বাংলা ভাগের চক্রান্তের স্লোগান হাতছাড়া,প্যাঁচে বাম
সঞ্জয় চক্রবর্তী
শিলিগুড়ি: স্লোগান গেছে চুরি৷ মাথায় হাত অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকারের৷ 'রক্ত দিয়ে বাংলা ভাগের চক্রান্ত রুখছি, রুখব' বলে গত টানা আড়াই দশক দেওয়াল লিখে ভরিয়েছে সিপিএম৷ এখন লোকসভা নির্বাচনের আগে শিলিগুড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তৃণমূল নিজেদের পথিকৃত্ বলে দাবি করছে৷ নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি থেকে ডুয়ার্সের কাছে গোরুবাথান পর্যন্ত তৃণমূলই এখন গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন মোকাবিলার 'চ্যাম্পিয়ন'৷ নেপালিভাষী কিংবা আদিবাসীদের সমর্থন আগেই খুইয়েছে সিপিএম৷ এ বার বাঙালিদের ভোটেও হাত পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সিপিএম নেতৃত্ব তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রচার শুরু করেছে৷
আটের দশকে সুবাস ঘিসিং পাহাড়ে প্রথম আলাদা রাজ্যের দাবি তোলার পর থেকেই তার প্রতিবাদে সোচ্চার ছিল সিপিএম৷ বাংলা ভাগের চক্রান্তের মোকাবিলায় বাঙালি সমর্থন সংহত করেছে একের পর এক ভোটে৷ উত্তরবঙ্গে কামতাপুর, গ্রেটার কোচবিহার রাজ্যের দাবি সিপিএমকে আরও সুবিধা করে দিয়েছিল৷ বিশেষ করে অতীতে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্ত্ত বাংলাভাষীরা নিজেদের অস্তিত্বের কারণে সিপিএমের পাশে দাঁড়িয়েছিল৷
তাতে অবশ্য ঘিসিংকে থামাতে পারেননি সিপিএম নেতৃত্ব৷ সিআরপিএফ মোতায়েন করে পাহাড়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েও আন্দোলন আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার৷ বরং সমঝোতা হিসাবে গোর্খা পার্বত্য পরিষদ গঠনে সায় দিতে হয়েছিল৷ আবার মোর্চার আন্দোলনের মুখে পাহাড়কে সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলের আওতায় আনার জন্য ত্রিপাক্ষিক চুক্তি করেও পিছিয়ে যেতে হয়েছিল কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয় সরকারকেই৷
কিন্ত্ত জিটিএ গঠন করে দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই পাহাড়ে আলাদা রাজ্যের দাবির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন৷ এমনকী, জিটিএ ছেড়ে মোর্চা গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলনে ফিরে গেলেও তাঁর 'রাফ অ্যান্ড টাফ' মনোভাবের মুখে পিছু হটে তাদের ফিরতে হয়েছে জিটিএতেই৷ দলনেত্রীর সেই অবস্থানকেই কাজে লাগাচ্ছে তৃণমূল৷ বাংলাভাষীর আবেগ উস্কে দিতে নিজেদের অখণ্ড বঙ্গের পাহারাদার বলে প্রতিষ্ঠা করেছে৷
লোকসভা নির্বাচনেও সেই প্রচার সিপিএমকে বিপন্ন করে তুলেছে৷ বিপন্নতা রাজনৈতিক অস্তিত্বের৷ নেপালি ভোট হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বাঙালিকে পাশে রাখতে ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্রে বাঙালি প্রার্থী দিয়েছিল সিপিএম৷ তাতেও অবশ্য মোর্চার সমর্থনে সাংসদ হয়েছিলেন বিজেপির যশবন্ত সিং৷ কিন্ত্ত সমতলে সুবিধা হয়েছিল সিপিএমের৷ কিন্ত্ত বাংলা ভাগের চক্রান্তের মোকাবিলা করে ধরে রাখা সাধের সেই বাঙালি ভোটেই যে হানা দিয়েছে তৃণমূল৷ শিলিগুড়িতেই শঙ্কিত সিপিএম নেতৃত্ব৷
দলের রাজ্য কমিটির সদস্য অশোক ভট্টাচার্য তাই প্রচার করছেন, 'বাংলা ভাগ রুখতে তৃণমূল কবে লড়াই করল? এই সেদিনও ব্রিগেডে তৃণমূলের পাশে মোর্চা নেতাদের বসে থাকতে দেখা গিয়েছে৷ মোর্চা লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে ছেড়ে বিজেপির দিকে যেতেই এরা বঙ্গপ্রেমিক হয়ে উঠল বুঝি৷ মানুষ এ সব প্রতারণায় আর বিশ্বাস করবেন না৷' সিপিএমের অভিযোগ, জিএনএলএফ আমল থেকেই কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বিজেপি দফায় দফায় পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে৷ জিএনএলএফ জমানায় কংগ্রেসের দিল্লির বাসিন্দা দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন৷ গত নির্বাচনে বিজেপি পাহাড়ের মানুষকে পৃথক রাজ্যের স্বপ্ন দেখিয়ে লোকসভা আসনে জয়ী হয়েছে৷ রাজ্যসভা ভোটেও মোর্চার সমর্থন নিয়েছে তৃণমূল৷
সিপিএমই একমাত্র পাহাড়ে পৃথক রাজ্যের বিরোধিতা করে স্বশাসনের পক্ষে সওয়াল করছে বলে বাংলা, হিন্দি ও নেপালিতে লেখা লিফলেট বিলি করা হচ্ছে শিলিগুড়ি-সহ লাগোয়া সমতলে৷ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব পাল্টা বলেন, 'মোর্চার হুমকিতে দলের সম্মেলন পর্যন্ত পাহাড় থেকে সমতলে নামিয়ে এনেছিল সিপিএম৷ আর আমরা পাহাড়ে পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনের বিরোধিতা করে গণতন্ত্র বজায় রাখার চেষ্টা করেছি৷ কারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, সেটা সকলেই জানেন৷'
http://eisamay.indiatimes.com/state/copy-on-left-front/articleshow/33113907.cms
সঞ্জয় চক্রবর্তী
শিলিগুড়ি: স্লোগান গেছে চুরি৷ মাথায় হাত অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকারের৷ 'রক্ত দিয়ে বাংলা ভাগের চক্রান্ত রুখছি, রুখব' বলে গত টানা আড়াই দশক দেওয়াল লিখে ভরিয়েছে সিপিএম৷ এখন লোকসভা নির্বাচনের আগে শিলিগুড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তৃণমূল নিজেদের পথিকৃত্ বলে দাবি করছে৷ নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি থেকে ডুয়ার্সের কাছে গোরুবাথান পর্যন্ত তৃণমূলই এখন গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন মোকাবিলার 'চ্যাম্পিয়ন'৷ নেপালিভাষী কিংবা আদিবাসীদের সমর্থন আগেই খুইয়েছে সিপিএম৷ এ বার বাঙালিদের ভোটেও হাত পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সিপিএম নেতৃত্ব তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রচার শুরু করেছে৷
আটের দশকে সুবাস ঘিসিং পাহাড়ে প্রথম আলাদা রাজ্যের দাবি তোলার পর থেকেই তার প্রতিবাদে সোচ্চার ছিল সিপিএম৷ বাংলা ভাগের চক্রান্তের মোকাবিলায় বাঙালি সমর্থন সংহত করেছে একের পর এক ভোটে৷ উত্তরবঙ্গে কামতাপুর, গ্রেটার কোচবিহার রাজ্যের দাবি সিপিএমকে আরও সুবিধা করে দিয়েছিল৷ বিশেষ করে অতীতে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্ত্ত বাংলাভাষীরা নিজেদের অস্তিত্বের কারণে সিপিএমের পাশে দাঁড়িয়েছিল৷
তাতে অবশ্য ঘিসিংকে থামাতে পারেননি সিপিএম নেতৃত্ব৷ সিআরপিএফ মোতায়েন করে পাহাড়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েও আন্দোলন আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার৷ বরং সমঝোতা হিসাবে গোর্খা পার্বত্য পরিষদ গঠনে সায় দিতে হয়েছিল৷ আবার মোর্চার আন্দোলনের মুখে পাহাড়কে সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলের আওতায় আনার জন্য ত্রিপাক্ষিক চুক্তি করেও পিছিয়ে যেতে হয়েছিল কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয় সরকারকেই৷
কিন্ত্ত জিটিএ গঠন করে দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই পাহাড়ে আলাদা রাজ্যের দাবির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন৷ এমনকী, জিটিএ ছেড়ে মোর্চা গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলনে ফিরে গেলেও তাঁর 'রাফ অ্যান্ড টাফ' মনোভাবের মুখে পিছু হটে তাদের ফিরতে হয়েছে জিটিএতেই৷ দলনেত্রীর সেই অবস্থানকেই কাজে লাগাচ্ছে তৃণমূল৷ বাংলাভাষীর আবেগ উস্কে দিতে নিজেদের অখণ্ড বঙ্গের পাহারাদার বলে প্রতিষ্ঠা করেছে৷
লোকসভা নির্বাচনেও সেই প্রচার সিপিএমকে বিপন্ন করে তুলেছে৷ বিপন্নতা রাজনৈতিক অস্তিত্বের৷ নেপালি ভোট হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বাঙালিকে পাশে রাখতে ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্রে বাঙালি প্রার্থী দিয়েছিল সিপিএম৷ তাতেও অবশ্য মোর্চার সমর্থনে সাংসদ হয়েছিলেন বিজেপির যশবন্ত সিং৷ কিন্ত্ত সমতলে সুবিধা হয়েছিল সিপিএমের৷ কিন্ত্ত বাংলা ভাগের চক্রান্তের মোকাবিলা করে ধরে রাখা সাধের সেই বাঙালি ভোটেই যে হানা দিয়েছে তৃণমূল৷ শিলিগুড়িতেই শঙ্কিত সিপিএম নেতৃত্ব৷
দলের রাজ্য কমিটির সদস্য অশোক ভট্টাচার্য তাই প্রচার করছেন, 'বাংলা ভাগ রুখতে তৃণমূল কবে লড়াই করল? এই সেদিনও ব্রিগেডে তৃণমূলের পাশে মোর্চা নেতাদের বসে থাকতে দেখা গিয়েছে৷ মোর্চা লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে ছেড়ে বিজেপির দিকে যেতেই এরা বঙ্গপ্রেমিক হয়ে উঠল বুঝি৷ মানুষ এ সব প্রতারণায় আর বিশ্বাস করবেন না৷' সিপিএমের অভিযোগ, জিএনএলএফ আমল থেকেই কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বিজেপি দফায় দফায় পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে৷ জিএনএলএফ জমানায় কংগ্রেসের দিল্লির বাসিন্দা দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন৷ গত নির্বাচনে বিজেপি পাহাড়ের মানুষকে পৃথক রাজ্যের স্বপ্ন দেখিয়ে লোকসভা আসনে জয়ী হয়েছে৷ রাজ্যসভা ভোটেও মোর্চার সমর্থন নিয়েছে তৃণমূল৷
সিপিএমই একমাত্র পাহাড়ে পৃথক রাজ্যের বিরোধিতা করে স্বশাসনের পক্ষে সওয়াল করছে বলে বাংলা, হিন্দি ও নেপালিতে লেখা লিফলেট বিলি করা হচ্ছে শিলিগুড়ি-সহ লাগোয়া সমতলে৷ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব পাল্টা বলেন, 'মোর্চার হুমকিতে দলের সম্মেলন পর্যন্ত পাহাড় থেকে সমতলে নামিয়ে এনেছিল সিপিএম৷ আর আমরা পাহাড়ে পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনের বিরোধিতা করে গণতন্ত্র বজায় রাখার চেষ্টা করেছি৷ কারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, সেটা সকলেই জানেন৷'
http://eisamay.indiatimes.com/state/copy-on-left-front/articleshow/33113907.cms
No comments:
Post a Comment