ গণসংগ্রামের সহায়ক ব্যক্তি ও সংগঠনের কথা উঠে আসত না৷ গোয়েন্দা রিপোর্টে কিন্ত্ত সংঘপরিবারের মদতে চলা অন্যান্য গণসংগঠনের নাম, এক বারের জন্যও উল্লেখ করা হয়নি৷আসলে এ দেশের অসম বিকাশের পিছনে ঠিক কী কারণ বা বাজার অর্থনীতির বিকল্প পথ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই শাসকদের বিরাগভাজন হতে হয়৷ উন্নয়ন নিয়ে তর্ক তুললেই যদি দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়া হয় তা কিন্ত্ত গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ঙ্কর বিপদ৷ বিপ্লবী শিবিরের অনেকের মতে এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আসলে সেফটি ভালভ- যা কখনও সমাজ পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে না৷ তর্কের খাতিরে যদি সেই সেফটি ভালভ তত্ত্ব মেনে নিই, তা হলে কিন্ত্ত অন্য আর এক সম্ভাবনা সামনে আসে৷ সেফটি ভালভও যদি ধাক্কা খায় তখন সরাসরি রাষ্ট্র বনাম জনগণের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হবে৷ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক রুদ্র এই পরিস্থিতিকে 'আগ্নেয়গিরির শিখরে পিকনিক' বলেছিলেন৷ অগ্ন্যুত্পাত হলে কিন্ত্ত শাসকদের সাধের বনভোজনই তছনছ হয়৷ এ শিক্ষা ইতিহাসের৷ রাজনৈতিক অভিসন্ধি কিছুদিন বিরোধী মুখ বন্ধ রাখতে পারে৷ চির দিন নয়৷
http://eisamay.indiatimes.com/editorial/post-editorial/what-is-the-criterion-of-being-termed-as-a-rebel/articleshow/37174578.cms
No comments:
Post a Comment