Thursday, July 24, 2014

যশোরে চলছে রক্তের অবৈধ ব্যবসা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা

যশোরে চলছে রক্তের অবৈধ ব্যবসা
হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে মানুষের জীবনরক্ষাকারী রক্তের অবৈধভাবে বেচাকেনা বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় অসাধুরা দীর্ঘদিন ধরে রক্তের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনভাবে। ওষুধের ফার্মেসির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণভাবে রক্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার কোন প্রকার নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা হয়েছে ব্লাড ব্যাংক। অসাধুদের বিক্রি করা রক্তের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। হাসপাতাল ক্লিনিকে বিপদে পড়া মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে রক্তের অবৈধ ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঠিকভাবে তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা না থাকায় অসাধুদের অবৈধভাবে রক্তের ব্যবসা জমজমাটভাবে করছে। গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে রক্তের অবৈধ ব্যবসা সম্পর্কে পাওয়া গেছে অবাক হওয়ার মতো তথ্য। সূত্রে জানা গেছে, ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি কর্তৃক অনুমোদন নিতে হবে। আর বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক, ওষুধের ফার্মেসি ও ভ্রাম্যমাণভাবে রক্ত বিক্রি করার কোন নিয়ম নেই। অথচ যশোরে অসাধু চক্র আর্থিকভাবে লাভবান হতে সরকারের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে রক্তের অবৈধ ব্যবসা শুরু করেছে। যশোর শহরের সেন্ট্রাল ব্ল্যাড সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। কোন প্রকার পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই এখানে বিক্রি করা হচ্ছে রক্ত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন মাদকসেবীর কাছ থেকে ৫০ টাকা ও ১শ’ টাকার বিনিময়ে রক্ত ক্রয় করে শাহ আলম। পরে সুযোগ বুঝে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা বিপদে পড়া মানুষের কাছে নিম্নমানের এ রক্ত বিক্রি করে দেয়া হয়। এখান থেকে ক্রয় করা রক্তের বিভিন্ন ভাইরাস পাওয়া যায়। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক থেকে ১ ব্যাগ (ও পজেটিভ) রক্ত কিনে আনেন। পরীক্ষা করে দেখা যায় ওই রক্তে ভাইরাস রয়েছে। পরে অবশ্য তা ফেরত পাঠানো হয়। সচেতন মহল বলছেন অনুমোদিত এ ধরনের ব্লাড ব্যাংক জীবন রক্ষাকারী রক্ত নিয়ে অসাধুরা বাণিজ্যে মেতে রয়েছেন। সামান্য লাভের আশায় তারা নিম্নমানের রক্ত বিক্রি করে মানুষের জীবন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে দ্বিধাবোধ করছেন না। সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবৈধ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে রক্তের ক্রয় বিক্রয় করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 
সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক পরিচালনাকারী শাহ আলম জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির কাছে প্রতিষ্ঠানের অনুুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনুমোদন মেলেনি। নিম্নমানের রক্তের বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সিভিল সার্জন ডা. আতিকুর রহমান খান বলেছেন, অবৈধভাবে পরিচালিত সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তার কাছে এসেছে। অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment