Wednesday, June 25, 2014

ফেসবুকে কুকথা, আত্মঘাতী কিশোরী

ফেসবুকে কুকথা, আত্মঘাতী কিশোরী

suicide
এই সময়: ফেসবুকের ওয়ালে 'বন্ধু'র অশ্লীল মন্তব্য সহ্য করতে পারেনি মেয়েটি৷ গলায় ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যা করার আগে দিদিকে লিখে গিয়েছে-- আমাকে মরতেই হল৷ কিন্ত্ত ও যেন কঠোর শাস্তি পায়৷ তোরা দেখিস...

পর্ণশ্রী থানা এলাকার বাড়িতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাত্‍ হুলস্থূল৷ বাড়ির ছোট মেয়ে দোতলার ঘরে৷ অনেক ক্ষণ সাড়াশব্দ নেই৷ ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি৷ পরে প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙে দেখেন, ছাদ থেকে ঝুলছে কিশোরী৷ সদ্য মাধ্যমিক পাশ করা মেয়ে হাসিখুশিই ছিল৷ ইলেভেনেও ভর্তি হয়েছে ক'দিন আগে৷ হঠাত্‍ কী হল?

সুইসাইড নোটে উত্তর পেয়ে যান মা-বাবা-দিদি৷ যা উদ্ধৃত করে পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ হয় ওই কিশোরীর৷ সেখান থেকেই বন্ধুত্ব৷ কিন্ত্ত কিছু দিনের মধ্যেই যুবকের 'অসত্‍ উদ্দেশ্য' বুঝতে পেরে নিজেকে সরিয়ে নেয় সে৷ দূরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করতেই 'বাড়াবাড়ি' শুরু করে ওই যুবক৷ হঠাত্‍ একদিন ফেসবুকের ওয়ালে মেয়েটির সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য 'পোস্ট' করে-- খারাপ মেয়ে৷ সঙ্গে আরও অশ্লীল মন্তব্য৷ ওয়াল 'ওপেন' থাকায় অন্য বন্ধুরাও সেই মন্তব্য দেখে ফেলে৷ কেউ কেউ টিটকিরিও দেয়৷ সহ্য করতে পারেনি মেয়েটি৷ সকলের সামনাসামনি হওয়ার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলে৷ কষ্টে-অবসাদে শেষমেশ নিজেকে সরিয়ে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্তই নেয় বছর সতেরোর মেয়েটি৷

ফয়সল ইমাম খান নামে বছর তেইশের অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) পল্লবকান্তি ঘোষ বলেন, 'ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে৷'

বছর তিনেক আগে পর্ণশ্রী থানা এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন মোটর পার্টসের কারখানার কর্মী ওই কিশোরীর বাবা৷ দুই মেয়ের বড় জন কলেজ পড়ুয়া৷ মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বড় মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁদের মা৷ বাড়িওয়ালা প্রধান দরজা খুলে দিলে উপরে উঠে যান তাঁরা৷ দোতলায় ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ৷ দরজা ভেঙে দেখেন, ছাদ থেকে ঝুলছে দেহ৷ পুলিশ এসে দেহ ময়না-তদন্তে পাঠায়৷ খাটের উপর থেকে পাওয়া যায় সুইসাইড নোটটি৷

দিদিকে লেখা ওই নোটে কিশোরী জানিয়েছে, ফয়সলের সঙ্গে ফেসবুকে তাঁর আলাপের কথা৷ কী ভাবে পরিচিতি বাড়ে, কী ভাবে দু'জনের বন্ধুত্ব হয়৷ সেখান থেকেই হঠাত্‍ সম্পর্ক খারাপ, আর তার পরই ফেসবুকের ওয়ালে ওই মন্তব্য৷ মেয়েটির ধারণা, ওই মন্তব্য দেখে বাকি বন্ধুরাও তাকে খারাপ মেয়ে বলেই মনে করেছে৷ তাই অপমানে, লজ্জায় আর পরিবারকে অসম্মানের হাত থেকে বাঁচাতে বেছে নিয়েছে আত্মহত্যার পথই৷ সেই সঙ্গে যুবকটির কঠোর শাস্তিও চেয়ে গিয়েছে শেষ লেখায়৷ মনোবিদ পিয়া সেনের কথায়, 'আত্মসম্মানে আঘাত লাগায় নিশ্চয়ই খুব অবসাদে ভুগছিল মেয়েটি৷ সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে একসময় যা চরমে পৌঁছয়৷ সেই হতাশা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে৷'

বাড়ির আদরের ছোট মেয়েকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার৷ প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ভদ্র এবং শান্ত পরিবারটি নিজেদের মতোই থাকত৷ মেয়ে দু'টিকেও কখনও উচ্ছৃঙ্খল হতে কেউ দেখেননি তাঁরা৷ সেই পরিবারের মেয়ের এমন পরিণতিতে তাঁরা হতবাক৷ অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হোক, চান প্রতিবেশীরাও৷

No comments:

Post a Comment