Tuesday, April 1, 2014

ঢাকা-বরিশাল পথে পয়লা বৈশাখ থেকে নতুন স্টিমার


ঢাকা-বরিশাল পথে পয়লা বৈশাখ থেকে নতুন স্টিমার

প্রায় ৭৫ বছর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে একটি নতুন স্টিমার দিচ্ছে সরকার। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) অর্থায়নে নির্মিত নতুন ওই স্টিমারটির নাম এমভি বাঙালি। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা-বরিশাল নৌপথে এটি চলাচল শুরু করবে।
বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক গোপাল কৃষ্ণ মজুমদার বলেন, চল্লিশের দশকে এ নৌপথে স্টিমার চলাচল শুরু করে। এরপর এ পথে নতুন কোনো স্টিমার দেওয়া হয়নি। প্রায় ৭৫ বছর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে একটি নতুন স্টিমার দেওয়া হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির নতুন স্টিমার এমভি বাঙালির প্রকল্প পরিচালক জিয়াউল ইসলাম বলেন, সংস্থাটি ২০১২ সালের অক্টোবরে দুটি স্টিমার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নির্মাণব্যয় ধরা হয় ৫১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে এমভি বাঙালি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগামী জুন মাসের মধ্যে দ্বিতীয় স্টিমার মধুমতির নির্মাণকাজ শেষ হবে। প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, এমভি বাঙালি স্টিমারের যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭৫০ জন। এর দৈর্ঘ্য ২৪৮ ফুট ও প্রস্থ ৩৮ ফুট। স্টিমারে ভিআইপি স্যুট ১৪, প্রথম শ্রেণীর ডাবল কেবিন ৩৪টি, সিঙ্গেল কেবিন ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণীর ডাবল কেবিন ১৮টি। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ২০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার। বরিশাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টায় ছেড়ে পরদিন ভোরে এটি ঢাকায় পৌঁছাবে।
বিআইডব্লিউটিসি বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কমল কৃষ্ণ মিত্র বলেন, ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বর্তমানে পিএস লেপচা, পিএস মাসুদ, পিএস টার্ন এবং পিএস শেলা নামের চারটি সরকারি স্টিমার চলাচল করছে। পুরোনো হয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস পরপর এগুলো মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠাতে হয়। তবে নতুন স্টিমার এলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে।

No comments:

Post a Comment