নগদে সঞ্চয় রাখুন, জরুরি অবস্থায় তৈরি থাকুন
ফায়ে ডি'সুজা (লেখিকা ইটি নাও চ্যানেলের উপস্থাপক ও পার্সোনাল ফিনান্স বিভাগের এডিটর৷ এই নিবন্ধে প্রকাশিত মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত )
আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্ত্তটি ছিল আমার মায়ের গোদরেজ আলমারি৷ মনে পড়ে, পাল্লা খুললেই ইয়ার্ডলি পাউডারের গন্ধ, সাজানো বিস্কুটের টিন৷ সেসব টিনে থাকত সব দরকারি কাগজপত্র ও কিছু পুরোনো চিঠিপত্র৷ তবে আমার কৌতূহলের জায়গা ছিল আলমারি প্রতিটি সেল্ফে পাতা খবরের কাগজের নীচে লুকিয়ে রাখা টাকার থোকা৷ মাকে দেখতাম সংসার-খরচের চেয়ে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে রাখতেন৷ এটাই ছিল আমার মায়ের ইর্মাজেন্সি ফান্ড৷ যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে মা এখান থেকে টাকা বের করতেন৷ আমরা তো আমাদের বাবা -মায়েরই প্রতিরূপ৷ আমিও চাই যে কোনও অবস্থার জন্য তৈরি থাকতে৷ সবরকম প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারি, চাকরি খোয়ানো, প্রাকৃতিক দুযোর্গ, দুর্ঘটনা, সবচেয়ে খারাপটা আমি ভেবে তৈরি করতে চাই নিজেকে৷ তাই প্রত্যেকটি জরুরি অবস্থার জন্য কন্টিনজেন্সি ফান্ডের পরিকল্পনা করে রেখেছি আমি৷ কিন্ত্ত আমি জানি অনেকেই খুব আশাবাদী৷ কোনও নেতিবাচক চিন্তা তারা মনের মধ্যে প্রবেশ করতে দেন না৷ অনেকেই ভাবেন, 'কোনও খারাপ আমাকে বা আমার পরিবারকে ছুঁতে পারবে না৷' কিন্ত্ত এ ধরনের দুঃশ্চিন্তা মনে আনার জন্য দু'টি কারণ রয়েছে৷ এক, যখন আমাদের প্রিয়জনের শরীর খারাপ, জীবন-মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন কিন্ত্ত আমরা টাকার কথা ভাবি না৷ তার সুস্থ জীবনই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পায়৷ দুই, সেই টাকা জোগাড়ের জন্য বেশিরভাগ লোকই তাদের বিনিয়োগ ভেঙে দেন৷ কারণ তাদের হাতে কন্টিনজেন্সি ফান্ড বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তহবিল থাকে না৷ ফলে কী হল, যে উদ্দেশ্যে আপনি এতদিন ধরে বিনিয়োগটা করছিলেন সেটা অচিরেই শেষ হয়ে গেল৷ কী ভাবে নিজের বিনিয়োগ না ভেঙে জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি থাকবেন তাদের জন্য রইল এই ফোর-স্টেপ প্ল্যান:
১. ইর্মাজেন্সি ক্যাশ: আমার মনে আছে ২০০৫ সালে ২৬ জুলাই৷ প্রবল বৃষ্টিতে ডুবে গিয়েছিল মুম্বই৷ যাদের বাড়িতে জল ঢোকেনি, তারা ভাগ্যবান হলেও বাড়ি থেকে কিন্ত্ত বেরোতে পারেননি৷ তা হলে কী দাঁড়াল৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এটিএম বা ব্যাঙ্ক যেতে পারছি না৷ তাই বাড়িতে একটা ইর্মাজেন্সি ক্যাশ রাখা উচিত আমাদের৷ একটা ছোট অঙ্কের নগদ বাড়িতে রাখাই যায়৷ কত টাকা রাখবেন, সেটা যার যার সামর্থের উপর৷ ভেবে রাখুন, কোনও জরুরি অবস্থার জন্য কত টাকা সরিয়ে রাখলে আপনার ভালো হয়৷ সেটাই রাখুন৷
২. কন্টিনজেন্সি ফান্ড: দ্বিতীয়ত চাকরি খোয়ানোর আশঙ্কা৷ গত চার বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বহু টালমাটাল দেখা যাচ্ছে৷ বহু সংস্থাতেই কর্মী ছাঁটাই হয়েছে৷ যারা স্ব-নিযুক্ত তারা দেখেছেন ব্যবসা একদম পড়তির দিকে৷ হাতে কোনও কাজ নেই৷ এসব ক্ষেত্রের জন্য প্রস্ত্তত থাকতে কন্টিনজেন্সি ফান্ড গড়ে তোলা উচিত৷ নিজের ব্যয় অনুযায়ী, তিন মাস চলতে পারে এমন একটা কন্টিনজেন্সি ফান্ড তৈরি করা উচিত আমাদের৷ কিন্ত্ত কী ধরনের ব্যয় মাথায় রাখব? যেগুলি অবশ্যম্ভাবী, দিতেই হবে, যেমন বাড়ি ভাড়া, স্কুলের ফি, লোনের ইএমআই, বিদ্যুত্ বিল প্রভৃতি এমন ব্যয়কে অগ্রধিকার দিন৷ এগুলি এক মাস না দিয়ে ফাঁকি দেওয়া যাবে না৷ তাই এসবের জন্য টাকা আগে থেকে সরিয়ে রাখা উচিত৷
৩. স্বাস্থ্যবিমা: ভারতে স্বাস্থ্যবিমা ক্ষেত্র যে কতটা অব্যবহূত পড়ে রয়েছে এটা বলে বোঝানো যাবে না৷ এই ফিনান্সিয়াল প্রোডাক্টটা খুবই জরুরি৷ ভাবুন, হাসপাতালে ভর্তি হলে আপনার খরচ ওঠাবে এই স্বাস্থ্যবিমা৷ যেটা করতে বার্ষিক একটা প্রিমিয়াম দিতে হবে আপনাকে৷ দেখা যায়, যারা চাকরিরত তারা অফিস থেকে এক লক্ষ বা দু'লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা কভার পান৷ কিন্ত্ত এটা ছাড়া পাঁচ লক্ষ টাকার কভার থাকা উচিত আমাদের প্রত্যেকের৷ কারণ স্বাস্থ্য খাতে কতটাকা খরচ হতে পারে সেটা কেউ আগাম আঁচ করতে পারে না৷ তাই বেশি টাকার সংস্থান রাখাই ভালো৷
৪. জীবনবিমা: জীবন বিমা কেন করাবেন? যদি কখনও আপনার সঙ্গে কিছু হয়৷ অকস্মাত্ যদি আপনাকে চলে যেতে হয় তা হলে আপনার অপরিশোধিত ঋণ এবং আপনার পরিবারের জীবনযাত্রার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে জীবন বিমা করানো উচিত৷ যাতে আপনার অবর্তমানে আপনার সন্তানের পড়াশোনা আটকে না যায়, যাতে আপনার স্ত্রী জীবনের বাকি ক'টা দিন স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারেন৷ এ বার প্রশ্ন হল, ঠিক কত টাকার জীবন বিমা করানো উচিত৷ আপনার বার্ষিক আয়ের অন্তত দশগুণ অঙ্কের জীবনবিমা থাকা উচিত৷ এটা থাকলে, আপনার অবর্তমানে প্রিয়জনদের দুঃখটা হয়তো কেউ ভাগ করতে নিতে পারবে না, তবে পরিবারের আর্থিক দুঃশ্চিন্তাটা কমবে৷ যা যা বললাম তা সবটা করতে হয়তো সময় লাগবে৷ তাই আজকেই সঞ্চয়ের পথে নেমে পড়ুন৷ যে কোনও ধরনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সদা প্রস্ত্তত থাকুন৷
আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্ত্তটি ছিল আমার মায়ের গোদরেজ আলমারি৷ মনে পড়ে, পাল্লা খুললেই ইয়ার্ডলি পাউডারের গন্ধ, সাজানো বিস্কুটের টিন৷ সেসব টিনে থাকত সব দরকারি কাগজপত্র ও কিছু পুরোনো চিঠিপত্র৷ তবে আমার কৌতূহলের জায়গা ছিল আলমারি প্রতিটি সেল্ফে পাতা খবরের কাগজের নীচে লুকিয়ে রাখা টাকার থোকা৷ মাকে দেখতাম সংসার-খরচের চেয়ে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে রাখতেন৷ এটাই ছিল আমার মায়ের ইর্মাজেন্সি ফান্ড৷ যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে মা এখান থেকে টাকা বের করতেন৷ আমরা তো আমাদের বাবা -মায়েরই প্রতিরূপ৷ আমিও চাই যে কোনও অবস্থার জন্য তৈরি থাকতে৷ সবরকম প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারি, চাকরি খোয়ানো, প্রাকৃতিক দুযোর্গ, দুর্ঘটনা, সবচেয়ে খারাপটা আমি ভেবে তৈরি করতে চাই নিজেকে৷ তাই প্রত্যেকটি জরুরি অবস্থার জন্য কন্টিনজেন্সি ফান্ডের পরিকল্পনা করে রেখেছি আমি৷ কিন্ত্ত আমি জানি অনেকেই খুব আশাবাদী৷ কোনও নেতিবাচক চিন্তা তারা মনের মধ্যে প্রবেশ করতে দেন না৷ অনেকেই ভাবেন, 'কোনও খারাপ আমাকে বা আমার পরিবারকে ছুঁতে পারবে না৷' কিন্ত্ত এ ধরনের দুঃশ্চিন্তা মনে আনার জন্য দু'টি কারণ রয়েছে৷ এক, যখন আমাদের প্রিয়জনের শরীর খারাপ, জীবন-মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন কিন্ত্ত আমরা টাকার কথা ভাবি না৷ তার সুস্থ জীবনই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পায়৷ দুই, সেই টাকা জোগাড়ের জন্য বেশিরভাগ লোকই তাদের বিনিয়োগ ভেঙে দেন৷ কারণ তাদের হাতে কন্টিনজেন্সি ফান্ড বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তহবিল থাকে না৷ ফলে কী হল, যে উদ্দেশ্যে আপনি এতদিন ধরে বিনিয়োগটা করছিলেন সেটা অচিরেই শেষ হয়ে গেল৷ কী ভাবে নিজের বিনিয়োগ না ভেঙে জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি থাকবেন তাদের জন্য রইল এই ফোর-স্টেপ প্ল্যান:
১. ইর্মাজেন্সি ক্যাশ: আমার মনে আছে ২০০৫ সালে ২৬ জুলাই৷ প্রবল বৃষ্টিতে ডুবে গিয়েছিল মুম্বই৷ যাদের বাড়িতে জল ঢোকেনি, তারা ভাগ্যবান হলেও বাড়ি থেকে কিন্ত্ত বেরোতে পারেননি৷ তা হলে কী দাঁড়াল৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এটিএম বা ব্যাঙ্ক যেতে পারছি না৷ তাই বাড়িতে একটা ইর্মাজেন্সি ক্যাশ রাখা উচিত আমাদের৷ একটা ছোট অঙ্কের নগদ বাড়িতে রাখাই যায়৷ কত টাকা রাখবেন, সেটা যার যার সামর্থের উপর৷ ভেবে রাখুন, কোনও জরুরি অবস্থার জন্য কত টাকা সরিয়ে রাখলে আপনার ভালো হয়৷ সেটাই রাখুন৷
২. কন্টিনজেন্সি ফান্ড: দ্বিতীয়ত চাকরি খোয়ানোর আশঙ্কা৷ গত চার বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বহু টালমাটাল দেখা যাচ্ছে৷ বহু সংস্থাতেই কর্মী ছাঁটাই হয়েছে৷ যারা স্ব-নিযুক্ত তারা দেখেছেন ব্যবসা একদম পড়তির দিকে৷ হাতে কোনও কাজ নেই৷ এসব ক্ষেত্রের জন্য প্রস্ত্তত থাকতে কন্টিনজেন্সি ফান্ড গড়ে তোলা উচিত৷ নিজের ব্যয় অনুযায়ী, তিন মাস চলতে পারে এমন একটা কন্টিনজেন্সি ফান্ড তৈরি করা উচিত আমাদের৷ কিন্ত্ত কী ধরনের ব্যয় মাথায় রাখব? যেগুলি অবশ্যম্ভাবী, দিতেই হবে, যেমন বাড়ি ভাড়া, স্কুলের ফি, লোনের ইএমআই, বিদ্যুত্ বিল প্রভৃতি এমন ব্যয়কে অগ্রধিকার দিন৷ এগুলি এক মাস না দিয়ে ফাঁকি দেওয়া যাবে না৷ তাই এসবের জন্য টাকা আগে থেকে সরিয়ে রাখা উচিত৷
৩. স্বাস্থ্যবিমা: ভারতে স্বাস্থ্যবিমা ক্ষেত্র যে কতটা অব্যবহূত পড়ে রয়েছে এটা বলে বোঝানো যাবে না৷ এই ফিনান্সিয়াল প্রোডাক্টটা খুবই জরুরি৷ ভাবুন, হাসপাতালে ভর্তি হলে আপনার খরচ ওঠাবে এই স্বাস্থ্যবিমা৷ যেটা করতে বার্ষিক একটা প্রিমিয়াম দিতে হবে আপনাকে৷ দেখা যায়, যারা চাকরিরত তারা অফিস থেকে এক লক্ষ বা দু'লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা কভার পান৷ কিন্ত্ত এটা ছাড়া পাঁচ লক্ষ টাকার কভার থাকা উচিত আমাদের প্রত্যেকের৷ কারণ স্বাস্থ্য খাতে কতটাকা খরচ হতে পারে সেটা কেউ আগাম আঁচ করতে পারে না৷ তাই বেশি টাকার সংস্থান রাখাই ভালো৷
৪. জীবনবিমা: জীবন বিমা কেন করাবেন? যদি কখনও আপনার সঙ্গে কিছু হয়৷ অকস্মাত্ যদি আপনাকে চলে যেতে হয় তা হলে আপনার অপরিশোধিত ঋণ এবং আপনার পরিবারের জীবনযাত্রার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে জীবন বিমা করানো উচিত৷ যাতে আপনার অবর্তমানে আপনার সন্তানের পড়াশোনা আটকে না যায়, যাতে আপনার স্ত্রী জীবনের বাকি ক'টা দিন স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারেন৷ এ বার প্রশ্ন হল, ঠিক কত টাকার জীবন বিমা করানো উচিত৷ আপনার বার্ষিক আয়ের অন্তত দশগুণ অঙ্কের জীবনবিমা থাকা উচিত৷ এটা থাকলে, আপনার অবর্তমানে প্রিয়জনদের দুঃখটা হয়তো কেউ ভাগ করতে নিতে পারবে না, তবে পরিবারের আর্থিক দুঃশ্চিন্তাটা কমবে৷ যা যা বললাম তা সবটা করতে হয়তো সময় লাগবে৷ তাই আজকেই সঞ্চয়ের পথে নেমে পড়ুন৷ যে কোনও ধরনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সদা প্রস্ত্তত থাকুন৷
http://eisamay.indiatimes.com/business/contigency-fund/articleshow/33009603.cms?
No comments:
Post a Comment