Thursday, July 24, 2014

ঘরে ফেরার স্রোত! ০ বাস লঞ্চ ট্রেনে উপচেপড়া ভিড় ০ বৃষ্টি হলে বাড়তে পারে দুর্ভোগ ০ জীবনের ঝুঁকিও হার মানছে ঘরে ফেরার আকুতির কাছে

ঘরে ফেরার স্রোত!
০ বাস লঞ্চ ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়
০ বৃষ্টি হলে বাড়তে পারে দুর্ভোগ
০ জীবনের ঝুঁকিও হার মানছে ঘরে ফেরার আকুতির কাছে
রাজন ভট্টাচার্য ॥ নাড়ির টানে স্রোতের মতো ঘরে ফিরছে মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন, ঢাকা নদীবন্দর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনালগুলোতে ছিল উপচেপড়া মানুষের ভিড়। ছিল টিকেটযুদ্ধও। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঘরে ফেরা মানুষ কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে, শুধু তাঁরাই জানেন। একদিকে রাস্তায় রাস্তায় যানজটের দুর্ভোগ। গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। অগ্রিম টিকেট কিনেও ট্রেনের আসনে বসতে পারেননি অনেকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন, বাস ও লঞ্চের ছাদে করে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। বেশকিছু ট্রেন ছেড়েছে বিলম্বে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল মহাসড়ক নিয়ে যাত্রীসহ পরিবহন নেতাদের দুশ্চিন্তা কাটছে না। তাঁরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের একটিও স্থায়ীভাবে সংস্কার হয়নি। খোয়া আর বালুর মেরামত হয়েছে মাত্র। যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি যাওয়া নির্ভর করছে অনেকটাই প্রকৃতির ওপর। অর্থাৎ বৃষ্টি হলেই মহাসড়কে নামবে মহাদুর্ভোগ। না হলে জোড়াতালির মেরামতে কোন রকম ঈদ উৎসব শেষ করা সম্ভব হবে।
টঙ্গী থেকে মীরেরবাগ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক এখনও সংস্কার হয়নি। রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্ত এখনও রয়ে গেছে। অবৈধ বাস টার্মিনাল, বাজার তো আছেই। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিলেটগামী কিছু পরিবহন। কুমিল্লার ১৪ গ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত রাস্তাটির কার্পেটিং নষ্ট হয়ে মহাসড়কজুড়ে ঢেউয়ের মতো সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৌশলীরা বলছেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করানোর ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাস্তার কার্পেটিং নষ্ট হওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রাস্তাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের পরামর্শ তাদের। উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা ও সাভার বাজার এলাকার মহাসড়কটি যানজটমুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জনকণ্ঠ’কে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। সকলের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পরিবহন সেক্টর প্রস্তুত হলেও রাস্তাঘাট নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েই গেছে। সময়মতো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পরিবহনগুলো পৌঁছতে পারছে না। তিনি বলেন, আমরা আশা করি আগামী ২-১ দিন আরও সংস্কার হবে। বৃষ্টি না হলে চলমান সংস্কারে মহাসড়কে খুব বেশি জনদুর্ভোগ হয়ত হবে না। তিনি বলেন, আমরা চাই না পরিবহন থেকে বাড়তি ভাড়া নেয়া হোক। এরই ধারাবাহিকতায় মহাখালী বাস টার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারের সামনে বাড়তি ভাড়া না নিতে ব্যানার টানানো হয়েছে।

নয় দিনের ছুটির ফাঁদে দেশ- ঘরমুখো মানুষের স্রোত
ঈদের সঙ্গে যোগ হয়েছে শুক্র-শনি দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি। এই ছুটি যেন ঈদের আনন্দটাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দুর্ভোগ এড়াতে তাই আগেভাগেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন তাঁরা। নানা ভোগান্তি উপেক্ষা করে নৌপথে ঘরে ছুটছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষরা।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঝামেলাহীন গন্তব্যে পৌঁছাতে আগেভাগেই লঞ্চে নিজের আসনটি দখল করতে ব্যস্ত যাত্রীরা। প্রতিটি লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না থাকলেও ভিড় ছিল লক্ষণীয়। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে ঈদের ছুটি মিলে যাওয়ায় অনেক যাত্রীই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা নদীবন্দরে মানুষের ঢল নামে। বাড়তি যাত্রী নিয়ে একের পর এক বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়।
এমভি মিতালি-৪ লঞ্চের মাস্টার মোঃ কামালউদ্দিন জানান, গত ঈদের চেয়ে এবার যাত্রীর সংখ্যা বেশি হবে। কারণ গত ঈদে হরতাল থাকায় অনেকে ঢাকায় ঈদ করেছেন। তিনি বলেন, যাত্রী বেশি হলেও যাত্রাপথে কোন সমস্যা হবে না। এবার এই রুটে নতুন ১৬টি লঞ্চ যোগ হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে যাত্রীর চাপ। আশা করি শনিবার পর্যন্ত বেশ যাত্রী মিলবে।
বরিশালের আগৈলঝড়ার লঞ্চযাত্রী কামাল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি তো আছেই। এর সঙ্গে আবার শুক্র-শনি হওয়ায় বেশ ভাল হয়েছে। আগেভাগে বাড়ি যেতে পারছি বেশ আনন্দ লাগছে। তিনি জানান, গত ঈদে বাসে গিয়ে বেশ দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছিল। এবার লঞ্চে যাচ্ছি, যাত্রাপথ দীর্ঘ হলেও যানজট কিংবা বাসের মতো দুর্ভোগের শিকার হতে হবে না। বিআইডব্লিটিসির চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এবার ঈদে ৬টি স্টিমার নিয়ে স্পেশাল সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা-বরিশাল-মোরেলগঞ্জ রুটে চলাচল করবে চারটি রকেট। এছাড়া ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করবে নতুন নামানো এমভি বাঙালী। চাঁদপুর-বরিশাল রুটে চলাচল করবে এমভি সেলা। পাশাপাশি নিয়মিত চলাচলকারী সি-ট্রাক ও উপকূলীয় জাহাজগুলো সচল থাকবে।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান ড. মোঃ শামছুদ্দোহা খন্দকার বলেন, এ বছর ঈদ-উল-ফিতর উদ্যাপন করতে সদরঘাট নৌরুট দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ যাত্রী বাড়ি যাবেন। এই যাত্রীদের আবার ফিরিয়ে আনা হবে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে লঞ্চ চলাচলের জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া মাওয়া-বরিশাল, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও কিশোরগঞ্জে একটি করে চারটি উদ্ধারকারী জাহাজ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। শামছুদ্দোহা জানান, ঈদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিআইডব্লিটিএর যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন তাঁদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম-পরিচালক সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি ঘাটে র্যাব, পুলিশ, ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবহন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। যাত্রীদের বাড়ি পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ঢাকা ঘাটের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোঃ খালেদ নেওয়াজ। তিনি বলেন, ঈদে যাত্রী পরিবহনে এবার কোন সমস্যা হবে না। পাবলিক লঞ্চের পাশাপাশি এবার বিআইডব্লিউটিসির নৌবহরে এমভি বাঙালী যাত্রীবাহী জাহাজ যোগ হয়েছে। আশা করছি যাত্রীরা নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবেন।
সূত্রে জানা গেছে, নতুন আনা এমভি বাঙালী উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় জাহাজটিতে ত্রুটি ধরা পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাজটি নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে ঈদে জাহাজটি চলাচল করতে না পারলে যাত্রী পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
লঞ্চে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো সদরঘাট এলাকা। লঞ্চ টার্মিনালসহ এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিয়েছে। এলাকার বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সদরঘাটমুখী যাত্রীদের চলাচলের রাস্তা নির্বিঘ্ন করতে দখল মুক্ত করা হয়েছে ফুটপাথ। কোন কোন রাস্তার ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে করা হয়েছে একমুখী। মূল রাস্তার ওপরে যাতে গাড়ি পার্কিং করতে না পারে সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছে পুলিশ। যাত্রীদের পথ চেনাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বিএনসিসির সদস্যদের কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীদের সচেতন করতে টার্মিনালজুড়ে চোখে পড়ে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান। টার্মিনাল ও এর আশপাশ এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চলছে। টার্মিনাল ও নদীপথে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কাজ করছে র্যাব, পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম। জেটির ওপর বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লঞ্চ যাতে ছেড়ে যায় সেদিকে তৎপর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগ। হকার মুক্ত করা হয়েছে জেটি।
লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষ যাতে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারেন সেজন্য মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঈদে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ কমে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম ফিরোজ বলেন, বরাবরের মতো এবারও ঘরমুখী যাত্রীরা যাতে কোন রকম হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজর রাখছে। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমলাপুরে মানুষের ঢল- বাসে বাড়ছে যাত্রীর চাপ
যাঁরা ২৪ জুলাইয়ের ট্রেনের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন তাঁদের ঘুম হারাম বুধবার রাত থেকেই। কারণ কোটা প্রথা ও মানুষের ভিড়ে টিকেট সংগ্রহ করা যেমন কষ্টকর, তেমনি সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো, ট্রেনে ওঠাও কম চ্যালেঞ্জের নয়। সকাল থেকে রেলস্টেশনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফিরছেন সবাই। আছে ভিন্ন রকম দৃশ্যও। তা হলো- শেষ দিনের টিকেট নেয়ার হিড়িক। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দেয়া হয়েছে ২৮ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকেট। সেখানেও মানুষের যুদ্ধ। টিকেটের আশায় স্টেশনজুড়ে ছিল রাতজাগা মানুষের ভিড়। কেউ টিকেট পেয়েছেন। কেউ শূন্য হাতে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে তুমুল হট্টগোল। হৈচৈ হয়েছে দফায় দফায়। যাত্রীদের অভিযোগ বিক্রি শেষ না হতেই কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে টিকেট না থাকার কথা। কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যেক যাত্রী চারটি করে টিকেট পাবেন। যাঁরা আসছেন তাঁদের চাহিদা অনেক বেশি। সঙ্গত কারণেই দ্রুত টিকেট শেষ হয়ে যায়।
প্রথম দিনের ঈদের বিশেষ ট্রেনগুলোর বেশ কয়েকটি সময়মতো ছাড়তে পারেনি। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ বিস্তর। কোন কোন ট্রেন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বেশি বিলম্বে ছেড়েছে। ময়মনসিংহগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ছেড়েছে প্রায় একঘণ্টা বিলম্বে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, খুলনার বেশকিছু ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। কমলাপুরে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যাও নিছক কম ছিল না। কাউন্টারগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। দ্রুত টিকেট নিয়ে ট্রেনের ছাদে, জোড়া, ইঞ্জিনে বসেছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। ছাদে উঠতে মই ব্যবহারও দেখা গেছে। অনেকে টিকেট কেটে ভিড়ের কারণে নিজ আসনে বসতে পারেননি।

বাস টার্মিনালে বিকেলে মানুষের স্রোত
অফিস শেষে বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রী উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দেশের উত্তরাঞ্চলের অগ্রিম টিকেট দেয়া বাসগুলোর যাত্রীরাও সকাল থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হয়েছেন সকাল থেকেই। গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় বিলাসবহুল পরিবহনগুলোকে একের পর পর বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ শ্যামলী, হানিফ, এসএ পরিবহন, সোহাগ, গ্রীন লাইনসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাস। ছোট ছোট পরিবহনও যাত্রী পেয়েছে বেশ। তাৎক্ষণিক টিকেট কেটে এসব পরিবহনে যাত্রা শুরু করেন যাত্রীরা। বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ আন্তঃজেলার বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা মহাখালী বাস টার্মিনালে বিকেল থেকে আসতে শুরু করেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পূর্বাঞ্চলের যাত্রীরা বিকেলে সায়েদাবাদ টার্মিনালে ভিড় করেন। মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জনকণ্ঠ’কে বলেন, মহাসড়কগুলোতে দিনভর যানজটের তেমন কোন খবর নেই। এটা ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক সংবাদ। যানজট না হলে জোড়াতালির রাস্তায় কোন রকম গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। তবে বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ হবে। মানুষের দুর্ভোগ হবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
বিআরটিসি বাসের অগ্রিম টিকেট দেয়া শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। সেই সঙ্গে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসগুলোরও যাত্রা শুরু হয়েছে এ দিন থেকেই। টিকেট বিক্রি কম। তাই পথে পথে বিআরটিসি বাসগুলোর যাত্রী ওঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবারের মধ্যে পরিবহন শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment