Thursday, July 24, 2014

যুক্তরাষ্ট্র কোনদিন ভাল কাজের পক্ষে থাকে না ॥ শেরপুরে মতিয়া ওবামার ভূমিকার সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্র কোনদিন ভাল কাজের পক্ষে থাকে না ॥ শেরপুরে মতিয়া
ওবামার ভূমিকার সমালোচনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর, ২৪ জুলাই ॥ গাজায় ইসরাইলের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, নিরীহ ফিলিস্তিনীদের হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সাহায্য করছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনদিনও ভাল কাজের পক্ষে থাকে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন এবং ২ লাখ মা বোন যখন ইজ্জত দেন, তখনও পাকিস্তানের পক্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি দিয়েছে। যে কারণে ইরাক আজ শেষ। ইরানের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করছে আমেরিকা। আজকে সিরিয়াকে ধ্বংস করছে। এরা আজকে মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের পেছনে লেগে তার তেল উঠিয়ে নিয়ে নিজেরা আমানতে রাখছে। আর বাংলাদেশে যখনই শেখ হাসিনা এগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, তখনই তারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।
মতিয়া চৌধুরী বৃহস্পতিবার নালিতাবাড়ী উপজেলায় গরিব দুঃস্থদের মধ্যে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ চাল, বয়স্ক ভাতা, শাড়ি, শার্ট বিতরণকালে ওইসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যেখানে মানুষ খুন হয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থাকে। বাংলাদেশে যখন মানুষ খুন হয়েছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পক্ষে ছিল। এই একটা দেশ টাকার গরম দেখায়। ধরাকে সরা জ্ঞান করে। আর যত রকম জঙ্গী, জঙ্গীদের পেছনে হলো এই যুক্তরাষ্ট্র। মুখে বলে আমরা জঙ্গী চাই না। আমরা জঙ্গীদের দমন করতে চাই। আর টাকা দেয় এই যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে ইঙ্গিত করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের লোকেরা, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি। আজকে নিজামীর জন্য আপনি পেরেশান হয়ে যান। আর ফিলিস্তিনে যখন মানুষ মারা যায়, তখন আর আপনার কিছু লাগে না। আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে, আপনারা খুনীদের পক্ষে, আপনারা গরিব মানুষের শান্তির বিপক্ষে- এই অভ্যাস ছাড়ুন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘ এখন গাইও (গাভী) না, বলদও না। যখন যুদ্ধ হচ্ছে, তখন কিছু করে না। যখন অবস্থা প্রায় অন্যদিকে চলে যায়, তখন ওনারা নিরাপত্তা পরিষদে বসেন। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ত্রিশ লাখ মানুষ মরে সাফ, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত শেষ, তখন তারা নিরাপত্তা পরিষদে বসল, তাও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। কাজেই আজকে জাতিসংঘকেও বলব, আপনারা জালিমের পক্ষে থাকবেন না, মজলুমের পক্ষে থাকবেন। মনে রাখবেন মজলুমের জোরেই ভোট বেশি, ওই জালিমদের ভোট বেশি নয়। আমাদের চাঁদায় আপনারা চলেন। কাজেই সাধারণ মানুষের পক্ষে আপনারা থাকবেন, শান্তির পক্ষে থাকবেন- এটাই আপনাদের কাছে আমাদের কামনা।
কৃষকের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কৃষিকার্ড দেয়া হয়েছে। সেই কার্ড দিয়ে কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নিতে পারে। এখন আর কৃষি ঋণের জন্য মহাজনের কাছে যেতে হয় না। মহাজন শব্দটা আমরা বিদায় দিয়েছি। বিদ্যুতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির ৫ বছর, তত্ত্বাবধায়কের ২ বছরÑ এই ৭ বছরে দেশে এক হাত বিদ্যুতের তারও বাড়েনি। আল্লাহর রহমতে আমাদের সময় নালিতাবাড়ীতেই ১শ’ কিলোমিটারের ওপরে বিদ্যুত দেয়া হয়েছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেনের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোখলেছুর রহমান রিপন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন কৃষিমন্ত্রী পৌরসভাসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১ হাজার ৪শ’ গরিব ও দুস্থের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল, ৭৫০ জনকে শাড়ি, ৬০ জনকে থ্রিপিস, ২শ’ জনকে শার্ট, ২শ’ জনকে ট্রাউজার, ১৩৮ জনকে বয়স্ক ভাতা

No comments:

Post a Comment