শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা পুলিশের
এই সময়: শুক্রবার রাতে বারাসতের অদূরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির সঙ্গে যাত্রিবাহী বাসের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হলেও দুশ্চিন্তায় ঘুম ছুটেছে রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের৷ ওই ঘটনায় তাঁদের এখন শাঁখের করাতের মতো অবস্থা৷ কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনওরকম বিধিনিষেধ আরোপ করার বিরুদ্ধে৷ কিন্ত্ত পুলিশকর্তারা মনে করছেন, রাস্তাঘাটের যা হাল, তাতে মুখ্যমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপিদের নিরাপদ যাত্রা সুনিশ্চিত করতে হলে রাস্তায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া উপায় নেই৷ শুক্রবার রাতে সেই কারণেই উত্তরবঙ্গগামী একটি ভলভো বাস মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি গা ঘেঁষে চলে যায়৷ অল্পের জন্য রক্ষা পান মুখ্যমন্ত্রী৷
কী বলছে নিরাপত্তা প্রোটোকল? পুলিশই জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী-সহ জেড বা জেড প্লাস ক্যাটেগরির ভিভিআইপির কনভয়ের সামনে-পিছনে ন্যূনতম দেড় কিলোমিটার রাস্তা ফাঁকা রাখতে হয়৷ উল্টোদিক থেকে আসা গাড়ি পুলিশ মনে করলে অনেক আগেই থামিয়ে দিতে পারে৷ তবে বেশিরভাগ সময় তারা ওইসব গাড়ির গতি ঘণ্টায় দশ কিলোমিটার বেঁধে দেয়, যাতে দুর্ঘটনা ঘটলে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হয়৷ কিন্ত্ত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় কৃষ্ণনগর থেকে বারাসতের দিকে আসার সময় কলকাতার দিক থেকে যাওয়া গাড়ির গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার৷
কেন পুলিশ গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করেনি? শুক্রবার রাতের ঘটনা নিয়ে যেমন পুলিশকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন, তেমনই এই ব্যাপারেও তাঁরা সরকারি ভাবে মুখ খুলতে চাননি৷ তবে একান্তে বহু পুলিশকর্তাই মুখ্যমন্ত্রীর খামখেয়ালি মনোভাবকে দায়ী করেছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, মানুষ ক্ষেপে যেতে পারে, এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পক্ষপাতী নন৷ ভোটের সময় তো নয়ই৷ তাই পুলিশের পক্ষে প্রোটোকল মানা সম্ভব হয়নি৷ তা ছাড়া, মুখ্যমন্ত্রী আসছিলেন মধ্যমগ্রামের কর্মিসভায়৷ কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করলে সভাস্থল ছাড়াও একদিকে বারাসত, অন্যদিকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যানজট হয়ে যেতে পারত৷ তাতে সাধারণ মানুষের মতো কর্মিসভার লোকজনও দুর্ভোগে পড়তেন৷ তাই নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে তাঁরা রাস্তার বেহাল দশা এবং মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছা-অনিচ্ছাকেই দায়ী করছেন৷ তবে প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ এডিজি (ট্র্যাফিক) কুন্দনলাল টামটা বলেন, 'কোনও ভিভিআইপির যাতায়াতের সময় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নির্দিষ্ট থানাই করে থাকে৷ এখন আগের মতো দু'দিকের গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয় না৷ মুখ্যমন্ত্রী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে লোকজনের অসুবিধা চান না বলে রাস্তার একদিক দিয়ে ধীরগতিতে অন্য গাড়ি যেতে দেওয়া হয়৷'
পুলিশ মনে করছে, ভোটের সময় অন্য রাজনীতিকরাও একই পথ অনুসরণের জন্য পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন৷ যদিও নির্বাচনী বিধিতে নেতা-মন্ত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম নিষেধাজ্ঞা নেই নির্বাচন কমিশনের৷ কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি সুমিত মুখোপাধ্যায় রাজ্য নির্বাচন দপ্তরকে এই ব্যাপারে যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে, যিনি যা নিরাপত্তা পেতেন, ভোটের সময় তাই-ই বহাল থাকবে৷ যে নেতা যে বিশেষ সুরক্ষা পান, তা কমানোর প্রশ্ন ওঠে না৷ তবে কেউ বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঘুরতে পারবেন না৷ অনেক নেতা-মন্ত্রী ভোটারদের ভয় দেখাতে প্রচারে বেসরকারি রক্ষী নিয়ে ঘোরেন৷ সেজন্যই এই নিষেধাজ্ঞা৷ তবে নিরাপত্তার খরচ নিয়ে কমিশন কিছু নির্দেশ দিয়েছে, যা আবার মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/mamata-car-follw-up-story/articleshow/32506306.cms
এই সময়: শুক্রবার রাতে বারাসতের অদূরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির সঙ্গে যাত্রিবাহী বাসের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হলেও দুশ্চিন্তায় ঘুম ছুটেছে রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের৷ ওই ঘটনায় তাঁদের এখন শাঁখের করাতের মতো অবস্থা৷ কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনওরকম বিধিনিষেধ আরোপ করার বিরুদ্ধে৷ কিন্ত্ত পুলিশকর্তারা মনে করছেন, রাস্তাঘাটের যা হাল, তাতে মুখ্যমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপিদের নিরাপদ যাত্রা সুনিশ্চিত করতে হলে রাস্তায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া উপায় নেই৷ শুক্রবার রাতে সেই কারণেই উত্তরবঙ্গগামী একটি ভলভো বাস মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি গা ঘেঁষে চলে যায়৷ অল্পের জন্য রক্ষা পান মুখ্যমন্ত্রী৷
কী বলছে নিরাপত্তা প্রোটোকল? পুলিশই জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী-সহ জেড বা জেড প্লাস ক্যাটেগরির ভিভিআইপির কনভয়ের সামনে-পিছনে ন্যূনতম দেড় কিলোমিটার রাস্তা ফাঁকা রাখতে হয়৷ উল্টোদিক থেকে আসা গাড়ি পুলিশ মনে করলে অনেক আগেই থামিয়ে দিতে পারে৷ তবে বেশিরভাগ সময় তারা ওইসব গাড়ির গতি ঘণ্টায় দশ কিলোমিটার বেঁধে দেয়, যাতে দুর্ঘটনা ঘটলে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হয়৷ কিন্ত্ত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় কৃষ্ণনগর থেকে বারাসতের দিকে আসার সময় কলকাতার দিক থেকে যাওয়া গাড়ির গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার৷
কেন পুলিশ গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করেনি? শুক্রবার রাতের ঘটনা নিয়ে যেমন পুলিশকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন, তেমনই এই ব্যাপারেও তাঁরা সরকারি ভাবে মুখ খুলতে চাননি৷ তবে একান্তে বহু পুলিশকর্তাই মুখ্যমন্ত্রীর খামখেয়ালি মনোভাবকে দায়ী করেছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, মানুষ ক্ষেপে যেতে পারে, এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পক্ষপাতী নন৷ ভোটের সময় তো নয়ই৷ তাই পুলিশের পক্ষে প্রোটোকল মানা সম্ভব হয়নি৷ তা ছাড়া, মুখ্যমন্ত্রী আসছিলেন মধ্যমগ্রামের কর্মিসভায়৷ কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করলে সভাস্থল ছাড়াও একদিকে বারাসত, অন্যদিকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যানজট হয়ে যেতে পারত৷ তাতে সাধারণ মানুষের মতো কর্মিসভার লোকজনও দুর্ভোগে পড়তেন৷ তাই নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে তাঁরা রাস্তার বেহাল দশা এবং মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছা-অনিচ্ছাকেই দায়ী করছেন৷ তবে প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ এডিজি (ট্র্যাফিক) কুন্দনলাল টামটা বলেন, 'কোনও ভিভিআইপির যাতায়াতের সময় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নির্দিষ্ট থানাই করে থাকে৷ এখন আগের মতো দু'দিকের গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয় না৷ মুখ্যমন্ত্রী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে লোকজনের অসুবিধা চান না বলে রাস্তার একদিক দিয়ে ধীরগতিতে অন্য গাড়ি যেতে দেওয়া হয়৷'
পুলিশ মনে করছে, ভোটের সময় অন্য রাজনীতিকরাও একই পথ অনুসরণের জন্য পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন৷ যদিও নির্বাচনী বিধিতে নেতা-মন্ত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম নিষেধাজ্ঞা নেই নির্বাচন কমিশনের৷ কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি সুমিত মুখোপাধ্যায় রাজ্য নির্বাচন দপ্তরকে এই ব্যাপারে যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে, যিনি যা নিরাপত্তা পেতেন, ভোটের সময় তাই-ই বহাল থাকবে৷ যে নেতা যে বিশেষ সুরক্ষা পান, তা কমানোর প্রশ্ন ওঠে না৷ তবে কেউ বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঘুরতে পারবেন না৷ অনেক নেতা-মন্ত্রী ভোটারদের ভয় দেখাতে প্রচারে বেসরকারি রক্ষী নিয়ে ঘোরেন৷ সেজন্যই এই নিষেধাজ্ঞা৷ তবে নিরাপত্তার খরচ নিয়ে কমিশন কিছু নির্দেশ দিয়েছে, যা আবার মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/mamata-car-follw-up-story/articleshow/32506306.cms
No comments:
Post a Comment