লিখেছেন:: বাউন্ডুলে বাতাস
বাউন্ডুলে বাতাস with আসিফ মহিউদ্দীন and 2 others
লিখেছেন:: বাউন্ডুলে বাতাস
রকমারির হতবুদ্ধিতার প্রায় একদিন পরে লিখতে বসেছি । প্রশ্ন আসতেই পারে- রকমারি নিয়ে সবার এত মাথাব্যাথা কেন ?
মাথাব্যাথা না করারই বা কি আছে, সেটা বলুন । দেশের এত বড় একটি পুস্তক বিক্রির ডিজিটাল স্টক যখন ছাগুদের ঝাড়িতে উঠে আর বসে তখন স্বাভাবিক ভাবেই কিছু কথা চলে আসে ।
মাথাব্যাথা না করারই বা কি আছে, সেটা বলুন । দেশের এত বড় একটি পুস্তক বিক্রির ডিজিটাল স্টক যখন ছাগুদের ঝাড়িতে উঠে আর বসে তখন স্বাভাবিক ভাবেই কিছু কথা চলে আসে ।
আজ রকমারি থেকে প্রগতিশীল যেসব লেখকদের বই সরিয়ে ফেলা হল, তাতে মনে হল এখানে সভ্য মানুষের থেকে ছাগলের মলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় । কারন, হাজার বছর ধরে চলে আসা ওইসব বস্তা পঁচা গ্রন্থগুলো মানুষকে শুধু আড়ষ্ট করে ফেলতে পারে । মুক্ত চিন্তার জগত থেকে যোজন যোজন দূরে রেখে রূপকথার গল্প শোনাতে পারে ।
বিজ্ঞান হচ্ছে এমন ব্যাপার যেখানে কোন বিশ্বাস খাটে না, কোন রূপকথা খাটে না, এমনকি কোন অনুভূতিও খাটে না । যেটা খাটে, সেটা পুরোটাই যুক্তি । আর এই যুক্তির কাছেই দিন দিন হার মেনে যাচ্ছে ধর্ম । যার পুরোটাই অন্ধ বিশ্বাস । অন্ধ বিশ্বাসটা হচ্ছে এমন একটি ব্যাপার, যা আপনাকে স্বাভাবিক চিন্তাধারা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে । আড়ষ্ট করে ফেলবে আপনার স্বাভাবিকতাকে । আপনি চাইলেও পারবেন না মুক্তচিন্তার ডানা মেলতে । চাইলেও পারবেন না, বুক ভরে নিশ্বাস নিতে । বুক ভরে নিশ্বাস না নিয়ে, মুক্তচিন্তা না করে বেঁচে থাকাটা আসলেই অর্থহীন । বিজ্ঞান যেখানে আদি-অনন্ত আপনাকে যুক্তিসহ প্রমাণ দেখাতে সক্ষম, সেখানে কেন আপনি শুধু মাত্র অন্ধবিশ্বাসের উপর ভর করে বেঁচে থাকবেন ? মানুষ হয়ে এতটুকু কি আপনার অধিকার নেই - সত্যটুকু জানার ? অবশ্যই আছে ।
যে কোন বিষয়ে জ্ঞানলাভের সহজ এবং সুন্দর মাধ্যম হচ্ছে বই পড়া । একটি বই আপনাকে অন্ধ বানিয়ে ফেলতে পারে, আবার একটি বই-ই পারে আপনার বন্ধ চোখকে খুলে দিতে । পারে, আপনার যুগ-যুগান্তরের ভুলগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে । তারপর, ভুলগুলো শুধরানো কিংবা না শুধরানো, আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার ।
রকমারি তার সাইট থেকে হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন, অভিজিৎ রায় এবং আরো বিখ্যাত এবং প্রগতিশীল লেখকদের বইগুলো সরিয়ে ফেলে কি প্রমান করেছে ?? প্রমান করেছে, একটা কাঠ মোল্লার চোখ রাঙ্গানীতে এদেশে এখনো অনেক কিছু সম্ভব । গাদা গাদা বস্তা-পঁচা ধর্মীয় সংকলনগুলোকে স্থান দিয়েছে, আর নির্মোহ বিজ্ঞানের বইগুলোকে অযৌক্তিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে । কারন হিসেবে বলা হচ্ছে - যে বই বিতর্কের সূচনা করে, তা রকমারি বিক্রি করা বন্ধ করে দেবে । তাহলে কেন এটা বলে নি - যে বই তর্ক শুরুতে যোগান দেয়, সেই বইগুলোও এখন থেকে রকমারি বিক্রি করবে না ?
নির্মোহ বিজ্ঞানের এই বইগুলো যদি বিতর্কের শুরু করে, তাহলে তো বলতে হয়, তর্কের যোগান এই বস্তা-পঁচা ধর্মীয় বইগুলো থেকেই শুরু হয়েছে । গাদা গাদা মিথ্যা বাণী দিয়ে ভর্তি বইগুলোকে যখন একজন বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ মেনে নিতে পারেনা, তখনই সে তর্কে উপনীত হয় । একজন বিজ্ঞান পিপাসু হৃদয় কখনো অন্ধ বিশ্বাসের উপর ভর করে পথ চলতে পারেনা । তাই, নির্মোহ বিজ্ঞানের এই বইগুলি রকমারি, যখন তাদের সাইট থেকে সরিয়ে ফেলেছে, তখন বস্তাপঁচা ঐসব ধর্মীয় গ্রন্থগুলিও যেন তারা সরিয়ে ফেলে । জোর দাবি জানাচ্ছি ঐসব ধর্মীয় গ্রন্থগুলি সরিয়ে ফেলার ।
একটা কথা কি জানেন ? আপনি ঘুম থেকে উঠে হটাৎ প্রচন্ড আলো দেখলে সেই আলোতে তাকিয়ে থাকতে কষ্ট হয় । সেই কষ্টকে মেনে নিয়ে যদি তাকিয়ে থাকতে পারেন, তাহলে সেই আলোয় নতুন করে চিনতে পারবেন নিজেকে, নিজের চারপাশকে । আর যারা কষ্ট করতে ভয় পান, তারা আবারো চোখ বন্ধ করে থাকবে । হাজার বছরের জড়তার মধ্যেই নিজেদেরকে আড়ষ্ট করে রাখবে । আর চোখটা বন্ধ করে রেখেই আলোকে গালিগালাজ করবে ।
No comments:
Post a Comment