আসছে নূর যাচ্ছে অনুপ
কূটনৈতিক রিপোর্টার
প্রকাশ : ২৭ জুন, ২০১৪
ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে উচ্চতর মাত্রায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। ‘ইতিবাচক’ ও ‘ক্রমবর্ধমান উন্নয়নমূলক’ সম্পর্ক গড়তে পারস্পরিক সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়েও ফেলতে চায় নয়াদিল্লি। বাংলাদেশ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এমনটি জানিয়ে বলেছেন, ভারত সব সময়েই বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে।
সুষমা স্বরাজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান। পরে এক বিশেষ বক্তৃতায়ও বাংলাদেশের সঙ্গে সুষম অংশীদারিত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে মাহমুদ আলী ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিন জানান, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনকে ফেরত দেবে ভারত। বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তর নিয়েও আলোচনা হবে শিগগির। সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। এ পত্রে মোদি দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চতর রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ঘন ঘন বৈঠকের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আগ্রহের কথা বলেন। সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সুষমা আজ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভারতে ৬৫ বছরের অধিক বয়সের এবং ১৩ বছরের কম বয়সীদের ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা সুবিধা প্রদান, ত্রিপুরার পালাটানা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি, ঢাকা-শিলং-গৌহাটির মধ্যে বাস সার্ভিস চালু, শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের প্রস্তাবিত নকশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর, আগরতলায় বাংলাদেশ ভিসা অফিসকে সহকারী হাইকমিশনে উন্নীতকরণ, মৈত্রী এক্সপ্রেসের ট্রেন, এসি কোচ ও যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি, দু’দেশের সুবিধাজনক সময়ে যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠান এবং মেঘালয় সীমান্তে নতুন চারটি বর্ডার হাট স্থাপন।
তবে এত কিছু হলেও তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তির প্রশ্নে আবারও ‘আশাবাদ’ই জুটেছে বাংলাদেশের। মাহমুদ আলী বলেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের বিষয়টি উত্থাপন করার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য গঠনের প্রচেষ্টা চলছে। সুষমা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাহমুদ আলী আরও বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থল সীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪ এবং ২০১১-এর প্রটোকলটি অনুসমর্থনের জন্য ভারতীয় পক্ষকে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটি সম্পাদনের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি (সুষমা) উল্লেখ করেন, বিষয়টি ভারতীয় রাজ্যসভায় সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দু’দেশের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য ভারতের অপর অংশ থেকে ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতির কথা জানানো হয়। বৈঠক শেষে মাহমুদ আলী বলেন, ত্রিপুরার জনগণ মুক্তিযুদ্ধকালে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। সে কারণে সৌজন্যমূলকভাবে ছোট ছোট ট্রাকে এই খাদ্যশস্য পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ খাদ্যশস্য পরিবহনের পর সড়ক অবকাঠামো অবস্থার বিশেষ মূল্যায়ন করা হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য অবদান উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে উন্নততর মাত্রায় উন্নীত হবে। তিনি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সময়োত্তীর্ণ মন্তব্য করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত সবসময় পাশে থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মাহমুদ আলী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি।
ভারতীয় মুখপাত্রের ব্রিফিং : ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিন বিকালে সোনারগাঁও হোটেলে ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, সুষমা স্বরাজের সফর গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ। তিনি প্রথম সফরে বাংলাদেশে আসার মানে হল প্রতিবেশীদের প্রতি বিশেষ ফোকাস।
ভারতের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সুষমা স্বরাজ শুভেচ্ছা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে এসেছেন। মুখপাত্র বলেন, আমাদের গন্তব্য অবিচ্ছেদ্য। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে আশ্বাস দেয়া হয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। ভারত ও বাংলাদেশ উচ্চপর্যায়ে যুক্ত থাকতে আগ্রহী।
এক প্রশ্নের জবাবে আকবর উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ভারত নাক গলায় না। বাংলাদেশের সংকীর্ণ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্ত হবে না ভারত।
কানেকটিভিটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কানেকটিভিটি বলতে দুই দেশের জনগণের চলাচল, জ্বালানির সঞ্চালন এবং ধারণার বিনিময় বোঝাবে। ভারত বর্তমানে ভেড়ামারা সাবস্টেশন দিয়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করে। এখন ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে ভারত সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেন সুষমা। এ সময় সুষমা স্বরাজ তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব একেএম শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও সুষমা স্বরাজের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
শামীম চৌধুরী বলেন, বৈঠকে স্থল সীমানা চুক্তি, তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ও সীমান্তে বিএসএফের হত্যার বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে খুব ইতিবাচক এবং ক্রমশ উন্নয়নশীল সম্পর্ক দেখতে চাই। আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সব বিষয়ের সমাধান করতে চাই।’ সুষমা বলেছেন, ‘ল্যান্ড বাউন্ডারি বিল পার্লামেন্টে আছে এবং ইট ইজ আন্ডার অ্যাকটিভ কনসিডারেশন।’ ঢাকায় আসার আগে মমতার সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে সুষমা বলেন, ‘মমতা সেন্ট গুড উইশেষ টু আওয়ার প্রাইম মিনিস্টার অ্যান্ড শি থিংকস মোর পজিটিভ।’
শামীম চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের কথা বলেছেন। তিনি এর সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শত্র“ দারিদ্র্য নির্মূলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।’ প্র্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের জন্য বাংলাদেশের মাটি নয়। নূর হোসেনসহ বাংলাদেশের যেসব অপরাধী ভারতে লুকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রী তাদের ফেরত দিতে বলেছেন বলেও জানান তার প্রেসসচিব।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের প্রকল্প রামপালের ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘দ্রুত’ বাস্তবায়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনায় জোর দিয়েছেন বলে জানান শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, আগরতলায় চাল পরিবহনের জন্য বলেছেন, রোড কন্ডিশন ভালো করা দরকার। এ ব্যাপারে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ভারতের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, আগরতলার সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সেখানকার মানুষ আমাদের সহায়তা করেছে। সেজন্য সেখানে চাল পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ যা যা করার করবে।
প্রধানমন্ত্রী মৈত্রী ট্রেনের বগি বাড়ানো, বাস সার্ভিস বাড়ানোর কথা বলেছেন। আমাদের নিউক্লিয়ার প্রকল্পে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতের ভাবাতে ট্রেনিং সুবিধা দেয়ার কথা বলেছেন। আসাম-নাগাল্যান্ডের রিফাইনারি থেকে পার্বতীপুরে পাইপলাইন দিয়ে তেল আনার জন্য বলেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত-চীন-মিয়ানমারের জোট বিসিআইএম নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শামীম চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, ‘এটা করা দরকার এবং তিনি আশা করেন, এই চারটা কান্ট্রি একসঙ্গে কাজ করবে।’ বাংলাদেশ-ভারত-ভুটানের ত্রিপক্ষীয় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চাই - সুষমা : ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলায় তার দেশের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে সুষম অংশীদারিত্বের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্পন্ন ও টেকসই হবে না। উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে তাই ভারত অনেক বেশি নিবিড়ভাবে কাজ করবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে।
সুষমা বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল রূপসী বাংলায় বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। সুষমা স্বরাজ বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার লক্ষ্য হল- নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা উপস্থিত হয়ে অবদান রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, ভারত অর্থনৈতিক সমন্ব^য়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশবান্ধব চর্চা প্রভৃতির মাধ্যমে এ অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন ঘটাতে চায়।
তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি সম্পর্কে সুষমা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত চুক্তি এবং অপেক্ষাকৃত ভালো সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ইস্যু অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। আমাদের সরকার এসব ইস্যু এমনভাবে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর যাতে উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে আগামী দিনের সম্পর্কের রোডম্যাপ তুলে ধরে সুষমা স্বরাজ বলেন, আশা করি- শিগগিরই দুই দেশের নেতারা মিলিত হবেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন। যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠক দিল্লিতে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমাদের মন্ত্রীরা এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা আলোচনা সামনে এগিয়ে নেবেন।
সুষমা স্বরাজ সন্ত্রাস, জঙ্গি ও অপরাধ দমনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের মাঝে যে সহযোগিতা গড়ে উঠেছে তা অন্যাদের জন্য এক মডেল। এ সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করতে চাই।
নূর হোসেন ও অনুপ চেটিয়া : নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ১৪ জুন কলকাতায় গ্রেফতার হন। কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াডের সদস্যরা ১৫ জুন দুই সহযোগীসহ তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে নেন। সাত খুনের পর ২৭ মে নূর হোসেনকে ধরতে রেড অ্যালার্ট জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ।
১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান, অবৈধভাবে বিদেশী মুদ্রা ও স্যাটেলাইট ফোন রাখার অভিযোগে তিন মামলায় তাকে তিন, চার ও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বাংলাদেশের আদালত। ২০০৭ সালের ২৫ ফেব্র“য়ারি তার সাজার মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করতে সে দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ২০০৩ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করেন অনুপ চেটিয়া। এতে তাকে হস্তান্তরে আইনি জটিলতা ও দু’দেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার কথাও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।
No comments:
Post a Comment